আর্জেন্টিনা - চিলির বিশ্বকাপ সমীকরণ

আর্জেন্টিনা - চিলির বিশ্বকাপ সমীকরণ
Shihab Rahman October 5, 2017, 1:10 am National Team

দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বড় দুটি দল আর্জেন্টিনা ও চিলি। শেষ দুবার কোপা আমেরিকার ফাইনালিস্টও তারা। মেসি, ডিবালা, সানচেজ, ভিদালদের মত তারকার ভিড় তাদের দলে। কিন্তু বিশ্বকাপে বাছাই করতে যে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে তাদের। তবে কি আগামী বিশ্বকাপে দেখা যাবে মেসি, সানচেজদের? কিভাবেই বা তারা পারবেন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখাতে? রাশিয়ার লাখো সমর্থকদের মন রাখতে? 

দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে (কনমেবল) এবার অংশ নিচ্ছে ১০ টি দেশ। অতএব প্রতিটি দল হোম-এওয়ে মিলিয়ে মোট ১৮ টি ম্যাচ খেলবে। ১৮ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা প্রথম ৪ দল সরাসরি আগামী বছর রাশিয়ার বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হবে। ৫ম দলকে খেলতে হবে প্লে-অফ। অর্থাৎ অন্য কোন প্রদেশের একটি দলের সাথে তাদের ম্যাচ পড়বে। হোম ও এওয়ে লেগ শেষে জয়ী দল বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৫ টি দেশ দক্ষিণ আমেরিকা ঠেকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে। 



১৮ ম্যাচের মধ্যে ১৬ রাউন্ড ইতমধ্যেই শেষ। প্রতিটি দলেরই দুইটি করে ম্যাচ বাকি। ১৬ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে ইতমধ্যেই বিশ্বকাপে তাদের জায়গা নিশ্চিত করেছে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে ২য় থেকে ৫ম পজিশনগুলোর জন্য বেশ কঠোর প্রতিযোগিতা চলছে। বর্তমানে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পজিশনে অবস্থান করছে যথাক্রমে উরুগুয়ে, কলম্বিয়া ও পেরু। আর্জেন্টিনা আছে পঞ্চম পজিশনে ও চিলি ষষ্ঠ। প্লে-অফে এবার কনমেবল তথা দক্ষিণ আমেরিকার পঞ্চম দলের সঙ্গে খেলা পড়বে ওশেনিয়া (OFC) থেকে বাছাইপর্বের জয়ী দলের বিপক্ষে। বিগত দুইবারের মত এবারও ওশেনিয়া থেকে জয়ী হয়েছে নিউ জিল্যান্ড। অতএব দক্ষিণ আমেরিকার পঞ্চম দলের মুখোমুখি হবে বর্তমানে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১১৩ নম্বরে থাকা নিউ জিল্যান্ড।  

আর্জেন্টিনার সমীকরণ: আর্জেন্টিনার আগামী ম্যাচ ঘরের মাঠে ৪ নম্বরে থাকা পেরুর বিপক্ষে এবং তার পর খেলবে গ্রুপে ৮ নম্বরে থাকা ইকুয়াডরের বিরুদ্ধে, এওয়েতে। প্রথম ৪ এ থাকতে হলে পেরুকে হারানো তাদের জন্য প্রায় আবশ্যক হয়ে দাড়িয়েছে। কেননা পেরুকে যদি হারাতে না পারে, নিজ ভাগ্য আর নিজেদের হাতে থাকবেনা। গোল ডিফারেন্সের বিস্তর ব্যবধান থাকায় ড্র করলেও পেরু তাদের উপরেই অবস্থান করবে। শেষ ম্যাচ জিতলেও তাদের প্রার্থনা করতে হবে পেরু যেন কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী হতে না পারে। অতএব ভাগ্য নিজের হাতে রাখতে চাইলে আগামী দুই ম্যাচ জেতা আর্জেন্টিনার জন্য হয়ে দাড়িয়েছে আবশ্যক। 

উরুগুয়ে ও কলম্বিয়ার সমীকরণ: বাছাইপর্বে গ্রুপে ২ এবং ৩ নম্বরে থাকা উরুগুয়ে ও কলম্বিয়ার জন্য সমীকরণটা আর্জেন্টিনার চেয়ে তুলনামূলক সহজ। উরুগুয়ের আগামী দুই ম্যাচ যথাক্রমে গ্রুপে ১০ ও ৯ নম্বরে থাকা ভেনেজুয়েলা ও বলিভিয়ার বিপক্ষে। দুই ম্যাচের যেকোন একটি জিতলেই বিশ্বকাপে স্থান নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। অন্যদিকে কলম্বিয়া মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে (৭) ও পেরুর (৪) সাথে। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট আনতে পারলেই বিশ্বকাপে পাকা হচ্ছে তাদের অবস্থানও। 

চিলির সমীকরণ: অন্যদিনে চিলির জন্য বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করাটা এখন আর তাদের নিজেদের হাতে নেই। তার উপর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচ বাকি আছে যা কিনা অনুষ্ঠিত হবে ব্রাজিলে। যদিও তারা আগামী ২ ম্যাচ জিতে যায় তবুও তাকিয়ে থাকতে হবে সতীর্থদের ফলাফলের উপর। চিলি ফ্যানরা তাই কামনা করবে নিজেদের দুই ম্যাচ জেতার পাশাপাশি যেন আর্জেন্টিনা বনাম পেরু ম্যাচটি ড্র হয়। কেননা সেক্ষেত্রে সহজেই চতুর্থ পজিশনে চলে আসবে তারা। 



তবে কি ফুটবল বিশ্ব তাদের চাহিদা মতই মেসি-সানচেজদের দেখতে পারবে রাশিয়ায়? নাকি করুন বাস্তবতার স্বীকার হতে হবে তাদের? মেনে নিতে হবে সেই রূঢ় সত্যকে, হয়তবা দেখা নাও যেতে পারে তাদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে!





Similar Post You May Like

Find us on Facebook