টোটাল ফুটবল এবং টিকি-টাকার ইতিহাস

টোটাল ফুটবল এবং টিকি-টাকার ইতিহাস
Ninad Khan August 26, 2017, 2:04 pm Articles

টোটাল ফুটবল হচ্ছে ফুটবলের একটি জনপ্রিয় ট্যাকটিকাল থিওরি যেখানে দলের একজন আউটফিল্ড খেলোয়াড় (গোলকিপার বাদে বাকি ১০ জন খেলোয়াড়) দলের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের পজিশনে খেলতে পারেন। এ পদ্ধতিতে দলের খেলোয়াড়দের কোনো নির্দিষ্ট পজিশন থাকেনা। একজন খেলোয়াড় তার অবস্থান থেকে সরে গেলে আরেকজন খেলোয়াড় তার অবস্থান পূরণ করেন। তাই গোলকিপার বাদে প্রত্যেকেই একই সাথে অ্যাটাকার, মিডফিল্ডার ও ডিফেন্ডার হিসেবে খেলতে পারেন। সত্তরের দশকে ডাচ ফুটবলে এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগ দেখা যায় এবং অতি দ্রুত এটি ফুটবলের জনপ্রিয় ট্যাকটিক্সের একটিতে পরিণত হয়।

ইতিহাসঃ

টোটাল ফুটবলের জনক হিসেবে সবাই বিখ্যাত ডাচ কোচ রাইনাস মিশেলসকে চিনলেও এই বিখ্যাত ট্যাকটিকাল থিওরির উৎপত্তি মূলত অনেকের হাত ধরে এসেছে। সর্বপ্রথম এই পদ্ধতির সূচনা দেখা যায় ১৯৩০ সালে অস্ট্রিয়ান ন্যাশনাল ফুটবল টিমে। দলটির খেলার পদ্ধতি ছিল মূলত ‘কুইক পাসিং’ যা জিমি হোগানের হাত ধরে প্রবর্তিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে, জিমি হোগানের হাত ধরেই তৎকালীন ইংলিশ ক্লাব বার্নলি টোটাল ফুটবল পদ্ধতিতে খেলে। এই পদ্ধতি বার্নলিকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুমের ইংলিশ লিগ শিরোপা জেতায় এবং অনেক প্রশংসিত হয়।পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে হাঙ্গেরি ন্যাশনাল টিমের কোচ থাকাকালীন গুস্তাভ সেবস হাঙ্গেরি টিমে এই পদ্ধতির প্রসার ঘটান। তখনকার ‘গোল্ডেন টিম’ খ্যাত হাঙ্গেরি জাতীয় দল এই পদ্ধতিতে খেলে পুরো বিশ্বে রাজত্ব করে। তৎকালীন আয়াক্স কোচ জ্যাক রেইনল্ডস এই পদ্ধতিটি প্রত্যক্ষ করেন এবং পরবর্তীতে এই ধারণাটিকে পরিশোধিত করেন।

১৯৬৫ সালে রাইনাস মিশেলস আয়াক্সের কোচ হন। তিনি রেইনল্ডসের অধীনেই খেলেছিলেন। রাইনাস এই পদ্ধতিকে পুনঃপরিশোধিত করেন। ১৯৭০ এর দশকে আয়াক্স এবং নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলে তিনি এই কৌশল ব্যবহার করেন। তৎকালীন ডাচ টিমের ক্যাপ্টেন এবং লিজেন্ড ইয়োহান ক্রুইফ ছিলেন এই পদ্ধতির সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলোয়াড়। ক্রুইফ সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে মাঠে নামলেও মিশেল তাকে অনুপ্রাণিত করতেন পুরো মাঠে মুক্তভাবে খেলতে এবং নিজের বুদ্ধিমত্তা ও টেকনিক অবলম্বন করে প্রতিপক্ষ টিমের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সুযোগ তৈরি করতে। ক্রুইফের সতীর্থরাও এই পদ্ধতিতে নিজেদেরকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করে যান। পরবর্তীতে এই পদ্ধতির মাধ্যমে মিশেল এবং ক্রুইফ অভূতপূর্ব সাফল্য লক্ষ করেন। মিশেলের আয়াক্স টিম ৮টি লিগ শিরোপা, ৩টি ইউরোপিয়ান কাপ এবং ১টি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতে নেয়। এরপর টোটাল ফুটবলের দ্রুত প্রসার ঘটে এবং এর পরাক্রমতা বিখ্যাত ইতালিয়ান রক্ষণনির্ভর ট্যাকটিক্স ‘কেতেনাকসিও’ এর প্রায় মৃত্যু ঘটিয়ে ফেলে! কিন্তু প্রতি-আক্রমণ নির্ভর হওয়ায় টোটাল ফুটবল ধীরে ধীরে হার-প্রবণ হতে শুরু করে যার উদাহরণ আমরা দেখতে পাই ১৯৭৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ড বনাম পশ্চিম জার্মানি ম্যাচে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানদের মার্কিং এর কাছে ডাচদের দ্রুত পাসিং নিতান্তই চুপসে যায়। পশ্চিম জার্মানি ম্যাচটি ২-১ এ জিতে নেয়। তবে জার্মানরা শিরোপা জিতলেও ডাচরা জিতে নেয় প্রশংসা।

টিকিটাকার জন্মঃ

১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে ইয়োহান ক্রুইফ বার্সেলোনায় কোচ হিসেবে ফিরে আসেন। তিনি আসার সময় বার্সা ছিল ঋণগ্রস্ততায় জর্জরিত, দলের পারফরম্যান্স ছিল বাজে, গ্যালারিতে দর্শকের আনাগোনা ছিল কম, এককথায় বার্সার অবস্থা ছিল দুর্দশাপূর্ণ। এ অবস্থায় ক্রুইফ বার্সায় নিয়ে আসেন গার্দিওলা, বাকেরো, চীকি, গোইকোয়েৎচেয়া, কোম্যান, লাউড্রপ, রোমারিও, হাজি এবং স্তোইচকোভদেরকে। তাদেরকে নিয়ে ক্রুইফ গড়ে তোলেন বিখ্যাত ‘ড্রিম টিম’। এসময়ে বার্সা এক সোনালি যুগ পার করে। ৫ বছরে ক্রুইফের ঝুলিতে আসে ১টি ইউরোপিয়ান কাপ, ৪টি লা লিগা, ১টি কাপ উইনার্স কাপ (বর্তমানে উয়েফা সুপার কাপ), ১টি কোপা দেল রে এবং ৩টি স্প্যানিশ সুপার কাপ। ক্রুইফের দলের খেলার ধরণ ছিল প্রেসিং, হাই অফসাইড লাইন এবং প্লেয়ারদের অবস্থানের পরিবর্তন ভিত্তিক। বলা হয়ে থাকে, বার্সায় থাকাকালীন সময়ে তিনি ফুটবলীয় দর্শন নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি ট্রেনিং সেশনে ‘রন্ডোস’ নামে একটি পদ্ধতির সূচনা করেন। এতে একজন খেলোয়াড়কে ঘিরে দলের খেলোয়াড়রা বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে একে অপরকে বল পাস করে। পরবর্তীতে বার্সার খেলার ধরণেও এই বিষয়টি চলে আসে। ক্রুইফ বার্সায় টোটাল ফুটবল এবং কুইক পাসিংয়ের সম্মিলিত রূপে এক নতুন দর্শন সৃষ্টি করেন, যা বর্তমানে টিকি-টাকা নামে পরিচিত।

ক্রুইফের পর বার্সার ডাচ কোচ ফন হাল, রাইকার্ডদের অধীনে টিকি-টাকা আরো উন্নতি লাভ করে এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য স্প্যানিশ টিমগুলোও এই পদ্ধতিতে খেলা শুরু করে। এসময় ‘বল পজেশন’ বা ‘বলের দখল’ জিনিসটা যুক্ত হয় টিকি-টাকার সাথে। টিকি-টাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এই বলের দখল রাখা। দলে বল পজেশন এবং কুইক পাসিং এবিলিটি সম্পন্ন খেলোয়াড়ের প্রয়োজনে ফন হাল, রাইকার্ডরা লা মাসিয়া থেকে মূল দলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় নিয়ে আসেন যাদের মধ্যে ছিলেন পেদ্রো, জাভি, ইনিয়েস্তা, ফ্যাব্রিগাস ও মেসি। প্রত্যেকেই ছিলেন অসাধারণ প্রতিভা, দূরদৃষ্টি ও দ্রুত পাসিং এবিলিটি সম্পন্ন খেলোয়াড় যারা বলের দখল রাখতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন। ২০০৮ সালে বার্সার মূল দলের কোচ হন ক্রুইফের ড্রিম টিমের অধিনায়ক পেপ গার্দিওলা। টিকি-টাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি সাধিত হয় এ সময়ে। এ সময় টিকি-টাকায় যুক্ত হয় ‘পজিশনাল প্লে’ জিনিসটা। গার্দিওলার দর্শন ছিল বল নিজের দখলে রাখার জন্য দ্রুত শর্ট পাসে খেলা। বডি সাইজের পরিবর্তে টেকনিকাল ক্ষমতাসম্পন্ন খেলোয়াড় বাছাই করে তিনি দল গড়ে তোলেন। বার্সার খেলার ধরণে যুক্ত হয় অফসাইড ট্র্যাপ, বড় ডিফেন্সিভ লাইন এবং পজিশন পরিবর্তন। এভাবে দলের খেলোয়াড়দের প্লেয়িং এরিয়া আরো বড় হয়ে যায়। ‘পজিশন নয় পজেশন’ এ দর্শন গড়ে তোলেন গার্দিওলা। বলের দখল রাখতে দ্রুত ও অধিক পাসে গুরুত্ব দেন তিনি। শর্ট পাসিং জিনিসটা মুখ্য হয়ে যাওয়ায় এ সময় বার্সা টোটাল ফুটবল থেকে প্রায় পুরোপুরিভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে। গার্দিওলা ফলস নাইনে একজন সেন্টার ফরোয়ার্ডকে খেলান যাতে সে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে বলের মুভমেন্ট বজায় রাখতে পারে। এছাড়া তিনি কিছু মিডফিল্ডারকে ডিফেন্ডার হিসেবে খেলান যাতে ডিফেন্স লাইনে তাদের পাসিং এবিলিটি কাজে লাগানো যায়।

ক্রুইফের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে “বল যতক্ষণ তোমার কাছে থাকবে ততক্ষণ তোমার কাজ মাঠের পরিধি যতটা সম্ভব বড় করে তোলা, আর বল যখন বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ের কাছে চলে যাবে তখন তোমার কাজ মাঠের পরিধি যতটা সম্ভব ছোট করে আনা”। এ ব্যাপারে ক্রুইফের দর্শনই মেনে চলেছেন গার্দিওলা। তার ৪-৩-৩ (ফলস নাইন) ফরমেশনের উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত স্পেস ক্রিয়েট করা এবং মাঠের পরিধি যতটা সম্ভব বড় করে তোলা আর আক্রমণাত্মক প্রেসিং করে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ের প্লেয়িং এরিয়া ছোট করে আনা। এছাড়া তার খেলানোর ধরণ ছিল গোলের সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পাস খেলে যাওয়া। গার্দিওলার টিকিটাকা দর্শন ধীরে ধীরে স্পেন জাতীয় দলেও প্রভাব ফেলে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেশিরভাগই বার্সেলোনার হওয়ায় স্পেন দলের খেলার ধরণ বল পজেশন এবং শর্ট পাসিং ভিত্তিক হয়ে যায়। টিকি-টাকা খেলেই স্পেন জিতে নেয় ২০১০ বিশ্বকাপ।

টিকি-টাকার সাফল্যঃ

পেপ গার্দিওলার আমলে টিকি-টাকা স্টাইলের সবচেয়ে সফল প্রয়োগ দেখা যায়। টিকি-টাকা বার্সেলোনার পরিধি পেরিয়ে পুরো স্পেনে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৮-২০১২ এ সময়ে টিকি-টাকার সর্বাধিক সাফল্য লক্ষ করা যায়। স্পেন ইউরো ২০০৮, ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ইউরো ২০১২ জিতে নেয়। অপরদিকে বার্সেলোনা শুধু ২০০৯ সালেই জিতে নেয় ৬টি শিরোপা, যা বার্সেলোনার ইতিহাসে প্রথম ট্রেবল ও সেক্সটাপল। এই ৪ বছরে বার্সা মোট ১৪টি শিরোপা জেতে যার ফলে ক্রুইফকে সরিয়ে বার্সার ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবে নাম করেন পেপ গার্দিওলা। স্পেনের ইতিহাসে এ সময়টাকেই স্বর্ণযুগ ধরা হয়। বলা হয়ে থাকে, টিকি-টাকার মাধ্যমে স্পেন বল এবং অপোনেন্ট উভয়কেই নিয়ন্ত্রণ করত!

টিকিটাকার সমালোচনাঃ

অনেকেই টিকি-টাকাকে ‘বিরক্তিকর’ এবং ‘একঘেয়েমি’ বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। টিকি-টাকা স্টাইলে বলের দখল বজায় রাখতে ক্রমাগত শর্ট পাস প্রদান এবং আক্রমণ করতে গিয়ে প্রায়ই বলকে একেবারে ডিফেন্স লাইনে পৌঁছে দেয় খেলোয়াড়রা। এ বিষয়টির অনেক সমালোচনা করা হয়। এছাড়াও টিকি-টাকা স্টাইলে দলে মিডফিল্ডারদের আধিক্য বেশি দেখা যায়। সাংবাদিক গাই হেজেকোর মতে, স্পেন জাতীয় দলে পিওর স্ট্রাইকারদের অভাব হয়ে গেছে টিকি-টাকার কারণে। কারণ, মিডফিল্ডারদেরকেই সাধারণত ফলস নাইনে খেলানো হত জাতীয় দলে। এতে পুরো দল অ্যাটাকার এবং ডিফেন্ডারবিহীন আর মিডফিল্ডারে ভরপুর হয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেছেন, “টিকিটাকায় ডিফেন্ডার, স্ট্রাইকার, গোলকিপারবিহীন একটি দলের ১১ জন মিডফিল্ডার পাস পাস খেলে যতক্ষণ না পর্যন্ত বল জালে না জড়ায়”।

বিখ্যাত ফুটবল কোচ হোসে মরিনহো স্ট্রাইকারবিহীন ও মিডফিল্ডারে ভরপুর দলের কারণে স্পেন জাতীয় দলের সমালোচনা করেছেন। আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের মতে, স্পেন দলের দর্শনের পরিবর্তন ঘটেছে, তারা এখন অল্প আক্রমনাত্মক হয়ে গিয়েছে। ওয়েঙ্গার বলেন, “স্পেনের লক্ষ্য বল দখল রেখে আক্রমণ এবং ম্যাচ জেতা। কিন্তু তাদের খেলার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে ম্যাচ না হারার একটা কার্যকরী উপায়”। অনেকেই এই বিরামহীন পাসিংয়ের সমালোচনা করেছেন। এমনকি টিকি-টাকার সবচেয়ে সফল প্রয়োগকারী কোচ পেপ গার্দিওলাও এর একঘেয়েমি স্বীকার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমি এই উদ্দেশ্যহীন একটানা পাসিংকে অপছন্দ করি। তোমাকে বল পাস করতে হবে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর উদ্দেশ্যে, বল পাস করতে হবে বলে নয়”।

টিকি-টাকার পরাজয়ঃ

টিকি-টাকা যুগে স্প্যানিশ জাতীয় দলকে পরাজিত করার প্রথম দল ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা ২০০৯ সালে ফিফা কনফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে স্পেনকে ২-০ ব্যবধানে হারায়। মার্কিন কোচ বব ব্র্যাডলি একটি গভীর এবং সংকীর্ণ ৪-৪-২ ফরমেশন ব্যবহার করেন যা স্পেনের বলের দখলকে দমিয়ে রাখে আর ক্রমাগত স্পেস ক্রিয়েশনের মাধ্যমে কাউন্টার এটাক করে। এভাবে তারা স্পেনকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে।

গার্দিওলার বার্সা ৫২টি টিমের মুখোমুখি হয় এবং চেলসি ছাড়া সকলের সাথেই জয়লাভ করে। ২০০৯ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে গাস হিডিঙ্কের চেলসির মুখোমুখি হয়। বার্সাকে দমাতে হিডিঙ্ক একটি ম্যান-মার্কিং এবং সলিড ডিফেন্স নামান যাতে বার্সা বক্সের বাইরে থেকে শুট করতে না পারে। এতে প্রথম লেগে ক্যাম্প ন্যুতে ০-০ ড্র করে তারা। ঐ মৌসুমে চেলসিই একমাত্র দল ছিল যারা ক্যাম্প ন্যুতে ক্লিন শিট রাখতে পেরেছিল। পরের লেগে অবশ্য স্টপেজ টাইমে ইনিয়েস্তার গোলে ১-১ ড্র করে এওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে ফাইনালে ওঠে বার্সা। ২০১০ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে মরিনহোর ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হয় গার্দিওলার বার্সা। দুই লেগেই ইন্টার মিলান মেসি এবং জাভিকে ডাবল-মারকিংয়ের মাধ্যমে বার্সাকে স্পেস ক্রিয়েট করা থেকে দমিয়ে রাখতে সম্পন্ন হয়। প্রথম লেগে ইন্টার ৩-১ এবং পরের লেগে ০-১ এ হেরে ৩-২ এগ্রিগেটে ফাইনালে ওঠে।

টিকি-টাকার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা প্রকাশ পায় ২০১২-১৩ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে বায়ার্নের সাথে। দুই লেগ মিলিয়ে বার্সাকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথম লেগে বার্সার বল পজেশন ৬৩ শতাংশ থাকলেও বলে শট ছিল একটি, যেখানে বায়ার্নের ছিল ৯টি। প্রথম লেগে ৪-০ এবং পরের লেগে ৩-০ গোলে হারে বার্সা। ২০১৩ কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হারে স্পেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে টিকি-টাকার কফিনে পেরেক ঠুকে যায়। নেদারল্যান্ডের কাছে ৫-১ গোলে এবং চিলির কাছে ২-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়। স্পেনকে হারাতে নেদারল্যান্ড কোচ ফন হাল ব্যবহার করেন ৫-৩-২ ফরমেশন যেখানে রবিন ফন পার্সি এবং আরিয়েন রবেন স্ট্রাইকার হিসেবে থাকেন।

টোটাল ফুটবল ও টিকিটাকার পার্থক্যঃ

অনেকেই বলে থাকেন, টোটাল ফুটবলের স্প্যানিশ ভার্সন হচ্ছে টিকি-টাকা। তবে টোটাল ফুটবল অনেকের কাছে উপভোগ্য হলেও টিকি-টাকাকে অনেকে বিরক্তিকর বলে থাকেন। টোটাল ফুটবল আর টিকি-টাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে মুভমেন্ট। টোটাল ফুটবলে খেলোয়াড়দের মুভমেন্টই মুখ্য, আর টিকি-টাকায় বলের মুভমেন্টকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়। টোটাল ফুটবল খেলতে ১০ জন সমমানের খেলোয়াড় দরকার হয় কিন্তু টিকিটাকা খেলতে মিডফিল্ডে প্রতিভাবান এবং একই সাথে ডিফেন্স এবং অ্যাটাকিং এর ক্ষমতাসম্পন্ন খেলোয়াড় দরকার হয়। টোটাল ফুটবলে খেলোয়াড়দের ফিজিকাল ফিটনেস অনেক বেশি দরকার হয় যেখানে টিকি-টাকায় ফিটনেস নয় টেকনিকই মুখ্য।

এই ছিল টোটাল ফুটবলের ইতিহাস এবং টিকিটাকার ইতিহাস।





Similar Post You May Like

জনপ্রিয় খেলার সংবাদ

Find us on Facebook