হামেস রদ্রিগেজ : রাজ্য হারানো রাজপুত্র?

হামেস রদ্রিগেজ : রাজ্য হারানো রাজপুত্র?

কলম্বিয়ান রাজপুত্র!!

Cúcuta !! কলম্বিয়ার সীমান্তবর্তী একটি ছোট শহর। ১৯৯১ সালে এই শহরেই জন্ম এই রাজপুত্রের। প্রফেশনাল ফুটবলের শুরুটা Envigado এর হয়ে , কলম্বিয়ান এই সেকেন্ড ডিভিশনের ক্লাবটিকে প্রথম সিজনেই ফার্স্ট ডিভিশনে উঠিয়ে আনেন। পরের সিজনেই যোগ দেন আর্জেন্টাইন  ক্লাব Banfield এ। স্থানীয় প্রায় সব টুর্নামেন্টে গোল করে ১৮ বছর বয়সী হামেস সকলের নজর কাড়েন, মাঝে একবার ইতালিয়ান ক্লাব Udinese এর অফার ফিরিয়ে দিয়ে ২০১০-১১ সিজনে যোগ দেন পর্তুগীজ ক্লাব Porto তে।

ইউরোপিয়ান ফুটবলের কঠিন মঞ্চে শুরুটা মূলত পোর্তো থেকেই। নিজের দ্বিতীয় সিজনেই প্রমান করেন তার যোগ্যতা , ফলস্বরূপ  Portugese Golden ball ( ২০১২-১৩) নিজের করে নেন। সময়টা ২০১৩ , ফ্রান্সের অন্যতম এলিট ক্লাব মোনাকো তে যোগ দেন , টাকার অঙ্কে ট্রান্সফার ফি'টা কলম্বিয়ান হিসেবে ২য় সর্বোচ্চ।  এরপর মোনকোতে নিজের প্রতিভার ঝলকটা প্রথম সিজনেই আরেকবার দেখান। ইউরোপের প্রথমসারির ৫ লীগের মধ্যে অন্যতম ফ্রেঞ্চ লীগের Top Assist provider - Liga One (২০১৩-১৪) হন। মোনাকোর মত ক্লাবের   Best player of the season ( ২০১৩-১৪) নির্বাচিত হন।

কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকেই যে আসল রূপটা দেখানোর নাট্যমন্চ হিসেবে বেছে নিবেন তা কেইবা ভাবতে পেরেছিল? সালটা ২০১৪, কলম্বিয়ান্দের বিশ্বকাপের উন্মাদনা তখন নেতিয়ে পরেছিল , কারণটা ইনজুরির ছোবল। রাদামেল ফেল্কাও ইনজুরিতে , বিশ্বকাপ টা সাইডলাইনে বসেই কাটাতে হবে।  দলের প্রানভোমরার ইন্জুরীতে সমস্ত দায়িত্ব কাধে তুলে নিয়ে চোখের প্রশান্তিদায়ক পারফরম্যান্স করলেন গোটা আসরজুড়ে। অবিশ্বাস্য গোল? সেটাকে হাতের মোয়াই বানিয়ে ফেলেছিলেন FIFA Puskas Award (২০১৪) তারই নিদর্শন। গোল্ডেন বুটটাও নিজের করে নিয়েছিলেন  গোটা আসরে ৬ গোল করে।পেছনে ফেলছিলেন নেইমার,মুলারের মত তারকাদের।

দলকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তুলতে পেরেছিলেন, কাঁদতে হয়েছিল ডেভিড লুইজের অসাধারন এক ফ্রি কিকের জন্য, গোল করেও দলকে রক্ষা করতে পারেননি। কিন্তু ততক্ষনে প্রবল পরিক্রমে নিজের উপস্থিতি ফুটবল বিশ্বকে জানানোর কাজটা হয়ে গেছে।

কলম্বিয়ান রেকর্ড ট্রান্সফার ফি'র মাধ্যমেই ২০১৪ সালে  "Theatre of Dreams" -বলে খ্যাত বিশ্বখ্যাত ক্লাব "Real Madrid" এ পদার্পন করেন। ৪৫,০০০/- দর্শকের অভিবাদনে বার্নাব্যুতে পদার্পনটা রাজপুত্রের মতই।

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্লাবের হয়ে প্রথম গোলটা নগরীর রাইভাল Atletico Madrid এর বিরুদ্ধে ( Super Cup) . তারপর আর পিছনে তাকতে হয়নি, "গোল্ডেন বয়" এর তকমাটাও পেতে দেরী হয়নি । পেছনে ফেলেছিলেন ইনিয়েস্তা,মদ্রিচ,রাকিটিচদের মত মায়েস্ত্রোকেও LFP Best Midfielder ( ২০১৪-১৫)  .কার্লোর অন্যতম অস্ত্র হিসেবে ধনুকের ফলায় তূণ হিসেবেই ব্যবহ্ৃত হয়েছেন। গোল? সেকি আর সাধারনভাবে করা যায়? ডি-বক্সের বাইরে থেকে অসাধারন ভলিই যার ট্রেডমার্ক ।

একের পর এক ইন্জুরী আর কোচ বদলের ফলে ধনুকের ফলায়ও মরিচা ধরতে সময় লাগেনি, ওভারক্রাউডেড মিডফিল্ডে স্টার্টিং লাইনআপে নিজের নাম হারিয়ে খুজেছেন। "La Undecima"- অর্থাৎ একদশ চে্যাম্পিয়নস লীগ জয়ী দলে ছিলেন ছায়া হয়েই। ওয়ান্ডার বয় ইস্কো, ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ড সেনসেশন কোভাচিচ, ডেস্ট্রয়ার ক্যাসিমিরোর মাঝে যেন হারিয়েই গেছেন। আইডল জিদানের অধীনে সুযোগকে কাজে লাগালেও সুযোগই যেন মিলতে চায় না , ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগে সাইডলাইনেই সময় কাটছে। পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব সত্ত্বেও ২০১৬/১৭ সিজনে Real Madrid এর টপ এসিস্ট মেকারদের তালিকার উপরের দিকেই তার নাম রয়েছে।দলের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে  গোল ও এনে দিচ্ছেন।

বিগত উইন্টার ট্রান্সফার উইন্ডো তে ক্লাব ছাড়ার জোর গুঞ্জন শোনা  গেলেও ভক্তদের আশস্থ করছেন এই বলে যে এত সহসাই ক্লাব ছাড়ছেন  না। স্্বপ্নের  ক্লাবে অবিরাম পথচলা নিশ্চিত করার জন্য করছেন কঠোর পরিশ্রম।

 রিয়াল ফ্যানদের জন্য কি আক্ষেপের আরেক নাম হয়েই থাকবেন? নাকি আরেকবার রাজপুত্রের মতই রাজসিক প্রত্যাবর্তন করবেন?

সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের কাছেই তোলা থাকল ।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন