বাধাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আবারো গ্রান্ডস্লাম

বাধাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আবারো গ্রান্ডস্লাম

শেষবার ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন ২০১৩ সালে। মাঝে বিশাল সময় কখনো ইঞ্জুরির কারনে ছিলেন টেনিস থেকে বাহিরে, কখনোবা টেনিসে ফিরেও ছিলেন ফর্মের বাইরে। একটা সময় টেনিস বোদ্ধাসহ প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিলেন সেসময়কার ১৪ বারের গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী রাফায়েল নাদালের হয়তোবা আর কখনই কোন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা হবে না। টেনিসকে যেভাবে দুহাত ভরে দিয়েছেন, আর কোন শিরোপা না জিতলেও তার স্থান থেকে তিনি বিন্দুমাত্রও সরতেন না। তবে বিধাতার ইচ্ছেতেই বলুন বা নিজের অদ্যম্য ইচ্ছাতেই বলুন ফিরে এসেছেন "এল ম্যাটাডোর" খ্যাত স্প্যানিশ তারকা রাফায়েল নাদাল।  
 
২০১৭ এর শুরু থেকেই যেন একটু একটু করে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন নাদাল। কার্লোস মইয়ার জাদুর পরশে যেন উঠে যান অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল, জিতেছেন মন্টে কার্লো, মাদ্রিদ মাস্টার্স। দুই বছর পর পুনরায় জিতে নেন নিজের একান্ত করে নেওয়া ফ্রেঞ্চ ওপেন। বাধ সাথে উইম্বল্ডন, বাদ পরে যান চতুর্থ রাউন্ডে। এরপর হার্ড কোর্টে দুই মাস্টার্স রজার্স কাপ এবং সিনসিনাতি ওপেন থেকে বাদ পরে যান  দ্রুতই। এসব সমীকরন মাথায় রেখেই নাদালের ইউএস ওপেন খেলতে আমেরিকায় আসা। ফ্লাসিং মিডৌসের তড়িৎ গতির কোর্টে নাদালের ভাগ্য কতটুকু সুপ্রসন্ন হবে তা নিয়ে সবারই সংশয় ছিলো। অন্যদিকে অ্যান্ডি মারে ও নোভাক জোকোভিচের মত দুই তারকা  না  থাকায়  রজার ফেদেরার ছিলেন এই স্ল্যামের ফিভারিট।

ইউএস ওপেন নাদাল কিছুটা নড়বরে ভাবে শুরু করলেও ধীরে ধীরে নিজেকে খুঁজে পান চতুর্থ রাউন্ড থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে রুবেলভকে স্ট্রেইট সেটে হারিয়ে যখন নাদাল সেমিফাইনালে ততক্ষনে রাফায়েল নাদালের আর্চ নেমেসিস রজার ফেদেরারকে হারিয়ে সেমিফাইনালে নাদালের মুখোমুখি আর্জেন্টাইন হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রো। মূলত এই ম্যাচটাই ছিলো নাদালের জন্য টূর্নামেন্টে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিগ সার্ভ যা নাদালের অন্যতম দুর্বলতা সেখানেই পোত্রো সবচেয়ে শক্তিশালী।। ২০০৯ এ ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে এই সার্ভেই বাজিমাত করেছিলেন নাদালকে। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভুল করেননি দেল পোত্রো। প্রথম সেট জিতে নেন ৬-৪ এ। এরপরে যেন পুরোপুরি  হাওয়া বদল। দেল পত্রোর তুলনামূলক দুর্বল ব্যাকহ্যান্ডকে রীতিমত ধ্বংস করে পরের তিনটি সেট জিতে নেন ৬-০, ৬-৩, ৬-২ এ। উঠে যান ফাইনালে।

ফাইনালে অর্থার অ্যাস স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ন। রাফায়েল নাদালের প্রতিপক্ষ সাউথ আফ্রিকার কেভিন অ্যান্ডারসন। আগের  চারবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে প্রতিটিতেই জিতেছিলেন এই স্প্যানিয়ার্ড। ঐ সমীকরন মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেই হয়তো খেলতে নেমেছিলেন  দুইজন। গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনাল বলে কথা। শুরু থেকেই কেভিন অ্যান্ডারসনের ঘন্টায় ১৪০ মাইল বেগের সার্ভগুলো ব্রেক করার নানান চেষ্টা করেন নাদাল। সফল হয়েও যান। ৫০ মিনিটে প্রথম সেট জিতে নেন ৬-৩ এ। পরের সেটটিও জিতে নেন ৬-৩ এ তবে সময় নেন ৩৩ মিনিট। ফাইনাল সেটে এসে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন কেভিন। প্রায় ঘন্টাব্যাপী রাফায়েল নাদালের সার্ভিস গেম ব্রেক করার নানা চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত কেভিন সেট হারেন ৬-৪ এ। রাফায়েল নাদাল জিতে নেন নিজের তৃতীয় ইউএস ওপেন শিরোপা যা তার ক্যারিয়ারের ১৬ তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা। ম্যাচ শেষে কেভিন অ্যান্ডারসন নাদাল সম্পর্কে বলেই দিলেন "আমরা বয়সে সমান হলেও আমার সবসময় মনে হয় আমি তাকে দেখেই যেন বেড়ে উঠেছি, নাদাল টেনিসে সেরাদের সেরার একজন।

                                               

টেনিস ইতিহাসে নাদাল যে সেরাদের একজন তাতে কোন সন্দেহ নেই। ১৬ টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম নিয়ে রয়েছেন ১৯ টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী রজার ফেদেরারের ঠিক পেছনে। কে কোথায় গিয়ে থামবেন তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত আমাদের টেনিস ফ্যানেরা যে আয়েশ মত আরো কয়েকটা দিন টেনিস দেখতে পারবো তা ফেদেরার-নাদালময় ২০১৭ দেখেই বুঝে নেওয়া যায়।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন