ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের ইতিহাস- পর্বঃ ১

ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের ইতিহাস- পর্বঃ ১

শুরুর দিকের কথা
সময়টা ১৮৭০-৮০। ইংল্যান্ডে তখন বেশ ভালো রকম মন্দা চলছে। মানুষ জন বেকার ও হতাশ। এর মাঝেই ঘটে গেলো একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ম্যানচেষ্টারের সেন্ট মার্কস চার্চের ২ জন কর্মীকে খুন করা হয়। অতিরিক্ত মদ্যপান এবং হতাশা জনিত রাগ থেকেই খুনীরা এ কাজটা করে। চার্চ এরপর বিভিন্ন রকম সমাজসেবা মূলক কাজ শুরু করে। এর মাঝে সমাজে খেলাধুলার প্রসার করার জন্য স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিষ্ঠা করা ছিলো অন্যতম। শুরুটা হয়েছিলো ক্রিকেট নিয়ে। কিন্তু যখন শীতকালে দেখা গেলো ক্রিকেট দিয়ে হচ্ছে না তখন চালু করা হলো ফুটবল ক্লাবের। ক্লাব সবার জন্য, সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিলো। ক্লাবের নাম দেওয়া হলো সেন্ট মার্কস ফুটবল ক্লাব। ক্লাবটি তাদের প্রথম ম্যাচ খেলে ১৯৮০ সালের ১৩ নভেম্বর। প্রতিপক্ষ ছিলো আরেক চার্চ ক্লাব ম্যাকলসফিল্ড। সেন্ট মার্ক হেরে যায় ২-১ ব্যবধানে। ১৮৮০-৮১ সেশনে তারা মাত্র একটা ম্যাচই জেতে। প্রতিপক্ষ ছিলো স্ট্যালিবব্রিডজ ক্ল্যারেন্স, ব্যবধান ২-১। ১৮৮৩-৮৪ সেশনে মাঠ জটিলতার কারনে সেন্ট মার্কসকে আরেকটা ক্লাব বেলে ভুই এর সাথে একীভুত হতে হয়। কিন্তু এই জোট মাত্র এক সেশন টিকে ছিলো। পরের সেশনে সেন্ট মার্কস, গর্টন এসোসিয়েশন এফ.সি এবং বেলে ভুই ওয়েস্ট গর্টন এথলেটিক্স নামে আলাদা হয়ে যায়। আর এর মধ্য দিয়েই ক্লাবে চার্চের প্রভাব কমা শুরু হয়। একই বছর ক্লাবটি ম্যানচেষ্টার ফুটবল এসোসিয়েশনের সদস্য হয়। ক্লাবের শুরুটা একদমই ভালো ছিলো না। আরো কিছু লোকাল ক্লাব – ওয়েস্ট ম্যানচেষ্টার, হেউড সেন্ট্রাল, নিউটন হিথ (এই নিউটন হিথ পরবর্তীতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নাম নেয়।) – এর সাথে শুরু করলেই অন্যান্য ক্লাব বেশ এগিয়ে যায়। এরা লোকাল (ম্যানচেষ্টার কাপ) কম্পিটিশন এর পাশাপাশি জাতীয় পরযায়েও প্রতিযোগীতায় চলে যায়। গর্টন তখনো ম্যানচেস্টারে ভালো কিছু করার চেষ্টায় রত। ক্লাবের মাঝে প্রথম বড় পরিবর্তনটা আশে ১৮৮৭ সালে। ক্লাবের নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যার সূচনা।

১৮৮৭ থেকে ১৮৯৪ এই সাত বছরে ক্লাবের মাঝে এবং ক্লাবের সাথে তিনটি বড় পরিবর্তন আসে। প্রথম ক্লাব নিজের মাঠ তৈরীর কাজে হাত দেয়। দ্বিতীয় ক্লাবটি তাদের নাম পরিবর্তন করে। এবং তৃতীয় হচ্ছে ফুটবল এসোসিয়েশনের সদস্য হওয়া। ১৮৮৭ সালের গ্রীষ্মে গর্টন তাদের নিজের মাঠ তৈরীতে হাত দেয়। বেশ কিছু অলটারনেটিভ থেকে আর্ডউইক শহরের রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একটা জায়গা পছন্দ করা হয়। মাঠটিতে অনেক সমস্যা – উচু নিচু, দূরত্ব ইত্যাদি – থাকা সত্ত্বেও অফিশিয়ালদের তা পছন্দ হয়। মাঠের কাজ শুরু হয় ১৮৮৭ সালেই। এর খুব কাছেই ছিলো বেশ বিখ্যাত একটা হোটেল। নাম হাইড রোড হোটেল। খুব দ্রুতই ক্লাব মালিক স্টেফেন চেস্টার থমসনের সাথে ক্লাব কর্মকর্তাদের ভালো খাতির হয়ে যায়। স্টেডিয়াম তৈরীতে তিনি ক্লাবকে নিজের হোটেলের সুযোগ সুবিধা দিতে রাজি হন। বিনিময়ে ক্লাব স্টেডিয়ামে বার বিসনেজের অধিকার তাকে দেয়। শুধু তাই না, স্টেডিয়ামের নামও রাখা হয় হোটেলের সাথে মিলিয়ে, হাইড রোড স্টেডিয়াম।

পরের পরিবর্তনটা হচ্ছে ক্লাবের নামের পরিবর্তনে। ক্লাব তার গর্টন এসোসিয়েশন নাম পরিবর্তন করে আর্ডউইক এসোসিয়েশন ফুটবল ক্লাব করে। এবং ১৮৮৭ সালেই সিদ্ধান্ত নেয় এর খেলোয়ারদের নিয়মিত পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। ক্লাব প্রতিটি খেলোয়ারকে সাপ্তাহিক পাঁচ সিলিং করে বেতন দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এর মাঝেই এমেচার একটা ক্লাব ধীরে ধীরে প্রফেশনাল হবার পথে এগিয়ে যায়। ১৮৮৯ সালে স্টেডিয়ামের একটা স্ট্যান্ডের উদ্ভোধন করা হয়। এর ধারন ক্ষমতা ছিলো মাত্র ১০০০ জন।

১৮৮৯ সালে স্থানীয় একটা কয়লা খনিতে দূর্ঘটনায় ২৩ জন শ্রমিক মারা যায়। তাদের পরিবার এবং আহতদের সাহায্যর্থে আর্ডউইক এবং নিউটন হিথ একটা প্রীতি ম্যাচ খেলে। ম্যাচটা আরেকটা কারনেও স্বরনীয়, কারন এটা খেলা হয়েছিলো ফ্লাড লাইটের আলোয়। যা তখনকার দিনে ছিলো অবাক করার মত একটা বিষয়।

ক্লাবের প্রথম সাফল্য আসে ১৮৯১ সালে। সে বছর তারা ফাইনালে নিউটন হিথকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ম্যানচেস্টার কাপ জিতে নেয়। এই ফলাফল তাদেরকে ফুটবল এলায়েন্স এর ১৮৯১-৯২ সেশনের মেম্বার হিসেবে যোগ দিতে সাহায্য করে। ১৮৯২ সালে এলায়েন্স ফুটবল এসোসিয়েশনের সাথে একীভূত হয়ে ডিভিশন টু চালু করে। অর্থাৎ আর্ডউইক ডিভিশন টু এর ফাউন্ডার মেম্বার ছিলো। ১৮৯৩-৯৪ সেশনে আর্ডউইক কিছু ফিনান্সিয়াল সমস্যার মাঝে পড়ে যায়। এর ফলে ক্লাবের গঠনে পরিবর্তন আনতে হয়। সাথে সাথে এর নামটাও আবারো পরিবর্তন হয়। নতুন নাম হয় ম্যানচেষ্টার সিটি ফুটবল ক্লাব লিমিটেড। ১৮৯৪ সালের এপ্রিলে ক্লাব তার নতুন নামে রেজিস্টারড হয়। শুরু হয় ম্যানচেস্টার সিটির পথচলা

(চলবে)

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন