বার্সায় পৌলিনহোঃ তাকে কিভাবে খেলাবেন ভালভার্দে?

বার্সায় পৌলিনহোঃ তাকে কিভাবে খেলাবেন ভালভার্দে?
Rahik Sumail August 14, 2017, 7:13 pm La liga santander

ক্যাতালুনিয়া এবং ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সংবাদ আউটলেট গ্লোবোর সুত্রমতে ২৯ বছর বয়সি ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার পৌলিনহোকে দলে ভেড়াতে যাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। চায়নিজ দল গুয়াংঝু এভারগ্রান্দে থেকে তাকে দলে নিতে বার্সাকে গুনতে হবে ৪০ মিলিয়ন।

ব্রাজিলে গত বছর কোচ টিচে দ্বায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ব্রাজিল জাতীয় দলে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন এই সেন্টার মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করার পর গত মার্চে উরুগুয়ের সাথে হ্যাট্রিক এবং প্যারাগুয়ের সাথে অসাধারন ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পরপরই মুলত তার বার্সায় যাওয়ার জোর গুঞ্জন শোনা যায়। ২০১২ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব করিন্থিয়ান্সের হয়ে লীগ, লিবারতোদরেস এবং ক্লাব বিশ্বকাপ, ব্রাজিলের হয়ে ২০১৩ কনফেডারেশন কাপের ৩য় সেরা ফুটবলারের পুরষ্কার জেতা পৌলিনহো ২০১৪ বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফর্মেন্স এবং টটেনহ্যামের হয়ে নিজেকে চিনাতে না পারায় ব্রাজিল জাতীয় দল থেকে বাদ যান। ২০১৫তে টটেনহ্যাম থেকে চায়নায় গুয়াংজু এভারগ্রান্ডেতে যাওয়ার পর ক্লাবকে ২০১৫ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এবং দুটি লীগ শিরোপা জিততে সহায়তা করেন তিনি।

খেলার ধরনঃ 

পৌলিনহো মুলত একজন বক্স টু বক্স সেন্টার মিডফিল্ডার। দলের মূল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের একটু সামনে থেকে তিনি মুলত পাসিং এবং ড্রিবল দিয়ে বল সামনে নিয়ে যাওয়া কিংবা অন্য মিডফিল্ডারদের সাথে ছোট ছোট পাস খেলে নিজের দলকে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করেন। তার প্রতিপক্ষের ডিবক্সে গিয়ে হঠাত হেড এবং ট্যাপ ইন করার প্রবনতা দলকে কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত গোল এনে দেয়। এছাড়া অফ দ্য বলে তিনি তার শারিরীক শক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে বল দখলে রাখতে বাধা প্রদান করেন। তার অসামান্য স্টামিনা এবং শারীরিক শক্তির প্রয়োগ দলের জন্য উপকারি হয়ে ওঠে।

তবে তার খেলোয়াড় হিসেবে কিছু দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করা যায় তার সীমিত টেকনিকাল সক্ষমতা। এছাড়া মাঝেমধ্যে প্রচুর ভূল পাস এবং প্রতিপক্ষকে বল দিয়ে দেয়ার প্রবনতার বাজে স্বভাব তার মধ্যে বিদ্যমান। 

বার্সেলোনায় কিভাবে তাকে খেলানো হতে পারে দেখে আসা যাকঃ 

৪-৩-৩ ফর্মেশনে সেন্টার মিডফিল্ডার

                              

বর্তমানে রাকিতিচ যে পজিশনে খেলে থাকেন সেই জায়গায় আরো শারিরীক শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হলে পৌলিনহোকে খেলাতে পারেন কোচ ভালভার্দে। বলে রাখা ভালো বর্তমানে ব্রাজিল দলেও এই পজিশনে খেলে থাকেন পৌলিনহো। 

৪-২-৩-১ এ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার

                                 

এটলেটিক বিলবাওতে ৪-২-৩-১ ফর্মেশনটি বেশ কয়েকবার ব্যবহার করেছেন ভালভার্দে। তিনি যদি বার্সাতেও একই ছকে দলকে খেলাতে চায় তাহলে বুস্কুয়েটসের সাথে পৌলিনহো হতে পারে ভালো অপশন। কারন বুস্কুয়েটসের মতো একজন বল প্লেয়িং মিডফিল্ডার যদি ডিফেন্সিভ সহযোগিতা চান তাহলে পৌলিনহো সেই সুবিধা দিতে পারে। এছাড়া বক্সে উঠে মেসি ইনিয়েস্তা বুস্কুয়েটসদের ক্রস কিংব থ্রু বলের সদ্ব্যবহার করতে কার্যকরী হতে পারেন তিনি। 

২০১৩ কনফেডারেশন কাপ কিংবা সে সময়ে করিন্থিয়ান্সে এই রোলে খেলে বেশ সফল ছিলেন পৌলিনহো।

অলআউট এটাকে সেকেন্ড স্ট্রাইকার (ফেলাইনি রোল?)

                         

খেলায় এমন অনেক পরিস্থিতি হয় যে দল পিছিয়ে আছে, তখন খেলার গতি পরিবর্তনে ফর্মেশন পরিবর্তন করে থাকেন কোচ। এমন অবস্থায় কোচ অনেকসময় চেষ্টা করেন প্রতিপক্ষে ডিবক্সে ডিফেন্ডারদের সাথে শারীরিক লড়াইয়ে জিততে কিংবা উড়ে আসা বলগুলো হেড দিতে একজন শক্তিশালী খেলোয়াড়কে সর্বক্ষণ ডি বক্সে থাকার। যেমনটা ফেলাইনিকে অনেকসময় চেষ্টা করে থাকেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর কোচেরা। পৌলিনহোর ডিবক্সে পজিশনিং সেন্স এবং হেড দেয়ার ক্ষমতার কারনে বিশেষ প্রয়োজনে তাকে অনেকটা সুয়ারেজের সাথে ডিবক্সে সাপোর্টিং স্ট্রাইকার হিসেবে খেলাতেই পারেন ভালভার্দে!





Similar Post You May Like

জনপ্রিয় খেলার সংবাদ

Find us on Facebook