লা লিগা ছাড়বে বার্সেলোনা - সম্ভব কি অসম্ভব?

লা লিগা ছাড়বে বার্সেলোনা - সম্ভব কি অসম্ভব?
Shihab Rahman October 1, 2017, 6:08 pm La liga santander

আজই সেই বহুল প্রতীক্ষিত কাতালুনিয়া স্বাধীনতা ভোট। জয়যুক্ত হলে স্বাধীনতার পক্ষে বেশ বড় একটি পদক্ষেপ হবে কাতালান প্রদেশের জন্য। কিন্তু একই সাথে ফুটবল ফ্যানদের জন্য এক বিশাল প্রশ্নের উদয় ঘটায় এই ভোট - স্বাধীন হলে লা লিগায়ই থেকে যাবে বার্সেলোনা?

এ নিয়ে গুঞ্জনের শেষ নেই। অনেকেই বলছে প্রিমিয়ার লীগ কিংবা ফ্রেঞ্চ লীগ ওয়ানে যোগ দিতে পারে বার্সা। এমনকি ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীতো নিজেই বলেছেন মোনাকো লীগ ওয়ানে খেলতে পারলে বার্সা পারবেনা কেন? না যদিও প্রস্তাবটি ফ্রান্সের ফুটবল বোর্ড থেকে আসেনি কিংবা কোন আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও ছিলনা তবে সম্ভাবনার গুঞ্জন এখানেই উড়িয়ে দেওয়া যায়না। কিন্তু আসলে কতটাই বা যৌক্তিক বার্সার পক্ষে ভিনদেশি কোন লীগে যোগ দেওয়া? আদৌ কি তা সম্ভব? কী বা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে তারা? 

১. অর্থনৈতিক লোকসান: লা লিগার আয়ের সিংহভাগ আসে রিয়াল-বার্সা দ্বৈরথ থেকে তা সবারই জানা। ঠিক একইভাবে অন্যান্য ক্লাবদের থেকে লা লিগা থেকে অনেক বেশি। লা লিগার নিয়মানুযায়ী প্রতিটা ক্লাব তাদের রিসোর্সের উপর ভিত্তি করে বেশ বড় অংকের টাকা পেয়ে থাকে। এই নিয়মমাফিক বার্সা ও রিয়াল মাদ্রিদ টিভি ব্রডকাস্টের পাশাপাশি গত মৌসুমে ৬০ মিলিয়ন ইউরো আয় করে যেখানে এটলেটিকো মাদ্রিদ পায় ৩০ মিলিয়ন আর মালাগা পায় ১৫ মিলিয়ন।

অপরদিকে ইউরোপের সেরা ৫ লীগের মধ্যে সবচেয়ে কম আয় লীগ ১ এ। গতমৌসুমে পিএসজি লীগ ১ থেকে সর্বোচ্চ ১২৩ মিলিয়ন ইউরো আয় করে যেখানে লা লিগা থেকে বার্সার আয় ১৫০ মিলিয়ন। অতএব বাৎসরিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো লোকসান হবে কেবল লীগের আয় থেকেই। একই সাথে আয় ও দর্শক কমে গেলে বার্সার স্পন্সরশিপের ওপরও ব্যাপক প্রভাব পড়বে। একই সাথে বার্সেলোনার মত দল চলে গেলে লা লিগাও তাদের মোট দর্শকেরও এক বড় অংশ হারাবে। অতএব, অর্থনৈতিক ভাবে দুই পক্ষই বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

২. একাডেমী ও হোমগ্রোউন পলিসিঃ বার্সেলোনার একাডেমী লা মাসিয়া বিশ্বের সেরা ফুটবল একাডেমীর গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। স্পেনের বিভিন্ন অংশ থেকে যুব খেলোয়াড়রা যোগ দিয়ে থাকে এখানে। কিন্তু স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হয়ে গেলে তা আর সম্ভব হবেনা। কেননা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ভিন দেশি কোন খেলোয়াড়কে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হবার পূর্বে কিনে ফেলা আইনত অপরাধ। তাই স্বনামধন্য লা মাসিয়া থেকে অনেক তরুণেরাই হয়ত বেরিয়ে যেতে চাইবে সেক্ষেত্রে বা অনেকেই লা মাসিয়ায় যোগ দিয়ে দ্বিধাবোধ করবে। অন্যদিকে নতুন লীগে টিকতে হলে বার্সারও সেই দেশের থেকে ইয়ুথ প্লেয়ার, স্কাউটিং নেটওয়ার্ক ইত্যাদি গড়ে তুলতে হবে। অসাধ্য কিছুই নয় তবে বেশ মোটেও সহজ হবেনা এ কাজ।

অন্যদিকে প্রতিটি লীগেরই নিজেদের কিছু হোমগ্রোউন ফুটবলার খেলানোর নিয়ম থেকে থাকে।
  বার্সেলোনা নতুন কোন লীগে যোগ দিলে তাদের জন্য সাময়িকভাবে নিয়মটা শিথিল করা হতেই পারে। খুব সম্ভব কাতালান প্লেয়ারদেরও হোমগ্রোউন হিসেবেই গ্রহণ করা হবে। তবে তা সত্ত্বেও নুন্যতম সংখ্যক হোমগ্রোউন প্লেয়ার দলে রাখা সহজ হবেনা। সংখ্যায় কোটা পূর্ণ করতে পারলেও খেলোয়াড়দের মান বজায় রাখা সম্ভব হবে কিনা সেটা একটা প্রশ্ন হয়ে দাড়াতে পারে। 

৩. হোম এওয়ে জেট-ল্যাগ: কাতালুনিয়া থেকে প্যারিসের দূরত্ব ১০০০ মাইল। লন্ডনের দূরত্ব প্রায় ১৫০০ মাইল। প্রায় ১৯ বার এই দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে বার্সাকে। শনি বার লীগে এওয়ে ম্যাচ খেলে আবার মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লীগে আবারও এওয়েতে খেলাটা মোটেও সহজ হবেনা। প্রায় ক্ষেত্রেই দীর্ঘ জার্নির জেট-ল্যাগ জনিত সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় প্লেয়ারদের। 

৪. ইউরোপিয় ইউনিয়নের গ্রহণযোগ্যতা: কাতালানুয়ি স্বাধীনতার আন্দোলন চালিয়ে গেলেও বাহ্যিক বিশ্ব বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে কোন সহযোগিতা পায়নি এখনও। তাই প্রশ্ন দাড়ায় - স্বাধীন কাতালুনিয়াকে মেনে নিবে কি ইউরোপীয় ইউনিয়ন? প্রায় সকল ইউরোপীয় লীগেই নন-EU অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন দেশগুলো থেকে প্লেয়ার কেনার বেপারেও সীমাবদ্ধতা থাকে। স্পেন ও ইতালিতে যেমন ৩ জনেই এই কোটা সীমাবদ্ধ। ফ্রান্সে ৫ জন। এক্ষেত্রে লীগে খেলতে সমস্যা না হলেও ট্রান্সফার বানিজ্যে বাধার সম্মুখীন হতে পারে তারা। কাতালুনিয়া যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রহণযোগ্যতা না পায় সেক্ষেত্রে কাতালান প্লেয়াররাও সকলে নন-EU প্লেয়ার হিসেবে গণ্য হবে। তখন চাইলেই যেকোন ক্লাবের কাছে নির্দ্বিধায় প্লেয়ার বেচতে পারবেনা বার্সা। প্লেয়ারদের মার্কেটমুল্যও কমে যাবে।  

তাই পরিশেষে বলা যেতে পারে বার্সেলোনা লা লিগা থেকে বেরিয়ে আসলে একদিকে যেমনই বার্সেলোনার ক্ষতি অন্যদিকে তেমনই ক্ষতি লা লিগার। অতএব আপস কাটিয়ে লা লিগায় থেকে যাওয়াটাই সব থেকে যৌক্তিক বলে বিবেচনা করা যায়। 





Similar Post You May Like

Find us on Facebook