রিয়াল মাদ্রিদে জিদানের চমক

রিয়াল মাদ্রিদে জিদানের চমক

(শুরুতেই বলে নেই, যারা কখনও ট্যাক্টিকাল অ্যানালাইসিস পড়েন নাই তাদের কাছে কিছু জায়গায় এই লেখা টা বুঝতে প্রবলেম হতে পারে। তারপরও আমি চেষ্টা করেছি যতটা সহজ করে লেখা যায়। তো আসুন দেখি কিভাবে জিজু শুরু করলেন তার প্রথম কোচিং ক্যারিয়ার মাদ্রিদ এ এবং তা কতটা ফলপ্রসূ এবং কিভাবে তা কাজ করে)

প্রতিটি দলেই একজন কি প্লেয়ার থাকে। তাকে ঘিরেই কিংবা তার মাধ্যমেই দলের সব কার্যক্রম শুরু কিংবা সম্পন্ন হয়। আগেই বলে নেই, জিজুর দলে না শুধু পুরো মাদ্রিদ স্কোয়াড এ এমন একজন প্লেয়ার আছে যাকে ছাড়া মাদ্রিদ স্কোয়াড এর ডিফেন্স কিংবা অ্যাটাক কোন কিছুই ঠিকমত সম্ভব নয়। কে সেই প্লেয়ার? উত্তর মনে মনে ভাবতে থাকুন আর পড়তে থাকুন। লেখার শেষেই জেনে যাবেন। প্রথমে আসি ডিফেন্স নিয়ে। স্টারটিং ১১ তে আমাদের ডিফেন্সের প্রথম চয়েস হল কারভাহাল, রামোস, পেপে এবং মার্সেলো। কারভাহাল এর রয়েছে দুর্দান্ত স্পিড এবং দারুন ক্রসিং ক্ষমতা, রামোস হল দলের কান্ডারি এবং বর্তমান ফুটবল জগতের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার, পেপে হলেন বিচক্ষণ সেনানী যার চোখ ফাকি দিয়ে বল নিয়ে ঢোকা অসম্ভব আর মার্সেলো? মূলত সে একজন ডিফেন্ডার কিন্তু বর্তমানে সেরা ২০ ড্রিবলার কাউন্ট করলে সেখানে তাকে পাওয়া যাবে।সাথে রয়েছে তার স্কোর করার ক্ষমতা এবং অসাধারণ পাসিং স্টাইল। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ড্রিবল করে ভাঙা তার কাছে কোন বেপার ই না। এদের ব্যাকআপ হিসেবে আছে রাফায়েল ভারানে, ডানিলো এবং নাচো। এরাও যোগ্যতায় কোন অংশেই কম নয়।

তবে মাদ্রিদ ডিফেন্ডার দের যেই জিনিসটি সবার নজর কাঁড়ে তা হল সেট পিস এ স্কোরিং অ্যাবিলিটি। মাদ্রিদ মূলত জিজুর আন্ডারে ৪-৩-৩ হাইব্রিড এ খেলে। যেখানে ৩ জন অ্যাটাকার নিজেদের ভেতর ইচ্ছামত জায়গা পরিবর্তন করে খেলতে পারে। মাদ্রিদ এর ডিফেন্স স্বাভাবিক ভাবেই আর ১০ টা দলের চেয়ে ভালো তা বলাই যায়। তবে তাদের সেন্স দিয়ে তা আরও দৃঢ় করে দিয়েছেন এই জিজু। ডিফেন্স দিয়ে প্রেসিং করে অনেক দল ই খেলে। তবে মাদ্রিদ জিজুর আন্ডারে একটা আর্ট তৈরি করে খেলে। ডিফেন্স তাদের নিজেদের হাফে প্রেস করে। অপনেন্ট হাফে তারা উঠে আসে না। দুই সিবির কেও ই নিজেদের যায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসে না। আবার অনেক সময় মিডে বল সাপ্লাই দিতেও ডিফেন্ডার দের দরকার হয়। তখন ডিফেন্ডার দের উপরে উঠে আসতে হয় বাধ্য হয়েই। জিজু ঠিক এর উল্টা টা করেছেন এসেই। মূলত ডিফেন্সে ৪ জন থাকলেও একজন সিডিএম হিসেবে প্লেয়ার খেলান জিজু। যেটার কারনে ডিফেন্সের উপর চাপ অনেকটা কমে যায়। কিভাবে? এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এর কারনে ফরমেশন কখনও ৪-১-৪-১ হয় আবার কখনও ৪-৫-১ হয়।যখন অপনেন্ট এর পায়ে বল যায় তখন ৪ ডিফেন্ডার ডীপ লাইন এ নেমে আসে। অন্যদিকে তাকে আরও মজবুত করতে ২ মিডফিল্ডার এর সাথে ২ উইঙ্গার ও নেমে এসে আরেকটি লাইন তৈরি করে। তাহলে ডিফেন্সিভ লাইন হল ২ টি। এখন মিড তো ৩ জন। তাহলে আরেকজন কই? প্রতিপক্ষের দলে যদি মেসি, নেইমার, হ্যাজারড, রোবেন কিংবা অন্যান্য বিশ্বসেরা ড্রিব্লার থাকে তো এই ডিফেন্সিভ লাইন কতক্ষণ ধরে রাখা যায়? তাই এই দুই ডিফেন্সিভ লাইন এর মাঝে যেই গ্যাপ টা থাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে সেই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বা পিভট বা ডেস্ট্রয়ার যে এই ড্রিবল করে কিংবা ফাকি দিয়ে এই গ্যাপে ঢুকা প্লেয়ারগুলো কে মার্ক করে এবং বল দখল করে। এই প্লেয়ারটি না থাকলে হয়ত প্রথম লাইন থেকে কাওকে যেয়ে বল দখল করতে হত কিংবা মিডের ডিফেন্সিভ লাইন থেকে একজন কে নিচে নেমে কাজটা করতে হত। তখন ফলাফল কি হত জানেন? পুরো যে লাইন ছিল সেটাই ভেঙ্গে যেত কিংবা সেই ফাকে আরও প্লেয়ার ঢুকে যেত। তখন ফাউল করা ছাড়া বল দখল করা অসম্ভব। জিজুর এই ডিফেন্সিভ মিড সংযোজন এক বিরাট পরিবর্তন এনেছে ডিফেন্স এ।

                                             

এবার ৪-৫-১ কিভাবে? অনেক দল আছে যারা বল পজেশন নিয়ে খেলে, রিয়ালের শত্রু বার্সা তাদের মাঝে অন্যতম। এছাড়া অনেকে টিকিটাকা খেলে। সে ক্ষেত্রে দেখা যায় মাদ্রিদ তাদের এটাক বিল্ড আপ করতে পারে না। অন্যদিকে বেশী পাসিং এবং অফ দা বল মুভমেন্ট বেশী হয় বলে খেই হারিয়ে ফেলে প্লেয়ার রা। তখন ওই ডিফেন্সভ মিডফিল্ডার গ্যাপ থেকে উঠে এসে মিডের ডিফেন্সিভ লাইন এর সাথে যোগ দেয়। ফলে তা ৪ জন থেকে ৫ জনে পরিণত হয়। এখন কিভাবে বল রিকভার করবে? এতক্ষণ একটা স্ট্রেইট লাইন ধরে থাকলেও তখন মিডের ডিফেন্সিভ লাইন টি হয়ে যায় একটু আকাশে নতুন উঠা চাঁদের মত। আই মিন মাঝে একটু বাকা এবং দুই পাশ একটু উপরে উঠে গেছে। এতে করে তাদের মাঝের গ্যাপ অনেক কমে যায়। আর সেই কারনে প্রধান ডিফেন্স লাইন একটু উপরে উঠে আসে। অপনেন্ট বুঝতে পারে না কিন্তু ঠিকই এইদিকে ধীরে ধীরে প্রেসিং চলতে থাকে। অপনেন্ট দুই ডিফেন্সিভ লাইন এর মাঝে অনেক কম স্পেস পায় এবং সবচেয়ে বড় যেই প্রবলেম তারা ফেস করে তা হল ওই ৫ জনের লাইন এ স্পেস এতই কম থাকে তাদের মাঝে যে গ্রাউন্ড পাস দেয়া সম্ভব হয় না। আর হাওয়ায় ভাসিয়ে বল দিলে তো তা তাদের প্লেয়ার এর পা পর্যন্তই পৌঁছাবে না। অন্যদিকে তারা বল ও হারাতে চায় না। ফলে বল নিয়েই নীচে নামতে থাকে। যখন বল তাদের হাফ এ চলে যায় তখন মাদ্রিদ পুনরায় ৪-৩-৩ ফরমেশন এ চলে যায় এবং উইং দিয়ে বল দখলের চেষ্টা করে যাতে অপনেন্ট মিড দিয়ে বল সামনে প্রেস করে। আর এখানেই জিজুর রয়েছে বিশাল এক প্লাস পয়েন্ট। মদ্রিচ, ক্রুস এবং ক্যাসেমিরো এই ৩ জনই ইন্টারসেপ্সন কিংবা ট্যাকল এ অনেক অভিজ্ঞ। শুধু তাই নয়, মদ্রিচ এবং ক্রুস এর ভিশন ও অসাধারণ। তারা মাইন্ড রিড এর মাধ্যমে অপনেন্ট কাকে পাস দিবে তা আগেই ধরে ফেলার ক্ষমতা রাখে। সো যেই প্লেয়ার কে বল পাস দেয়া হবে তাকে যদি আপনি আগেই মার্ক করে রাখেন তো বল দখল করা সহজ হয়ে গেল। অথচ সেই অপনেন্ট প্লেয়ার কিন্তু বুঝলই না বেপার টা। লাস্ট এল ক্লাসিকো এর উইনিং গোল টা এভাবেই এসেছিল। যেখানে বল ইন্টারসেপ্ট করেছিলো কারভাহাল। এভাবেই মূলত ডিফেন্স কে ধরে রাখে জিজুর মাদ্রিদ।

এবার আসি মিড এবং অ্যাটাক এ। দারুন গতি, অসাধারণ হেডিং, লং শুট, ড্রিবল থেকে শুরু করে সবকিছুতেই তারা পারদর্শী। আর যেখানে বর্তমানের অন্যতম বিশ্বসেরা প্লেয়ার রোনালদো রয়েছে সেখানে অ্যাটাক কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা যারা তাদের বিপক্ষে খেলে তারাই জানে। মাদ্রিদ মূলত বল পজেশন রেখে অ্যাটাক নিচ থেকে বিল্ড আপ করে। নিজেদের ভেতর ছোট ছোট পাসিং খেলে তারা অপনেন্ট হাফে বল নিয়ে আসে। কিন্তু কে করে এই কাজটি? বর্তমান ফুটবল জগতের ভয়ংকর মিডফিল্ডার লিটিল ম্যাজিশিয়ান লুকা মদ্রিচ। আর তাকে সাহায্য করে পাসিং মাস্টার টনি ক্রুস। মাদ্রিদ যখন অ্যাটাক বিল্ড আপ করে তখন তাদের ফরমেশন হয়ে যায় ৪-২-১-৩। জিজুর পিভট এর কাজ তখন কিছুটা উপরে উঠে এসে মদ্রিচ এবং ক্রুস কে স্পেস তৈরি করে দেয়া।                                                  

উইং নির্ভর মাদ্রিদ অ্যাটাক এর আরেক অন্যতম সহযোগী হল দুই ফুল ব্যাক। ডিফেন্ডার রা বল পাসিং এর মাধ্যমে নিজেদের হাফে থেকেই প্রেসিং শুরু করে। তাদের সামনে থাকে মদ্রিচ আর ক্রুস যারা তাদের সাথে পাসিং গেম খেলে। এভাবে যখন বল নিজেদের হাফ থেকে অপনেন্ট হাফে আসে তখন ওই লেফট ব্যাক আর রাইট ব্যাক কিছুটা উপরে উঠে আসে তাদের সাথে। যেই উইং দিয়ে অ্যাটাক হবে সেই উইং এর উইঙ্গার ও যোগ দেয় তাদের সাথে। ফলে তাকেও নিচে নেমে আসতে হয় পাসিং গেম খেলতে। অন্যদিকে অফ দা বল মুভমেন্ট এ সবসময় ২ টা প্লেয়ার কে থাকতে হয় যারা বক্সের ভেতর অপেক্ষা করে ক্রস এর জন্য। এখানে আর একটি বেপার আছে। তা হল যেহেতু ৩ জন অ্যাটাকার নিজেদের ভেতর জায়গা পরিবর্তন করতে পারে তাই কে কখন নিচে নেমে এসে মদ্রিচ আর ক্রুস এর সাথে যোগ দিবে তা অপনেন্ট এর জন্য বোঝা কঠিন। কখনও বেল, কখনও বেঞ্জু আবার কখনও রোনালদো। বেশীরভাগ সময় বেল নিচে নেমে এসে বল কন্ট্রোল করে। কারন রোনালদো অফ দা বল মুভমেন্ট বেশী করে। আর বেঞ্জুর ক্রসিং অন্যদের তুলনায় একটু খারাপ। তো যখন ওই উইঙ্গার নিচে নেমে আসে তখন তাকে মার্ক করতে অপনেন্ট কেও ডিফেন্সিভ লাইন ছেড়ে একটু উঠে আসতে হয়। আর ওই ফাকেই আমাদের লেফট ব্যাক কিংবা রাইট ব্যাক উপরে উঠে যায় উইঙ্গার এর প্লেসে আর অপেক্ষায় থাকে কখন পায়ে বল পাবে আর ক্রস দিবে বক্সে থাকা দুই প্লেয়ার কে। এখন কিছু প্রবলেম আছে। তা হল সবসময় আমাদের ৩ অ্যাটাকারে মুভমেন্ট একসাথে হয় না। কখনও দেখা যায় বেল নিচে এসে বল নিয়ে উপরে উঠে গেল কিংবা কারভাহাল কে পাস দিল অথচ বক্সে ২ জন প্লেয়ার তখনও পৌছায় নাই।অর্থাৎ বেঞ্জু বক্সে কিন্তু রোনালদো এখনও বাইরে। তাহলে তো ক্রস দিয়ে লাভ নেই। এই সব সময় আরেক যে লেফট ব্যাক থাকে কিংবা কোন এক মিডফিল্ডার কিংবা সেই পিভট থাকে সে এসে ডি বক্সে যোগ দেয়। আবার দেখা যায় অনেক সময় উইঙ্গার নিচে নেমে বল নিয়ে উপরে উঠতে পারে না অনেক প্রেশার এর কারনে। যেমন এটিএম বাস পার্ক করে খেলে। সেক্ষেত্রে আপনি বল নিয়ে উপরে কোনভাবেই উঠতে পারবেন না কিংবা সহজেই ওই লেফট আর রাইট ব্যাক কে পাস দিতে পারবেন না। তখন ক্রুস কিংবা মদ্রিচ কে সেই কাজ টা করতে হয়। কারন বক্সের সামনে অ্যাটাকারের পায়ে বল থাকলে তাকে কড়া মার্ক করা হয়। যায় কারনে মিডফিল্ডার রা একটু ফ্রি থাকতে পারে কিংবা সেই ফাকে উপরে উঠে যেতে পারে। এইভাবে গোলের উদাহরণ হল এল ক্লাসিকোর প্রথম গোল। আবার কখনও কখনও দেখা যায় বল নিয়ে অপনেন্ট হাফে গেলেই কড়া ট্যাকল এর শিকার হতে হয় কিংবা স্পেস ক্রিয়েট করা সম্ভব হয় না। তখন হাওয়ায় ভাসিয়ে খেলান জিজু। এর দায়িত্ব হল প্রফেসর ক্রুস এর। অসাধারণ লং পাস দেয়ার অ্যাবিলিটি থাকায় আমাদের লেফট ব্যাক কিংবা রাইট ব্যাক কিংবা কোন উইংগার স্পেস এর অপেক্ষায় থাকে। যেই দিক দিয়ে প্রেস করা হয় সেদিকে অপনেন্ট এর খেয়াল থাকে বেশী। ফলে অপর উইং এ যেই স্পেস তৈরি হয় তখনই একজন সেখানে পৌঁছে যান আর ক্রুসের কাজই থাকে তা খেয়াল রাখা।

                                                        

আগেই বলেছিলাম আমাদের মিডের ভিশন অনেক ভালো। লং পাসে বল দিয়েই সবাই বক্সে ঢুকে যায় যাতে অপনেন্ট ওইদিকে ক্লিয়ার করতে যেয়ে বক্সে কিছুটা স্পেস দেয় আর সেই ফাকেই একটা ক্রস আসুক। ব্যাস, রোনালদো, বেল, বেঞ্জুর মত হেডার থাকলে আর কি লাগে বলেন? আবার কখনও কখনও এরকম কোন সুযোগ ই অপনেন্ট দেয় না। তখন কি করবেন? তখন জিজু মূলত কাজে লাগায় ৩ জন কে। মার্সেলো, মদ্রিচ আর ক্রুস কে। মদ্রিচ থাকে সবার আগে। ড্রিবল করে ভেতরে ঢুকা আর বক্সের বাইরে থেকে শুট করা এদের কাজ। মদ্রিচ আর মার্সেলো ড্রিবল এ পারদর্শী হউয়ায় তাদের কে নির্দেশ দেন বক্সের সামনে প্রেশার তৈরি করতে। যখন তারা বা কোন একজন ড্রিবল করে ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করে তখন যাতে কাউন্টার এ গোল না খাই সেজন্য ওই ডিফেন্সিভ মিড নিচে নেমে যায়। সাথে যেই উইং কিংবা যেই পাশ দিয়ে ঢুকার চেষ্টা করে সেই পাশের উইংগার ও একটু নিচে নেমে যায়। আমাদের স্কোয়াড এর আরেক প্লেয়ার ইসকো কেও মাঝে মাঝে নামানো হয় ড্রিবল করে ডিফেন্সিভ লাইন ভাঙ্গার জন্য। আর ক্রুস এর কাজ থাকে লং শট নেয়ার। এজন্য মাঝে মাঝে জিদান হামেস কেও ব্যবহার করে। আবার থ্রু বলে হামেস অনেক ভালো। আবার অনেক সময় তিন অ্যাটাকারের একজন কে তুলে লুকাস ভাস্কুয়েজ কিংবা জেসে কে ব্যবহার করেন জিজু। মেইন অ্যাটাকাররা ইঞ্জুরি তে তাহকেও এদের ব্যবহার করেন। কারন এদের স্পিড আর ড্রিবলিং স্কিল অসাধারণ। ফলে কোন সময়ই আমাদের অ্যাটাকে কোন গাফিলতি হয় না। এভাবেই বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে মাদ্রিদ এর অ্যাটাক তৈরি করেন জিজু। কারন সব অপনেন্ট এর কাছেই ৩-৪ টা উপায় থাকে অ্যাটাক বন্ধ করার। কিন্তু এতভাবে যখন অ্যাটাক হয় তখন তারা খেই হারিয়ে ফেলতে বাধ্য। ফলাফল দেখতে চান? চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এর কোয়াটার এ উলফসবারগ এর সাথের ম্যাচ দেখুন। ৩ টা গোল ই রোনালদো করেছেন কিন্তু তিন ভাবে। আরেকটি বেপার না বললেই নয়। সেটা হল জিজুর একটি বিশেষ অ্যাডভান্টেজ আছে মাদ্রিদ স্কোয়াড এ। যেটা তিনি অনেক নিখুঁত ভাবে সম্পন্ন করেন। তা হল সেট পিস। আগেই বলেছিলাম এটার কথা। রামোস, পেপে, ভারানে, বেল, রোনালদো, বেঞ্জু, হামেস, ভাস্কুয়েজ, জেসে সহ আরও অনেকেই আছে যারা হেডিং এ পারদর্শী। আর সেট পিস নেবার জন্য ক্রুস তো আছেই।

ফ্রি কিক আরকেটি অ্যাডভান্টেজ। ইউরোপের অলটাইম সেরা ফ্রি কিক টেকার রোনালদো যদি টীম এ থাকে তাহলে আপনি ফ্রি কিক থেকে ভালো কিছু আশা করতেই পারেন। তার সাথে যোগ হয়েছে বা পায়ের কিক টেকার বেল এবং হামেস। এই ৩ জনের ফ্রি কিক নেবার সময় ভয় পায় না এমন কোন গোলরক্ষক আছে কিনা তা বলা মুশকিল। জিজু অফ দা বল মুভমেন্ট এর প্লেয়ারদের উপর অনেক গুরুত্ব দেন এবং তাদের কে অনেক হার্ড ওয়ার্ক করান। যার কারনে আমাদের বেশীরভাগ গোল আসে ক্রস হেডিং এবং উইং থেকে। জিজুর টিমের সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট প্লেয়ার হল মদ্রিচ আর ক্যাসেমিরো। প্রতিটি অ্যাটাক এর শুরুই হয় মদ্রিচ এর পা দিয়ে। শুধু তাই নয়, দলের প্রধান শক্তি মিডের সম্পূর্ণ কন্ট্রোল দেয়া হয় মদ্রিচ এর কাছে। আর ক্যাসে কে যোগ করে আমাদের ডিফেন্স হয়েছে আগের চেয়েও শক্তিশালী এবং আকস্মিক গোল খাওয়ার চান্স হয়েছে ০%। একটা গোল যে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে তা জিজুর চেয়ে ভালো আর কে জানে বলুন? ১০ টা গোল দিয়ে ৫ টা খাওয়ার চেয়ে ২ টা দিয়ে একটাও না খাওয়া ভালো এই মতবাদেই জিজু তার টীম গড়ে তুলেছেন। যদি দীর্ঘ মেয়াদে সে মাদ্রিদ এ থাকে তো আশা করা যায় অনেক ব্যালেন্সেড একটা টীম আমরা দেখতে পাবো। লা আন ডেসিমা তো তারই আভাস দেয়। বাকিটা মাদ্রিদ ম্যানেজমেন্ট জানে। আজ এখানেই শেষ করছি। কোন ভুল-ত্রুটি থারাগীব হাসানকেল তা অবশ্যই ধরিয়ে দিয়ে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি তে দেখবেন।

                                               

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন