তৃণমূল পর্যায় থেকে যেভাবে একজন প্লেয়ার প্রফেশনাল লেভেলে উঠে আসে

তৃণমূল পর্যায় থেকে যেভাবে একজন প্লেয়ার প্রফেশনাল লেভেলে উঠে আসে
Ashnan Navid July 21, 2017, 9:37 pm Cricket

"যদি আমার ভাই পল্টু না থাকতো তাহলে আমার এই পর্যায়ে আসা সম্ভব হতো না" - মোস্তাফিজুর রহমান ৩ বছর পূর্বে অভিষেকে ভারতকে হারিয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে কথাটি বলেন। মোস্তাফিজের গ্রাম তেতুলিয়া থেকে সাতক্ষিরার দূরত্ব ৩৮ কিলোমিটার। যখন সাতক্ষিরাতে কোনো প্রস্তুতি বা প্র্যাকটিস হতো তখন পল্টু তার ছোটো ভাইকে তার মোটরসাইকেলে চড়িয়ে ৩৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে নিয়ে যেতেন। ২ বছর এভাবে কষ্টের পর ২০১৩ সালে ঢাকায় বয়সভিত্তিক পেস ক্যাম্পে সুযোগ পান মোস্তাফিজুর রহমান। গত দুই বছরে বাংলাদেশের হয়ে ১৩ জন ক্রিকেটারের টেস্ট অভিষেক হয়েছে। তাদের মধ্যে কেবল তাসকিন আহমেদ ঢাকার, বাকিরা গ্রাম বা ছোট শহর থেকে উঠে এসেছে যেমন জামালপুর, সাতক্ষিরা, দিনাজপুর, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ কিংবা বিভাগীয় শহর রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল থেকে উঠে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে আগের থেকেও বেশি ক্রিকেটাররা উঠে আসছে। 

বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬৪ মিলিয়ন যা কিনা এদেশের সমাজ এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। কিন্তু এই জনসংখ্যাই আবার ক্রিকেটের জন্য আশীর্বাদ। ছোট শহর এবং গ্রামগুলোই এখন মোস্তাফিজ, মিরাজ, মোসাদ্দেকদের মতো প্রতিভা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্রস্থল।

"মোসাদ্দেকের মতো ক্রিকেটার সাধারণত দেখা যায় না, যারা এত দায়িত্ব নিয়ে খেলবে। আমরা প্রভাব বিস্তারকারী ক্রিকেটার খুঁজি, তাদের নয় যারা বেশি রান কিংবা বেশি উইকেট নিবে" - নাজমুল আবেদীন ফাহিম, বিসিবি এইচপি ম্যানেজার। 

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম পাড় থেকে মোস্তাফিজুরের বাংলাদেশ দলে আসার পথকে অনেকেই রুপকথা হিসেবে বর্ণনা করে। কিন্তু বাস্তবে এটি ছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের বিজয়। গত দশ বছরে, ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম প্রত্যেক জেলায় প্রসারিত করা হয়েছে, কম বয়সী খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স যাচাইয়ের পড় তাদের বিভাগীয় বয়স ভিত্তিক দলে খেলানো হয়। সেখানে অনূর্ধ্ব - ১৪ দলের জন্য ২ দিনে, এবং অনূর্ধ্ব - ১৬ দলের জন্য ৩ দিনের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। 

সংক্ষিপ্তসারে বিসিবি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম: 

  • দেশের ৬৪টি জেলায় তরুন প্রতিভা খোঁজার জন্য ৬০ জন জেলা পর্যায়ের কোচকে দায়িত্বে রাখা হয়েছে। 
  • ট্রায়াল এবং টুর্নামেন্টগুলি বিভাগীয় স্তরের জন্য খেলোয়াড়দের নির্বাচিত করতে সাহায্য করে - এটি দশজন কোচ দ্বারা পরিচালনা করা হয়; নির্বাচিত খেলোয়াড়রা জাতীয় ক্যাম্পে উন্নীত হয়। 
  • গত পাঁচ বছরে প্রতি জেলায় অনূর্ধ্ব - ১৪, অনূর্ধ্ব - ১৬ এবং অনূর্ধ্ব - ১৮ দলগুলোতে প্রায় ৪৮০০ ক্রিকেটার নিবন্ধিত হয়েছে। 
  • আন্তঃজেলা টুর্নামেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ নেয়স খেলোয়াড়রা পরবর্তীতে আন্তঃবিভাগীয় বয়স-ভিত্তিক টুর্নামেন্টে উন্নীত হয়। 
  • দেশের সেরা বয়স ভিত্তিক খেলোয়াড়দের নিয়ে তিন দলীয় সিরিজ খেলা হয়েছে। 
  • বয়স-ভিত্তিক জাতীয় দল এবং অনূর্ধ্ব - ১৯ বিশ্বকাপ প্রতি দুইবছর (বাংলাদেশ ২০১৬ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল)। 
  • পশ্চিম বাংলার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সাথে একটি বিনিময় প্রোগ্রাম। 

একটি তিনটি দলীয় সিরিজও আয়োজিত হয়, এটি একটি অপেক্ষাকৃত নতুন প্রতিযোগিতা যার মধ্যে তিন দিনের ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত যা দেশের সেরা বয়স-ভিত্তিক খেলোয়াড়দের নিয়ে হয়। এবছর মার্চ মাসে "কলম্বো টেস্টে অভিষিক্ত মোসাদ্দেক যখন আট নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করতে নামলো তখন বাংলাদেশ আরও ৪৮ রানে পিছিয়ে ছিল শ্রীলংকার প্রথম ইনিংসের রান থেকে। আগের ম্যাচে ৯ উইকেট নেয়া রঙ্গনা হেরাত এর বিরুদ্ধে মোসাদ্দেক তার ফুটওয়ার্কের ব্যবহার করে তাকে কাভার দিয়ে ড্রাইভ করতে থাকেন এবং এরপর স্কিপ করে লেগে সরে গিয়ে নিজের জন্য জায়গা করে নিয়ে লং অফ এর উপর দিয়ে মারেন। 

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে, বাংলাদেশের রান চেজের শেষের দিকে, মোসাদ্দেক আবার ক্রিজ থেকে বেরিয়ে এসে হেরাথকে সীমানাছাড়া করলেন, এবার কাভারের ওপর দিয়ে। এই ২১ বছরের যুবকের বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন স্পিনারকে সামলানোর আত্মবিশ্বাস দেখে যে একজন ব্যক্তি অবাক হন নি তিনি হলেন বিসিবির হাইপারফরম্যান্স টিমের ম্যানেজার, নাজমুল আবেদীন ফাহিম। তাঁর মতে,মোসাদ্দেক যে পথ অনুসরণ করেছেন - তাঁর প্রাথমিক খেলোয়াড়ি জীবনে ময়মনসিংহে বয়স-ভিত্তিক দল,তারপর ঘরোয়া ক্রিকেট হয়ে তারপরে জাতীয় দল-সেটাই তাকে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নিতে সক্ষম করেছে। ফাহিম, যাকে গত দুই দশকের বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী কোচ হিসেবে বিবেচিত করা হয়, তিনি বলেন, আজকাল বাংলাদেশের কোচদের "ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার" খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোসাদ্দেক তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে খুবই সচেতন থাকে, ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে বলেন ফাহিম। 

মোসাদ্দেক যেকোন ক্রিকেটিং কন্ডিশনে খেলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। অনেক খেলোয়াড় এই কাজ করতে পারেন না। সে নিজেকে মাঠে উজাড় করে দেয়। মোসাদ্দেক হোসেন এর মতো প্লেয়ার অনেক দেখতে বিরল যারা এতটা দায়িত্ব নিতে পছন্দ করে। আমরা "ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার" খুঁজছি, এমন প্লেয়ার খুঁজছিনা যারা সর্বাধিক রান করে কিংবা সর্বাধিক উইকেট নেয়। মোসাদ্দেক বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়ে উঠে আসে। সে ডমেস্টিক ক্রিকেটে আলোচিত হিওয়ার আগেই অনুর্ধ্ব ১৯ তারকাদের তালিকায় নাম লেখায়। মোসাদ্দেক দেশের সবচেয়ে সফল ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের হয়ে ২০১৬ ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ খেলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের আগেই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে তিনটি দুশত রানের ইনিংস খেলেন। 

মেহেদি, যে কিনা গতবছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবার নজরে আসে, মোসাদ্দেকের মনোভাবের সাথে তার মনোভাবের মিল খুঁজে পান ফাহিম। খুলনার শেখ সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে মেহেদী প্রশিক্ষণ শুরু করার কয়েকদিন পরেই, তিনি বিভিন্ন বয়স-ভিত্তিক স্তরের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। 

"স্থানীয় কোচরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কী ধরনের ক্রিকেটারদের প্রয়োজন তা উপলব্ধি করতে পেরেছে," ফাহিম বলেন। 

নাজমুল হোসেন এবং মোসাদ্দেকের মনোভাব মেহেদির মতো। উচ্চপর্যায়ের ক্রিকেট খেলার মতো মনোভাব ও ব্যক্তিত্ব তাদের আছে। আমরা খেলোয়াড়দের মতপ্রকাশের জন্য উৎসাহিত করছি। তাদের কি করতে হবে এবং কীভাবে এটির জন্য প্রস্তুত হতে হবে তা তারা জানতে পারবে।" এই খেলোয়াড়দের মধ্যে, মুস্তাফিজুরের পরিস্ফুটন ঘটেছিল একটু দেরিতে, কেননা তাকে স্বীকৃতি লাভ করার জন্য গ্রাম থেকে বেড়িয়ে আসতে হয়েছিল। সাতক্ষীরা জেলার প্রধান কোচ মোফাসসিনুল ইসলাম তপু, ২০১১-১২ সালে মোস্তাফিজুরকে শহরে খেলতে দেখেন। 

"তিনি একটি আঞ্চলিক টুর্নামেন্টের পর আমাদের অনূর্ধ্ব - ১৪ ক্যাম্পে এসেছিলেন, এবং সাথেসাথেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের হাতে বিশেষ কিছু এসেছে। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত, নিরমান স্কুল টুর্নামেন্টটি থেকে হাবিবুল বাশার, খালেদ মাহমুদ ও জাভেদ ওমরের মত ভবিষ্যতের জন্য টেস্ট খেলোয়াড় তৈরি করে। একটি সম্পূর্ণ প্রজন্মের পেশাদার ক্রিকেটাররা এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে উঠে এসেছিল। আমাদের মূল লক্ষ্য এমন খেলোয়াড় খুঁজে বের করা যাদের আমরা পরবর্তী ধাপে পৌঁছে দিতে পারব। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন একজন প্রতিভা খুঁজে বের করা। যা প্রতিদিন সম্ভব হয় না, কিন্তু আমি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করি যেন প্রত্যেকেই নিজেদের প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট সুযোগ পায়।" 

সাতক্ষিরায় স্কাউট্সদের চোখে পড়ার পর, মোস্তাফিজুরকে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে পেস বোলিং ক্লিনিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এভাবেই তিনি বিভিন্ন ধরনের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং করে তার বিখ্যাত স্লোয়ার বল ও কাটারের উন্নতি ঘটিয়েছে। ২০১৪ সালের অনূর্ধ্ব - ১৯ বিশ্বকাপ খেলার পর, বাংলাদেশ এ' দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য তাকে দলে নেওয়া হয় এবং এর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি সিনিয়র দলের হয়ে খেলেন। ফাহিম বলেন যে, মুস্তাফিজুরের আবির্ভাব প্রমাণ করছে যে বোর্ডের উন্নয়ন কর্মসূচি দেশ জুড়ে কতটা বিস্তৃতি লাভ করেছে। 

"আমরা বিশ্বাসী যে বাংলাদেশের যেকোন জায়গা থেকে আমরা প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে পেতে পারি। এটি ধীরেধীরে একটি প্যান-বাংলাদেশ প্রচেষ্টা হয়ে উঠেছে, যা ছোট ছোট শহরের থেকে ছেলেদেরও প্রমাণের যথেষ্ট সুযোগ করে দেয়। চার দশক ধরে বাংলাদেশ ঢাকা ক্লাবের সাহায্যে ক্রিকেটারদের খুজে পেয়েছে, যারা ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করেছে ও আর্থিক ভাবে সাহায্য করেছে। ক্রিকেটারদের কোচ ও দলের কর্মকর্তাদের চোখ জুড়ানো লাগতো এইসবের জন্য। ক্লাব নেটওয়ার্ক ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও ​​খুলনা এবং তারপর ছোট ছোট শহরগুলিতে বেড়ে উঠতো , কিন্তু বেশিরভাগ এটি ছিল সেইসব ক্রিকেটারদের জন্য যারা সঠিক সময়ে জ্বলে উঠতে পারতো, সঠিক টুর্নামেন্টে। 

কামাল জিয়াউল ইসলাম, কে জি হিসাবেই বেশি পরিচিত, ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত বোর্ড সভাপতি ছিলেন, এবং একটি স্কুল টুর্নামেন্টের পিছনে চালিকাশক্তি ছিলেন যা ক্লাব ও জাতীয় দলের জন্য একটি ফিডার সিস্টেম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে। জিয়াউল ইসলামের কোম্পানি নির্মান কনস্ট্রাকশন্স ১৯৮২-৮৩ থেকে শুরু করে ১৪ টি মৌসুমে টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করেএবং সেই সময় বাংলাদেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছিল যে ক্রিকেটার হওয়ার পথে প্রথম পদক্ষেপ ছিল "নির্মাণ" খেলতে হবে। 

প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী বছরে ২২ টি স্কুল থেকে ১৯৯৫-৯৬ সালের মধ্যে ৪১০ টিরও বেশি বেড়েছে। প্রাইভেট ব্যাংকগুলি স্পনসর হিসাবে আসার আগে বিসিবি দুই সিজন অর্থায়ন করে। গত দশকে ১০০০ টি স্কুল বেড়েছে। প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড গত দুই বছর ধরে টুর্নামেন্টটি স্পনসর করছে, যদিও এই বছরে শুধু ৫০৮ টি স্কুল অংশ নিয়েছে। আগে ছোট শহরের একটি ছেলেকে কঠিন সময় পার করে মেলাতে হতো কিভাবে সে বাংলাদেশ দলে সুযোগ পাবে। এখন তাদের সাতক্ষিরা থেকে সৌম্যের মতো লোকাল হিরো, মেহেরপুর থেকে ইমরুল কায়েস অথবা খুলনা থেকে মিরাজ আছে. " - মুফাসসিনুল ইসলাম তপু, প্রধান কোচ সাতক্ষিরা জেলা। 

যেহেতু বিসিবি নিজের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম গঠন করল, স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বেড়েছে। ১৯৮২-১৯৯৬ এর মধ্যে নির্মাণ হাবিবুল বাশার, খালেদ মাহমুদ আর জাভেদ ওমর এর মত ভবিষ্যৎ টেস্ট ক্রিকেটারদের গড়ে তুলে। এই টুনার্মেন্ট এর মধ্য দিয়ে ক্রিকেটারদের পেশাদারিত্ব শুরু হয়. নির্মাণ একাদশ ঢাকা লীগে এক দশক খেলেছে। এটির কোচ ছিলো বিদেশি এমনকি ফর্ডহাম নামে এক ইংরেজ ক্রিকেটার ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে ঢাকা লীগ খেলে। মোহাম্মদ শরীফ, সরকার আর নাজমুল এর মত সমকালীন ক্রিকেটাররা স্কুল টুনার্মেন্ট চালু হওয়ার পড়েই জাতীয় দলে উঠে এসেছেন। 

গত বিপিএলে যখন ১৭ বছর বয়সী অফস্পিনার আফিফ হাসান ২১ রানে ৫ উইকেট নিলো এবং ক্রিস গেইলকে আউট করলো তখন সাংবাদিকরা তার সম্পর্কে জানতে পারলো আফিফ একজন ওপেনার এবং সেই সাথে অলরাউন্ডারও। বাংলাদেশি কোচদের মতে তার মতো আরো অনেকেই আছে যারা এই সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে এসেছে। জাকির হাসান, যে ২০১৬ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেললেন. তিনি খেলেন উইকেট কিপার হিসেবে, কিন্তু কোচের মতি তিনি ফিল্ডার হিসেবে ও অসাধারণ। এবং পেস বোলারদের বিপক্ষে ওপেনিং করতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এমন জায়গায় আসতে বাংলাদেশের ১৫ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে যেখানে প্রতিপক্ষ দল তাদের শ্রদ্ধা করে। একটি দেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কতৃপক্ষকে ধৈর্যশীল হওয়া উচিৎ। বাংলাদেশ হয়তো রাতারাতি সাফল্যে অর্জন করতে পারবে না, কিন্তু তারা ধীরে ধীরে দীর্ঘ সময়ের সাফল্যে পরিণত হতে যাচ্ছে।

লেখক: মোসাম্মাদ ইসাম,

সূত্র: ইএসপিএন ক্রিকিনফো,

লেখাটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন: আশনান নাভীদ, ওয়াসি আবদুল্লাহ, মোহাম্মাদ এস এইচ জীবন





Similar Post You May Like

জনপ্রিয় খেলার সংবাদ

Find us on Facebook