জিজু পলিসি

জিজু পলিসি

কোচ জিদান রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমরা ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে খ্যাপা হিসেবে আমরা চিনতাম।‌ কাউকে কিনতে চাইলে তাকে কিনেই ছাড়তেন এই ভদ্রলোক। টাকাটা কোনো ফ্যাক্টর‌ই না। ৫০/৬০ মিলিয়নের নিচে কথাই হত‌ না ট্রান্সফার মার্কেটে। রিয়ালের ট্রান্সফার পলিসি ছিল স্টার হলেই কিনতে সবে। পয়সা স্পেন্ডিং এর কোন আপার লিমিট নেই। গ্যালাক্টিকোস তৈরী‌ই হয়েছিল এই দর্শনের উপর।

পেরেজ তখন এক মৌসুমে এত খরচ করতেন যা অনেক মাঝারি ক্লাবের সারা বছরের বাজেটের চাইতে বেশি। কিন্তু এতে টিম কেমিস্ট্রি, ব্যালেন্স নষ্ট হত। এর সবচাইতে বড় উদাহরণ হল ২০০২ এ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী টিমের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ম্যাকলেলেকে বেচে দিয়ে স্রেফ গ্ল্যামারের পিছনে ছুটতে গিয়ে ডেভিড বেকহ্যামকে কেনা। এই গ্যালাক্টিকো পলিসির ফাঁদে পড়ে রিয়াল অনেক ভুগেছে। এ জিনিস চলেছে টানা ২০১৫ অবধি। রিয়ালের ট্রান্সফার স্পেন্ডিং মানেই ছিল ৫০/৬০ মিলিয়ন এবং তার সিংহভাগ‌ই ছিলো অনেকটা অপ্রয়োজনীয়। এই ছবিটাই আমূল বদলে যায় রাফায়েল বেনিতেজের জায়গায় জিনেদিন জিদান রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেবার পর। জিদান কোচ হয়ে আসার পর‌ই অ্যাকাডেমি, ইয়ুথদের দিকে বেশি নজর দিতে থাকেন। কাস্তিয়া থেকে আসেনসিও, বোরহা, দিয়াজের মত ইয়ং ট্যালেন্টদের সুযোগ দেওয়া শুরু হয় এবং ট্রান্সফার মার্কেটে অপ্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ হয় রিয়ালের। জিদান জোর দেন বেঞ্চ শক্তপোক্ত করার উপরে। বাই ব্যাক ক্লজ পরিশোধ করে মোরাতাকে ফেরানো হয়। ইস্কো নিয়মিত সুযোগ পেতে থাকে মূল দলে। এবং মাদ্রিদে শুরু হয় জিদান ফিলসফি, যার মূল মন্ত্র হল তরুনদের কাজে লাগানো, ডেভেলপ করা এবং তাই দিয়েই ট্রফি জেতা। স্টার হলেই কিনতে হবে এই অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফলাফল? গত দুবছরে দুটি ইউসিএল, গত মৌসুমে লা লিগা! জিদান এফেক্টে মাদ্রিদ এখন ইয়ুথ প্লেয়ারদের পিছনে ইনভেস্ট করছে, ভবিষ্যতের কথা ভেবে টাকা ঢালছে স্টার কেনার বদলে যা কিনা তিন বছর আগেও স্বপ্নাতীত ছিল। জিদান দ্বায়িত্বে থাকলে ধারনা করা যায় ভবিষ্যতেও মাদ্রিদ এই পলিসিই ফলো করবে। জিদানের সবচাইতে বড় সুবিধা হলো খোদ প্রেসিডেন্ট পেরেজ তাঁর কথা শোনেন, গুরুত্ব দেন। যেটা জিদানের পূর্ববর্তী কোচেরা পাননি। রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের আশা এভাবেই রিয়াল এগিয়ে যাবে কোচ জিদানের হাত ধরে। 

 

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন