ফুটবলে ড্রিবলিং (১ম অংশ)

ফুটবলে ড্রিবলিং (১ম অংশ)
Rahik Sumail March 12, 2017, 7:45 pm Articles

*ড্রিবলিং নিয়ে কুস্বংস্কার 

ড্রিবলিং নিয়ে আমাদের অনেকেরই কিছু ভুল ধারনা আছে। সবার আগে যেটা আসে তা হলো ড্রিবলিং আসলে কি তাই ঠিকভাবে না জানা। বেশিরভাগেরই ধারনা বল নিয়ে কারিকুরি করাই হচ্ছে ড্রিবলিং! যে যতোবেশি কারিকুরি দেখাবে সেই সবচেয়ে ভালো ড্রিবলার। এরপরে আসে সেই মহান উক্তি - “কি লাভ ড্রিবলিং করে যদিনা তাতে ম্যাচ জিতা যায়?!? এর থেকে ১টা গোল করলেও তো দলের লাভ হইতো!” প্রকিতপক্ষে ২ পক্ষই একটা কমন জায়গাতেই ভুল করে - সেইটা হলো ড্রিবলিং টা কি এবং কেনো তা বুঝতে!

*ড্রিবলিং এর সংজ্ঞা?

ড্রিবলিং এর সংজ্ঞার জন্যে আমাদের সর্বজ্ঞ্যানি উইকিপিডিয়ার কাছেই যাই - 
In sports, dribbling is maneuvering of a ball by a single player while moving in a given direction, avoiding defenders' attempts to intercept the ball. Such control may be exercised with the legs (e.g. association football), hands (basketball and handball), stick (ice hockey) or swimming strokes (water polo). A successful dribble will bring the ball past defenders legally and create opportunities to score. 

 In association football, a dribble is one of the most difficult ball skills to master and one of the most useful attacking moves. In typical game play, players attempt to propel the ball toward their opponents' goal through individual control of the ball, such as by dribbling (the usage of technical maneuvers). Dribbling can involve a wide variety of manipulative tricks and feints in order to go past an opponent; Ronaldinho would often employ elaborate skills and feints, such as the elastico, in order to beat defenders.

Dribbling is often invaluable especially in the third part of a pitch or at the wings, where most attacks take place. Dribbling creates space in tight situations where the dribbler is marked (closely guarded by a defender), and the dribbler can either score or create scoring chances after a successful dribble. However, dribbling. Some players prefer getting past players with speed, such as the winger Gareth Bale, some players go straight at opponents and look to go past them directly with a nutmeg (kicking the ball through their legs), such as Luis Suárez, whereas others may use feints, control, agility, and acceleration to evade tackles, such as Lionel Messi.

অর্থাৎ, ড্রিবলিং মানে শুধু বল নিয়ে কারিকুরি দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে নাচানো না - ড্রিবলিং মানে এক বা একাধিক ট্রিক্স খাটিয়ে প্রতিপক্ষকে পাশ কাটিয়ে বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। সেই ট্রিক্সটা গ্যারিন্চার মতো বডি ডজে হতে পারে, জিদান-ক্রিশ্চিয়ানোর মতো ওভার-স্টেপিংয়ে হতে পারে, দিনহোর মতো ইলাস্টিক মুভে হতে পারে, সুয়ারেজের মতো নাটমেগে হতে পারে, মেসির মতো ক্লোজ কন্ট্রোলে বল পায়ের সাথে আঠার মতো লাগিয়ে হতে পারে কিংবা গ্যারেথ বেলের মতো জাস্ট গতি দিয়েও হতে পারে! মোটকথা নিকটবর্তী প্রতিপক্ষকে বিট করে সামনে আগালেই তা ড্রিবল হবে। আপনি বল নিয়ে অনেক কারিকুরি করলেন - কিন্তু শেষমেষ বল হারালেন কিংবা ব্যাকপাস দিলেন আপনারটা "ড্রিবল এ্যাটেম্পড" হবে, বাট নট সাকসেসফুল ড্রিবল! কোন ম্যাচে যখন দেখবেন কোন প্লেয়ারের মোট ড্রিবল সংখ্যা ৫টি তখন বুঝতে হবে প্লেয়ারটি ৫ বার প্রতিপক্ষকে বিট করে সামনে আগায় গেসে, ৫ বার কারিকুরি দেখায় বল হারায় নাই। 

                                                        

 

*ড্রিবলিং করার সময় যা যা জরুরীঃ

১. বল কন্ট্রোলঃ আপনার মূল কাজটা এই বল নিয়ে আগানো, আর প্রতিপক্ষের কাজ এই বলটা আপনার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া। আপনি যেই ট্রিক্স খাটিয়েই ড্রিবল করতে যান না কেন, সামান্যতম উইক বল কন্ট্রোলিং ই আপনার বল হারানোর জন্য যথেষ্ট। আপনার কন্ট্রোলিং যতো ভালো আপনি ততো ভালো ড্রিবলার।

২. কন্সেন্ট্রেশনঃ কখন আপনি প্রতিপক্ষকে ডজ দিয়ে ড্রিবল করবেন, এইসময় বলের সাথে সাথে আপনার নিকটবর্তী প্রতিপক্ষের উপরেও ভালো মনোযোগ রাখতে হবে। বল কিংবা প্রতিপক্ষ কারো উপর মনোযোগ একটু কম দিলেন - উভয় ক্ষেত্রেই বল হারাতে পারেন।

৩. ডিসিশন মেকিংঃ বল দখলের লড়াইয়ে ২ পক্ষের জন্যেই ডিসিশন মেকিংটা অনেক ভাইটাল। ড্রিবলার এবং ট্যাকলার ২ জনেই একে অপরের ভুল মুভের জন্যে অপেক্ষায় থাকে। কে আগে মুভ করবে সেটা একটা ফ্যাক্ট - ড্রিবলার আগে মুভ করলে ট্যাকলার সেই অনুযায়ী ট্যাকেল করে। ট্যাকলার আগেই ট্যাকলের জন্যে মুভ করলে বল হোল্ডারের জন্য তাকে ডজ দিয়ে অন্য পাশ দিয়ে তাকে বিট করে চলে যেতে সুবিধা হয়। আবার ড্রিবলার ট্যাকলারের মুভ করার জন্য ওয়েট না করেও স্পীড ভ্যারিয়েশন আর ট্যাকলারের ইমব্যালান্সড পজিশন কাজে লাগিয়ে ইন্সট্যান্ট মুভ করেন। ভালোমানের ড্রিবলাররা ট্যাকলারকে ইমব্যালান্সড করতে এই পেস ভ্যারিয়েশন, ডজ দেওয়া আর ডিরেকশন পরিবর্তনের ডিসিশনগুলা খুব ভালো ভাবে নেন।

৪. পেইস ভ্যারিয়েশন, বডি ব্যালান্স এ্যান্ড এক্সিলারেশনঃ পেইস ভ্যারিয়েশনের কথা আগেই বললাম - রানিং ড্রিবলিংয়ে ড্রিবলারদের সবথেকে বড় অস্ত্র এই পেইস ভ্যারিয়েশন। ড্রিবলার যতোটা ব্যালান্স রেখে এই পেইস ভ্যারিয়েশনটা ব্যবহার করতে পারবে সে ততো ভালো ড্রিবলিং করবে। এবং ট্যাকলারকে ভ্যারিয়েশন দিয়ে আফব্যালান্স করার পর সবচেয়ে ইম্পোর্ট্যান্ট কাজ হলো হুট করে গতি বাড়ানো বা এক্সিলারেশন। এই এক্সিলারেশনটা যার যতো ভালো হবে সে ততো ভালোভাবে ট্যাকলারকে বিট করতে পারবে। ট্যাকলারকে বিট করার পর গতি যদি বাড়াতে নাই পারে তাহলে সেই ট্যাকলারই আবার বল দখলের লড়াইয়ে চলে আসবে।

৫. গুড ফিনিশঃ ড্রিবল করে অপোনেন্ট টিমের ১ জন, ২ জন, ৩ জনকেও বিট করলেন - তারপর কি করবেন? আপনার এই ১-২-৩ জনকে ড্রিবলিং এ বিট করাটা তখনি পূর্ণতা পাবে যখন আপনি সেই ড্রিবলিং থেকে গোল করবেন, ভালো পজিশনে থাকা কারো জন্যে গোলের চান্স ক্রিয়েট করবেন, অথবা এমন একটা ফরোয়ার্ড পাস দিবেন যা একটা ভালো এ্যাটাকের সুচনা করবে। ড্রিবল করে ৩ জনকে কাটালেন, কিন্তু শেষমেশ বল হারালেন কিংবা একটা ব্যাকপাস দিলেন যা কোন কাজের না - আল্টিমেটলি আপনার ড্রিবলিংটাই ব্যার্থ হবে। 

৬. কনফিডেন্স এন্ড ডিটারমিনেশনঃ ড্রিবল করতে চান??? - “ফার্স্ট ইউ মাস্ট হ্যাভ গাটস টু ড্রিবল!!!” আগে এরকম কলিজা রাখেন যে আপনি ড্রিবল করে অপোনেন্টকে বিট করবেনই! প্রতিযোগিতা মুলক ম্যাচ খেলতেসেন, কুইকার পাসিং আর হাইস্পীডের যুগে - আপনি যতো তারাতারি সুবিধাজনক পজিশনে থাকা টিমমেটকে পাস দিবেন ততই আপনার দলের জন্যে ভালো। ব্যার্থ হবেন তো আপনার দল একটা ভালো এটাকের সুযোগ হারাবে অথবা বিপক্ষ দল কুইক কাউন্টার এ্যাটাকে যাবে! ড্রিবল করতে চান কোন সমস্যা নাই, তবে আপনি সফল হবেনই এরকম মানসিকতা নিয়ে ড্রিবল করতে হবে! ড্রিবলিং করতে গিয়ে সফল হবেন কি হবেন না, ড্রিবল করবেন না যতো দ্রুত পারেন টিমমেটকে পাস দিবেন - এরকম ইতস্ততায় ভুগলে হবে না! আপনি যদি লো কনফিডেন্স নিয়ে ড্রিবল করতে যান, তাহলে উপরের কোন টেকনিকই কাজে লাগবে না! ম্যারাডোনা, গারিঞ্চাদের ড্রিবলিং দেখলে খেয়াল করবেন কেমন “ড্যাম কেয়ার” এ্যাটিচিউড নিয়ে তারা ড্রিবলিং করতেন। একটা ম্যাচের উদাহরন দেই - ১৯৭৬ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে মুখোমুখি হন সর্বকালের অন্যতম সেরা ২ ড্রিবলার জর্জ বেস্ট এবং ক্রুইফ। ম্যাচের পূর্বে বেস্টকে প্রশ্ন করা হয়,”হু ইজ দ্যা বেটার ওয়ান? ইউ অর ক্রুইফ?” বেস্ট উত্তর দেন - “আই উইল শো ইউ অন দ্যা পিচ, হু ইজ দ্যা বেটার ওয়ান! আই উইল নাট্মেগ ক্রুইফ অন দ্যা ফার্স্ট চান্স!!!”
ইউ নো হোয়াট - বেস্ট ডিড দ্যাট!!! 

* ড্রিবলিং এর উপকারিতাঃ

ফুটবল, বাস্কেটবল, হকি, হ্যান্ডবলের মতো খেলা গুলোয় যেখানে বল দখলের জন্যে উভয় দলের সব প্লেয়াররাই ঝাপায় পড়তে পারে - সেখানে ড্রিবলিং অনেক ভাইটাল একটা টেকনিক। এইসব খেলায় বল হোল্ডিং দলের লক্ষ্য থাকে প্রতিপক্ষের হাফে স্কোর করা, এবং প্রতিপক্ষের লক্ষ্য থাকে ফিজিক্যাল প্রেজেন্স দিয়ে ওই বল কেড়ে নিয়ে নিজেদের স্কোর করার সুযোগ তৈরি করা। উভয় দলেই প্লেয়ার সংখ্যা সমান থাকে এই ব্যাটলে, সো ব্যাটলটা সমান সমানই থাকে। কিন্তু যেই মুহূর্তে বল হোল্ডাররা প্রতিপক্ষের কাউকে ড্রিবল করে চলে যায় সেই মুহূর্তে যেই প্লেয়ারটিকে ড্রিবল করা হলো সে আউট অফ দ্যা ইকুয়েশন আর ব্যাটলটাই তখন আনইভেন হয়ে যায় এবং বল হোল্ডিং টিম স্কোরিং এর সুযোগ পায়।

এখন স্পেসিফিক্যালি ফুটবলের বেলায় এই ড্রিবলিং সব ফুটবলারের জন্যেই একটা বেসিক স্কিল। দলের ফরোয়ার্ড থেকে শুরু করে গোলকীপার পর্যন্ত সবারই এই স্কিলটা কমবেশি আয়ত্বে রাখা লাগে। অন্যান্য খেলায় পাসিং ই শেষ ভরশা হলেও, ফুটবলে একটা সময় মাস্ট ড্রিবল করা লাগে কোন পাসিং অপশন থাকে না। বাকি খেলাগুলার মতোই একটা ভালো ড্রিবলিং ফুটবলেও চান্স ক্রিয়েট করতে সাহায্য করে। একটি সাকসেস ফুল ড্রিবল হয় ড্রিবলারের জন্যে গোল করার জন্যে সুবিধা করে দিবে অথবা টিমমেটের জন্যে স্পেস ক্রিয়েট করবে। যেমন ধরলাম দলের সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডের পায়ে বল সাথে অপোনেন্ট টিমের ডিফেন্সিভ মিড আর সামনে ২ সিবি। ফরোয়ার্ডটি ডিফেন্সিভ মিডকে কাটালেন, সামনে এগিয়ে আসা একজন সিবিকেও কাটালেন, তাঁকে চার্জ করতে আসা শেষ সিবিকেও শুধু পাশ কাটালেন এবং সেই মুহূর্তে তার সামনে শুধু গোলকীপার এবং তার কাজ পেনাল্টি শ্যুটের মতন কীপারকে বিট করে বল জালে জড়ানো। এক্ষেত্রে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডকে দেওয়া পাসটি হয়তোবা মুখে তুলে দেওয়ার মতো চান্স ক্রিয়েটিং পাস ছিলনা, কিন্তু সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডটি তার ড্রিবলিং দিয়েই গোলস্কোরিং চান্স ক্রিয়েট করলেন। আবার ধরলাম ড্রিবলারটি মিডফিল্ডার কিংবা উইঙ্গার, বল হোল্ডিং করা অবস্থায় বিপক্ষ হাফের সামনে প্রতিপক্ষের ৭ জন বল হোল্ডিং টিমের ৪ জনকে জোনালি মার্ক করে রাখসে। এখন ড্রিবলার একজনকে ড্রিবল করলেন, তার এক্সিলারেশন দিয়ে প্রথম ট্যাকলারকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়ে ইকুয়েশনটা ৪ ভার্সেস ৬ করে মিড থেকে একটানে প্রতিপক্ষের হাফে চলে আসলেন। প্রতিপক্ষের আরো একজন তাকে চার্জ করতে গিয়ে বিট হলেন, ইকুয়েশন ৪ ভার্সেস ৫। এমতবস্থায় বল পায়ে ভয়ংকর হয়ে উঠা ড্রিবলারকে সামলাতে অটোমেটিক্যালি আরো ২-৩ জন চলে যাবে ড্রিবলারকে আটকাতে। সেই মুহূর্তে এ্যাটাকিং থার্ডে থাকা বল হোল্ডিং টিমের এটাকাররা হয়তো আগের থেকে সুবিধাজনক ওয়ান-ওয়ান পজিশনে থাকবে এবং কেউ কেউ পুরোপুরি আনমার্কড হয়ে যাবে। অপোনেন্ট টিমের এ্যাটাকাররাও তখন নিজেদের রক্ষন সামলাতে নিচে এসে পড়বে কিন্তু সাথে এটাকিং টিমের প্লেয়াররাও অভারল্যাপ করবে এবং শ্যুটিং জোনে এ্যাটাকিং টিমই নিউমেরিটিক্যাল এডভান্টেজ পাবে। সেই নিউমেরিটিক্যাল এডভান্টেজের মুহূর্তে ড্রিবলারের সঠিক পজিশনে থাকা টিমমেটকে পাস জাস্ট শ্যুট করার মতন একটা গোল স্কোরিং চান্স ক্রিয়েট করে। ড্রিবলার সবচেয়ে সুবিধাজনক পজিশনে থাকা টিমমেটকে পাস না দিলেও বাকিদের জন্যেও সেই পাস দেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। 

এই ড্রিবলারই সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হয়। ট্যাকলাররা ড্রিবলিংয়ে বিভ্রান্ত হয়ে, নার্ভ হারায় কিংবা একান্ত বাধ্য হয়েই বল কিকের জায়গায় ড্রিবলারকেই ফাউল করে বসেন। অপোনেন্টের হাফে ড্রিবলিং করতে গিয়ে ফাউলের শিকার হলে বল হোল্ডিং টিম সুবিধাজনক জায়গা থেক ফ্রি-কিক তো পাইই, পেনাল্টিও পেয়ে যায়। অপোনেন্ট হাফে এরকম স্পটকিক সবসময়েই একটা বড় চান্স। 

অতএব ড্রিবলিং ইউজলেস না! ড্রিবলিং থেকে গোল হয় নাই - হতে পারে এটা ড্রিবলারের ফিনিশিং দুর্বলতা, কিংবা ভুল পজিশনে থাকা টিমমেটকে পাস দেওয়ার ফল, কিংবা পুরোপুরি তার টিমমেটদের ব্যার্থতা যে ড্রিবলিং ফলে অপোনেন্ট হাফে যেই গ্যাপ সৃষ্টি হইসিল তারা সেইটা তাদের পজিশন সেন্সের অভাব কিংবা ফিনিশিং দুর্বলতায় কাজে লাগাতে পারে নাই। একজন ভালো ড্রিবলার শুধুমাত্র তার ড্রিবলিং দিয়েই ২ দলের মাঝে ব্যাবধান গড়ে দিতে পারেন।

*ড্রিবলিং কখন খারাপঃ

ড্রিবলিং টা ফুটবলের সবচাইতে কঠিন স্কিলগুলার মধ্যে অন্যতম। ড্রিবলিং এ এক্সপার্ট না? - তাহলে ড্রিবলিং কম ট্রাই করাই ভালো! আবার যতোবেশি ড্রিবল এটেম্পড করা হবে, ততো বেশি বল হারানোর চান্স বেশি থাকবে। গত ২ সিজনে লা লীগায় ম্যাচ পার ড্রিবল নেইমারের সবচেয়ে বেশি, ডিসপোজেসড হবার দিক থেকেও নেইমার ২ সিজনেই ২য় স্থানে। ইপিএলে জাহা ম্যাচ পার ড্রিবলিং রেটে ৩য়, বল হারানোতে ১ম। গত বিশ্বকাপে মেসি ড্রিবলিং এ ১ম বল হারানোতে ৪ নাম্বারে, সানচেজ ড্রিবলিং এ ২য় আবার বল হারানোতে মেসির প্রায় ২ গুন হয়ে ১ম স্থানে (তবে হ্যা, মেসি-নেইমারদের মতোন হাই লেভেলের ড্রিবলাররা প্রতিপক্ষের পারফেক্ট ট্যাকলের থেকে ফাউলেই বেশি বল হারান)! এখনকার কুইক কাউন্টার এটাকের যুগে বল হারানোর মুল্য দিতে হয় বেশি, যদিনা আপনার দলের ডিফেন্সিভ মিড আর ডিফেন্ডাররা সেই কাউন্টার এটাক ঠিকমতো কাভার দিতে না পারে। 

সাকসেসফুল ড্রিবল জমাট বাঁধা ডিফেন্স ভেঙ্গে স্পেইস, গোল স্কোরিং চান্স ক্রিয়েট করে ঠিকই আবার যখন দ্রুত কাউন্টার এ্যাটাকের দরকার হয় সেই সময় “অযথা” ড্রিবলিং এর চেস্টা কাউন্টার এ্যাটাকের মোমেন্টামটাই নস্ট করে দেয়। পাসিং ফুটবলেও ডিফেন্স ভাঙ্গতে কুইক পাসিং আর প্লেয়ারদের কুইক মুভমেন্ট করা লাগে, সেই সময় অযথা স্লো ড্রিবলিং পাসিং ফুটবলের চান্স ক্রিয়েট করতে দেয় না আবার বল হারিয়ে কাউন্টার এ্যাটাক খাওয়ার ভয় ও থাকে। ড্রিবলিং কাউন্টার এ্যাটাকিং-পাসিং, ২ টাইপের ফুটবলেই অকে, কিন্তু সেটা যতো ফাস্ট আর যতো সাকসেসফুল হয় ততোই ভালো, নাহলেই বিপদ!

ড্রিবল করলে যখন বল হারানোর একটা ভয় থাকে তখন সেই হিসেবে ড্রিবল অপোনেন্টের হাফে করাই বেশি ভালো। এতে রিস্ক কম থাকে। নিজেদের হাফে অপোনেন্টের প্রেসিং করা এ্যাটাকারদের ওয়ান-ওয়ানে বিট করতেও ড্রিবল করা লাগে, তবে সাবধান - এইখানে ড্রিবলিং ফেইল হলে আর রক্ষা নাই!!! কয়বছর আগে এল-ক্লাসিকোতে ভালদেসের ডি মারিয়ার কাছে গোল খাওয়ায় কথা নিশ্চয় ভুলেন নাই??? 

*বর্তমান যুগে ড্রিবলিংঃ

বর্তমান যুগটা সোজা কথায় কুইক ফুটবলের যুগ। ইভেন ১৫ বছর আগের তুলনায়ও এখনকার পাসিং, স্প্রিন্ট, গেম টেম্পো অনেক কুইক। ফলে ডিসিশন মেকিংটাও কুইক। আগের তুলনায় প্লেয়ারদের স্পীড, স্ট্যামিনা, ফিটনেস, ওয়ার্করেট ও অনেক বেশি। এই পরিবর্তিত ফুটবলের যুগে ড্রিবলিংটাও এখন আগের থেকে কম ব্যাবহার করা হয়। তারমানে এই না যে ড্রিবলিংটা এখন সবাই কম পারে কিংবা কোচরা ড্রিবলিং করতে মানা করে। বর্তমানের ফুটবলটা আগের থেকে অনেক বেশি ফলনির্ভর। বলতে পারেন সবাই তো আগেও ফলের জন্যেই খেলতো - হ্যা খেলতো তো অবশ্যই, তবে সবাই এখন সাফল্যের জন্যে শর্টকার্টই খুজে বেশি। আগের মতো স্কিলফুল, ড্রিবলিংফুল সুন্দর ফুটবল খেলার থেকে গতিশীল ফুটবল খেলে ফল বের করে আনার দিকেই জোড় দেয় বেশি সবাই। এককালে দলের উপরিভাগের ৬-৭ জনই ছিল স্পেশালিস্ট ড্রিবলার, উঠতি প্লেয়ারদের এম্বিশনই ছিল ভালো ড্রিবলার হওয়া। সেখান থেকে ড্রিবলারের সংখ্যা কমানো শুরু করে ইউরোপিয়ানরা মিড-ডিফেন্সে লোক ভারি করা শুরু করে। ইতালিয়ানরা এন্টি-ফুটবল মানে ডিফেন্সিভলি ফল নির্ভর খেলার বিকাশ ঘটাতে থাকে, ইউরোপিয়ানরাও সাফল্যের খোজে তা ফলো করতে থাকে। স্কিলফুল, ড্রিবলিং নির্ভর সুন্দর ফুটবলের অনুসারী ছিল লাতিনরা, বিশেষ করে সাম্বার তালে তালে ফুটবল খেলা ব্রাজিলিয়ানরা। ফুটবলটা যাদের কাছে বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম, ফুটবল নিয়ে কারিকুরি করাই যাদের প্যাশন! এই প্যাশন আর সুন্দর ফুটবল দিয়েই প্রথম ৯ বিশ্বকাপের ৫ টাই লাতিনদের, যার ৩ টাই ব্রাজিলের! সো তখনকার ফুটবলার, স্পেশালি লাতিন আর ব্রাজিলিয়ানরা ভালো ড্রিবলারই হতে চাইতো এবং ভালো ড্রিবলারই হইতো অভারঅল বেশি।

কিন্তু সব ভেজাল লাগালো ওই ফল নির্ভর, ডিফেন্সিভ এন্টি-ফুটবল! শুরুটা ধরা যায় ৮২ বিশ্বকাপে জোগো বোনিতার ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ ফুটবলের ইতালির কাছে মার খাওয়া দিয়ে! ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা টিম, অনন্য সুন্দর স্কিল-ড্রিবল নির্ভর ফুটবল উপহার দেওয়া ব্রাজিল ইতালির কাছে হারার পর থেকে খোদ ব্রাজিলই ফল নির্ভর ফুটবলের গুরুত্ব বুঝা শুরু করে। ব্রাজিল এরপরেও অনেকগুলা কাপ জিতসে কয়েকজন ট্যালেন্টেড ফুটবলারের হাত ধরে, কিন্তু সেটা আগের সেই সাম্বাতে অবশ্যই না! ইভেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার লীগগুলোতেও কোচেরা সাম্বা-ট্যাঙ্গোর বদলে ফল নির্ভর ট্যাক্টিক্সই বেশি ইউজ করে। যার মূলমন্ত্র - বল নিয়ে কুইক মুভ করো, ড্রিবল করতে চাও তো সফল হবা এমনভাবেই ড্রিবল করো, যতোটা কুইকলি পারো ড্রিবল করো, মোমেন্টামের দাম অনেক বেশি, মোমেন্টাম নস্ট করে অযথা ড্রিবলিং করতে যেয়ো না। 

আল্টিমেটলি ড্রিবল মারা যায় নাই বা এর গুরুত্ব কমেনি, তবে সময়ের তাগিদে ভালো ড্রিবলার এবং ড্রিবলিংয়ের সংখ্যা কমেছে

লেখকঃ জাওয়াদ আব্দুল্লাহ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 





Similar Post You May Like

Find us on Facebook