চেলসির ঘরে ম্যান সিটির জয়ঃ পেপ গার্দিওলার মাস্টারক্লাস

চেলসির ঘরে ম্যান সিটির জয়ঃ পেপ গার্দিওলার মাস্টারক্লাস
Rahik Sumail October 1, 2017, 1:09 am English premier league

ইপিএলের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে দুই জায়ান্ট চেলসি আর ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি লড়াইয়ে শেষ হাসিটা হাসলো পেপ গার্দিওলার দলই। চেলসির মাঠ স্টামফোর্ড ব্রিজে কেভিন ডি ব্রুইনের একমাত্র গোলে মূল্যবান এওয়ে ম্যাচ জিতে নিয়েছে তারা। 

নিজেদের মাঠে অনেকটা ৩-৫-২ ফর্মেশনে খেলতে নামে চেলসি। দুই প্রথাগত উইঙ্গার উইলিয়ান আর পেদ্রোকে বেঞ্চ করে এইদিন স্ট্রাইকার মোরাটার পেছনে দুই এটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে কন্তে খেলান এডেন হ্যাজার্ড আর সেস্ক ফ্যাব্রিগাসকে। মোসেস আর জাপাকোস্তার বদলে রাইট উইংব্যাক হিসেবে ছিলেন সিজার আজপিলিকুয়েতা। অন্যদিকে আগুয়েরোর গাড়ী দুর্ঘটনার কারনে ঘটা ইঞ্জুরিতে পেপ গার্দিওলা এইদিন ব্রাজিলিয়ান গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে লোন স্ট্রাইকার হিসেবে শুরু করান, সাথে দুইপাশে ছিলেন রাহিম স্টারলিং আর জার্মান তরুন লিরয় সানে। বেঞ্জামিন মেন্দির ইঞ্জুরিতে লেফট উইংব্যাক হিসেবে দানিলোর বদলে ফ্যাবিয়ান ডেলফকে দিয়ে শুরু করান গার্দিলোলা। 

ম্যাচের শুরু থেকেই খেলাটা ছিলো আক্রমন এবং পাল্টা আক্রমনের। ম্যানচেস্টার সিটি তাদের ৪-৩-৩ ফর্মেশনে ৩ ফরোয়ার্ড জেসুস-সানে-স্টার্লিংয়ের সাথে মিডফিল্ডে ডেভিড সিলভা আর ডি ব্রুইনকে দিয়েছিলো আক্রমনের পূর্ন স্বাধীনতা। আর অন দ্য বলে ফার্নান্দিনহোর সাথে সিটির দুই উইংব্যাক কাইল ওয়াকার আর ফ্যাবিয়ান ডেলফ প্রথাগত উইংব্যাকদের জন্য স্বভাববিরুদ্ধভাবে অনেকটা ভেতরে এসে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের মতোন পজিশন নেন যা ম্যান সিটিকে সাহায্য করছিলো বল পজেশন বজায় রাখতে। অন্যদিকে চেলসির ৫ ডিফেন্ডার আর দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কান্তে-বোকোয়োকো মাঠে যতোটা সম্ভব শারিরীকভাবে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছিলো। সাথে দুই এটাকার হ্যাজার্ড আর মোরাতাকে দেয়া হয়েছিলো একদম ফ্রি রোল। যদিও ম্যাচের ৩৫ মিনিটের সময় মোরাটার ইঞ্জুরিতে উইলিয়ানকে নামানো হলে হ্যাজার্ড খেলা শুরু করেন ফলস নাইন হিসেবে।

প্রথম অর্ধে গোলশূন্য ভাবে খেলা শেষ হলেও দ্বিতীয় অর্ধে চেলসিকে আরো বেশি করে চেপে ধরে ম্যানচেস্টার সিটি। মূলত চেলসির মিডফিল্ডাররা তাদের ফাইনাল থার্ডে কোনো প্রথগত এটাকার না থাকায় একজন ফোকাল পয়েন্টের সংকটে ভুগছিলো। আর ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচে নিজেদের বল দখল আরো বৃদ্ধি করে। আক্রমনত্রয়ী আর দুই সেন্টার মিডফিল্ডার ডি ব্রুইন আর ডেভিড সিলভার কম্বিনেশনে একের পর এক আক্রমন শানাচ্ছিলো সিটিজেনরা। যার ফল পায় তারা ম্যাচের ৬৭ মিনিটে। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের সাথে ওয়ান টু পাসে কম্বিনেশন করে চেলসির বক্সের ঠিক বাইরে থাকে বাম পায়ের বুলেট গতির শটে এক দর্শনীয় গোল করে কেভিন ডি ব্রুইন এগিয়ে দেন সিটিকে (১-০)।

এরপর ম্যাচ ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালায় চেলসি। হ্যাজার্ড আর বোকোয়োকোকে উঠিয়ে দুই ফরোয়ার্ড বাতসুয়াই আর পেদ্রোকে নামিয়ে চেলসি ফাইনাল থার্ডে আরো বেশি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এই ম্যাচ ডেটা ছিলো যেন পুরোপুরি পেপ গার্দিওলার দিন। ম্যাচে কয়েকবার স্ট্রাটেজির পরিবর্তন আনার সাথে হাই টেম্পোর পাসিং ফুটবলে মাঠে নিজেদের আধিপত্য পুরো সময় ধরে রেখেছিলো তারা। ম্যাচে ৬৮% বল পজেশন সেটিই ইঙ্গিত দেয়। যদিও ম্যান সিটি পুরো ম্যাচে আরো গোল করতে ব্যর্থ হয়। তবে ১-০ গোলেই ম্যাচ শেষ করে পুর্ন ৩ পয়েন্ট অর্জন করে নেয় তারা। ম্যাচের তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় ধারাভাষ্যকার আর টিভি এনালিস্টদের মতে এই মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির সেরা পারফর্মেন্সে অর্জিত এই জয়ে ইপিএলের পয়েন্ট টেবিলেও শীর্ষে উঠে গেছে গার্দিওলা বাহিনী। 





Similar Post You May Like

Find us on Facebook