লা ডেসিমা - এক স্বপ্নের রাত

লা ডেসিমা - এক স্বপ্নের রাত
Tirthendu Majumder March 13, 2017, 8:49 pm Articles

সে ছিল এক স্বপ্নের রাত, আবেগমাখা কান্না জড়ানো, উল্লাসে আত্মহারা এক রাত।  যে কোন মাদ্রিদিস্তার জীবনের সেরা ম্যাচ নিঃসন্দেহে।

চোখের সামনে ইতিহাস রচিত হতে দেখেছিলাম সেইদিন। বুঝেছিলাম, উপলদ্ধি করেছিলাম মাদ্রিদ নামের মাহাত্ম্য। আজ বহুদিন পর সেই পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করতে বসলাম। সে স্মৃতির নাম লা ডেসিমা। সেই রাতের বর্ণনা অক্ষরে প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার নেই। তবু যতটুকু পারি নিজের অভিজ্ঞতাটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

এক বুক আশা নিয়ে খেলা দেখতে বসেছিলাম সেদিন। সেমিফাইনালে বায়ার্নের মত টিমকে ৫ গোল দিয়ে ফাইনালে উঠেছি। আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। বিশ্বাস আছে জিতবই। দলে এত নামী দামি প্লেয়ার, কোচ স্বয়ং কার্লো আঞ্চেলত্তি, আমাদের রুখবে কে?

প্রথম ধাক্কাটা খেলাম ৩৬ মিনিটের মাথায়।

কর্নার থেকে বল উঠলো, হেডে ক্লিয়ার হল না, ক্যাসিয়াস আগিয়ে গেলেন ক্লিয়ার করার জন্য, ঠিক সেই মুহূর্তে দ্বিতীয় হেডে বল উঠে গোলে দিকে ছিটকে গেল, ক্যাসিয়াস একটা মরিয়া ডাইভ দিলেন, কিন্তু লাভ হল না! ডিয়েগো গদিনের গোলে এগিয়ে গেল অ্যাটলেতিকো।

                                                  

তখনো আত্মবিশ্বাস এতটুকু চিড় খায়নি। ভরসা আছে নিজের দলের উপর। কামব্যাক করবই। আত্মবিশ্বাস কমতে শুরু করল ৭০ মিনিটের পর থেকে। একটার পর একটা মিস।

ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে, গলা শুকিয়ে আসছে, উত্তেজনায় রগ ছিঁড়ে যাবার উপক্রম।

ঘড়িতে ৯০ মিনিট, ক্ষোভে দুঃখে হতাশায় কখন যে চেয়ার থেকে মাটিতে নেমে বসেছি নিজেও জানি না, রেফারি ইঞ্জুরি টাইম দিলেন ৪ মিনিট। গ্যালারিতে দেখাচ্ছে থম্থম করছে মাদ্রিদ গ্যালারী। একটি ছেলে, মাদ্রিদের জার্সি পরা, মুখ ভাবলেশহীন অথচ চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। বাকিদের অবস্থাই তথৈবচ।
হটাৎ একটা কর্নার।

মদ্রিচ নিতে গেলেন কর্নারটা। সোজা হয়ে বসলাম। এই শেষ সুযোগ। ১ মিনিট ১২ সেকেন্ড বাকি খেলা শেষ হতে। উত্তেজনায় হৃদস্পন্দন দ্বিগুন। বলটা উঠল, সুইং করে গোলের সামনে এসে গোঁত্তা খেয়ে নিচে নামতে শুরু করল।

একটা কান ফাটানো চিৎকার বেরোল মুখ দিয়ে। সময়টা ঠিক ৯২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড। প্লেয়ারটার নাম সেরজিও রামোস। ফুটবলের ইতিহাসে অমর হয়ে গেল সংখ্যা চারটি। ৯২৪৮।

                             

মাঠে, গ্যালারীতে তখন বুনো উল্লাস, ডাগ আউটের খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে পড়েছে, ইতিহাস রচনার মুখে দাঁড়িয়ে তখন রিয়াল মাদ্রিদ।

বাকিটুকু স্বপ্নের মত, দি মারিয়ার অবিশ্বাস্য অ্যাসিস্টের কল্যাণে স্কোরটা হয়ে গেল ২-১। জলের গেলাস উলটে, আশেপাশের অন্তত ১০ টা বাড়ির লোককে জাগিয়ে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলাম!

১১০ মিনিটের মাথায় দুজন ডিফেন্ডারের স্লাইডিং ট্যাকলের মাঝখান দিয়ে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া এক জিগজ্যাগ দেখিয়ে সাপের মত মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে গেলেন বল নিয়ে। গোলে শট নিলেও গোলটা অবশ্য ডিরেক্ট হয়নি। গোলকিপারের রিবাউন্ড থেকে গোলটি করেন গ্যরেথ বেল।

এরপরে ১১৮ মিনিটে মারসেলোর দূরপাল্লার শট। গোলকিপার গ্রিপ করে উঠতে পারেনি। গোল!

এরপর ১২০ মিনিটের মাথায় ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর গোল পেনাল্টি থেকে। কফিনে শেষ পেরেক পড়ল।
ফাইনাল স্কোর ৪-১!

শেষের বাঁশী বাজার পর আবেগে, বিস্ময়ে হাঁ করে বসেছিলাম খানিক। সম্বিত ফিরতেই মনে হল ইতিহাসের সাক্ষী হলে বোধহয় এমনটাই হয়!

                                   

 

 





Similar Post You May Like

Find us on Facebook