জলরাজ্যের কিংবদন্তি ফেলপস

জলরাজ্যের কিংবদন্তি ফেলপস
Ulka Chowdhury October 4, 2017, 11:57 am Other Sports
মাইকেল ফ্রেড ফেলপস একজন সাঁতারু তারকা। না,তার পরিচিতি এখানেই শেষ নয়। ইতিহাসে সবচেয়ে সুসজ্জিত অলিম্পিয়ান খেতাবপ্রাপ্ত এই তারকার আছে সর্বোমোট ২৮ টি পদক।
 
সাথে তিনি হাতিয়ে নেন ২৩টি অলিম্পিক গোল্ড মেডেল,১৩টি অলিম্পিক গোল্ড মেডেল (একক ইভেন্ট), এবং ১৬টি অলিম্পিক মেডেল (স্বতন্ত্র ইভেন্ট)। ২০০৪ সালে এথেন্স এর সামার অলিম্পিকে ৬টি গোল্ড এবং ২ টি ব্রোঞ্জ পদকের হাত ধরে তার রেকর্ডের যাত্রা শুরু হয়। আবার,২০০৮ সালে বেইজিং গেমস এর মাধ্যমে ফেলপস ১৯৭২ সালে মার্ক স্পিটস এর ৭বার প্রথম হবার রেকর্ডটি কে ভেঙ্গে দেন। এভাবে ২০১২ সালের লন্ডন সামার অলিম্পিকে ৪টি গোল্ড এবং ২টি সিলভার এবং ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত রিও ডি জেনেরিও অলিম্পিকে ৫টি গোল্ড এবং ১টি সিল্ভার জয়ের মাধ্যমে সবচেয়ে সফল অলিম্পিক তারকা হিসেবে বিবেচিত হন ফেলপস।
 

অদ্ভুদভাবে সাঁতারের সাথে প্রেমে পড়া

 
আমেরিকান এই তারকার সাঁতারে আসার গল্পটি একটু ভিন্ন।বয়স তখন কেবল ৭। ছোটবেলায় "হাইপারএক্টিভ সিন্ড্রোম" এর স্বীকার হতে হয় তাকে। এই রোগকে দমন করতে তাকে সাঁতারের জন্য উতসাহিত করা হয়। এ থেকেই শুরু হয় তার সাঁতার যাত্রা। বছরের সাথে পাল্লা দিয়ে তার দক্ষতা চুড়ান্ত পর্যায়ে পদার্পন করে।
 

সাঁতারে প্রতিভা ছড়ানোর যখন শুরু এবং আত্মবিশ্বাস

 
কিংবদন্তী ফ্রেড তার যাদু দেখাতে শুরু করে মাত্র ১৫ বছর বয়সে। ২০০০ সালে সিডনি অলিম্পিক ফাইনালে ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ক্যাটাগরীতে ৫ম স্থান দখল করে নেন। কিন্ত তার চাওয়া ছিলো আরেকটু বেশি। সেবার তিনি বলেন
 
"এটা ভালো ছিলো। আমি ৫ম হয়েছি। এটা অবশ্যই একটি বড় অর্জন। কিন্ত আমি এতে সন্তুষ্ট নই। আমি আরো একটু বেশি চেয়েছিলাম।"
 
সেকেন্ডের ও কম সময়ের ব্যবধান ছিলো মেডেলটির জন্য। ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করে আবার বলেন
 
"আমি আরেকটু দ্রূত হলে এটি নিতে পারতাম,হয়তোবা আমার একটি সুযোগ ছিলো।"
 
তাকে সবচেয়ে নিবেদিতপ্রান সাঁতারু আখ্যা দেয়ার কারন জিজ্ঞেস করা হলে,উত্তরে তিনি বলে
 
"কিছু কারন অবশ্যই আছে কেন আমি প্রত্যেক ছুটির দিনে ,প্রত্যেক ক্রিসমাসে বা প্রত্যেক জন্মদিনেই সাঁতার কেটেছি। আমি চেষ্টা করেছি আমি যতটুকু পারি নিজেকে তৈরী করতে,আমি চেষ্টা করেছি আমি আসলে কি করতে পারি এবং আমার মাঝে কি ধরনের সম্ভাব্যতা আছে তা পরখ করতে। আমি সবই করেছি যতটুকু করা উচিত।"

এবার বিশ্বকে জয় করার পালা

 
এথেন্স ২০০৪ এ অলিম্পিকে অংশ নেয়ার আগেই ৫টি ওয়ার্ল্ড টাইটেল ফেলপস এর সাথে জুড়ে যায়। ২০০১ ও ২০০৩ এর ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০০২ এর প্যান পেসিফিক চ্যাম্পিয়নশিপ তাকে অল্প বয়সেই খ্যাতি এনে দেয়। ৮টি ইভেন্টের মধ্যে ৪*১০০মিটার এবং ৪*২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ক্যাটাগরীর স্বর্ণপদক ভিরেছে ফেলপসদের তাবুতেই।
 
ইতিমধ্যেই পূর্ববর্তী সাঁতারু তারকাদের রেকর্ড পিছিয়ে ফেলে তিনি সামনে এগিয়ে যান। এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন
 
"সবাই আমাকে মার্ক স্পিটজ এর সাথে তুলনা করছে। কিন্ত আমার জন্য এটা অনেক। এটা কখনোই মার্ক স্পিটস কে পিছিয়ে ফেলার জন্য ছিলনা। বরং এটি ছিল প্রথম মাইকেল ফেলপস হবার জন্য, দ্বিতীয় মার্ক স্পিটস হওয়ার জন্য নয়।"

আবার ফিরে আসা

 
মাত্র ৪টি অলিম্পিক, এর পর হঠাত করে তিনি ঘোষনা দেন অবসর নিতে চলেছেন। কিন্ত নাটকীয়ভাবে তিনি আবার ফিরে আসেন রিও ২০১৬ অলিম্পিক গেমস এর মাধ্যমে। এবার তিনি ৩টি স্বতন্ত্র এবং ৩টি রিলেই ইভেন্টে কোয়ালিফাই করার সু্যোগ পান। আমেরিকাকে গোল্ড জেতার সুযোগ করিয়ে দিয়ে সে তার রিও ক্যাম্পেইনের শুভ সূচনা ঘটায়।
 
এর ঠিক ২ দিন পর এক ঘন্টার ব্যবধানে ৩য় বারের মত ২০০ মিটার বাটারফ্লাই টাইটেল এবং ৪র্থ বারের মত ৪*২০০মিটার ফ্রি স্টাইল টাইটেল অর্জন করে ফেলপস। আবার ঠিক ২ দিন পর ৪র্থ বারের মত ২০০মিটার ইভেন্টে সেরার পদক জিতে যান তিনি।
অর্জনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন
 
"আমি আজ খুশী কারন যেভাবে আমি চেয়েছিলাম সেভাবে ইতি টানতে পারছি। খুব ছোট থাকতে স্বপ্ন দেখেছিলাম আজ তা পদকে পরিনত করেছি।"
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে "স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড" নামক ম্যাগাজিনের মডেল হয়েছিলেন ফেলপস, যেখানে তার সকল পদক প্রদর্শিত হয়। সকল পদকের ভর দাড়িয়েছে ৮ কেজিতে আজ! যুগে যুগে হয়তো হাজার সাঁতারু আসবেন কিন্ত মাইকেল ফেলপস জন্মেছে একবারই। বিশ্বের কাছে আজ তাই তিনি সবচেয়ে সুসজ্জিত তারকা হিসেবে পরিচিত।




Similar Post You May Like

Find us on Facebook