পৃথিবীর বেগশ্বরঃ লাইটনিং বোল্ট!

পৃথিবীর বেগশ্বরঃ লাইটনিং বোল্ট!

চলুন আজ একজন অতি সাধারন ছেলের অনতিসাধারন হবার গল্প শুনি. জামাইকার ছোট্ট একটি গ্রাম। সেখানে বাস করতো ওয়েসলি বোল্ট, তার স্ত্রী জেনিফার বোল্ট এবং তাদের তিন সন্তান। এদের মধ্যে একজন ছিলো প্রচন্ড দূরন্ত এবং অত্যন্ত খেলাপাগল। সারাদিন  ক্রিকেট আর ফুটবল খেলে বেড়ানোই ছিলো তার কাজ।  মজার বিষয় হল, ছেলেটির ছিল এক ভিন্ন প্রতিভা- প্রচন্ড বেগের অধিকারী ছেলেটি সবেগে ছুটতে পারতো এক নিমিষেই। এভাবেই স্কুলের বার্ষিক প্রতিযোগীতায় সে হল চ্যাম্পিয়ন। ১২ বছর বয়সেই স্কুলের দ্রুততম দৌড়বিদ উপাধি পেয়ে ও গেলো। সময় অতিবাহিত হলো, বড় হয়ে হাই স্কুলে পদার্পনের পরই মন টা চলে গেলো তার ক্রিকেট এর দিকে। একদিন ছেলেটি নজরে পড়লো তার ক্রিকেট কোচের। পিচে তার বেগ দেখে কোচ পরামর্শ দিলেন ট্র্যাক এন্ড ফিল্ড ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহনের জন্য। শুরু হলো তার দৌড়বিদ হবার ট্রেনিং। এবারো সে হল চ্যাম্পিয়ন,২০০মিটার মাত্র ২২.৪ সেকেন্ড এ পাড়ি দিয়ে জিতে নিলো রুপার মেডেল। সেই ছেলেটি আর কেউ নন, ছেলেটি হলেন উসাইন বোল্ট যাকে আমরা লাইটনিং বোল্ট নামেও চিনি।

এখান থেকেই আরম্ভ হলো তার বেগশ্বর হবার যাত্রা। সেই সালেই ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অনুষ্ঠিত কারিফটা গেমসে ৪০০ মিটার রেস এ ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪৮.২৮ জয়ী হয়ে পেয়ে গেলেন আরেকটি রুপার মেডেল।

৪০০ মিটার দৌড়েও জয়ের খাতায় তার ই নাম লেখা হল। এর সূত্র ধরে বিশ্বমঞ্চে তার পদচারনা ঘটে আই এ এ এফ ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপ এর মধ্য দিয়ে যেখানে তিনি দূর্ভাগ্যবশত ২০০ মিটার রেসে ফাইনালে পৌছতে পারেননি। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে সে সর্বনিম্ন সময়ে রেস সম্পন্নকারীর তকমা অর্জন করে ফেলেন এর মাধ্যমেই। অথচ এতো কিছুর পরেও তিনি এথলেটিকসকে না পারলেন আপন করে নিতে, না পারলেন নিজেকে চিনতে। বিতর্ক জন্মাতে শুরু করলো তার নামে। হয়ে গেলেন বিষাদ্গ্রস্থ। তারপর ও তার রেকর্ড গড়া থামেনি। সেন্ট্রাল আমেরিকান এবং ক্যারিবিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ এ তিনি প্রমান করলেন,তিনিই সেরা। এথলেটিক ইভেন্ট এ সেরা নয়জন খেলোয়াড় এর মাঝে তিনি তার জায়গা করে নিলেন নিমিষেই। মাত্র ১৫বছর বয়সেই হয়ে উঠলেন পৃথিবীর সবচেয়ে কম বয়সের অধিকারী ওয়ার্ল্ড জুনিয়র গোল্ড মেডেলিস্ট এবং জাতীয় পর্যায়ে একমাত্র সর্বোচ্চরেকর্ডধারী বালক।

একে একে সব কটা ইভেন্ট এই জয় পেতে থাকলেন, হাতিয়ে নিলেন অস্টিন সিলি ট্রফি। শুধু তাই নয় বছরের পর বছর তার গতি যেন বাড়তেই থাকলো। যেখানে বড় বড় এথলেটগন তাদের বেস্ট দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, উসাইন যেন এক নিমিষেই তা সম্পন্ন করে ফেলেন। জনপ্রিয়তার ছোঁয়াও তিনি পেয়ে গেলেন কদিনের মাঝে। কিন্ত বাধা ঠেকালো তার অনিয়মিত জীবিন যাপন, যার প্রভাব পড়লো সিনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ এ। কিছুদিনের মাঝেই তিনি অবশ্য তিনি শপথ নেন যে আবার ঘুড়ে দাড়াবেন। এরপর শুরু হল ভাগ্যের সাথে যুদ্ধ।

২০০৪ থেকে ২০০৭ এর মধ্যে অনেকগুলো দূর্ঘটনার স্বীকার হন তিনি। অথচ তার চেষ্টার ঘটতি পড়েনি এতটুকু ও। ২০০৭ এ বোল্ট গত ৩০ বছর ধরে অটুট রাখা ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ গেমে ২০০ মিটার রেসের রেকর্ডধারী ডোনাল্ড কুরির রেকর্ডটি ও ভেঙ্গে ফেলেন এবং সাথে ২টি রৌপ্য মেডেল ও জয় করে নেন। ২০১২ সালের মধ্যে তিনি ৪র্থ বারের মত অলিম্পিক গোল্ড মেডেলের বিজয়ী হিসেবে ভূষিত হন, সাথে ১০০ মিটার ২০০ মিটার ২ টি রেসেই তিনি জয়ী হন। একটি অলিম্পিক গেমস এ ৩ টি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সেট করার সম্মান ্তার ই যা ছিল ইতিহাস এ ছিলো প্রথম। তার জয়ের এই ধারা ২০১৬ পর্যন্ত টিকে ছিলো।

নাহ! বোল্ট এখনো থামেননি,থা্মানো যায়নি তাকে। জয় করেই চলেছেন দৌড়ের রাজ্য। পৃথিবী্র জীবিত একমাত্র দ্রূততম মানব বলা হয় তাকে। লাইটনিং বোল্ট নামটি যথোপযুক্তই তার সাথে যায়। তিনি আমাদের শতাব্দীর গর্ব হিসেবে ইতিহাসের পাতায় চিরজীবন বেগ রাজ্যের রাজা হিসেবে স্বরনীয় হয়ে থাকবেন কালের পর কাল, বছরের পর বছর, শতাব্দীর পর শতাব্দী!

 

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন