আর্সেন ওয়েঙ্গার (৬৮)- শুভ জন্মদিন...

আর্সেন ওয়েঙ্গার (৬৮)- শুভ জন্মদিন...
Md. Shohag Ali October 22, 2017, 11:53 pm English premier league

১৯৪৯ সালে আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন কোচ। ফ্রান্সের বিভিন্ন ছোট ক্লাবের হয়ে নামমাত্র ফুটবল খেলেছিলেন। কিন্তু খেলোয়াড় নয় যেন সৃষ্টিশীল কোচ হওয়ার জন্যই জন্ম হয়েছিল তার। খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন মিডফিল্ডার, আর একজন মিডফিল্ডারের মতই সৃষ্টিশীল, উদ্ভাবনী, আক্রমণাত্মক, দলকে আগলে রাখা, শাসন করার সকল গুণ যেন ঠিকরে পড়েছে ৩০ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে। ছোটবেলায় স্থানীয় ফুটবল টিমে খেলতে গিয়ে, খেলোয়াড় না হয়ে কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই টিমের একজনের উক্তি - “Arsene wasn’t the captain yet he was the leader,”

১৯৮৪ সালে ফ্রান্সের ন্যান্সির হয়ে শুরু কোচিং ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে মোনাকো, জাপানের অখ্যাত নায়াগো গ্রাম্পাস-৮ এর মতো ক্লাব। কিন্তু জন্মই যেন মিতা আর্সেনালের কোচ হয়ে চিরস্মরণীয় থাকার জন্য। অথচ যখন আর্সেনালের কোচ হয়েছিলেন তখন বেশিরভাগ লোকের প্রশ্ন ছিল – “আর্সেন, কে?”

বিবিসি – “সারাজীবন ব্যয় করে গেছেন এমন একটি দল গড়ে তোলার জন্য যারা শিরোপার সাথে আনন্দদায়ক আর আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেবে।”

ডেইলি মেইল – “বিশুদ্ধবাদী; ব্যক্তি ও দলগত টেকনিক্যাল যোগ্যতার উন্নয়নে উৎসর্গীকৃত”।

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন - “I always enjoy watching Arsene’s sides..”

আর্সেনালের অন্যতম সফল ভাইস-চেয়ারম্যান David Dein – “আর্সেন একজন মিরাকল শ্রমিক। ক্লাবে বিপ্লব এনেছে, খেলোয়াড়কে করেছে বিশ্বসেরা। যখন থেকে সে ইংল্যান্ডে এসেছে, আমরা ভিন গ্রহের ফুটবল উপভোগ করছি”। একই রকম মন্তব্য করেছেন সাবেক ওয়াটফোর্ড ম্যানেজার গ্রাহাম টেইলর।

আমেরিকান বেসবল ম্যানেজার বিলি বিনের মতে, তার ম্যানেজারিং ক্যারিয়ার আইডল। এরকম আরো অনেক মন্তব্য আছে ওয়েঙ্গার এবং ওয়েঙ্গারের ফুটবলীয় অবদান সম্পর্কে।

৪-৪-২, ৪-৪-১-১, ৪-৫-১, ৪-৩-৩ কিংবা ৪-২-৩-১ ফরমেশনে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য আক্রমণাত্মক ও স্মরণীয ম্যাচের এবং সৃষ্টিশীল সুন্দর গোলের। নিজ হাতে বিখ্যাত করেছেন অসংখ্য খেলোয়াড়কে – জর্জ উইয়াহ, অরি, বার্গক্যাম্প, ভিয়েরা, ফ্যাব্রেগাস, পার্সি, বেলেরিন .......... ভবিষ্যতবাণী করে জন্ম দিয়েছেন “The Invincible Arsenal”. বিরক্তিকর আর শারীরিক ইংলিশ ফুটবলের নতুন বার্তা এনেছিলেন তিনি “The Great Enterainers”. ট্রেনিং এবং ডায়েটে নিয়ে এসেছিলেন বিপ্লব।

ব্যক্তিগত জীবনকে দূরে ও আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, বহু ভাষাবিদ, সারাক্ষণ গাম্ভীর্যতা, হঠাৎ মুচকি হাসিতে ডাক নাম পেয়েছেন “Le Professeur”. পেয়েছেন সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থন সেটা সুসময়ে কিংবা দুঃসময়ে – “In Arsene We Trust” অথবা “Arsene Knows” কিংবা “Wenger Days”.

আর্সেনালের ট্রফিখরার সময় কিংবা পুরো ক্যারিয়ারে শুধুমাত্র এই বুড়োটারে দেখে সম্ভবত অনেকেই আর্সেনালের সমর্থক হয়েছেন, কিংবা ধরে রেখেছেন সমর্থন বছরের পর বছর। 

প্রিয় ক্লাব আর্সেনালকে দিয়েছেন অন্যতম সেরা এমিরেটস স্টেডিয়াম। অথচ নতুন স্টেডিয়াম করতে গিয়ে অনেক ক্লাব ইতিহাসে রেলিগেটেড হয়ে গেছে। কিন্তু ১৮ বছর ধরে Consistency ধরে রেখেছেন। মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, পিএসজি, মোনাকোর মত ক্লাবের অফার ফিরিয়ে দিয়েছেন। যে ক্লাব তাকে বিখ্যাত করেছে তাকে কেন বিপদের সময় ছেড়ে যাবেন?

১৯৯৯ সালে শেফিল্ড ইউনাইটেড বিপক্ষে আর্সেনালের একটি ম্যাচ পুনরায় আয়োজন করে “ফেয়ার প্লে”-এর স্মরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। সারাজীবন লোকটা ইয়ং খেলোয়াড়দের জন্য কাজ করেছেন, প্রমাণিত খেলোয়াড় কেনার বদলে ইয়ুথ খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, আর্সেনালে নিয়ে আসা, মূল দলে প্রতিষ্ঠিত করা। এর জন্য অনেক ভুগেছেন তবুও এখনও এই নেশা তাকে আজও ছাড়েনি।

সাফল্যের দিক থেকে হয়তো ৩০ বছরের ক্যারিয়ারে অনেকের পিছনে পড়ে গেছেন। ৯ বছরের ট্রফি খরা কাটিয়েছেন ১৪ সালে ৫ম এফএ কাপ জয়ের মাধ্যমে, পরের মৌসুমে রেকর্ড ৬ষ্ঠ। ১৪ বছরের লিগ ট্রফির খরা চলতেছে, হয়তো সামনেই পেতে পারেন অথবা নাও আসতে পারে। দিনে দিনে ট্র্যাক্টিসের ফাঁক-ফোকর বেড়ে যাচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে এঁকগুয়েমিতা, সময় আগের চেয়েও খারাপ যাচ্ছে এখন।

কিন্তু যখন ফুটবল খেলায় তার অবদানের কথা বলা হয় তখন হয়তো অনেকের চেয়ে বহু দূরত্বে এগিয়ে আছেন। মনে-প্রাণে ফুটবল আর কোচিং-কে করে রেখেছেন একমাত্র নেশা। ছুটির দিনগুলোতেও আর্সেনাল আর ফুটবল নিয়ে থাকেন যেমন ছিলেন কৈশোরে সীমান্ত পেরিয়ে যেতেন বুন্দেসলীগা আর মোনাকোতে থাকাকালীন ইংলিশ লিগের খেলা দেখতে। শোনা যায়, তার ডিভোর্সের অন্যতম কারণ আর্সেনাল

বলছি – "Only One" Arsene Wenger এর কথা. আজ ৬৭ বছরে পা দিয়েছেন ওয়েঙ্গার। যদি জিজ্ঞেস করেন কেন আমি ওয়েঙ্গারকে সারাজীবন শ্রদ্ধা করে যাবো, তবে আমার উত্তর ওয়েঙ্গারের ভবিষ্যত পরিকল্পনার মধ্যে পাবেন –

"The day I do not want to do it at the top level, I may become a director but even more I feel attracted by coaching the youth – in Africa or India or somewhere like that where nothing has happened until now."





Similar Post You May Like

Find us on Facebook