খেলোয়াড় ইনিয়েস্তা, মানুষ ইনিয়েস্তা

খেলোয়াড় ইনিয়েস্তা, মানুষ ইনিয়েস্তা

১. সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে শেষ বিকেলে ফুয়েন্তেএ্যালবিয়া গ্রামের মানুষ যখন জড়ো হয় গ্রামের একমাত্র পানশালাটিতে, সে সময়টায় পানশালার মালিক বুড়োর মেজাজও থাকে খিটখিটে। একের পর এক অর্ডার, টাকা পয়সার হিসাব, সবমিলিয়ে পাগল হওয়ার দশা হয় তাঁর। তাই তো পরিবারের ছেলেবুড়ো সবাইকে বলে দিয়েছে সে, এই সময়ে সবাইকে পানশালায় থাকতে হবে তাকে সাহায্য করতে। পরিবারের সবাই যথারীতি পানশালায়,শুধু বৃদ্ধের ছোট নাতির দেখা নেই। রেগেমেগে বেত হাতে নিয়ে নাতির খোঁজে বের হলেন দাদা। খুঁজে পেতে দেরী হলোনা,রাস্তায় ফুটবল খেলায় ব্যস্ত সে। হালকাপাতলা শরীরে কোকড়ানো চুলের নিচে মায়াভরা চেহারা দেখে বৃদ্ধের মন গলে গেলো।

- "আন্দ্রেস, এখন খেলার সময় না। "

- "আমার বারে কাজ করতে ভালো লাগেনা দাদা। "

- "তোর পড়ালেখার অবস্থাও তো খারাপ। "

- " আমার পড়ালেখা করতেও ভালো লাগেনা। আমার শুধু খেলতে ভালো লাগে।" 

২. ঐ ছেলেটাকে কয়েকবছর পরেও আমরা ফুটবল খেলতেই দেখবো। তবে ভিন্ন জায়গায়। বার্সেলোনার একাডেমীতে। পেপ গার্দিওলা তখন বার্সেলোনা মূল দলের হয়ে মাঝমাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। একদিন পাকা জহুরির দৃষ্টিতে জাভি হার্নান্দেজ নামক এক তরুণের দিকে তাকিয়ে প্রশংসার সুরে বললেন, " তুমি একদিন আমার নাম মানুষকে ভুলিয়ে দেবে।" প্রশংসায় আনন্দিত জাভির দিকে চেয়ে মাঠের অন্য দিকে আঙ্গুল দিয়ে তরুণ আন্দ্রেসের দিকে ইশারা করলেন পেপ, "আর ঐ ছেলেটাকে দেখছো? ও একদিন আমাদের দু'জনের নামই ভুলিয়ে দেবে।"

     

৩. আন্দ্রেসের এই ক্লাবে আসার ব্যাপারটা খুব একটা সুখকর ছিলোনা। স্পেনের আর দশটা ফুটবল পাগল ছেলের মতো তার শুরুটাও এ্যালবাসেতের রাস্তায় রাস্তায় ফুটবল খেলে। ছেলের ফুটবল প্রেম দেখে বাবা তাকে ভর্তি করিয়ে দিলেন এ্যালবাসেতের ফুটবল একাডেমীতে। প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে খুব তাড়াতাড়িই জায়গা করে নেন এ্যালবেসেতে ব্যালাম্পিয়ে ক্লাবে। সেখান থেকেই তার জীবনের উত্থানপর্ব শুরু। নজর কাড়েন বার্সেলোনার স্কাউটদের। তাদের কথায় তার বাবা তাকে ভর্তি করিয়ে দিলেন স্বনামধন্য ফুটবলার তৈরীর কারখানা লা মাসিয়ায়। কিন্তু ঐ যে বললাম সেটা কোন আনন্দের ব্যাপার ছিলোনা ! বাবা তাকে বার্সেলোনায় রেখে ফিরে গেলেন গ্রামে। যাওয়ার আগে বলে গেলেন, "আন্দ্রেস, আমাদের মান রাখিস বাপ।" লাজুক, সরল গ্রাম্য ছেলে আন্দ্রেস তখন চোখের পানিতে বুক ভাসিয়েছিলো। তারপর শুরু লা মাসিয়ার জীবন। একে তো শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন, তার উপর পাশে নেই মা বাবা। সব ছেড়ে চলে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সময় সব কিছু বদলে দেয়। ধীরে ধীরে খাপ খাইয়ে নিলেন সে জীবনের সাথে। সেখান থেকেই শুরু হলো তার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা হয়ে উঠার পালা । সেখান থেকেই তার অমরত্বের পথে যাত্রা শুরু।

৪. লা মাসিয়ায় একের পর এক ধাপ পেরিয়ে বার্সার মূল দলে অভিষেক ২০০২ সালে। তবে দলে নিয়মিত হলেন ২০০৪-০৫ সিজন থেকে। ২০০৪-০৬ সিজনে জাভির ইনজুরীর সুযোগে চমৎকার পারফর্ম করে দলে নিজের জায়গাটাও করে নিলেন পাকাপোক্ত। সেই সিজনে ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের ডাবল ( লীগ, ইউসিএল) জয়ী দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন ইনিয়েস্তা। শুরুতে জার্সি নাম্বার ছিলো ২৪। লুডোভিক গিউলীর বিদায়ের পর দলের ৮ নং জার্সির মালিক হন তিনি। এই ৮ নং জার্সিতেই তিনি এতসব কীর্তি রচনা করলেন, যে ২৪ নাম্বারের কথা আর কেউ মনে রাখেনি। ৮ নাম্বার জার্সি আর ইনিয়েস্তা সমার্থক শব্দ হয়ে গেছে। মাইকেল লাউড্রপ আর পেপ গার্দিওলাকে দেখেই ফুটবলার হবার নেশা চেপে বসেছিলো। সেই গার্দিওলাকে কোচ হিসেবে পেয়ে তার ক্যারিয়ারে নতুন ছোঁয়া লাগলো। বার্সা তখন খারাপ সময় পার করছে। পেপ গার্দিওলার হাত ধরে আবারো বার্সার সোনালী দিনের সূচনা হলো। জাভি, ইনিয়েস্তা সাথে তরুণ বুসকেটসের মিডফিল্ড ট্রিও যে অকল্পনীয় প্রভাব বিস্তার করতো মাঠে, বার্সেলোনার সর্বজয়ী, অপ্রতিরোধ্য টিম হয়ে ওঠা, হেক্সা জেতার পেছনে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য ছিলো। 

"খেলার মাঠে না দেখেই জাভি বলতে পারতো আন্দ্রেস মাঠের কোন জায়গায় আছে। একইভাবে আন্দ্রেসও বলতে পারতো জাভি কোথায় আছে।" -সাবেক বার্সা খেলোয়াড় জিওভানি ফন ব্রঙ্কহার্স্টে

এমনই রসায়ন, সাথে জাভির অকল্পনীয় পাসিং দক্ষতা, মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আর ইনিয়েস্তার চোখ ধাঁধানো বল কন্ট্রোল, বল পায়ে ম্যাজিক আর বুদ্ধিদীপ্ত পাসিং। আর পেছনে বুসকেটসের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক। সবমিলিয়ে এই ত্রয়ীকে তাই সর্বকালের সেরা মিডফিল্ড ত্রয়ীগুলোর একটা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

স্পেন জাতীয় দলের স্বর্ণ যুগের কথা ধরুন। ২০০৮, ২০১২ এর ইউরো আর ২০১০ এ মহা আরাধ্য বিশ্বকাপ জয়ী স্পেনের সেই অপ্রতিরোধ্য দলের কী প্লেয়ারও ছিলেন ইনিয়েস্তা। বার্সেলোনা আর স্প্যানিশ জাতীয় দলের নিউক্লিয়াস হিসেবে দুই দুইটি দলের সোনালী সময়ের কারিগর হবার বিরল কৃতিত্ব আর কয়জনেরই বা আছে? পরবর্তীতে বয়সের ভারে ধার হারানো জাভি দলে অনিয়মিত হয়ে পড়লেও ইনিয়েস্তার নৈপুণ্যে বার্সেলোনা যথারীতি মিডফিল্ডে কর্তৃত্ব বজায় রাখে। বুড়ো ইনিয়েস্তার প্রভাবও যে বার্সেলোনায় কতটা বেশি, সেটা তার মাঠে না থাকা অবস্থায় ভীষণভাবে বোঝা যায়। ২০১৬-১৭ সিজনের কথাই বলি। সিজনের বড় একটা সময় ইনজুরীতে পার করেছেন। যথারীতি তার অনুপস্থিতে বার্সার মিডফিল্ড ধুঁকেছে বেশিরভাগ সময়। ইনিয়েস্তা নেই মানেই বার্সেলোনা, স্পেনের মিডফিল্ডে কোথাও একটা শূণ্যতা থেকেই যাবে। সেটা পূরণ করার সাধ্য কারো নেই। 

     

৫. কিছু খেলোয়াড় আছেন,যাদের শ্রেষ্ঠত্ব পরিমাপে গোল এসিস্টের হিসাব বা পরিসংখ্যান বিবেচনা করাটা যথেষ্ট নয়। জাভি হার্নান্দেজের একটা উক্তি এক্ষেত্রে উল্লেখ করা প্রয়োজন : "খেলার মাঠে শুধু পাস দিলেই চলেনা। পাসটি দিতে হবে সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গায় অবস্থানকারী প্লেয়ারকে। এমনভাবে দিতে হবে, যাতে সে বাড়ানো বলটির সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যবহার করতে পারে।" ফুটবল মাঠে কেবল গোল দেয়া বা এসিস্ট করাই একমাত্র কাজ নয়। বরং একজন খেলোয়াড়কে এর বাইরেও মাথায় অসংখ্য অংক কষতে হয়। সমস্ত সম্ভাবনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হয়, মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরিসংখ্যান কখনো এসবের কথা বলেনা। অকল্পনীয় ব্যালেন্স আর বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দিয়ে প্রতিপক্ষের সব বাঁধা ছিন্নভিন্ন করে দেয়া, বল পায়ে একের পর এক জাদুকরী মুহূর্ত তৈরী, কিংবা সঠিক জায়গায় কার্যকর পাস দেয়া, এসবও পরিসংখ্যান কখনো বলেনা। পরিসংখ্যানে শত হিসাব নিকাশ করে দেয়া একটা পাসকে একটা পাসই দেখানো হবে। একটা গোলকে পরিসংখ্যান কেবল একটা গোল হিসাবেই দেখায়। কিন্তু ২০০৮-০৯ সিজনে ইউসিএল এর সেমিফাইনালে চেলসির বিরুদ্ধে অন্তিম সময়ে ২৫ গজ দূর থেকে করা সেই গোল, একই টুর্ণামেন্টের ফাইনালে করা তার এসিস্ট, কিংবা বিশ্বকাপ ফাইনালে জয় নিশ্চিত করা সেই গোল, তিন তিনটা বড় টুর্ণামেন্টের ফাইনালে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হওয়া এসবের কোনটাকেই আপনি পরিসংখ্যানের বাঁধাধরা নিয়মে কেবল একটা গোল, বা কেবল একটা এসিস্ট বলে এড়িয়ে যেতে পারবেননা। 

 

পেপ গার্দিওলা: "সে (ইনিয়েস্তা) গোল হয়তো খুব বেশি করবেনা, কিন্তু তাও সে সবার চেয়ে আলাদা। টাইমিং কিংবা স্পেস তৈরীতে তার জুড়ি নেই। সে এমন একজন খেলোয়াড়, যে বিপক্ষদলকে ছিঁড়েখুড়ে ফেলার ক্ষমতা রাখে আর বড় ম্যাচগুলোতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।"

সাবেক কোচ লুইস এনরিকে : "ইনিয়েস্তা একজন শিল্পী। ফুটবল বড় কঠিন খেলা। এই কাঠিন্যের মধ্যে শিল্পের ছোঁয়া এনে দেয় ইনিয়েস্তার মতো খেলোয়াড়েরা।" 

৬. দোর্দণ্ড প্রতাপে মাঝমাঠ শাসন করার কারণে তার আদুরে নামই হয়ে গেছে ডন আন্দ্রেস। ফুটবল মাঠের এই ডন মাঠের বাইরেও তার পাহাড়সম ব্যক্তিত্ব দিয়ে সবার কাছে এক সম্মানিত নাম। একটা ঘটনা এক্ষেত্রে উল্লেখ করতেই হয়। পেপ গার্দিওলা যখন কোচ হলেন, তার শুরুটা কিন্তু ভীষণ খারাপ ছিলো। নুমান্সিয়ার সাথে ১-০ তে হার। এরপরের ম্যাচেই রেসিং সান্তান্দেরের সাথে ১-১ গোলে ড্র। স্প্যানিশ মিডিয়া পেপের সমালোচনায় মুখর। পেপ এর ফিলোসফিতে পরিবর্তন আনার জন্য চাপ বাড়ছিলো। প্রচণ্ড চাপের মুখে বিপর্যস্ত পেপ তার রুমে সময় কাটাচ্ছিলেন। এমন সময় দরজায় কেউ নক করলো। দরজা খুলতেই ইনিয়েস্তা এসে ঢুকলেন রুমে। বিধ্বস্ত পেপ এর দিকে তাকিয়ে বললেন, "বস, আমি জানি আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। কিন্তু আমার ধারণা আমরা ঠিক পথেই আছি। সিজনের এখনো পুরোটাই বাকি । আপনার হাত ধরেই আমরা আবার সাফল্য পাবো। আপনি কারো কথায় নিজের খেলানোর ধরণ পরিবর্তন করবেননা দয়া করে।" সাধারণ এই মোটিভেশনাল কথা অন্য কারো মুখ থেকে বের হলে হয়তো কিছু যায় আসতোনা। কিন্তু কথাগুলোতে কোন ভনিতা ছিলোনা। আন্তরিক, মন থেকে বলা কথা। তারচেয়ে বড় কথা সেটা উচ্চারিত হয়েছিলো এমন একজনের মুখ থেকে, যার ব্যক্তিত্ব পাহাড়সম। এতেই আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগা পেপ আবারো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেন। পেপ এর ভাষায়, "কঠিন সময়ে ঐ সাধারণ কথাগুলোই আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিলো। কারণ কথাগুলো বলেছিলো আন্দ্রেস,যার ব্যক্তিত্ব তুলনাহীন, যে খুব কমই কথা বলে,কিন্তু তার কথার ওজন অনেক বেশি।"

বার্সেলোনা সেই মৌসুমে সম্ভাব্য সব ট্রফিই জিতে নেয়। মাঠের বাইরেও এমনই তার প্রভাব।

সার্জিও বুসকেটস, "আন্দ্রেস খুব বেশি কথা বলেনা । কিন্তু যখন কিছু বলে,সেটা সবাই খুব মন দিয়ে শোনে।"

সতীর্থদের মধ্যেও তার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। সর্বশেষ ইউরোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কার জেতার পর বলেছিলেন - " এটা আমি আমার সব টিমমেটের মধ্যে ভাগ করে দেবো।" ফুটবল মাঠে হাতাহাতি বা বিবাদের কথাই ধরুন। সতীর্থরা যদি বিপক্ষের সাথে বিবাদে জড়ায়,সবার আগে থামাতে আসবে একজন পরিচিত মুখ, ইনিয়েস্তা। এমন লোককে ভালো না বেসে পারা যায়? কিংবা ধরুন ড্যানি জার্ক এর কথা। স্পেনের বয়সভিত্তিক দলে ইনিয়েস্তার সতীর্থ ছিলেন। এসপ্যানিওলের ক্যাপ্টেন ড্যানি জার্ক ২০০৯ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে হার্ট এ্যাটাকে মারা যান। ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনাল। ১১৬ মিনিটে ইনিয়েস্তা জয়সূচক গোল করলেন। সাথে সাথে জার্সি খুলে তার সেই বিখ্যাত সেলিব্রেশন। জার্সির নিচে গেঞ্জিতে লেখা "Dani Jarque, siempre con nosotros" ( ড্যানি জার্ক,সবসময় আমাদের সাথেই আছো) । সাবেক সতীর্থের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা থেকেই তার এই উদযাপন। যেকারণে বৈরী প্রতিবেশী এসপ্যানিওলের মাঠে পরবর্তীতে লীগ ম্যাচে দর্শকেরা সবাই দাঁড়িয়ে ইনিয়েস্তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

     

৭. খেলোয়াড়ি জীবনে ক্লাবের হয়ে সবধরনের ট্রফি জেতার স্বাদই পেয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে এক কনফেডারেশন কাপ বাদে জিতেছেন সবই। মহাআরাধ্য বিশ্বকাপও আছে তার মধ্যে। কিন্তু ব্যক্তিগত পুরষ্কারের ক্ষেত্রে কি তার কোন অপ্রাপ্তির বেদনা আছে? সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে ব্যালন ডি অর কিংবা ফিফা বর্ষসেরা পুরষ্কার না পাওয়াটা তার ক্ষেত্রে চাঁদের কলঙ্কই হয়ে আছে। ইনিয়েস্তা অবশ্য সবসময়ই সেটা উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন দলের স্বার্থই সবার আগে, ব্যক্তিগত অর্জন নয়। যে মানুষ নিজের পাওয়া পুরস্কার টিমমমেটদের সাথে ভাগ করে নেয়ার কথা বলতে পারেন, এমন নিঃস্বার্থ টিম প্লেয়ারের কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের অপ্রাপ্তিটা খুব বড় কিছু হওয়ার কথা নয়। ব্যালন ডি অর কিংবা ফিফা বর্ষসেরা এ্যাওয়ার্ডে কি ই বা আসে যায়? যতদিন ফুটবল থাকবে,মানুষ এই জাদুকরকে মনে রাখবে,বল পায়ে তার অবিশ্বাস্য ভেলকি,প্রবল পরাক্রমে মাঝমাঠ শাসন, বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্তিম মুহূর্তে সেই গোল, জার্সি খুলে সেই বিখ্যাত সেলিব্রেশনের কথা মনে রাখবে। ছোটখাটো অপ্রাপ্তি এতকিছুর সামনে পাত্তা পাবে কেনো?

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন