একজন বিল শ্যাঙ্কলী - রেড লিজেন্ড।

একজন বিল শ্যাঙ্কলী - রেড লিজেন্ড।

১৯৬০-৬১! টানা দুইবার ২য় বিভাগের লীগ টেবিল এ ৩য় হয়ে সিজন শেষ করলো লিভারপুল। তবে কি নতুন ম্যানেজার এনেও লিভারপুল এর স্ট্রাগল করার সমাপ্তি হবে না?

ফিরে যাই ১৪ ডিসেম্বর, সাল ১৯৫৯।

লিভারপুলের ম্যানেজার পদে যোগ দিলেন বিল। লিভারপুল তখন একটানা ৫ বছর ধরে ২য় বিভাগে লড়ে যাচ্ছে প্রমোশন এর জন্যে। ঠিক কিছুদিন আগেই এক নন প্রফেশনাল দলের কাছে হেরে বাদ পরে এফ এ কাপ থেকে।

বিল যখন লিভারপুলের দায়িত্ব নেয় তখন তার মূখ্য উদ্দেশ্য ছিলো প্রমোশন, তবে লিভারপুল এর না ছিলো তেমন কোনো শক্তিশালি দল, না ছিলো ভালো ট্রেনিং গ্রাউন্ড। মেলহুড এর অবস্থা ছিলো মরা মরা। তবুও সেখান থেকেই ভালো অবস্থানে যাবার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে বিল। তার আস্থা ছিলো তার দলের প্রতি, তার বিশ্বাস ছিলো একসাথে থাকলে দল ভালো করবেই। আর এভাবেই সে নিজের আপন জনের মতন করে লালন করতে শুরু করে লিভারপুল কে আর বিশ্বাস রাখে কোচিং স্টাফ দের উপর।

কিন্তু সেই সিজনে তারা হয় ৩য়, পরের সিজনেও একই স্থান! ভাবছেন গুঞ্জন উঠেছিলো কি বিল আউটের?

না! তখন মিডিয়াও অতো একটিভ ছিলো না। এখনকার মতোন এতো রিউমার ছড়ানোর ও অবস্থা ছিলো না তখন আর একারনেই হয়তো লিভারপুল পেয়েছিলো তার ইতিহাস সেরা ম্যানেজার কে।

          

১৯৬১-৬২ সাল। লিভারপুল ২য় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন, দলের স্ট্রাইকার হান্ট করেছে ৪১ গোল! লিভারপুল পেলো প্রমোশন প্রায় ৭ বছর পরে।

পরের সিজনে লিভারপুল সাইন করালো রেঞ্জার্স থেকে স্টিভেনসন কে এবং পিটার থম্পসন কে প্রেস্টন থেকে। থম্পসন এর ট্রান্সফার টা বলতে গেলে ছিলো এক প্রকার 'ডে লাইট রোবারি'। তখন লিভারপুল এর ছিলো কিছু তরুন খেলোয়াড় যারা পরবর্তীতে হয়েছে ইংল্যান্ড এর লেজেন্ড। ইয়ান গালাহান, টমি স্মিথ, ক্রিস লওলার এদের মধ্যে উল্লেখ্য। উক্ত সিজনে লিভারপুল হয় লীগে ৮ম।

৬৩-৬৪ সিজনে লিভারপুল ফিরে আসে তার পূরনো রূপে। লীগ চ্যাম্পিয়ন অফ ইংল্যান্ড। প্রথম স্বপ্ন পূরণের পর আস্থা বাড়তে থাকে সকলেরই বিল এর উপর!!

বিল পরের সিজনে দলে ভেড়ায় ইয়েটস এবং সেইন্ট জন কে। সে এদের দলে আনার সাথে সাথেই বলছিলো "এরা এফ এ কাপ জিতাবে "। তার কথাটি যে কোনো কৌতুক ছিলো না তা প্রমাণ হতে বেশি সময় লাগেনি। লিভারপুল জিতে নেয় এফ এ কাপ এবং ওয়েম্বলির সেই ফাইনালে লীডস এর বিপক্ষের জয় সূচক গোলটিও করে সেইন্ট জন। এ যেনো বলে কয়ে সাফল্য আনা।

১৯৬৪-৬৫ সিজন টা ছিলো একটি মাইলফলক এর, কারন এই বছর লিভারপুলের ইউরোপিয়ান কাপে ডেব্যু হয়। ওতো ভালো কোনো সাফল্য যদিও ছিলো না ওই ইউরোপিয়ান কাপে। সেই সিজনে লিভারপুল তাদের শ্রেষ্টত্বের মুকুট হারিয়ে লীগে ৭ম হয়। কিন্তু ঠিক পরের সিজনেই অর্থাৎ ৬৫-৬৬ তে আবার প্রথম হয়ে ইংল্যান্ড এর সেরার খাতায় নাম লেখায়। বিল এর নামে যেনো লিভারপুল ভরে যাচ্ছে। তার প্রসংসায় মূখর পুরো লিভারপুল। সেই সিজনে তার এ সাফল্যের পাশাপাশি ইউরোপিয়ান কাপেও সাফল্য আসে আর তা হলো রানার্স কাপ। ফাইনালে তার দল হারে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড এর কাছে।

            

বিল এর তত্বাবধানে প্রথম বারের মতোন লিভারপুল ইউরোপিয়ান কাপ জিতে ১৯৬৯-৭০ সিজনে। ধারাবাহিক পার্ফোর্মেন্স এর কারনে সারা ইউরোপ এর ফুটবলেই নাম ছড়াতে থাকে বিল এর। ১৯৭৪ সালে যখন লিভারপুল এর হয়েই তার ম্যানেজারিয়াল ক্যারিয়ার এর রিটায়ারম্যান্ট ঘোষনা করেন তখন তার ঝুলিতে যা যা ছিলো তা হলো -

২য় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন - ১ বার, লীগ চ্যাম্পিয়ন - ৩ বার, এফ এ কাপ - ২ টি, এফ এ শিল্ড - ৪ টি, ইউয়েফা কাপ - ১ টি।

তার ইন্ডিভিজুয়াল ঝুলিতেও রয়েছে ১৯৭২-৭৩ সালের ম্যানেজার অফ দি ইয়ার, পিএফএ মেরিট এওয়ার্ড - ১৯৭৮, ইংলিশ ফুটবল হল অফ ফেম - ২০০২, স্কটিশ ফুটবল হল অফ ফেম - ২০০৪।

আজকের এই দিনেই ৬৮ বছর বয়সে লিভারপুল এর এই কিংবদন্তি পরলোক গমন করেন।

বিল শ্যাঙ্কলী (২ সেপ্টেম্বর ১৯১৩- ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮১)।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন