ফুটবলে ট্যাক্টিস এর ইতিহাস এবং উৎপত্তিঃ "দ্যা পিরামিড" এর আবিষ্কার

ফুটবলে ট্যাক্টিস এর ইতিহাস এবং উৎপত্তিঃ "দ্যা পিরামিড" এর আবিষ্কার

১৮৭৮ সালে ওয়েলশ এর রেক্সহাম নামক এক ফুটবল ক্লাব এক অভূতপূর্ব ট্যাক্টিকাল পরিবর্তন আনে ফুটবলে।
যেহেতু দলগুলো এখন ওই স্কটল্যান্ড টিমের ন্যায় ২-২-৬ ফরমেশনে খেলছিল এবং নিজেদের মাঝে পাসিং শুরু করেছিল, তারা একটা সমস্যার সম্মুখীন হয়। কি ছিল সেই সমস্যা?

যেহেতু তাদের ফরমেশনে ৬ জন ফরোয়ার্ড খেলত সেই কারণে দেখা যেত অপনেন্ট দলের গোলমুখে অনেকটা ভিড়-ভাট্টার মত লেগে আছে সবসময় এই ৬ জনের কারণে। এতে তারা যথেষ্ট স্পেস পেত না এবং দেখা গেল এই ৬ জন ফরোয়ার্ড খেলানো আসলেই অতিরিক্ত।

রেক্সহাম নামক সেই ক্লাবটি তাদের এক ট্যাক্টিকাল পরিবর্তন দিয়েই ১-০ হারায় ড্রুইডস ক্লাব কে এবং জিতে নেয় ওয়েলশ কাপ ফাইনাল। তাদের পরিবর্তন ছিল ৬ জন ফরোয়ার্ড থেকে ১ জন কে মিডে শিফট করিয়ে ৫ জন ফরোয়ার্ড এবং ৩ জন মিডফিল্ডার নিয়ে খেলা। এখন ফরোয়ার্ড ৫ জন হবার কারণে সবার মাঝে একজন থাকতো। বাকি দুজন থাকতো ওয়াইড এরিয়াতে। আর মাঝখানের ফরোয়ার্ড এর দুইপাশে দুজন ছিল। তারা মাঝের ওই একজন ফরোয়ার্ড এর সাথে একটু ডিপে নেমে খেলত। এই দুজনের নাম দেয়া হল তখন “ইনসাইড ফরোয়ার্ডস। দুই পাশে ওয়াইডলি যে দুজন ফরোয়ার্ড অবস্থান করত তাদের নাম দেয়া হল “আউটসাইড ফরোয়ার্ডস”। অন্যদিকে যেই একজন ফরোয়ার্ড মিডে শিফট করল তার নাম দেয়া হল “সেন্টার হাফ”। আর যেই একজন ফরোয়ার্ড সবার মাঝে অবস্থান করত তার নাম দেয়া হল “সেন্টার ফরোয়ার্ড”। আউটসাইড ফরোয়ার্ডস রা সবসময় ওয়াইড পজিশনে অবস্থান করত এটাকের ডেপথ বাড়ানোর জন্য। ইনসাইড ফরোয়ার্ডরা সেন্টার ফরোয়ার্ড কে ঘিরে থাকতো এবং ওয়াইড ফরোয়ার্ডদের সাপোর্ট দিত।

এতে করে আগের ৬ জন ফরোয়ার্ড লাইনের চেয়ে ৫ জনের ফরোয়ার্ড লাইনে বেশী স্পেস তৈরি হল এবং ফরোয়ার্ডরা তাদের দায়িত্ব পালন করে খুব সহজেই নড়াচড়া করতে পারতো।

তবে আসল সুবিধা বের হল ডিফেন্ডিং এ। কেননা আগে সর্বমোট ৪ জন ডিফেন্ড করত। একজন ফরোয়ার্ড কমে যাওয়ায় এখন ৫ জন ডিফেন্ড করতে পারে। ফলে অপনেন্ট অ্যাটাকারদের আটকাতে আগের চেয়ে বেগ কম পেতে হল তাদের।
একটু খুলে বললে বেপারটা এরকম দাঁড়ায়,

আগে মিডফিল্ডে দুজন ছিল এবং তারা মাঠের মাঝ বরাবর অবস্থান করত। যাতে যে কোন দিকে যে কোন সময় তারা মুভ করতে পারে। একজন মিডফিল্ডার বেড়ে যাওয়ায় তাকে মাঝে রেখে বাকি দুজন ডানে এবং বামে পার্মানেন্টলি শিফট হয়ে গেল। ফলে মিডফিল্ডে ডিফেন্ডিং ডেপথ অনেকাংশেই বেড়ে গেল সোজা কথায়।

রেক্সহাম ক্লাবের তৈরি এই নতুন ফরমেশন তখন দাঁড়ায় ২-৩-৫ এবং এটাকে তখন বলা হত “দ্যা পিরামিড ফরমেশন”। কেননা আদতে দেখতেও এটা পিরামিডের মতই লাগত।
যেই ফরোয়ার্ডটি মিডে শিফট হল তার ভূমিকা ছিল পিরামিডে সবচেয়ে বেশী। তার কাজ ছিল একই সাথে ডিফেন্ডারদের কাছ থেকে বল নেয়া এবং তা ফরোয়ার্ড লাইনে সাপ্লাই করা। তা নিজে হোক কিংবা বাকি দুজন মিডফিল্ডারের সহযোগিতায় হোক। অর্থাৎ মাঠে খেলা ১১ জনের ভেতর সবচেয়ে ভালো প্লেয়ারটি হত সেন্টার হাফ।

ডিফেন্ডিং এর সময় এই সেন্টার হাফ দুজন ডিফেন্ডারের মাঝে চলে আসতো এবং বাকি দুজন মিডফিল্ডার ওয়াইড এরিয়ায় ডিফেন্ড করত অপনেন্ট উইঙ্গারদের আটকাতে। আর এই দুই ওয়াইড এরিয়ার মাঝে এবং সেন্টার হাফের পাশে অবস্থান করত প্রধান দুই ডিফেন্ডার। অর্থাৎ সেন্টার হাফ কে একই সাথে ডিফেন্ডিং, পাসিং এবং এটাকিং এ সমান পারদর্শী হতে হত। এটাকের সময় সেন্টার ফরোয়ার্ড ছিল তাদের টার্গেট ম্যান এবং দেখা যেত সেই দলের মূল গোলস্কোরার।

এরপর থেকেই এই “দ্যা পিরামিড” ফরমেশন ফুটবল জগতে সুনামের বার্তা ছড়িয়ে দিল এবং অধিকাংশ ক্লাব এই ফরমেশন ব্যবহার শুরু করল যার আবিষ্কারক ছিল ওয়েলশ এর ক্লাব রেক্সহাম। ওই সময় এটাই ছিল সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত ফরমেশন এবং তা দীর্ঘদিন বজায় ছিল।

“দ্যা পিরামিড” ফরমেশন আশার পরেই ফুটবলে অফ দ্যা বল মুভমেন্ট এর শুরু হয়। কেননা এই ফরমেশনে প্লেয়াররা মাঠের বেশী জায়গা দখল করত এবং নিজেকে সবসময় এমন জায়গায় রাখার চেষ্টা করত যাতে তার বল রিসিভ করতে এবং তা পাস করতে সুবিধা হয়।


(চলবে)

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন