ক্লপের ফুটবলীয় দর্শন : হেভিমেটাল

ক্লপের ফুটবলীয় দর্শন : হেভিমেটাল
Sharaf Juhayr July 13, 2017, 2:00 pm English premier league

গোলের খেলা ফুটবল। বিভিন্ন কোচের বিভিন্ন মতাদর্শ আছে,আছে বিভিন্ন রকম ট্যাকটিক্স। কেউ চায় রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলে জয় ছিনিয়ে নিতে,কেউ চায় প্রতিপক্ষকে আক্রমণে পিষ্ট করে ফেলতে। আজ আমরা ক্লপের দর্শন নিয়ে কথা বলব।

৪-৩-৩ ক্লপের চিরাচরিত ফর্মেশন। গত সিজনেও লিভারপুলের প্রায় সব ম্যাচেই এই কৌশল নিয়েই মাঠে নামেন নরমাল ওয়ান। “হেভি মেটাল” ট্যাকটিকস-এ বিশ্বাসী ক্লপ এর আশা থাকে প্রতিপক্ষকে আক্রমণের পর আক্রমণ করে দুমড়ে মুচড়ে দিতে। স্বভাবতই তার দলের খেলা মানেই থাকে গোলের মেলা। এই পাগলাটে আক্রমণাত্মক কোচ কিভাবে সাজান তার কৌশল?? চলুন একটু ঘেটে দেখি তার পরিকল্পনার খুঁটিনাটি।

 প্রথমেই জেনে নেই সাধারণ ভাবে এই কৌশলের কার্যবিধি। গতানুগতিক একজন লোন স্ট্রাইকারের সাথে দুই উইং এ থাকেন দুজন উইং ফরোয়ার্ড। মিডেও দুজন ওয়াইড মিডের সাথে থাকে একজন সেন্টার মিড। রক্ষণে টিপিকাল দুই সেন্টার ব্যাকের সাথে থাকে দুজন ফুল ব্যাক।
 

আক্রমণের সময় দুই ফ্ল্যাঙ্কের দুই উইং ফরওয়ার্ড ডি বক্সে রান ক্রিয়েট করে,সময়ের সাথে তাদের নিজ নিজ অবস্থানও পরিবর্তন করে। আর এতে লোন স্টাইকারের জন্য তৈরী হয় বিশাল স্পেস। যেকোনো সুযোগ সন্ধানী ফরওয়ার্ডের জন্যই এতে গোল আদায় করা সহজ হয়ে যায়। ফলস নাইনের ধারণাও এই কৌশল থেকেই এসেছে। সবচেয়ে পরিচিত ফলস নাইন হলেন লিওনেল মেসি। ফলস নাইন ব্যবহারে কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায়। কেননা তারা গোল করার পাশাপাশি গোল সৃষ্টি করতেও দারুণ ভূমিকা রাখে। একজন ফলস নাইন সম্বলিত, গতিশীল ফ্রন্ট লাইন এই ক্ষেত্রে সর্বোত্তম বলে ধারণা করা হয়। আর সেই সময়ই মধ্যমাঠের তিন জন ত্রিভুজাকৃতি ধারণ করে ফ্রন্ট লাইন কে সাহায্য করে। দুজন ওয়াইড মিডফিল্ডার সামনের দিকে এগিয়ে আক্রমণে এবং সেন্টার মিডে একজন ব্যাকআপ হিসেবে রক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনে আক্রমণেও সহায়তা করে। মিডফিল্ড ওয়েল ব্যালেন্সড না হলে এই কৌশল কার্যকরে সফলতা পাওয়া যায় না। দলের দুজন ফুলব্যাকের গতি এবং আক্রমণে এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতার উপরও দলের সার্বিক সাফল্য নির্ভর করে। আপেক্ষিক ভাবে শ্লথ গতি সম্পন্ন ফুলব্যাক নিতান্তি অকার্যকর। কেননা রক্ষণের দায়িত্বই তাদের মূল দায়িত্ব। তারা দলের প্রয়োজনে আক্রমণে সহায়তা করলেও তাদের যত দ্রুত সম্ভব ব্যাক করার ক্ষমতা থাকার প্রয়োজন। কাউন্টার অ্যাটাকের বিপক্ষে এই কৌশল কিছুটা দুর্বল। এর জন্যই দলে প্রয়োজন দুজন শক্ত সেন্টার ব্যাক। তাহলেই এই কৌশল নিয়ে সব কিছুই জয় করা সম্ভব।

klopp liverpool tactics
এবার দেখি ক্লপ কিভাবে এই কৌশল কাজে লাগান। সাধারণভাবেই তিনিও ফলস নাইন ব্যবহার করে থাকেন। এক্ষেত্রে ফলস নাইন হিসেবে তিনি ফিরমিনো কে প্রিফারেন্স দেন। গত মৌসুমে সাদিও মানের সাথে কৌটিনহো ফ্রন্ট লাইনে থাকলেও এইবার তিনি মধ্যমাঠেই বল নিয়ে যাদু দেখাবেন বলে ধারণা করা  হচ্ছে। তার জায়গায় মানের সাথে আরেক উইং এ থাকবেন আরেক স্পিডস্টার মোহামেদ সালাহ। সালাহ-মানের গতি ফ্রন্টে ফিরমিনো এবং মিডে কটিনহো কে বাড়তি সুবিধা দিবে বলে বিশ্বাস সমর্থকদের। কৌটিনহোর সঙ্গী হিসেবে ক্লপ কাকে নিবেন তা নিয়েও আছে সংশয়। হেন্ডারসন, লালানা, ওয়াইনাল্ডাম,চান দের মধ্যেই কেউ,নাকি “নতুন” কেউ তা নিয়েও আছে জোর গুঞ্জন। রাইট ফুলব্যাক হিসেবে ক্লাইনের জায়গা মোটামোটি স্থায়ী হলেও লেফট ফুলব্যাকে নতুন একজন যে আসছেন তা নিয়ে সংশয় নেই বললেই চলে। তবে নতুন রিক্রুট কি মিলনারের বিকল্প হিসেবেই আসছেন নাকি ক্লপের প্রথম পছন্দ হয়ে আসছেন তা জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন। গত মৌসুমের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলেই বুঝা যাবে লিভারপুলের দুর্বলতা এই রক্ষণ কৌশলেই। মাত্র ১২ টি ক্লিনশীট যার বিপরীতে ৪২টি গোল হজম করেছিল ক্লপ বাহিনী। ফুটবল বিশ্বে একটা কথা আছে,”Attack will give you matches but defense will give ypu titles.”  এইজন্যই দলবদলের বাজারে হন্যে হয়ে খুঁজছে একজন ভালো মানের সেন্টারব্যাক এবং একজন লেফটব্যাক। এই দুই পজিশনে নতুন খেলোয়াড় আনতে পারলেই তাদের সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে বলে ধারনা করছে সবাই। এখন এই সময়ের মধ্যেই দলের প্রয়োজনীয় রিক্রুটমেন্ট এনে আবার নতুন করে কিভাবে সাজান আমাদের নরমাল ওয়ান সেটাই এখন দেখার বিষয়। 





Similar Post You May Like

Find us on Facebook