আইসল্যান্ডের ফুটবল বিপ্লব!

আইসল্যান্ডের ফুটবল বিপ্লব!

আইসল্যান্ড রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছে। সেই সাথে এখন পর্যন্ত আরও ২৩ টি টীমও পেয়েছে রাশিয়ার টিকেট। কিন্তু আইসল্যান্ডকে নিয়ে এত আলোচনা কেন?

মাত্র তিন লক্ষ জনসংখ্যার দেশ এবং পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র জাতি হিসেবে রাশিয়ার টিকেট নিশ্চিত করাটা আলোচনার মত ব্যপারই বটে। ইংরেজিতে একটা কথা আছে "Quantity not quality matters" সেই কথাটিরই যেন বাস্তব উদাহরণ দিয়ে দিল টীম আইসল্যান্ড। ১৯৩০ এর দশকে ফুটবলে হাতে খড়ি এই জাতির আজকের উত্থান কিংবা সাম্প্রতিক সফলতার পেছনের গল্পটাই  কি আর কিভাবেই বা এটা সম্ভব হল? উত্তর খোজার চেষ্টা করা হলো এই লেখার মধ্য দিয়ে।

আইসল্যান্ডের জাতীয় খেলা হ্যান্ডবল সেখানে বরাবরই জনপ্রিয়। হ্যান্ডবলের জনপ্রিয়তার তুলনায় যেখানে ফুটবল ছিল অনেকটাই ফিকে। তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল ইউরোর বাছাই পর্যন্তই। সবচেয়ে ক্ষুদ্র জাতি হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিটটা তারা চার বছর আগেই পেতে পারত কিন্তু প্লে অফে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়। আইসল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন (KSI) বেশকিছু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেয় ফুটবল জনপ্রিয় করা এবং সফল জাতীয় দল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। তারই অংশ হিসেবে ২০০৯ সালে একদল তরুণ কোচ ইংল্যান্ড পাড়ি জমায় উয়েফা লাইসেন্স এর প্রস্তুতির জন্য। কেএসআই এর প্রথম থেকেই লক্ষ্য ছিল দক্ষ কোচের পাইপলাইন তৈরি। তারা যে সঠিক ছিল তার প্রমাণ তিন লক্ষ মানুষের দেশে আজকে প্রায় ৬০০ জন প্রশিক্ষিত কোচ আছে যাদের মধ্যে ৪০০ জন উয়েফা বি লাইসেন্সধারী অর্থাৎ প্রতি ৮২৫ জন মানুষের জন্য একজন করে কোচ এবং ইংল্যান্ডে এই সংখ্যাটা দশ হাজারের উপরে। বর্তমানে আইসল্যান্ডে অনুর্ধ-১০ বয়সভিত্তিক দলের কোচ হতেও প্রয়োজন হয় উয়েফা বি লাইসেন্স। 

অর্থাৎ শুরু থেকেই তরুণ খেলোয়াড়রা গড়ে ওঠে প্রফেশনালদের তত্বাবধানে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বা শুরু হিসেবে কেএসআই যে সফল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এরপরই তারা নজর দেয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট এর দিকে। যার প্রথম ধাপ হিসেবে তারা স্থানীয় ক্লাব গুলোর সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির দিকে নজর দেয়। এরই অংশ হিসেবে ক্লাবগুলো স্থানীয় অথরিটির সাথে পার্টনারশিপে যায় এবং সারা দেশে ইনডোর ফুটবল পিচ স্থাপন করে যেগুলোর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত, আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন এবং প্রশিক্ষিত কোচ দ্বারা পরিচালিত। মূলত এই ইনডোর পিচ গুলোকেই সাফল্যের নেপথ্যে বিবেচনা করা হয়। এরপরই তারা স্কুল ফুটবলকে জনপ্রিয় করার জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়। এর অংশ হিসেবে তারা স্কুলগুলোর পাশে জমি কিনে আর্টিফিশিয়াল টার্ফ ফুটবল পিচ তৈরি করে দেয়। যেখান থেকেই উঠে এসেছে আজকের গুলফি সিগুর্ডসনরা। 

অর্থাৎ পুরো সাফল্য কিংবা উথানের পেছনে রয়েছে দূরদর্শীতা, সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত, কিছু সঠিক পদক্ষেপ এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার। সারা বছর আইসল্যান্ডের আবহাওয়া ফুটবল খেলার উপযোগী থাকেনা। কিন্তু সদিচ্ছা যে তাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি তার প্রমাণ তাদের আধুনিক ইনডোর পিচ গুলো। শুরুতে বলেছিলাম হ্যান্ডবলের জনপ্রিয়তার কথা, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট পুরোই বিপরীত। পুরো আইসল্যান্ডই যেন ভাসছে ফুটবল জোয়াড়ে তাতে আরও রং ছড়িয়েছে তাদের সাম্প্রতিক সাফল্য। কাজেই তাদের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে আলোচনা হবে এটাই স্বাভাবিক। এটা কোন মিরাকল কিংবা অঘটন নয়। এটা তাদের প্রাপ্য যেটা তারা নিজেদের সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং যোগ্যতা দিয়ে অর্জন করে নিয়েছে। মুলপর্বে তাদের স্বপ্নযাত্রাটা কেমন হবে সেই উত্তরটা আগামী বছর রাশিয়াতেই পাওয়া যাবে!

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন