লোডউইক ডি ক্রইফ এবং বাংলাদেশ

লোডউইক ডি ক্রইফ এবং বাংলাদেশ

 বাংলাদেশ ফুটবলের কোচদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম এই লোডউইক ডি ক্রইফ। ২০১৩ সালে তার সহকারী রেনে কোস্টারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন এই ডাচ ফুটবল কোচ। বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিন নিজের ভিশন ২০২২ কে সামনে রেখে এই দুই ডাচ কোচকে বাংলাদেশে এনেছিলো। ৮কোটি টাকার বিনিময়ে এই দুইকোচ এর সাথে চুক্তি করে বাফুফে। বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কাজের কথা বলা হলেও দিন শেষে ফুটবলপ্রেমীরা সালাউদ্দিন আর ক্রইফ এর নাটক দেখতে পেয়েছিলো। না বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখে না দেখেছে কোনো ম্যাচ জয় এর স্বপ্ন। সব ফুটবলপ্রেমী সাক্ষী হয়েছে সালাউদ্দিন আর ক্রইফ এর বানানো ছবির। আড়াই বছর বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেয়া হয়েছিলো ক্রইফকে। সাফ ফুটবলে ব্যর্থতার পরই তার সাথে সমস্যা শুরু হয় বাফুফের। প্রথম মেয়াদে ১৬ মাস ছিলো যার মধ্যে ৭মাসই ছুটিতে ছিলো ক্রইফ। বাংলাদেশে তেমন কিছুই করতে পারেনি ক্রইফ।

ফুটবলারদের সাথে তেমন কাজ করতেও দেখা যায়নি এই ডাচ কোচকে। ১৭মে, ২০১৬ সালে একমাসের জন্য তাকে আবার দায়িত্ব দিয়েছিলো বাফুফে কিন্তু আবার ও ব্যর্থ এই ডাচ কোচ। বাংলাদেশ তার অধীনে ১৮ টি ম্যাচ খেলে ৯টিতে হেরেছে ৬টি ড্র আর ৩টিতে জয়ের মুখ দেখে বাংলাদেশ। ক্রইফ হাই প্রোফাইল কোচ হলেও বাংলাদেশে তিনি তেমন কিছুই করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু গোলকাপে একবার ফাইনাল খেলেছিলো বাংলাদেশ সেবার কিছুটা ভালো করলেও আর বলার মত তেমন কিছু ছিলো না। বিদেশ থেকে কিছু বাংলাদেশিকে এনে জাতীয় দলে খেলালেও তাদের মধ্যে সফল ছিলে জামাল ভূইয়া আর কেউই কিছু করতে পারেনি। দোষ কি শুধু ক্রইফ এর ছিলো? হয়তো না। সিলেট একাডেমি করবে বলে রেনে কোস্টারকে এনে কিছুই করতে পারেনি সালাউদ্দিন। জাতীয় দল নিয়েও স্বপ্ন দেখিয়ে ক্রইফকে বসিয়ে রাখা হয়েছিলো কারণ মূল সমস্যা ছিলো পরিকল্পনায়। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সফল হতে পারেনি ক্রইফ, সাফল্যর আলো দেখেনি বাংলাদেশের ফুটবল। সাফল্যর স্বপ্ন এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেও অন্ধকারে ছিলো বাংলার ১৬ কোটি। অনেকে এসেছে আবার চলে ও গেছে রেখে গেছে অন্ধকার।

আর সেই অন্ধকারের একটা অধ্যায় এই ক্রইফ।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন