শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব
Sayeed Ibna Shmas October 21, 2017, 9:13 pm Articles

২০১০ বাংলাদেশ ফুটবল ঘুমিয়ে আছে। বাংলাদেশ ফুটবল সবকিছু হারিয়েছে কারো কোনো আগ্রহ নেই বাংলাদেশ ফুটবল এর প্রতি। তখনই বাললদেশের ফুটবল এ আলো নিয়ে আসলো ধানমন্ডির ক্লাব শেখ জামাল। বঙ্গবন্ধুর ছেলের নামে নামকরন করা হয় এই ক্লাবের। ২০১০ শুরু এখনো তারা তাদের আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। দেশের মাটিতেই নয় বিদেশের মাটিতেও তারা নাম ছড়িয়ে এসেছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ জিতেছে ২বার। ২০১০-১১ এবং ২০১৩-১৪ দুই মোসুমৌ এই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। ২০১২-১৩ তে রানার-আপ হয়ে থাকতে হয়। ফেডারেশন কাপ এর শিরোপা জিতেছে ২বার। একবার ছিলো রানার-আপ। শেখ জামালের আগের নাম ছিলো ধানমন্ডি ক্লাব। এই নামে ২০০০ সালে বুদ্ধ মুক্কা গোল্ডকাপ জয়ের রের্কড আছে বাংলাদেশের ক্লাবটির। এছাড়াও ২০১১ সালে সাফাল পোখরা গোল্ডকাপ জয় করে নেয় ক্লাবটি।

শেখ জামাল মূল আলোতে আসে ২০১৪ সালে। কলকাতার আইএফএ শিল্ড কাপে। ২০১৪ জোসেফ আপুসির দল কলকাতায় গেলো। কলকাতার মানুষ মুখিয়ে ছিলো মোনায়েম মুন্নাদের পরর্বতী প্রজম্ম কেমন খেলে কলকাতায় তা দেখানো জন্য। মোনায়েম মুন্নার নাম ডুবাইনি মামুনুল, সোহেল রানা, সনি নর্দিরা। সবার চেষ্টা ফাইনাল এ চলে গেলো বাললাদেশের শেখ জামাল কিন্তু পেনাল্টিতে হেরে হতাশা নিয়ে দেশে ফিরতে হয় শেখ জামালকে। কিন্তু কলকাতার মাঠে নিজেদের নামটি ঠিকই লেখিয়ে এসেছে শেখ জামাল। আইএফএ শিল্ড হারের পর। কোচ আফুসি বিদায়, তারকা নর্দি কলকাতা চলে যাওয়া শেখ জামাল শূন্য প্রায় কিন্তু তারপর ও হার মানেনি শেখ জামাল। দেশ সেরা কোচ মারুফুল হককে নিয়ে ভুটানের কিংস কাপে শেখ জামাল। আর ভুটানের মাটিতেই বাজিমাত বাংলার ক্লাবটির। জয় করে নেয় ভুটান এর কিংস কাপ। কাপ, লিগ জয় সবই ছিলো।

মুদ্রার এইপিঠ এইপিঠ দুইটিই দেখেছে শেখ জামাল। খারাপ সময় ভালো সময় সবই ছিলো শেখ জামাল এ। ২০১০ এ লিগের আসার পর শেখ রাসেলের তারকা খেলোয়ার দের নিজেদের করে নেয় শেখ জামাল। শেখ জামালল এর সবচেয়ে বড় তারকা ফুটবলার ছিলো সনি নর্দে। হাইতিয়ান এই ফুটবলার বর্তমান সময়ে বাংলার ফুটবলে খেলে যাওয়া সবচেয়ে হাই প্রোফাইল প্লেয়ার। শেখ জামাল এর হয়ে কলকাতার মাঠে আলো ছড়িয়ে কলকাতার মোহনবাগান এর কর্তাদের নজরে আসেন সনি নর্দি। এরপর আর পিছে তাকাতে হয়নি। শেখ জামাল থেকে তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় মোহনবাগান আর মোহনবাগান এর ১৬ নাম্বার জার্সি পরে কলকাতার মাঠ কাপিয়ে বেড়াচ্ছেন হাইতিয়ান এই প্লে-মেকার। নেইমার এর ব্রাজিল এর সাথেও খেলা হয়ে গেছে হাইতির হয়ে।

শেখ জামালে থাকার সময় নর্দি, ওয়েডসন আর এমেকা তিনই সব দলের জন্য মারাত্মক ছিলো। ভালো সময় কাটিয়ে গেছেন বাংলাদেশে। বিদেশিরা ছাড়াও বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের সেরা তারকারা খেলেছেন শেখ জামাল এর হয়ে। শেখ জামাল যেভাবে শেখ রাসেলের ঘর ভেঙ্গেছিলো ঠিক সেভাবে তাদের ঘর ভাঙ্গে চট্টগ্রাম আবাহনী। বড় দল গড়ার জন্য শেখ জামাল থেকে দেশি তারকাদের নিজেদের করে নেয় চট্টলার দলটি আর বিদেশিদের মধ্যে নর্দি মোহনবাগান এবং ওয়েডসন ইস্টবেঙ্গল নাম লেখান। শেখ জামাল সব হারিয়েও হারিয়ে যায়নি। আস্তে আস্তে আবার আগের রুপে ফিরে যাচ্ছে এই শেখ জামাল। তরুনদের নিয়ে দল করে লিগ এ ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশের দলটি। এবং আশা করি দ্রুতই আগের রুপে চলে যাবে। তাদের সফল কোচ জোসেফ আপুসি ফিরে এসেছে পাল্টে দিচ্ছে শেখ জামালকে। স্বপ্ন দেখি আবারো দেশের বাইরে কোনো শিরোপা নিবে এই হলুদ দলটি। শুভকামনা তাদের জন্য।





Similar Post You May Like

Find us on Facebook