জুভেন্টাস সিজন প্রিভিউ (২০১৭-১৮)

জুভেন্টাস সিজন প্রিভিউ (২০১৭-১৮)

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের জায়ান্টদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে প্রথম সারিতেই থাকবে ফুটবল ক্লাব জুভেন্টাসের নাম। ফুটবলের বড় বড় তারকাদের গায়ে উঠেছে ইতালির এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের সাদাকালো জার্সি। বেশিদিন আগে নয় এক যুগ পেছালেই ধারণা পাওয়া যায় কারা খেলতেন “ওল্ড লেডি” খ্যাত তুরিনের প্রাচীন এই ক্লাবে। দেল পিয়েরো, ত্রেজেগে, নেদভেদ, ক্যানাভারো, বুফন নামগুলো শুনলেই বোঝা যায় ততকালীন জুভেন্টাস স্কোয়াডের শক্তিমত্তা কি ছিলো। তা কেমন চলছে ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের ২০১৭-১৮ সিজনের জন্য দল গোছানোর পর্ব? চলুন দেখে নেই একনজরে

২০১৬-১৭ সিজনের সিরি আ জয় সহ টানা ৬ সিজনের ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাস। দলে পিরলো, ভিদাল, পগবাদের মত বড় বড় নাম যেমন এসেছে নামগুলো চলেও গিয়েছে। এতে তেমন সমস্যা হয়নি ইতালিয়ান এই ক্লাবটির। এর পেছনে রয়েছে ক্লাবের সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ এবং ট্রান্সফার মার্কেটে নিপুন দক্ষতা। চলমান দশকে ট্রান্সফার মার্কেটে সবচেয়ে দক্ষভাবে কাজ সেরে নেওয়া ক্লাবটি বোধকরি জুভেন্টাসই হবে। কেমন ছিলো অ্যালেগ্রির গত সিজনের স্কোয়াড? 

উপরের দুটি ফর্মেশন হচ্ছে গত সিজনে অ্যালেগ্রির সবচাইতে বেশী খেলানো ৩-৫-২ এবং ৪-২-৩-১ ফর্মেশন। সলিড ডিফেন্স, মডারেট মিডফিল্ড, সূচালো অ্যাটাক এভাবেই হয়তো বললে সবচাইতে সুন্দর বর্ননা করা যায় অ্যালেগ্রির জুভেন্টাসকে। এই স্কোয়াড দিয়েই জিতে নিলো সিরি আ, ইতালিয়ান কাপ। উঠে গেলো চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে। সামনে ট্রেবলের হাতছানি। তবে সমস্যা আসলে কোথায় তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে। প্রথমার্ধে ১-১ সমতায় থেকে খেলা শেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু করার পরপরই মূলত দুই দলের প্রধান পার্থক্য ধরা পরে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবস্ট্রিটিউট প্লেয়াররা যেখানে গ্যারেথ বেল, অ্যাসেন্সিও বা আলভারো মোরাতার মত তারকারা সেখানে জুভেন্টাসের সাবস্ট্রিটিউট ছিলো কুয়াদ্রাদো, মার্কিশিও এবং মারিও লেমিনা। ফলাফল ফানাল ৪-১ এ  জিতে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। পার্থক্যটা স্কোয়াড ডেপথে। যে ডেপথের জন্য রিয়াল গত সিজনের ইউসিএল চ্যাম্পিয়ন একই কারনে জুভেন্টাস রানার্স আপ।
এই দুর্বলতা মাথায় রেখেই মারোত্তা-অ্যালেগ্রির এই সামার ট্রান্সফার উইন্ডের হাতেখড়ি। কন্তের রেখে যাওয়া ৩-৫-২ ফর্মেশন থেকে পুরোপুরি বেড়িয়ে এসে ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে রেগুলার শুরু করাই এ সিজনে অ্যালেগ্রির মূল লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে দুই উইংএ ৩১ বছর বয়স্ক মান্ডজুকিচ বা কুয়াদ্রাদোর মত কনভার্টেড উইঙ্গারের চাইতে ভালো কিছু আশা করতেই পারে জুভেন্টাস ফ্যানেরা। ফ্যানদের চাওয়ার মুল্য দিতে ভুল করেননি জুভেন্টাস সিইও মারোত্তা। শুরুতেই দুই সিজন জুভেন্টাসে লোনে কাটানো হুয়ান কুয়াদ্রাদোকে কিনে নেয় জুভেন্টাস। সামার ট্রান্সফারের শুরুতেই ইতালির সেকেন্ড ডিভিশন সিরি বি এর ক্লাব আস্কোলি থেকে কিনে নেয় বিশ বছর বয়স্ক ইতালিয়ান স্যানসেশন রিকার্ডো ওর্সোলিনিকে। জুভেন্টাস ফ্যানেরা যখন ওর্সোলিনিকে স্কোয়াডে রেখে লাইন আপ সাজাতে ব্যাস্ত তখনই তাকে আটালান্টায় ২ বছরের লোনে পাঠানো হয়। রাইট উইং এ কি শুধু কুয়াদ্রাদো? এই জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই পজিশনে ৪০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে জুভেন্টাস সাইন করায় ফিওরেন্তিনার স্টার ফেদেরিকো বারনার্দেশিকে যাকে কিনা বলা হয় ইতালির নেক্সট সুপারস্টার।

রাইট উইং এর পর লেফট উইং এর তাকানো যাক। ট্রান্সফার উইন্ডো খোলার পর থেকেই জুভেন্টাস ফ্যানবেসে সবচেয়ে আলোচিত রিউমার ছিলো “ডগলাস কস্তা টু জুভেন্টাস” ডিল। বায়ার্ন কোচ কার্লো আঞ্চেলত্তির প্ল্যানে কস্তা না থাকায় কস্তার মত হেভিওয়েট ফুটবলারকে ১ বছরের লোনে আনতে খুব বেশী বেগ পেতে হয়নি জুভেন্টাসকে। বলে রাখা ভালো লোন হলেও কস্তাকে ৪০ মিলিয়ন ইউরোর বিনময়ে নিজেদের করে নেবার অপশন থাকছেই জুভেন্টাসের হাতে। সাথে আছে পিয়াকার মত ইয়াং ট্যালেন্ট।

মিডফিল্ডে তেমন কাউকে দলে আনেনি দলটি তবে গত উইন্টারেই কনফার্ম হয়ে যাওয়া রদ্রিগো বেন্টাকুরের সাইনিং এই সামারেই সম্পন্ন হয়েছে। ডিফেন্সে এসি মিলান থেকে “এমডিএস” খ্যাত মাত্তিয়া ডি শিলিও কে দলে ভেরানোর পাশাপাশি মেহদি বেনাশিয়াকে লোন থেকে কিনে নেয় জুভেন্টাস। বুফনের উত্তরসূরী হিসেবে জেনোয়ার গোলরক্ষক মাত্তিয়া পেরিনের নাম জোরেসোরে শোনা গেলেও জুভেন্টাস শেষ পর্যন্ত দলে রোমা থেকে ভেড়ায় পোলিশ ভইজ্যাখ সেজনিকে।

এ তো গেলো কারা দলে আসছেন তাদের কথা, দল ছাড়ার পাল্লাটাও নেহায়েত কম ভারী নয়। জুভেন্টাস ছেড়ে পিএসজিতে পাড়ি জমাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা দানি আলভেস। বায়ার্নে লোনে থাকা কিংসলে কোমানকে ২১ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে কিনে নিয়েছে জার্মান ক্লাবটি। চলে গিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক নেতো। তবে এই সিজনের সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজটি ছিলো হয়তো লিওনার্দো বনুচ্চির জুভেন্টাস শিবির থেকে আর্চ রাইভাল এসি মিলানে যোগদান। বনুচ্চিকে দলে নিতে ইতালিয়ান ক্লাবটির খরচ করতে হয় ৪২ মিলিয়ন ইউরো। বনুচ্চির রিপ্লেসমেন্ট না খুঁজে হয়তো হাতে থাকা রুগানি এবং বেনাতিয়াকে যথাযথ প্লেইং টাইম দিতে চান কোচ অ্যালেগ্রি। এজন্যই কোন সেন্টারব্যাক কেনা নিয়েই এখন পর্যন্ত রিউমার নেই।

কেমন দেখতে হতে পারে ২০১৭/১৮ এর জুভেন্টাসঃ
উল্লেখযোগ্য নতুন কোন সাইনিং না হলে নিচের ছবির মতই দেখাতে পারে মাঠের জুভেন্টাস মেইন টিমটিকে

               

মূল একাদশের পাশে দলে রোটেশনের জন্য থাকছে মান্ডজুকিচ, পিয়াকা, বেন্টাকুর, কুয়াদ্রাদো, বার্জাগলি বা সেজনির মত ফুটবলারেরা যা জুভেন্টাস ফ্যানদের জন্য সুখবরই বটে।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন