পাঁচ ব্রাজিলিয়ানঃ যাদের ক্লাব পরিবর্তন করা উচিত

পাঁচ ব্রাজিলিয়ানঃ যাদের ক্লাব পরিবর্তন করা উচিত

আর খুব বেশি হলে মাসখানেক, এরপরই পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে ২০১৭/১৮ ক্লাব ফুটবলের মৌসুম। এই মৌসুমটি একটু আলাদা গুরত্ববহন করতে যাচ্ছে কারন এটি হতে যাচ্ছে ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে ক্লাব ফুটবলের শেষ মৌসুম। যার কারনে বিশ্বকাপে যেসব দেশ অংশ নিতে যাচ্ছে সেইসব দেশের ফুটবলারদের এইবার আলাদা নজড় থাকবে নিজেদের পারফর্মেন্স, ফর্ম, ফিটনেস দিয়ে তাদের জাতীয় দলের কোচদের নজরে থাকার।

২০১৮ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হওয়ায় ইতিমধ্যেই নিজেদের জায়গা বিশ্বকাপে পাকা করে রেখেছে রাশিয়া। তাদের পর প্রথম দেশ হিসেবে গত মার্চে রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে ৫-বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দক্ষিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। বরাবরের মতোনই ব্রাজিলের জাতীয় দলের কোচ হিসেবে টিচেকে যথেষ্ট মাথা খাটাতে হবে অনেক ভালোমানের খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে নিজের মতাদর্শের সাথে মানানসই চূড়ান্ত ২৩-জনের স্কোয়াড ঘোষনা করা নিয়ে। তবে ব্রাজিলেরও কিছু মেধাবী খেলোয়াড় আছেন যারা জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার যোগ্য হয়েও কোনো কারনে কোচ টিচের নজরে ঠিকমতোন আসছেন না। তাদের জন্য এইবারের মৌসুমই শেষ সুযোগ বিশ্বকাপের আগে পারফর্মেন্স দিয়ে কোচ টিচের নজরে এসে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে নিজের জায়গা পাকা করার। এইরকম ৫-জন ব্রাজিলিয়ানকে নিয়ে আজকের এই লেখা। 

১। লুকাস মৌরাঃ 

                                     

গত মৌসুমে পিএসজির অন্যতম গুরত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন লুকাস মৌরা। সব প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ মিলিয়ে ৫২ ম্যাচে তার ১৭ গোলের সাথে ছিলো ৭টি এসিস্ট। গতি, ড্রিবলিং এর জন্য পরিচিত এই উইংগারের চ্যাম্পিয়ন্স লীগের গুরত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে পারফর্মেন্স ছিলো হতাশাজনক। ফ্রেঞ্চ লীগ বিশ্বের খুব বেশি নজড়ে থাকা লীগ না হওয়ায় নিজেকে পুরো ফুটবল বিশ্বের সামনে প্রমান করার মঞ্চ ছিলো চ্যাম্পিয়ন্স লীগ যেখানে গুরত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ব্যর্থ হওয়া সাথে ব্রাজিলের উইংগারদের মধ্যে ব্যপক প্রতিযোগিতায় টিচের আগমনের পর লুকাস মৌরা একবারের জন্যও জাতীয় দলে ডাক পাননি এখনো। এছাড়া গত জানুয়ারিতে জার্মান তরুন জুলিয়ান ড্রাক্সলারের আগমন সাথে এনজেল ডি মারিয়ার অসাধারন ফর্মে পিএসজিতেও মৌসুমের শেষভাগে দলে নিজের জায়গা নিয়ে পড়ে গেছিলেন চিন্তায়। এই অবস্থায় তারজন্য পিএসজি ছাড়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে এব্যপারে সবাই একমত হবেন। এই ট্রান্সফার উইন্ডোতে তার ব্যপারে ইপিএলের দল লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তার ব্যপারে আগ্রহ দেখিয়েছে, যদিও মোহামেদ সালাহকে কেনার পর লিভারপুলের সেই আগ্রহ শেষ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর উইংগার হিসেবে আপাতত চোখ পেরিসিচের দিকে, নতুন দল হিসেবে লুকাস মৌরার দিকে নজর দিয়েছে ইতালিয়ান দল এ এস রোমা। তাদের নতুন স্পোর্টিং ডিরেক্টর মঞ্চি ইতিমধ্যেই পিএসজির সাথে কথা বলেছে লুকাস মৌরার ব্যপারে, ৩০ মিলিয়নের একটি ডিলের ব্যপারে। যদিও ইপিএলের কোনো দল পেলে লুকাস মৌরার জন্য বেশি ভালো হয় কারন ইপিএলের মোটামোটি কোনো পারফর্মারলে এখন পর্যন্ত টিচে তার দলে না ডেকে পারেনি (কৌটিনহো, ফিরমিনো, ফারনান্দিনহো, ডেভিড লুইজ, উইলিয়ান)। তবে এএস রোমাও তার অবস্থা বদলের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।   

২। দিয়েগো আলভেজঃ 

লা লিগার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পেনাল্টি রুখে দেয়ার রেকর্ডধারী ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক দিয়েগো আলভেজ সর্বশেষ আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘোষিত ফ্রেন্ডলি ম্যাচের স্কোয়াডে ডাক পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতে খেলেছেন। কিন্তু ব্রাজিল বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা কি পাকা? নিশ্চিতভাবেই সে জবাব সম্ভবত টিচের কাছেও নেই। এই মৌসুমে ভ্যালেন্সিয়া ছাড়ছেন আলভেজ এই খবর অনেকটাই নিশ্চিত, আলভেজের বেতন বিল বয়ে নেয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে ভ্যালেন্সিয়ার জন্য যারজন্য ইতিমধ্যেই আরেক ব্রাজিলিয়ান নেতোকে সাইন করাতে যাচ্ছে ভ্যালেন্সিয়া। তাহলে দিয়েগো আলভেজের জন্য সেরা ক্লাব কোনটি হতে পারে যা তাকে বিশ্বকাপের দলে জায়াগা পাইয়ে দিতে সবচেয়ে সাহায্য করবে? উত্তরটি চমকে দিতে পারে, ফ্লামেংগো। ভাবতে পারেন ইউরোপের নামিদামি ক্লাব থাকতে ফ্লামেংগো কেনো। উত্তর ব্রাজিল জাতীয় দলের সিলেকশন ক্রাইটেরিয়ায় এখনো ব্রাজিলের ঘরোয়া লীগে খেলাটা একটা বাড়তি সহায়ক হিসেবে কাজ করে। দিয়েগো আলভেজের ভ্যালেন্সিয়া ছাড়ার খবরের পরপরই ফ্লামেংগো সমর্থকরা একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন করেছিলো দিয়েগো আলভেজকে যাতে ফ্লামেংগো সাইন করায় (আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, ফ্লামেংগোর বর্তমান গোলরক্ষন মুরালহা দিয়েগো আলভেজের আগে ব্রাজিল দলে ডাক পেয়েছেন টিচের কাছে)। বর্তমান অবস্থায় ব্রাজিল বিশ্বকাপ দলে তরুন এলিসন এবং এদারসন অনেকটা নিশ্চিতভাবেই থাকছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সেক্ষেত্রে হয়তো স্কোয়াডের ৩য় গোলরক্ষকটি ব্রাজিলের ঘরোয়া লীগ থেকেই থাকবেন। দিয়েগো আলভেজ ব্রাজিলের ঘরোয়া লীগে খেললে ওয়েভারটনকে সহজেই টেক্কা দিতে পারবেন সেকথা দুই গোলরক্ষকের কোয়ালিটি সম্পর্কে ধারনা রাখলে আন্দাজ করা যায়।  

৩। ফেলিপে এন্ডারসন 

ইতালিয়ান সেরি আতে ২০১৬/১৭ মৌসুমের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ড্রিবল, সর্বোচ্চ চান্স ক্রিয়েট, সর্বোচ্চ থ্রু বল, সর্বোচ্চ এসিস্ট করা খেলোয়াড় একজনই, ২৪ বছর বয়সই উইংগার ফেলিপে এন্ডারসন। লাতসিওর ৪জনের ডিফেন্সে রাইট উইঙ্গার কিংবা ৩জনের ডিফেন্সের সিস্টেম রাইটউইংব্যাকে সমান পারদর্শিতা দেখানো ফেলিপে এন্ডারসন বর্তমানে নিজের দলে অনিয়মিত উইলিয়ান এমনকি ডগলাস কস্তার সাথে ব্রাজিল দলে জায়গা পাওয়ার দাবিদার এমনটাই মনে করেন অনেকে। লাতসিওতে হয়তো পর্যাপ্ত নজড়টা পাচ্ছেন না তিনি। সেক্ষেত্রে ইপিএলে তার সাথে দলবদলের গুজব থাকা চেলসি, টটেনহ্যাম কিংবা এভারটনের প্রস্তাব আসলে তার লুফে নেয়া উচিত যেহেতু ইপিএলের পারফর্মেন্স টিচে ফেলতে পারেন না। 

             

               

 

৪। ফ্যাবিনহো

রাইটব্যাক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করার পর গত দুই মৌসুম ধরে তাকে সেন্টারমিডফিল্ডে খেলানোটা মোনাকো কোচ লিওনেল জারদিমের মাস্টারস্টোক বলেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। মোনাকোর গত দুই মৌসুমের প্রজেক্টের অন্যতম গুরত্বপূর্ণ খেলোয়াড় যিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বের নামিদামি ক্লাবগুলোর নজড়ে আছেন। মোনাকো কোচ জারদিম কয়েকমাস আগেই তাকে ঘোষনা দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টার মিডফিল্ডার হিসেবে। তার ট্যাকলিং এবং ইন্টারসেপশনের সাথে মিডফিল্ডে গেমরিডিংয়ের ক্ষমতা চোখে পড়ার মতোন। কিন্তু কোনো কারনে ব্রাজিল দলে ডাক পাচ্ছেন না। তাহলে তারও কি উচিত দল পরিবর্তন করে ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা করা?                                          

ইপিএলে পেপ গার্দিওলা এবং হোসে মোরিনহোর যথাক্রমে তাদের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে চাচ্ছেন ফ্যাবিনহোকে। আগেই বলা হয়েছে ইপিএলের পারফর্মেন্স ফেলতে পারেন না টিচে তবে কি ইপিএলে এসে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা উচিত ফ্যাবিনহোর? প্রস্তাবটা খারাপ শোনাচ্ছেনা। 

 

৫। গ্যাব্রিয়েল বারবোসা 

পরিচিত 'গাবিগোল' হিসেবে এই সান্তোস প্রডিজি ১৫-১৬ বছর বয়স থেকেই জানান দিচ্ছেন ফুটবলে বড় কিছুই করতে এসেছেন তিনি। সান্তোসে অসাধারন পারফর্মেন্স তাকে গত বছরের কোপা সেন্টেনেরিও স্কোয়াডে ডাকেন তৎকালীন কোচ ডুঙ্গা। এছাড়া ব্রাজিলের অলিম্পিক জয়ী দলেরও অন্যতম গুরত্বপূর্ণ সদস্য গ্যাব্রিয়েল বারবোসা ডাক পান টিচের প্রথম ব্রাজিল স্কোয়াডে। কিন্তু এরপর আর দলে জায়গা পাননি মূলত গত মৌসুমে ২৯ মিলিয়নে ইন্টার মিলানে যাওয়ার পর। ইন্টার মিলানের গত মৌসুমটি ভূলে যেতেই চাইবেন তিনি।                                   

ইতালিয়ান সেরি আতে কোনো ম্যাচেই স্টার্টিং একাদশে না থাকা গ্যাব্রিয়েল বারবোসা ইন্টার মিলানে সর্বসাকুল্যে খেলেছেন মাত্র ১১৩ মিনিট! ২০১৮ বিশ্বকাপে নিজের জায়গা পেতে তাকে পরবর্তী মৌসুমে নিয়মিত খেলতে হবে এটি নিশ্চয় তাকে বলে দেয়ার প্রয়োজন হবেনা। ইতিমধ্যেই গাবিগোলকে পরবর্তী মৌসুমের জন্য ধারে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন লা লিগার দল লাস পালমাস আর বুন্দেসলীগার দল স্টুটগার্ড। নিজের ভালো বুঝবেন তো গাবিগোল?      

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন