ট্যাক্টিক্যাল এনালাইসিস : জোনাল মার্কিং এবং অভ্যন্তরীণ বিভাগসমূহ

ট্যাক্টিক্যাল এনালাইসিস : জোনাল মার্কিং এবং অভ্যন্তরীণ বিভাগসমূহ

ফুটবল খেলা দেখতে কারই না ভালো লাগে! আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভরপুর এই খেলাটি নির্ধারিত নব্বই মিনিটে দর্শকদের মাঝে সৃষ্টি করে নানান রকমের উদ্দিপনা,কিছু মুহূর্ত সৃষ্টি করে দমবন্ধ করা উত্তেজনা, সৃষ্টি করে হাসি-কান্নায় মেশানো ফুটবলীয় বিনোদনের বহিঃপ্রকাশ। তবে এ আবেগ শুধু খেলার নব্বই মিনিটেই সীমাবদ্ধ থাকেনা। খেলা শেষ হওয়ার পরও সেটি নিয়ে চলে নানান কাঁটাছেড়া,চলে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি,চলে আলোচনা-সমালোচনা।

যদিও এই সময়টা আমরা অনেকেই আলোচনা-সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকি,ফুটবল মাঠে খেলার মধ্যে ঘটা অনেক ঘটনাবলীর ও খেলার ধরনের পেছনে থাকা ট্যাক্টিক্যাল অনেক ব্যাপারস্যাপার আমাদের অজানা রয়েই যায়।ফলে অনেক সময়ই অনেক সমর্থদের কাছে তার দলের খেলার ধরনটি তেমন মনে ধরেনা,কিংবা সেই খেলার ধরনটিই সমর্থকদের মনে আলাদা উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে,সেটির ব্যাপারে কিছু জানা না থাকা সত্ত্বেও। তেমনই একটি বহুল ব্যবহৃত ও বহুল জনপ্রিয় ধরন বা ট্যাকটিক্স হলো-”জোনাল মার্কিং”। এ অনুচ্ছেদে জোনাল মার্কিং-এর ব্যাপারে পাঠকদের হালকা ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে ব্যাপারটি অতটা আহামরি না হলেও প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি অনেক বেশি গভীর এবং কার্যকারীতাতা সুদূরপ্রসারী। চলুন তবে এই বহুল আলোচিত ও বহুল ব্যবহৃত ট্যাকটিক্সটির যাবতীয় বিষয়াদির জগৎ থেকে ঘুরে আসা যাক।

জোনাল মার্কিং কি?

জোনাল মার্কিং মূলত এমন একটি ট্যাকটিক্স, যেখানে দলের মোটামুটি সকল খেলোয়াড়রা নির্দিষ্ট কিছু পজিশন বা জোনাল এরিয়ায় অবস্থান করেন এবং নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের আক্রমণ বাধাদানের চেষ্টা করেন। এই ট্যাকটিক্সটি মূলত পসেশন ফুটবলের অন্তর্গত, যেখানে খেলার সামগ্রিক ধরনটা হবে তুলনামূলক ধীরে এবং ধৈর্যশীল। আধুনিক ফুটবলে জোনাল মার্কিং-কে বেশ অনেকভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করতে দেখা যায়। একেক দলের গেমপ্ল্যান,টিমপ্ল্যান এবং গেমপ্লে অনুযায়ী জোনাল মার্কিং ট্যাকটিক্স হয় বিভিন্ন রকমের। #জোনাল মার্কিং এর অভ্যন্তরীণ বিভাগসমূহ : সামগ্রিক দিক বিবেচনায় এনে জোনাল মার্কিং-কে মোটামুটি তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়।

  • সাধারণ জোনাল এরিয়া মার্কিং
  • জোনাল ম্যান মার্কিং
  • মিশ্র জোনাল মার্কিং

চলুন প্রথমে এই তিনটি ক্যাটাগরি ভিত্তিক আলোচনা চালানো যাক।

সাধারণ জোনাল এরিয়া মার্কিং

এ ধরনের জোনাল মার্কিং হলো স্ট্যান্ডার্ড জোনাল মার্কিং ও সবথেকে প্রাথমিক পর্যায়ের মার্কিং সিস্টেম। এ ধরনের ট্যাকটিক্সে মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা তুলনামূলক বেশি ভূমিকা পালন করেন। প্রতিপক্ষের আক্রমণের সময়ে মাঝমাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়রা মাঝমাঠে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে প্রাথমিক রক্ষণদেয়াল তৈরি করে। এতে করে প্রতিপক্ষের মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা মাঝমাঠে তুলনামূলক নিয়ন্ত্রন করতে ব্যহত হন এবং ফাঁকা জায়গা কম পান। ফলে না পারেন উইং এরিয়া দিয়ে চার্জ করে যেতে, কিংবা না পারেন চান্স ক্রিয়েটের মাধ্যমে বলটি আক্রমণভাগে অপেক্ষারত খেলোয়াড়দেরকে যোগান দিতে। উল্লেখ্য, আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দেরকে ধরে রাখার দায়িত্ব সে ক্ষেত্রে উইংব্যাক এবং সেন্টারব্যাকরা পালন করে থাকে।

 মাঝমাঠে খেলোয়াড়দের এভাবে অবস্থান করার পদ্ধতি অনেকটা “বক্স ওভারলোড” পদ্ধতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যদিও দুইটির মাঝে হালকা কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। এটি তুলনামূলক রক্ষণাত্মক ট্যাকটিক্স যেটা আপনার দলের খেলোয়াড়দেরকে অধিক পসেশনে রাখতে এবং তাড়াতাড়ি পসেশন রিগেইন করতে সাহায্য করে। এমনকি, এটির ফলে সাথে সাথে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের যোগান দেওয়াটি যেমন সহজ হয়, তেমনিভাবে দলের একটি কুইক কাইন্টার এট্যাকের সম্ভাবনা তৈরি হয়, যার ফলে গোল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই বেড়ে যায়। উল্লেখ্য, এই ট্যাকটিক্স অনুসরণ করতে হলে খেলোয়াড়দেরকে তেমন শক্তিশালী কিংবা ইঞ্জিন কিংবা গতিসম্পন্ন হওয়ার দরকার পড়েনা।

জোনাল ম্যান মার্কিং :

এ ধরনের ট্যাকটিক্সের সাথে আগের ধরনের ট্যাকটিক্সের পার্থক্যের জায়গাটি হলো, এটিতে আলাদা করে কিছু বিপক্ষদলের খেলোয়াড়দেরকে মার্ক করার প্রয়োজন পড়ে। এ ধরনের ট্যাকটিক্সে মূলত রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ভূমিকা বেশি থাকলেও যেকোনো খেলোয়াড়কে উক্ত মার্কিং এর দায়িত্ব দেওয়া দেতে পারে। এ ট্যাকটিক্সে মার্কিং এর দায়িত্ব দেওয়া থাকে বিশেষ কিছু খেলোয়াড় দের উপর,যারা বিপক্ষদলের এমন কিছু খেলোয়াড়কে মার্কিং করার নির্দেশ পালন করে, যারা আক্রমণভাগে বেশ হুমকির সৃষ্টি করেন। তিনি হতে পারেন একজন উইংগার, হতে পারেন একজন স্ট্রাইকার কিংবা হতে পারেন একজন এট্যাকিং মিডফিল্ডার। উইংগার দের উইং এরিয়ায় পরাস্থ করার দায়িত্বে থাকেন উইংব্যাক, স্ট্রাইকারদের ক্ষেত্রে থাকেন সেন্টার ব্যাক এবং এট্যাকিং মিডফিল্ডারের ক্ষেত্রে থাকতে পারেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।

এ ট্যাকটিক্সে শুধুমাত্র মার্কিং এর দায়িত্বে থাকা খেলোয়াড় রাই মার্কিং এর ভূমিকা পালন করেন, বাকি খেলোয়াড়রা সুবিধামত নিজ নিজ পজিশনে খেলতে থাকেন। এ ট্যাকটিক্সের জন্য দায়িত্বে থাকা খেলোয়াড়টিকে বেশ এনার্জিটিক হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি শক্তিশালী এবং দম বেশি থাকা প্রয়োজন, না হলে মার্কিং করার প্রধান উদ্দেশ্যটিই নষ্ট হয়ে যায়।

মিশ্র জোনাল মার্কিং  

এ ট্যাকটিক্সটি মূলত পূর্বে আলোচিত দুই ট্যাকটিক্সেরই মিশ্রন। ট্যাকটিক্সটি তুলনামূলক আধুনিক এবং অন্য দুটোর থেকে বেশ কার্যকরী। সাধারণ জোনাল মার্কিং এর মতোই ট্যাকটিক্সটির বাস্তবায়নের সূত্রপাত হলেও এখানে খেলোয়াড়রা বিপক্ষদলের খেলোয়াড়ের কাছাকাছি অবস্থান করেন এবং তাদের মুভমেন্ট অনুযায়ী নিজেরাও একইভাবে মুভমেন্ট করতে থাকেন। এক্ষেত্রে হালকা প্রেসিং প্রযোজ্য। খেলোয়াড়রা হালকা আক্রমণাত্মক ভুমিকায় থাকতে পারেন। মূলত খুব তাড়াতাড়ি বল কেড়ে নেওয়ার জন্য এই ট্যাকটিক্স খুবই কার্যকরী এবং এর মাধ্যমে নিখুঁত কাউন্টার এট্যাক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। #অন-ফিল্ড বিশেষ কিছু সিচুয়েশনে জোনাল মার্কিং : ফুটবল খেলায় নানা সময় নানা রকম ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। এই বিভিন্ন ঘটনা বা মুহূর্তগুলোকে আলোচনাধীন বিষয় সাপেক্ষে আমরা দুটি ক্যাটাগরিতে ফেলতে পারি। যেমন- →কর্নার সেটপিস →ফ্রি-কিক সেটপিস প্রথমেই কর্নার সেটপিসের আলোচনা করতে গেলে সেখান থেকে আবার দুটি বিভাগে আমরা সেটিকে আলাদা করতে পারি। যেমন-

  • আক্রমণভাগের কর্নার সেটপিস
  • রক্ষণভাগের কর্নার সেটপিস

আলোচনাটি রক্ষণভাগের কর্নার সেটপিস দিয়েই শুরু করা যাক। এক্ষেত্রে মূলত খেলোয়াড়দেরকে বিপক্ষদলের কর্নার সেটপিস সামলাতে হয়। এক্ষেত্রে মিশ্র জোনাল মার্কিং ট্যাকটিক্সটি বহুল ব্যবহৃত এবং কার্যকরী। সেটপিসের সময় আমরা হরহামেশাই দেখি,রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা কর্নারের জন্য ছুটে আসেন। তারা মূলত ৬-ইয়ার্ড-বক্স, কেউ কেউ ডি-বক্স এর মধ্যে অবস্থান করার চেষ্টা করেন যাতে উড়ে আসা বল হেড করার মাধ্যমে গোল করতে পারেন। এক্ষেত্রে একটি বিশেষ ট্রিক হলো,সাধারণত যিনি হেড করেন,তিনি ডি-বক্সের সামান্য সামনে থেকে হঠাৎ দৌড়ে আসেন। তাই অনেক ক্ষেত্রেই তিনি আনমার্কড থাকেন ফলে গোল হয়ে যায় সহজেই।

মিশ্র জোনাল মার্কিং এরকম শমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি দেয়। এক্ষেত্রে রক্ষণরত খেলোয়াড়রা গোলপোস্টের কাছাকাছি অবস্থানরত বিপক্ষদলের খেলোয়াড়কে মার্ক করে জায়গাটা জমাটবদ্ধ করে রাখেন। বাকি থাকা কিছু খেলোয়াড় ডি-বক্সের মধ্যে অবস্থানরত অন্যান্য খেলোয়াড়দেরকে নির্দিষ্ট পজিশন থেকে মার্ক করে রাখেন যাতে করে উক্ত খেলোয়াড়রা ফ্রি-হেডিং এর সুযোগ থেকে ব্যহত হয়। অন্যদিকে, নিজেদের দলের কিছু খেলোয়াড় স্বাধীন অবস্থানে ঘুরাঘুরি করতে থাকেন,তাদের কাজ মূলত কর্নার সেটপিস প্রতিহত করা নয়, বরং ফিরতি বল লুফে নিয়ে বিপক্ষদলের হাফে একটা কুইক কাউন্টারের সৃষ্টি করা। মূলত এই পদ্ধতি অবলম্বন করে অনেক ক্ষেত্রেই কর্নারে গোল খাওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে মার্কিংরত খেলোয়াড়দের হেডিং এর উপর বিশেষ দক্ষতা থাকাটা জরুরি।

এবার আসা যাক বিপক্ষ হাফে কর্নার সেটপিসে অংশ নেওয়ার বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে মূলত জোনাল মার্কিং ব্যবহার করা যায় বিপক্ষদলের খেলোয়াড়কে ধোঁকা দেওয়ার জন্য। এ ক্ষেত্রে ১/২ জন খেলোয়াড় ডি-বক্সের হেডিং অনুকূল অঞ্চলে অবস্থান করেন। বিপক্ষদলের খেলোয়াড়রা তাদের দুজনকে মার্কিং করে রাখেন। বাকি খেলোয়াড়রা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন বিভিন্ন জায়গায়, যেখান থেকে হেডে গোল দেওয়া প্রায় অসম্ভবই বলা যায়। কিন্তু কর্নার নেওয়ার মিলিসেকেন্ড সময়ে তারা ভেতরে চার্জ করে ঢুকে পড়েন এবং হেডিং করে গোল করেন। অনেক ক্ষেত্রে আবার কিছু খেলোয়াড়কে ডি-বক্সের বাহিরে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। তারা মূলত রিবাউন্ডগুলোতে শট নেওয়ার মাধ্যমে গোল করার ফিরতি চেষ্টা করেন কিংবা ইন্টারসেপশন কিংবা ট্যাকলিং এর মাধ্যমে বিপক্ষদলের কাউন্টার এট্যাক প্রতিহত করার। চেষ্টা করেন।

সেটপিসের ক্ষেত্রেও বিষয়টা মূলত একই। এক্ষেত্রে দলের আক্রমণের সময় পাওয়া সেটপিসের সময়ে ওভারল্যাপিং করা যেকোনো খেলোয়াড় ব্যাপক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকেন। মূলত তিনি জটলা থেকে বাহিরে আনমার্কড অ অবস্থায় থাকেন এবং জটলা অঞ্চলের বাহিরে দেখা না যায় এমন জায়গা থেকে আসেন। তাই তার দিকে তেমন নজর কেউ রাখেন না।

কাউন্টার এট্যাক রোধের ক্ষেত্রে জোনাল মার্কিং

কাউন্টার এট্যাক সবময়ই বিপক্ষদলের জন্য হুমকিস্বরূপ। দশ থেকে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে হওয়া এই আক্রমনটি থেকে গোল করার সম্ভাবনা যতটাই না বেশি, সনাতনীয়ভাবে খেলোয়াড়দের মার্কিং করে আক্রমণ বাধাদানের চেষ্টা করাটাও ঠিক ততটাই কঠিন। এজন্য সবসময় রক্ষন অঞ্চলে নিজেদের ২ কিংবা ৩ জন খেলোয়াড় থাকাটা প্রয়োজনীয়। উইংব্যাক গুলো আক্রমণে উপরে চলে যায় বিধায় নিচে শুধু ২ জন খেলোয়াড় থাকে। এক্ষেত্রে মিডফিল্ডে খেলতে থাকা একজন খেলোয়াড়,যিনি হোল্ডিং ভূমিকায় মূলত পুরো ম্যাচ খেলেন,তিনি সেই ২ জনকে আলাদা করে সমর্থন দিতে নিচে চলে এসে একটা ডায়মন্ড অবস্থার সৃষ্টি করেন। এভাবেই মূলত কাজ করে বিখ্যাত “ডায়মন্ড ডিফেন্স”,হোসে মোরিনহো যেটি তার বেশিরভাগ খেলাতে ব্যবহার করে এসেছেন এবং করে যাচ্ছেন।

এরকম ট্যাকটিক্স ব্যবহারের ফলে বিপক্ষদলের কাউন্টারে সবসময়ই ৩ বনাম ৩ কিংবা ৩ বনাম ২ সিচুয়েশন বজায় থাকে, ফলে কাউন্টারকারী খেলোয়াড় রা কাউন্টার সামনে বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পান না। ফলে বল পসেশন হারাতে বাধ্য হন। এছাড়াও “ফ্ল্যাট ব্যাক” বলে আরও একটি বহুল ব্যবহৃত টার্ম প্রচলিত আছে, যেখানে ফুলব্যাকরা নিচে অবস্থান করে এক লাইনের মধ্যে এসে বিপক্ষদলের খেলোয়াড়দের বাধা প্রদান করেন। সেটি সাধারণ জোনাল মার্কিং ট্যাকটিক্সের একটি কৌশল, যেটি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মধ্যে দেখা গুয়েছে। ফার্গুসন এভাবেই সফল হতে সক্ষম হয়েছেন।

এছাড়াও পেপ গার্দিওলা, রাফা বেনিতেজ,কার্লো আঞ্চেলত্তির ট্যাকটিক্সেও এভাবে খেলাতে দেখা যায়। এভাবে খেলতে থাকলে কাউন্টারে গোল খাওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়, তেমনি ভাবে তাৎক্ষণিকভাবে বিল্ড-আপের মাধ্যমে এট্যাক শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে পদাররুন করা সহজ হয়।

জোনাল মার্কিং এর জন্য অনুকূল ফর্মেশনসমূহ

জোনাল মার্কিং এর জন্য বহুল ব্যবহৃত এবং আদর্শ ফর্মেশন হলো ৪-৪-২ ফর্মেশন। এক্ষেত্রে মাঝমাঠে এবং রক্ষণভাগে দুইটি দেওয়ার সৃষ্টি সম্ভব হয়। লেস্টার সিটির খেলার ধরনের বিরাট অংশ জুড়েই এই ট্যাকটিক্স এবং এই ফর্মেশন যুক্ত। এছাড়া, আধুনিক সময়ে রিয়াল মাদ্রিদকে এই ফর্মেশনে রূপান্তরিত হয়ে জোনাল মার্কিং করতে দেখা গিয়েছে। জোনাল মার্কিং এর জন্য অন্যান্য কার্যকরি ফর্মেশনগুলো হলো ৪-৫-১,৪-২-৩-১(যখানে ডিফেন্সিভ মিডে থাকা দুইজন খেলোয়াড় নিচে থেকে সেন্টারব্যাকদের সাথে সমান্তরালে থাকেন),৪-১-৩-২,৪-১-২-৩(যেখানে ডিফেন্সিভ মিডে খেলতে থাকা খেলোয়াড়টি সেন্টারব্যাকদের সাথে ডায়মন্ড ডিফেন্স সৃষ্টি করেন),৪-৩-৩ প্রভৃতি। এট্যাকিং ফর্মেশনের কথা বিবেচনা করলে ৩-৪-৩ কিংবা ৩-৫-২ কার্যকরী ফর্মেশন। এছাড়াও পচেত্তিনোর অধিনে ৩-৬-১ বর্তমানে এ ট্যাকটিক্সে নতুন মাত্রা পেয়েছে। ডিফেন্সিভ ফর্মেশনের ক্ষেত্রে ৫-৪-১ ফর্মেশনটি জোনাল মার্কিং এর জন্য কার্যকরি।

পরিশেষে, জোনাল মার্কিং আধুনিক ফুটবলে বহুল ব্যবহৃত ট্যাকটিক্সের মধ্যে অন্যতম। এ ট্যাকটিক্স সফল করতে হলে খেলোয়াড়দের মাঝে থাকা প্রয়োজন ব্যাপক বোঝাপড়া, প্রয়োজন অপরিসীম ধৈর্যের এবং দরকার নিখুঁত পরিকল্পনা। ফুটবল ইতিহাসের অনেক ঘটনার মূলে জড়িত এই বিখ্যাত ট্যাকটিক্সটিকে বাস্তবায়ন করতেই তাই কাজ করে যান দলের কোচিংস্টাফরা, খেলোয়াড়রাও তাদের সেরাটা উপস্থাপনের মাধ্যমে হয়ে উঠতে চান কোচের আস্থার প্রতীক,সমর্থকদের কাছে লোকাল হিরো এবং ফুটবল মাঠে পেতে চান আনন্দ,একটুখানি সতর্কতা ও উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে খেলা উপভোগের সুযোগ।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন