যে ৬ ফুটবলারকে সময়মতো চিনতে পারেনি ইন্টার মিলান

যে ৬ ফুটবলারকে সময়মতো চিনতে পারেনি ইন্টার মিলান

ক্লাবটির ইতিহাসে গৌরবের কমতি নেই। ১৮টি লীগ শিরোপা, ৭ বারের ইতালিয়ান কাপ জয়ী, ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ী দলটি এসি মিলান আর জুভেন্টাসের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ধরা হয় ইতালির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্লাব। আবার লীগ, কাপের সংখ্যায় এসি মিলান আর জুভেন্টাসের থেকে পিছিয়ে থাকলেও তাদের ২০১০ সালের ট্রেবল জেতার ঘটনাটিও ইতালির কোনো ক্লাবের ক্ষেত্রে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র। ইতিহাসটা গৌরবময় হলেও ইন্টার সমর্থকেরা যদি পেছনে তাকিয়ে নিজেদের অতীতে আবার একটু ফিরে যায়, সম্ভবত কিছু ব্যপার নিয়ে এখনো আফসোস ভর করে তাদের মনে। গত ২০/২৫ বছরে ইন্টার মিলান তাদের কিছু ফুটবলারকে দল থেকে বিদায় করে দেয়ার পর সেইসব ফুটবলার পরবর্তীতে এমনভাবে আলো ছড়িয়েছেন, যা দেখে ইন্টার ম্যানেজমেন্ট সম্ভবত কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর কিছু করতে পারেনি। এইরকম ঘটনার উল্লেখযোগ্য ৬ ফুটবলারকে দেখে নেয়া যাকঃ

ডেনিস বার্গক্যাম্প

 

                                           

কোনো সন্দেহ ছাড়াই নেদারল্যান্ড এবং বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার ডেনিস বার্গক্যাম্প। আয়াক্সে থাকাকালীন সময়ে ডাচ লীগ, ইউয়েফা কাপ জয়সহ ১৯৯২ আর ১৯৯৩ সালে ব্যালন ডি'অরের লিস্টে যথাক্রমে ৩য় এবং ২য় স্থান অর্জন করার পর নজর কাড়তে থাকেন ইউরোপের বড় লীগের দলগুলোর। বার্গক্যাম্প ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহী ছিলেন তখনকার সময়ের বিশ্বের সেরা লীগ বলে পরিচিত ইতালিয়ান সেরি আতে যোগ দিতে। এজন্য তার পছন্দের দল ছিলো জুভেন্টাস আর ইন্টার মিলান। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৩ সালে ৭ মিলিয়নে যোগ দেন ইন্টার মিলানে।

ইন্টারে যোগ দিয়ে শুরুতে নিজের সন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করলেও সময়ের সাথে দেখা যায় ইতালির ডিফেন্স সিস্টেমের বিরুদ্ধে বার্গক্যাম্প সুবিধা করতে পারছেন না। এর জন্য অবশ্য ইন্টার মিলানও দায়ী ছিলো ক্লাবের ভেতরের অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্য। ফরোয়ার্ডদের সাথে খেলতে অভ্যস্থ বার্গক্যাম্পকে ইন্টারের কোচ ওসভালদো বানোলি খেলতে বাধ্য করেন ৩ জনের মিডফিল্ড ফর্মেশনের সেন্টার মিডে। অবশ্য পররবর্তীতে কোচের পরিবর্তনে বার্গক্যাম্পকে একটু উপরে খেলানো হলেও দল হিসেবে ইন্টার মিলানের পারফর্মেন্স ছিলো হতাশাজনক। লীগে ১৩তম পজিশনে শেষ করে তারা রেলিগেশন স্পট থেকে মাত্র ১ পয়েন্টের দুরত্বে। অবশ্য ওই মৌসুমে ইন্টার মিলান ইউয়েফা কাপ (এখনকার ইউরোপা লীগ) জয় করে, যেখানে বার্গক্যাম্প ৮ গোল করে ছিলেন দলের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার।

পরের মৌসুমেও বার্গক্যাম্পের পারফর্মেন্সে উন্নতির থেকে অবনতিই ছিলো বেশি। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের পর পুরো মৌসুমে ২৬ ম্যাচে ৫গোল করে জানান দেন শারীরিক এবং মানসিকভাবে তিনি ক্লান্ত। মাঠের খারাপ পারফর্মেন্সের সাথে ইতালিয়ান মিডিয়া এবং সমর্থকদের সাথেও তার সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। বিভিন্ন সপ্তাহে ইতালিয়ান পত্রিকাগুলোর 'সপ্তাহের সবচেয়ে বাজে খেলোয়াড়' পুরষ্কারটি (!) তার নামে ঘোষিত হতে থাকে। ওই মৌসুম ইন্টার মিলান লীগে ৬ নাম্বারে থেকে শেষ করলে ১৯৯৫ সালে মাসিমো মোরাত্তি নামের এক ব্যবসায়ী ইন্টার মিলান কিনে নেন। মোরাত্তি ঘোষনা দেন দলকে ঢেলে সাজানোর। ১৯৯৫ সালে এই ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবেই ইন্টার দুই মৌসুম পরেই বিক্রি করে দেয় বার্গক্যাম্পকে। আর্সেনাল তাকে ৭.৫ মিলিয়নে কিনে নেয়।

আর্সেনালে গিয়ে এরপর বার্গক্যাম্প শুধুই গড়েছেন ইতিহাস। আর্সেনালে থেকেই ১৯৯৭ সালে আবার এসেছিলেন ব্যালন ডি'অরের শীর্ষ ৩ এ। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা দলে জায়গা করে নেন। আর্সেন ওয়েংগারের অধীনে আর্সেনালের নতুন দিনের সুচনার সময় বার্গক্যাম্প ছিলেন দলের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ন খেলোয়াড়। ২০০৪ সালে আর্সেনালের অপরাজেয় লীগ শিরোপা জয়েও তার অবদান ছিলো অনস্বীকার্য। ২০০৬ সালে আর্সেনালেই যখন তিনি ফুটবল থেকে পুরোপুরি অবসর নেন, তখন তিনি একজন পুরোদস্তুর কিংবদন্তী। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের হল অফ ফেমে জায়গা করে নেয়াসহ তাকে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলের ইতিহাসের সেরা টেকনিক্যালি গিফটেড ফুটবলার। এছাড়া ২০০৪ সালে পেলে ঘোষিত ফিফার সর্বকালের সেরা ১০০ ফুটবলারের তালিকায়ও নাম ছিলো তার।

বার্গক্যাম্পের এমন সব অর্জনের ফল হয়তো ভোগ করতে পারতো ইন্টার মিলান!

রবার্তো কার্লোস

                                     

"তুমি লেফটব্যাকে খেলার যোগ্য নও।"- এই কথাটি সর্বকালের অন্যতম সেরা লেফটব্যাক রবার্তো কার্লোসকে বলেছিলেন ১৯৯৫ সালে তৎকালীন ইন্টার মিলানের কোচ রয় হজসন। ব্রাজিলিয়ান লীগে অসাধারন পারফর্মেন্সের পর ১৯৯৫ সালে কার্লোসকে দলে নিতে আগ্রহী ছিলো ইংলিশ ক্লাব এস্টন ভিলা। কিন্তু শেষ মুহুর্তে মাসিমো মোরাত্তির নতুন প্রোজেক্টে রবার্তো কার্লোসকে দলে ভেড়ায় ইন্টার মিলান। ক্লাবের হয়ে নিজের অভিষেক ম্যাচেই ৩০ গজ দূর থেকে এক অসাধারন ফ্রি কিক গোল করলেও পরবর্তীতে কোচ রয় হুজসনের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন কার্লোস। রয় হজসন জানিয়ে দেন যে তিনি কার্লোসকে লেফট উইংগার হিসেবে খেলাতে চান, কারন লেফটব্যাকে খেলার মতোন রক্ষনকাজে নাকি দক্ষ নন কার্লোস। কিন্তু রবার্তো কার্লোস গো ধরেন যে তিনি লেফটব্যাক পজিশনেই খেলবেন। এই অবস্থায় ইন্টার মিলানের মালিক মোরাত্তি জানিয়ে দেন যে সমস্যাটির একমাত্র সমাধান কার্লোসের ক্লাব ছাড়া। যে কারনে এক মৌসুম পরেই ১৯৯৬ সালে ইন্টার মিলান থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন রবার্তো কার্লোস। 

এরপর রবার্তো কার্লোস থেমেছেন একজন কিংবদন্তী হয়েই। লেফটব্যাক হয়েই রিয়াল মাদ্রিদের বামপাশটা দাপিয়ে গেছেন প্রায় এক দশক ধরে। একজন লেফটব্যাক হয়েও ১৯৯৭ সালে তিনি ফিফা বর্ষসেরার লিস্টে ২য় স্থান অর্জন করে নেন। রিয়াল মাদ্রিদে ৪টি লীগ শিরোপা, ৩টি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ সহ ব্রাজিলের হয়ে কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ, কনফেডারেশন কাপ সবই জিতেছেন। ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ের সুবাদে ব্যালন ডি'অরের তালিকায় রানার্সআপ হন। ১৯৯৮ আর ২০০২, দুইবারই বিশ্বকাপের সেরা দলের লেফটব্যাক হিসেবে তার নাম ছিলো। ২০০২ আর ২০০৩ সালে ইউয়েফার বর্ষসেরা ডিফেন্ডার নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৪ সালে পেলে ঘোষিত ফিফার সর্বকালের সেরা ১০০ ফুটবলারের তালিকায়ও নাম ছিলো তার। ব্রাজিলে কাফুর সাথে রবার্তো কার্লোসের ফুলব্যাক জুটিকে তর্কযোগ্যভাবে ইতিহাসের সেরা ফুটবল জুটি বলা হয়ে থাকে। 

ক্যারিয়ার শেষে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেফটব্যাক বলে পরিচিত এই ফুটবলারকে ইন্টার মিলান হারিয়েছিলো লেফটব্যাক হিসেবে খেলাতে রাজি না হওয়ায়, এই তথ্যটি বড়ই বিস্ময়কর সাথে হয়তো হাস্যকরও।

আন্দ্রেয়া পিরলো 

                                       

ইতালিয়ান ২য় বিভাগের লীগ সেরি 'বি' থেকে ব্রেসিয়াকে সেরি 'আ'তে প্রমোট করতে গুরত্বপূর্ন অবদান রাখাসহ চমৎকার পারফর্মেন্সে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন ইন্টার মিলান কোচ লুকেস্কু দলে ভেড়ায় প্লে মেকার আন্দ্রেয়া পিরলোকে। যদিও ওই মৌসুমে ইন্টার মিলান দলে নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি। পরের মৌসুমে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় রেগিনাতে। রেগিনাতে অসাধারন পারফর্ম করে ২০০০ সালে আবারও ফিরে আসেন ইন্টার মিলানে। ২০০০-২০০১ মৌসুমের শুরুতে ততকালীন ইন্টার কোচ মার্সেলো লিপ্পি পিরলোকে সিনিয়র দলে নিয়মিত খেলানোর ইঙ্গিত দিলেও লিপ্পি নিজেই ওই বছর অক্টোবারে বরখাস্ত হন। ফলে নতুন কোচ মার্কো তারদেল্লির আগমনে আবার অনিশ্চিত হয়ে যায় পিরলোর দলে নিয়মিত হওয়ার ব্যপারটি। ২০০১ সালে তাকে তার সাবেক দল ব্রেসিয়াতে লোনে পাঠানো হলে আবারো নিজের যোগ্যতার প্রমান দেন পিরলো। নিজের ফুটবল আদর্শ রবার্তো ব্যাজ্জিও ব্রেসিয়াতে এটাকিং মিডফিল্ডে খেলায় পিরলো আরো নীচে নেমে ব্রেসিয়াতে ডিপ লায়িং প্লে-মেকার হিসেবে খেলা শুরু করেন। ব্যাজ্জিওর সাথে পিরলোর অসাধারন নৈপূন্যে ব্রেসিয়া সেবার রেলিগেশন এড়ায়।

ইন্টার মিলানের অস্থিতিশীল ম্যানেজমেন্ট, দলের ক্রমাবনতিসহ নিজের অনিশ্চিত অবস্থানে পিরলো তখন বুঝতে পারেন তার সম্ভাবনা প্রস্ফুটিত করার সবচেয়ে ভালো উপায় ইন্টার মিলান ছেড়ে দেয়া। ২০০১ সালে ইন্টারের চীরপ্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানে যোগ দেন পিরলো।

এরপর এসি মিলানের হয়ে দীর্ঘ ১ দশক খেলেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে। কার্লো এঞ্চেলত্তির অধীনে এসি মিলানের স্বর্নযূগের অন্যতম প্রধান সদস্য পিরলো লীগ, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ সহ ইতালীকে ২০০৬ বিশ্বকাপ জেতাতে গুরত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছিলেন। এসি মিলান ছাড়ার পর জুভেন্টাসে থেকেও শাসন করেছেন সেরি আর মিডফিল্ড। জুভেন্টাসে বুড়ো বয়সেও সমান দক্ষতায় জুভেন্টাসকে সহায়তা করেছেন টানা চারটি লীগ সহ ২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে খেলতে।

ক্যারিয়ারে বহু অর্জনের মালিক, ডিপ লায়িং প্লে মেকার রোলটিকে নতুনভাবে চেনানো এই কিংবদন্তীকেও সময় থাকতে চিনতে পারেনি ইন্টার মিলান।

পিরলো তার আত্মজীবনিতে জানান, "আমি হতে পারতাম একজন ইন্টার মিলান কিংবদন্তী। কিন্তু মার্সেলো লিপ্পির বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা আমার সম্ভাবনা শেষ করে দেয়। মার্কো তারদেল্লি আমাকে কখনো সুযোগ দেননি কিছু করে দেখানোর। আমি তার অধীনে ইতালীকে অ২১ ইউরো জিততে সাহায্য করেছিলাম। সম্ভবত আমাকে ভুলে গিয়েছিলেন তিনি।  

রবি কিন 

                                        

২০০১ সালে মার্সেলো লিপ্পির বরখাস্তের ঘটনায় পিরলোর মতোনই ইন্টার মিলানে কপাল পুড়েছিলো আইরিশ ফরোয়ার্ড রবি কিনের। আয়ারল্যান্ডের এই ফুটবলারকে ইন্টার মিলান দলে ভেড়ায় ২০০০ সালে। তার সম্বন্ধে মার্সেলো লিপ্পি পরে বলেছিলেন, "ইন্টার মিলানের তখন তরুন প্রতিভা কেনার একটা প্রবনতা ছিলো। এদের সবার মধ্যে আমার দেখা সেরা প্রতিভা ছিলো রবি কিন।"

মারসেলো লিপ্পির বরখাস্তের পর মার্কো তারদেল্লি কোচ হয়ে এসে জানিয়ে দেন রবি কিনের আপাতত দরকার নেই দলে, তাই তাকে ধারে পাঠিয়ে দেয়া হয় লিডস ইউনাইটেডে। লিডস ইউনাইটেড পরে তাকে পুরোপুরিভাবে কিনে নেয়। পরবর্তীতে টটেনহ্যাম এবং আয়ারল্যান্ডের হয় বেশ উজ্জ্বল ছিলেন রবি কিন। ৬৮ গোল করে আয়াল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। 

লিওনার্দো বনুচ্চি

                                   

ইন্টার মিলানের যুব দল থেকেই উঠে আসা বনুচ্চির ইন্টার মিলানের সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেক ঘটে ২০০৬ সালে। কিন্তু ২ বছরে তিনি দলে সেভাবে নিজের স্থান পাকা করতে পারেননি। ফলে ২০০৮ সালে বনুচ্চিকেসহ ইন্টার মিলান তাদের আরো দুইজন ইয়ুথ প্লেয়ারকে জেনোয়ায় বিক্রি করে দেয় দিয়েগো মিলিতো আর থিয়াগো মোত্তাকে কেনার ডিলের অংশ অনুযায়ী।

জেনোয়া থেকে বারিতে যোগ দিয়ে আন্দ্রে রানোক্কিয়ার সাথে তিনি প্রদর্শন করেন অসামান্য রক্ষনশৈলি। ফলে ২০১০ সালে জুভান্টাস কিনে নেয় তাকে। জুভেন্টাসে যোগ দিয়ে বনুচ্চি পরবর্তীতে অংশ হয়েছেন এবং সহায়তা করেছেন জুভেন্টাসকে একের পর এক শিরোপা জিততে। কোচ এন্টোনিও কন্টের অধীনে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন সময়ের সাথে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ডিফেন্ডারকে ইন্টার মিলান হারিয়েছিলো একরকম হেলাফেলায়।

ফিলিপে কৌতিনহো 

                                         

২০০৮ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ভাস্কো ডা গামার হয়ে অসাধারন পারফর্মেন্সে ইন্টার মিলান মাত্র ১৬ বছর বয়সে কৌতিনহোকে দলে সাইন করায়। কিন্তু ওয়ার্ক পারমিট পেতে ২০১০ সালে ১৮ বছর হওয়ার পর কৌতিনহো পুরোপুরিভাবে ইন্টার মিলানে যোগ দেন। কিন্তু ক্রমেই মুল একাদশে নিজের জায়গা পাকা করতে না পারায় ইন্টার মিলান কৌতিনহোকে ২০১২ সালে ধারে খেলতে পাঠায় এস্পানিওলে। তৎকালীন এস্পানিওল কোচ মৌরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে নিজের জাত চেনান কোটিনহো। ফলে ২০১২/১৩ মৌসুমে আবার ইন্টার মিলানে ফেরত আসেন তিনি। কিন্তু সেই মৌসুমের শুরুতেও ইন্টারের মুল একাদশে নিজের জায়গা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ২০১৩ সালে সাড়ে ৮ মিলিয়ন ইউরোতে লিভারপুলে যোগ দেন কৌতিনহো। 

কৌতিনহো এরপর থেকেই হয়ে উঠেছেন লিভারপুলের প্রানভোমড়া। একের পর এক অসাধারন পারফর্মেন্সে ক্লাব এবং জাতীয় দল ব্রাজিলেও তিনি এখন দলের একজন গুরত্বপূর্ন সদস্য। এই মৌসুমের গ্রীস্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে লিভারপুল থেকে কৌতিনহোকে দলে নিতে একরকম আদাজল খেয়ে নেমেছিলো বার্সেলোনা যদিও নিতে ব্যর্থ হয়। 

কৌতিনহোকে সময়মতোন চিনতে না পারার ব্যপারটি অনুধাবন করতে পেরে ইন্টার মিলান চেয়ারম্যান মোরাত্তি পরবর্তীতে জানান যে কৌতিনহোকে বিক্রি করার সিদ্ধান্তটি ছিলো তার ইন্টার মিলান অধ্যায়ের সবচেয়ে বাজে এবং ভূল সিদ্ধান্ত। 

        

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন