ইন্টার মিলান: স্কোয়াড এনালাইসিস (২০১৭-১৮)

ইন্টার মিলান: স্কোয়াড এনালাইসিস (২০১৭-১৮)
Afnan Bin Hossain July 23, 2017, 10:49 pm Serie A

এই ট্রান্সফার উইন্ডোতে এখন পর্যন্ত ইন্টারের কর্মকাণ্ড সমর্থকদের কাছে খুব উপভোগ্য কিছু ছিলোনা। কারণ তাদের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলান আর জুভেন্টাস নতুন সিজনের দল গোছানোর ক্ষেত্রে এখন অনেকটাই এগিয়ে গেছে। মিলান তো একেবারে দলের খোলনলচেই পাল্টে ফেলেছে। জুভেন্টাস ওই রকম মিলানের মত আদাজল খেয়ে না নামলেও গত সিজনের ফাঁকফোকর গুলো ঢাকতে মোটামুটি কয়েকজনকে ইতিমধ্যে দলে এনেছে। কারণ তাদের দলে সেই রকম কোন দুর্বলতা নেই। যা টুকটাক আছে সেই গুলো ভরাট করার দিকেই তাদের দৃষ্টি। কিন্তু ইন্টারের ব্যাপারটা অনেকটাই আলাদা এই দু দলের চেয়ে। কেন সেটাই পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হল। 

অনেকের মনে হতে পারে ইন্টার যে প্লেয়ার কেনাবেচায় কিছুটা পিছিয়ে সেটা কি ইন্টারকে পরের সিজনে বিপদে ফেলবে? সাদা চোখে দেখলে মনে হতে পারে। কিন্তু কিছুটা তলিয়ে দেখলে আসল ব্যাপারটা কিছুটা অন্যরকম। ইন্টার এসি মিলানের মত গত প্রায় ৭-৮ সিজন ধরেই একটা বাজে সময় পার করছিল। কিন্তু পরে মালিক এরিক থোহির আর চায়নার সানিং গ্রুপ কয়েক সিজন আগে ক্লাবটি কিনে নেয়ায় সাম্প্রতিক ব্যার্থতা ঝেড়ে ফেলার জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ নেন। প্রতিটি ক্লাবের একটা রিবিল্ডিং প্রজেক্ট থাকে এবং এই প্রজেক্ট ধরে ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। কোন কোন ক্লাব একদম জিরো থেকে নতুন ভাবে সব কিছু শুরু করে আবার কারো শুধুমাত্র সামান্য কিছু পরিবর্তনই বিশাল প্রভাব ফেলে থাকে। 

এই রিবিল্ডিং প্রজেক্ট এর শুরুতেই মালিক পক্ষ ক্লাবের ঋণ মউকুফের দিকে মনোযোগ দেয় যা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মালিক পক্ষ যথেষ্ট ধনি হলেও তাই FFP Regulations এর কারনে মিলানের মত শুরুতেই অঢেল খরচ করতে পারেনি। জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি মিলানের ঋণ ইন্টারের তুলনায় অনেক কম ছিল। 

রিবিল্ডিং প্রজেক্টের আরেকটা মেইন ফোকাস ছিল একাডেমি থেকে বেশি বেশি প্লেয়ার মূল টিমে উঠে আসবে সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইন্টার মিলানের একাডেমী সেক্টরে প্রচুর পরিমানে ইনভেস্ট করা হয় জার ফলশ্রুতিতে ইন্টার মিলানের একাডেমী এবার ট্রেবল জিতেছে। যার কারণে আপাত দৃষ্টিতে ইন্টার কোন প্লেয়ার সাইন করায় নি মনে হলেও তাদের হাতে প্রচুর সম্ভাবনাময় প্লেয়ার আছে যারা কয়েক সিজনের মধ্যে ইন্টারের মূল দলে উঠে আসবে বলে ধরা যায়। 

 

 

অলরেডি ইন্টার মিলান সিরি-এর সেরা স্পোর্টিং ডিরেক্টর ওয়াল্টার সাবাতিনি(অনেকের মতে বিশ্ব সেরা)কে দলের স্পোর্টিং ডিরেক্টোর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যিনি খুবই ইকোনমিক প্রাইসে প্রচুর সম্ভাবনা আছে এমন প্লেয়ার সাইনিঙ্গে সিদ্ধহস্ত। এতদিনে গড়ে তোলা এ এস রোমার দুর্দান্ত স্কোয়াড তারই হাত ধরে শুরু। গত সিজনে তিনি এসেই বেশ কয়েক জন টপ ক্লাস প্লেয়ার সাইন করান ক্লাবের জন্য যার ফলে ইন্টার এই সিজনে খুব সফল না হলেও একেবারে আনস্ট্যাবল দল আছে এটা বলা যাবেনা। গত সিজনে বারবার কোচ পরিবর্তনের ফলে দলে একেবারে নতুন আসা প্লেয়ার দের মধ্যে সিঙ্ক্রোনাইযেশন পরিপূর্ণ ভাবে হতে পারেনি যেটা পরিকল্পনা মাফিক ফুটবল মাঠে প্রয়োগ করার জন্য খুবই দরকার। সেটা অবশ্য দীর্ঘ আলোচনার বিষয়। 

এখন নতুন এই সিজনে নতুন ম্যানেজার লুইসিয়ানো স্পালেত্তি কে নিয়োগের পর থেকেই তিনি নিজে এবং ক্লাব ম্যানেজমেন্ট একটা টার্ম খুব বেশি ব্যাবহার করছে সেটা হচ্ছে “সেন্স অফ বিলঙ্গিং”. এই টার্মের কারন হচ্ছে কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট মিলে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে বার বার টিমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলে সেটা টিম সিঙ্ক্রোনাইযেশন এবং প্লেয়ারদের পারস্পরিক বোঝাপররা ক্ষেত্রে বাঁধার কারন হয়ে দাঁড়ায়। আর ইতিমধ্যে যেহুতু ভালো একটি টিম রয়েছে তাই টিমে আহামরি পরিবর্তন না করে শুধুমাত্র যে যে জায়গায় নতুন প্লেয়ার একান্তই প্রয়োজন সেখানে ট্রান্সফার অ্যাক্টিভিটি পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, দীর্ঘ মেয়াদে সার্ভিস দিতে পারবে সে লক্ষ্যে একটা মোটামোটি স্ট্যাবল একটা টিম ধরে রেখে সেটাকে আরো শক্তিশালী করতে যতটুকু ট্রান্সফার কার্যক্রম প্রয়োজন সেটা করা হবে। ম্যানেজার এবং বিভিন্ন ডিরেক্টরের কথা বার্তায় ক্লাবের বর্তমান ট্রান্সফার ফিলোসফি পর্যালোচনা করতে ৪টি মূল পরিকল্পনা উঠে আসে –
১) দীর্ঘমেয়াদের জন্য একটি স্ট্যাবল টিম তৈরি করা এবং সেটা ধরে রাখা যা “সেন্স অফ বিলঙ্গিং” থিম স্থাপন করে। সে লক্ষে দলের একতা, টিম সিঙ্ক্রোনাইযেশন, দলে বোঝাপড়া, দীর্ঘস্থায়িত্ব, ডেডিকেশন বিল্ডাআপ করার উদ্দেশ্যে টিমে পরিবর্তন যতো কম আনা যায়।
২) টিমে এখন খোলনলচে পাল্টে ফেলার প্রয়োজন নেই, যেটা দরকার সেটা হচ্ছে বর্তমান টিম সেটআপকে আরো শক্তিশালী করার জন্য কিছু পরিবর্তন। অর্থাৎ দুর্বলতা গুলা নির্ণয় করা & সেই অনুযায়ী ডেভেলপমেন্ট। তাই খুবই ট্যাকটিকালি এবং পরিকল্পনার সাথে নতুন প্লেয়ার কেনা।
৩) স্পালেত্তি এর অধীনে বর্তমান প্লেয়ারদের আরো ডেভেলপ করা এবং ভালো প্লেয়ার কিন্তু অফফর্মে রয়েছে তাদের ফর্মে ফিরিয়ে নতুন সিজনে তাদের নতুন উদ্যোমে শুরু করানো।
৪) তারুণ্য ভিত্তিক টিম গড়ে তোলা এবং একাডেমি থেকে প্লেয়ারদের বেশি বেশি প্রমোট করা।

ফলে এই সিজনে খুব বেশি সাইনিং নাও দেখা যেতে পারে। ডিফেন্সে মুরিয়ো, ডি অ্যামব্রোসিও, স্যান্টন, আন্সালদি,  আর মিরান্ডা আছে। তাদের সাথে সাম্পদোরিয়া থেকে যোগ দিয়েছে এই সিজনে মিলান স্ক্রিনিয়ার। ফলে সেন্টার ব্যাক পজিশনে এখন আর কারও নতুন করে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। দুই উইং ব্যাক পজিশনের ক্ষেত্রেও কারও আসার সম্ভাবনা কম। তবে নাপলির ফাউযহি গুলামের কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি আসলে দলের উইং ব্যাক এর শক্তি বাড়বে কোন সন্দেহ নেই। সেক্ষেত্রে চলে যেতে হতে পারে দীর্ঘদিনের পুরনো সৈনিক ইয়ুতো নাগাটুমু। সাম্প্রতিক সময়ে শোনা যাচ্ছে নিসের ব্রাযিলিয়ান লেফট ব্যাক ডাল্বারট এর জন্যেও ইন্টার বিড করতে আগ্রহী। আর এছাড়াও চেলসির লোণী প্লেয়ার ক্রিসচেন্সেন যদি চেলসিতে সেটেল্ড না হয় তার জন্যেও ইন্টার আগ্রহী। এছাড়াও ইন্টারের বি দল থেকে নতুন সংযোজন হয়েছে এলগি কফি যা দলের ডিফেন্সের গভীরতাকে আরও বাড়িয়েছে। 

মিডফিল্ড ইন্টার মিলানের যথেষ্টই লিগ এবং ইউরোপে লড়াই করার মতই। গত সিজনে সাইন করানো হোয়াও মারিও, গেরি মেদেল, কন্ডগবিয়া, ব্রযোভিচ কে নিয়ে দলের মিডফিল্ড যথেষ্টই শক্তিশালী। সেই সাথে এই সিজনে যুক্ত হয়েছেন আটলান্টা থেকে রবারতো গাগ্লিয়ারদিনি। গত দুই সিজনের উদীয়মান এই মিডফিল্ডারকে এসি মিলান এবং জুভেন্টাস দুই দলই তাকে নিজেদের জন্য চেয়েছিল। কিন্তু সফল হয় ইন্টার। নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় গত সিজনের অধারাবাহিক মিডফিল্ডে স্থিতিশীলতা আনতে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সাইনিং হয়েছে। সেই সাথে দলে অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির জন্য আনা হয়েছে বোরহা ভালেরো। যাতে দলে অনভিজ্ঞতা কোন প্রভাব ফেলতে না পারে।


 আর তার সাথে বি দল থেকে মারকো কারারো কে মূল দলে তুলে আনা দলের গভীরতাকে আরও বৃদ্ধি করবে। তবে একটাই খারাপ ব্যাপার হল এফএফপি রুল অনুযায়ী দলে কেনা বেচায় ভারসাম্য আনার জন্য এই সিজনে এভার বানেগাকে আবারও তার পুরনো ক্লাব সেভিয়াতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অবশ্য এই গ্যাপ পুরন করার জন্য রোমার নাইঙ্গলানকে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে ইন্টার ম্যানেজমেন্ট। আর পেস্কারার উদীয়মান মিডফিল্ডার মামুদু কুলিবালির দিকেও চোখ রয়েছে ইন্টারের। আর দীর্ঘদিন ধরেই নতুন কোচ ব্রাযিলিয়ান লুকাস লিমা কে সান সিরোয় নিয়ে আসতে চাচ্ছেন মিডে বৈচিত্র্য আনার জন্য। অবশ্য দলের তরুন মিডফিলদার স্পাহির তাইদারকে আবার লোণে ফেরত পাঠানো হয়েছে বোলনিয়াতে দলে আগে থেকেই বেশি মিডফিল্ডার থাকার কারনে। 

আক্রমন ভাগই মুলত ইন্টার মিলানের মূল শক্তি। অধিনায়ক ইকারদি, পেরিসিচ, বারযিল লিগ কাঁপানো গ্যাব্রিয়েল বারবোসা, কান্দ্রেভা, এবং এদের কে নিয়ে সাজানো আক্রমন ভাগ গত সিজন থেকেই লিগে অসাধারণ ছিল। কয়েকটি ম্যাচে বিপক্ষকে গোল বন্যায় ভাসানো তাদের সেই সামর্থ্যেরই পরিচয় দেয়। স্ট্রাইকার হিসেবে গত সিজনে ইকারদি ছিলেন সেরা গোলদাতাদের একজন। আক্রমনের বামপাশে আছেন দলের অন্যতম ধারাবাহিক প্লেয়ার পেরিসিচ। ডান পাশে অবশ্য গ্যাব্রিয়েল তার সেরা খেলাটা খেলতে পারেননি। অবশ্য এ জন্য গত সিজনে বারবার কোচ বদলানো এবং ইউরোপের প্রথম সিজনের কঠিন বাস্তবতাও অনেকটা দায়ী। সে জন্যই তার সাথে ডান উইঙ্গে খেলার জন্য সাসুওলো ফরওয়ার্ড বেরারদির কথা ভাবছে ইন্টার। গত কয়েক সিজন ধরেই দলটির হয়ে দুর্দান্ত খেলছেন তিনি। ফলে ইতালির অনেক ক্লাবেরই চোখ আছে তার উপর। যদিও ইন্টার মিলানের সাথে যোগসুত্রতা নিয়েই বেশি কথা শোনা যাচ্ছে।

ফলে পরের সিজনে গ্যাব্রিয়েল বারবসার সাথে তাকে দেখা গেলেও অবাক হয়ার কিছু থাকবেনা। সেই সাথে বি টিম থেকে এক্সেল বাকায়োকো আর পিনামন্তিকে যোগ করলে আক্রমনে দুর্দান্ত গভীরতা নিয়ে নিশ্চিত ভাবেই ইতালির অন্যতম শক্তিশালী একটি আক্রমন ভাগ পেতে যাচ্ছে ইন্টার। অবশ্য এই সিজনে দল ছেড়েছেন আগের সিজন গুলোয় ভরসা হয়ে থাকা প্যালাসিও।
আর ফিওরেন্তিনার এই সিজনের ওয়ান্ডার বয় ফ্রেডেরিকো বারনারডশির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ইন্টার আগ্রহী। কয়েকবার সাইন করানোর খুব কাছাকাছি গিয়েও কোন এক অজানা কারনে ইন্টারকে বিফল হতে হয়েছে। আর এর অন্যতম কারণ এসি মিলান এবং জুভেন্টাসও এই উইঙ্গারের প্রতি সমান আগ্রহী থাকা। ইন্টার ম্যানেজমেন্ট আর কোচ এই উইঙ্গারের অন্যতম শুভাকাঙ্ক্ষী। জার কারনে ইন্টার মিলানেই এই ডিলটা হওয়ার সম্ভাবনা সবচে বেশি। ডান পাশে আরও গভীরতার জন্য ইন্টার সাইন করাতে যাচ্ছে জেনোয়া থেকে পিয়েত্রো পেল্লেগ্রিকে যাকে ইতালির অন্যতম সেরা টিনএজ প্রতিভা ভাবা হয়। অবশ্য আরেকজন তরুন উইঙ্গারক গ্যাস্টোন কামারাকে ইন্টার এবার বিক্রি করে দিয়েছে সম্ভাবনার প্রতি সুবিচার করতে না পারায়। আর জভেতিচকেও পার্মানেন্ট ভাবে সই করাতে পারেনি সেভিয়ার সাথে বনিবনা না হওয়ায়। আর সাম্প্রতিক সময়ে শোনা যাচ্ছে পিএসজির এঙ্গেল ডী মারিয়াও নাকি ইন্টারে আসতে আগ্রহী। এই ডিলটা সম্পন্ন হলে যে যেকোনো ইন্টার ফ্যানই অনেক খুশি হবেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। 

এবার আসি ট্যাকটিক্যাল কথাবার্তায়। স্পালেত্তি সাধারনত তার দলকে ৪-৩-৩ এ খেলাতে ভালবাসেন। সেক্ষেত্রে তার দলের লাইন আপ হতে পারে এরকম 

               হ্যান্ডানোভিচ 
ডি অ্যামব্রোসিও-স্ক্রিনিয়ার-মুরিও-আন্সালদি
        গাগ্লিয়ারদিনি-কন্দগবিয়া 
      গ্যাব্রিয়েল-ইকারদি-বারনারডশি

গত সিজনে পিওলি ইন্টারকে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলানোর চেষ্টা করেছিলেন। যার ফল ভাল হয় নি। পেরিসিচ এই ফরমেশনের জন্য আদর্শ প্লেয়ার হলেও গ্যেব্রিয়েল নয়। যার কারনে একটি ভুলে যাওয়ার মত একটি সিজন পার করেছেন তিনি আসা করা যায় স্পালেত্তির ৪-৩-৩ ফরমেশনে তার কেরিয়ার আবার ইউ-টার্ন নেবে যেহেতু এই ফরমেশনে খেলার আদর্শ প্লেয়ার তিনি। ব্যাক আপ হিসেবে কান্দ্রেভা আর পেরিসিচ পুরো সিজনে যোগ্য অবদান রাখতে পারবে। আর সেন্টার ফরওয়ার্ড পজিশনে ইকারদি তো আছেই। বেরারদি আসলে আবার ওই পজিশনে সথিক প্লেয়ারটিকে বসাতে স্পালেত্তিকে মধুর সমস্যায় পরতে হবে। 


মিডে ডেস্ট্রয়ার পজিশনে কন্দগবিয়াকে রেখে দুই বল সাপ্লায়ার হিসেবে ব্যাবহার করতে পারেন গাগ্লিয়ারদিনি আর হোয়াও মারিওকে। এক্ষেত্রে মারিও একটু উপরে উঠে এডভান্স পজিশনে আর গাগ্লিয়ারদিনি একটু নিচে নেমে কন্দগবিয়ার পার্টনার রোল নিতে পারে মিডের নিচ থেকে ওপরের অ্যাডভান্স মিডে বল নিয়ে যাওয়ার জন্য। ইতালির আন্ডার-২১ এ তাকে এই রোলেই দেখা গেছে বেশির ভাগ ম্যাচে। ব্যাক আপ হিসেবে ব্রোযোভিচ আর মেদেল ভালই সাহায্য করতে পারবে। আর লুকাস লিমা আসলে তো ইন্টারের মিডফিল্ড আরও ভারসাটাইল হয়ে যাবে যেটা ইউরোপিয়ান পর্যায়ে সফলতার জন্য খুবই জরুরি।  


সাধারনত স্পালেত্তি ডিফেন্সে একজন ওভার এটাকিং উইং ব্যাক ব্যাবহার করতে পছন্দ করেন রোমায় যেটা করিয়েছেন ফ্লোরেনযিকে দিয়ে। ইন্টারে যে কাজে দেখা যেতে পারে ফাউযি গুলাম বা ডাল্বারটকে। আর বাকি তিনজন একটু ডিফেন্সিভ মুডে। যার কারনে মাঝে-মাঝেই দেখা যায় তার ফরমেশন ৪-৩-৩ থেকে ৩-৪-২-১ বা ৩-৫-২ হয়ে গেছে। অবশ্য এটা ইতালিয়ান কোচদের টিপিক্যাল স্বভাব। আর স্পালেত্তি অন্যান্য ইতলাইন কোচদের তুলনায় কিছুটা প্রেসিং বেশি করান প্লেয়ারদের। রোমায় থাকাকালিন যেটা খুব ঘনঘন দেখা গেছে। এখন দেখার বিষয় এই ট্যাক্টীক্স ইন্টারে কিভাবে সফল হয়। আর অবশ্যই সেন্টার ব্যাক পজিশনে প্রথম চয়েজ হিসেবে মিরান্দা আর মুরিয়ো থাকবে। স্ক্রিনিয়ার আর স্যান্টোন ব্যাক আপ দলের হাল ধরতে যথেষ্ট। 

গতসিজনের দুঃস্বপ্ন ভুলে ইন্টার মিলানের সামনে আবার সব কিছু নতুন করে শুরু করার পালা। আর মাত্র কয়েকটা সংযোজনই দলকে লিগে ভাল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট। আর ম্যানেজমেন্টও সেখানে সম্ভাব্য সব কিছুই করে যাচ্ছে। এখন সমরথদের শুধু একটাই চাওয়া কোচ যাতে নিজের দর্শন প্লেয়ারদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে দলকে একতাবদ্ধ আর স্ট্যাবল রেখে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারে। যার জন্য এখন পর্যন্ত ইন্টার "ধীরে চল" নীতি গ্রহন করেছে। তারা সে কাজটিই করছে যা তাদের জন্য এই মুহূর্তে প্রয়োজন।তাই নেরাজ্জুরি দের নিয়ে হতাশ বা রাগান্বিত হবার কিছু নেই।

 





Similar Post You May Like

Find us on Facebook