খেলোয়াড় ফার্গুসন

খেলোয়াড় ফার্গুসন

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন - ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যানেজার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ১৯৮৬-২০১৩ পর্যন্ত সময়কালে যার অর্জন অগণিত। ম্যানেজার ফার্গুসনকে কে না চেনে! কিন্তু ফুটবলার ফার্গি? ফুটবলার ফার্গির ক্যারিয়ারে আলোকপাত করি, আসুন।

ফার্গি ১৬ বছর বয়সে নিজের সিনিয়র ক্যারিয়ারে অভিষিক্ত হন কুইন্স পার্কের হয়ে ১৯৫৮ সালে। অভিষেকেই গোল করেন কুইন্স পার্কের জার্সিতে তিনি। কুইন্স পার্কের হয়ে ৩১ ম্যাচে গোল করেন ১৫টি। ১৯৬০ সালে সেইন্ট জনসন্স ক্লাবে জয়েন করেন। একজন প্রমিজিং স্ট্রাইকার হিসেবে নিজের প্রতিভার ঝলকও দেখান। তবুও প্লেয়িং টাইম পাচ্ছিলেন না ঠিকমত। যেটুকু সুযোগ পেয়েছেন সেইন্ট জনসন্সের হয়ে তাতে ৩১ ম্যাচে গোলসংখ্যা ১৫টি। নিঃসন্দেহে বেশ ভাল পরিসংখ্যান বলা যায়।

                                               

এরপর ১৯৬৪ এর গ্রীষ্মে ডানফার্মলাইন অ্যাথলেটিকে যোগ দেন তিনি। সেখানে পর্যাপ্ত প্লেয়িং টাইম পেয়ে নিজেকে মেলে ধরতে সমর্থ হন এবং ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে ৩১টি গোল করে যৌথভাবে স্কটিশ প্রথম বিভাগ লীগে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন। সেখানে অন্য দুই মৌসুমেও দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন ফার্গি। ১৯৬৪-৬৭ পর্যন্ত ডানফার্মলাইনের হয়ে ৮৯ টি ম্যাচে মাঠে নেমে গোল করেন ৬৬টি। খেলোয়াড় হিসেবে নিজের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করার পাশাপাশি ম্যাচ চলাকালীন মাঠে সতীর্থদের যথার্থ এবং প্রয়োজনীয় ইন্সট্রাকশন দেয়ার মধ্য দিয়ে তখনই একজন দারুণ ম্যানেজারের অবয়ব ফুটিয়ে তোলেন নিজের মধ্যে। প্রতিপক্ষ প্লেয়ারদের একটু পর্যবেক্ষণ করেই সতীর্থদের কি করা উচিৎ সে ব্যাপারে বুঝিয়ে দিতেন।

১৯৬৭ সালে স্কটল্যান্ডের অন্যতম সেরা ক্লাব রেঞ্জার্স এফসিতে যোগ দেন রেকর্ড ৬৫,০০০ পাউন্ডের বিনিময়ে। যদিও ঘরে ফেরাটা খুব একটা সুখকর হয়নি তাঁর জন্য। রেঞ্জার্সের অসফলতার জন্য অনেকাংশে দায়ী করা হয় ফার্গিকে। ১৯৬৯ সালের স্কটিশ কাপে সেল্টিকের কাছে হারার জন্য হাস্যকরভাবে অনেকটা এককভাবেই ফার্গিকে দায়ী করা হয়েছিল সেসময়। যদিও রেঞ্জার্সের হয়ে ফার্গির পরিসংখ্যান বেশ দারুণ দেখায়। ৪১ ম্যাচ খেলে ২৫ গোল। তবুও সিনিয়র টিমে জায়গা হারান রেঞ্জার্সে। ক্লাব ছাড়ার আগ পর্যন্ত জুনিয়র টিমের সাথে প্র‍্যাক্টিস করতে হত তাঁকে। জুনিয়র টিমের হয়ে খেলতেও বাধ্য করা হয় তাঁকে।

সে বছরই ক্লাব ছাড়েন ফার্গি, এবার যোগ দেন ফ্যালকার্কে। ১৯৬৯-১৯৭৩ পর্যন্ত সেখানেই কাটান। ৯৫ ম্যাচ খেলেন ফ্যালকার্ক এফসির জার্সিতে। গোল সংখ্যা ৩৭। চার মৌসুম ফ্যালকার্কে থেকে এয়র ইউনাইটেডে যোগ দেন তিনি। এক মৌসুম খেলে ২৪ টি ম্যাচে মাঠে নেমে গোল করেন ৯টি। সেখান থেকেই খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় জানান ১৯৭৪ সালে।

                                                               

পুরো খেলোয়াড়ি জীবনে যেখানেই খেলেছেন নিজের দায়িত্ব ঠিকঠাকই পালন করে গেছেন। এক্ষেত্রে তাঁর হয়ে কথা বলছে তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান। পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে ৩১৭ ম্যাচে ১৭১ গোল। নিঃসন্দেহে একজন স্ট্রাইকার হিসেবে সফল বলা যায় খেলোয়াড় অ্যালেক্স ফার্গুসনকে।

ক্লাবের পাশাপাশি স্কটল্যান্ডের জার্সিও পরেছেন খেলোয়াড়ি জীবনে স্কটল্যান্ড অ্যামেচার্স (১৯৬০), স্কটল্যান্ড একাদশ (১৯৬৭) এবং স্কটিশ লীগ সেরা একাদশের (১৯৬৭) হয়ে। তিন দলের হয়েই মিলিত পরিসংখ্যান বেশ দারুণ - ১০ ম্যাচে ১১ গোল।

অ্যালেক্স ফার্গুসনের খেলোয়াড়ি জীবনকে ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফলই বলা যায়। ম্যানেজার ফার্গির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সামনে যদিও তা মলিন, তবে একেবারে ফেলনাও নয়। একইসাথে সফল ম্যানেজার এবং খেলোয়াড় হিসেবে ফার্গির নাম নিলে খুব একটা ভুল হবে না বোধকরি।

 

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন