মামলা হল আল খেলাফির বিরুদ্ধে

মামলা হল আল খেলাফির বিরুদ্ধে

পিএসজি মালিক নাসের আল খেলাফির বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা করেছে সুইডিশ রাষ্ট্রীয় আইনজীবীরা। তাদের তথ্যমতে ২০২৬ ও ২০৩০ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের মিডিয়া সত্ত্বা বেশ কিছু কারচুপি হয়েছে যার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন পিএসজির মালিক। 

সুইস রাষ্ট্রীয় প্রোসেকিউটরদের দাবি, কাতার ও তার পরবর্তী বিশ্বকাপ আয়োজনে বেশ কিছুবার ঘুষ লেনদেন ও অন্যান্য অনৈতিক কর্মকান্ড ঘটেছে । ফিফা সেক্রেটারি জেনারেল জেরোম ভাল্কের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তারা। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৮ থেকে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের মিডিয়া সত্ত্বা অনৈতিক ভাবে ঘুষ গ্রহণের মাদ্যমে নির্ধারণ করেছেন ভাল্ক। অর্থাৎ বিশ্বকাপ কোন কোন চ্যানেল নিজে সরাসরি প্রচার করবে তা নিয়েই এই মামলা। কেননা পুরো বিশ্ব যেখানে টিভির পর্দায় মেয়ে উঠবে তখন বিশাল অর্থনৈতিক লাভের বিপুল সম্ভাবনা। এছাড়া ২০২৬ ও ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ সত্ত্ব কিনে নিয়েছে কাতারি মিডিয়া গ্রুপ বীইন স্পোর্টস। আর বীইন স্পোর্টসের মালিক আর কেউই নয় বরং স্বয়ং নাসের আল খেলাফি নিজেই। খেলাফির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা ভোগ করছেন ভাল্ক বলে তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছেন সুইস আইনজীবীগণ।  

ধারনা করা হচ্ছে বর্তমান এই মিডিয়া সত্ত্বা কাতারের বিশ্বকাপ অফারের সঙ্গে জড়িত। কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে সেই ২০১১ সাল থেকেই। তৎকালীন এশিয়া ফুটবল কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন হামামের বিরুদ্ধে ঘুষ দেবার অভিযোগ তুলেছিলেন বেশ কিছু ফিফা কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ফিফা প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনেও ঘুষ দেবার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা FBI ফিফার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ নিয়ে তদন্তে নামে। তারা ১৪ জন ফিফা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা করে। পরবর্তীতে এই মামলার রেশে বেরিয়ে আসে আরও অনেক নাম ও তথ্য। জানা যায় ২০১০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনে দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবল এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ১০ মিলিয়ন ঘুষ দিয়েছিলেন ফিফা ভাই প্রেসিডেন্ট জ্যাক ওয়ার্নারকে। ফলস্বরূপ তার মাসখানেক বাদেই পদত্যাগ করেন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটার। 

কাতারের বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিতর্কিত বিশ্বকাপ তা নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। তবে এই মামলার ফলাফলে কাতার ও নাসের আল খেলাফি ছারাও জড়িত আছে পিএসজির ভবিষ্যৎ। সম্প্রতি পিএসজি বিশ্বরেকর্ড করে নেইমারকে যে দলে ভেরাল তাতে উল্লেখ ছিল বিশ্বকাপের এমব্যাসেডর হবার কথা। তবে কি সেই চুক্তি অটুট থাকবে? কি হতে পারে এর পরিণাম? সেই প্রশ্নই এখন সকলের।  

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন