ট্যাক্টিকাল ভিউঃ ড্রয়ের নেপথ্যে লিভারপুলের ফিনিশিং দুর্বলতা নাকি মরিনহোর বাসপার্ক?

ট্যাক্টিকাল ভিউঃ ড্রয়ের নেপথ্যে লিভারপুলের ফিনিশিং দুর্বলতা নাকি মরিনহোর বাসপার্ক?
Rifath Rahman Rimon October 16, 2017, 9:59 pm English premier league

প্রিমিয়ার লীগের সর্বকালের সেরা দুই ক্লাব ইউনাইটেড এবং লিভারপুল। তাই নর্থ ওয়েস্ট ডার্বি বা আলোচিত নাম রেড ডার্বি এক সম্মানের লড়াই। ০-০ স্কোরলাইন কখনই ইংলিশ জাতের না বরং ইতালিয়ান জাতের।

কিন্তু মরিনহো ৩-৪-৩ সাজিয়ে যে ব্রেক থেকে আক্রমণ ভিত্তিক ফুটবল খেলিয়েছেন তার আদৌতে বাহক ইতালিই। ক্লপ তার শিষ্যদেরকে ৪-১-২-৩ ছকে সাজান। মাতিপ আর লভরেনের সেন্ট্রাল জুটির দুই প্রান্তে ফুলব্যাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন মরেনো ও গোমেজ। হোল্ডিং মিডে হেন্ডারসন আর দুই সেন্ট্রাল মিডে চ্যান ও ওয়াইন্যাল্ডাম। এবং সামনে দুই উইঙ্গে কৌতিনহো, সালাহ এবং রোমিং ফরোয়ার্ড রোলে ফিরমিনো।

মরিনহো ইউনাইটেডকে ৩-৪-৩ ছকে সাজান। সেন্ট্রাল ত্রয়ী স্মলিং, জোন্স ও ডার্মিয়ান, দুই উইঙ্গব্যাকে ইয়াং এবং ভ্যালেন্সিয়া। মিডফিল্ড জুটি হেরেরা ও মাতিচ এবং আক্রমণ ত্রয়ী মার্শিয়াল-লুকাকু-মিখিতারিয়ান।

লিভারপুলের উইঙ্গ ধরে আক্রমণ ও ইউনাইটেডের কাউন্টারের অপেক্ষা করা 

                                        

কৌতিনহো খানিকটা ভিতরে সরে এসেছিলেন ফলস উইঙ্গারের মতো। ফলস উইঙ্গার হলো যারা উইঙ্গার হিসেবে শুরু করলেও ভিতরে সরে আসে, কৌতিনহো এই রোলে খেলছিলেন। এর ফলে মরেনো অনেকটা উপরে খেলেছিলেন। এবং ওয়াইন্যাল্ডাম ডান দিক থেকে প্রায়ই বক্সের ভিতরে ঢুক যাচ্ছিলেন ফলস ৮ এর মতো। এমতাবস্থায় লিভারপুল ৩-৩-১-৩ রূপ ধারণ করে। লিভারপুল বাম ও ডান দিক থেকে, বিশেষত বামদিক থেকে ক্রমাগত আক্রমণ করতে থাকে। কিন্তু ফিনিশিং দুর্বলতা ও ডি হেয়ার অতিমানবীয় সেভ গুলো লিভারপুলকে তাদের পরিশ্রম স্কোরবোর্ডে অনুবাদ করতে দেয়নি।

ভ্যালেন্সিয়া ইয়াং এর থেকে বেশ খানিকটা উপরে খেলছিলেন। ইয়াং ডিফেন্সে সহযোগিতাতেই মনোযোগ বেশি দিচ্ছিলেন ভ্যালেন্সিয়ার তুলনায়। ফলাফল ইউনাইটেড লপসাইডেড ৪-৩-৩ আকার ধারণ করে। বাম থেকে মার্শিয়াল ও ডান থেকে ভ্যালেন্সিয়া কিছু সুযোগ সৃষ্টি করেন এছাড়া ইউনাইটেড লুকাকুর মাধ্যমে কাউন্টারের অপেক্ষাই করছিল বলা চলে।

দ্বিতীয়ার্ধে ইউনাইটেডের পিছু হটা ও মরিনহোর দুই উইঙ্গ পরিবর্তন 

                             

দ্বিতীয়ার্ধে বিচ্ছিন্ন কয়েকটা কাউন্টারে সুযোগ বাদে ইউনাইটেড আক্রমণেই মনোযোগ দেয়নি। লিভারপুল মূলত মরেনো, কৌতিনহোর মাধ্যমে বাম দিক থেকে, ও ডান ওয়াইন্যাল্ডাম ও সালাহর মাধ্যেম বেশ কিছু আক্রমণ সূচনা করে। ইয়াং ও সেন্ট্রাল ত্রয়ীর দক্ষতায় লিভারপুলকে বারবার নিরাশ করে অতিথিরা। ঘড়িতে ১ ঘন্টা হওয়ার কিছু করে দুই উইঙ্গ পরিবর্তন করেন মরিনহো। মার্শিয়াল ও মিখিতারিয়ানকে তুলে নিয়ে যথাক্রমে রাশফোর্ড ও লিনগার্ডকে নামান তিনি।ফলে ইউনাইটেডকে লপসাইডেড ৪-৪-২ বাম প্রান্ত থেকে রাশফোর্ড বেশ কিছু আক্রমণের সূচনা করেন কিন্তু বলটা জালে জড়ানো হয়নি রেড ডেভিলদের।

গোলের জন্য মরিয়া ক্লপের আক্রমণত্রয়ী সমূলে পরিবর্তন এবং মরিনহোর ডিফেন্সকে কম্প্যাক্ট করা

                                

আক্রমণভাগের তিনজন কৌতিনহো, ফিরমিনো, সালাহকে পরিবর্তন করে যথাক্রমে সোলানকে, স্টারিজ ও চেম্বারলিনকে নামান ক্লপ। যেকোনো মূল্যে গোল চান তিনি। জবাবে মরিনহো ডিফেন্সকে আরও কম্প্যাক্ট দেন। শেষ বাঁশির কিছুক্ষণ আগে ইয়াং এর পরিবর্তে লিন্ডফকে নামান এবং ডার্মিয়ানকে বামে সরিয়ে দেন বাড়তি সলিডিটির জন্য।

মরিনহো হয়তো নেতিবাচক ট্যাক্টিক্স প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু পগবা ছাড়া তাও আবার এনফিল্ডে, হয়তো মৌসুম শেষে এই এক পয়েন্টই ফারাক হয়ে দাঁড়াতে পারে! তবে লিভারপুলের ফিনিশিং নিয়ে যে ক্লপের বহু কাজ বাকি বলা বাহুল্য।





Similar Post You May Like

Find us on Facebook