আরেকটা রূপকথার মত সিজন

আরেকটা রূপকথার মত সিজন
Mesbah Uddin Dipu July 7, 2017, 5:39 pm English premier league

আমরা অনেকেই ম্যানচেস্টার সিটির ২০১১-১২ সালের বিখ্যাত লিগ শিরোপা জয়ের কথা জানি। কুইন্স পার্ক রেঞ্জারস এর সাথে ২-১ গোলে পিছিয়ে থেকে এক্সট্রা টাইমে ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে লিগ জিতে নেয় সিটিজেনরা। যে ম্যাচ  না জিতলে লীগ জিতে নিতো নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

Image result for man city league titles 2011 aguero goal

মজার ব্যাপার হলো একই রকম শ্বাসরুদ্ধকর আরেকটি সিজন আছে ম্যানচেস্টার সিটির। সেই গল্পই বলি আজকে।

১৯৬৭-৬৮ ছিলো জো মার্সার এবং ম্যালকম এলিসনের ম্যানেজমেন্টের আন্ডারে ম্যানচেস্টার সিটির ৩য় সম্পূর্ণ সিজন।

অত্যন্ত বাজেভাবে সিজন শুরু করে সিটিজেনরা। সিজনের প্রথম ম্যাচ ছিলো লিভারপুলের সাথে। গোলশূন্য ড্রতে শেষ হয়। পরের টানা দুই ম্যাচে সাউদ্যাম্পটন আর স্টোক সিটির সাথে হেরে বসে সিটি। পরের ম্যাচ আবার সেইন্টসদের সাথে। এবং এটাই ছিলো টানা ৫ জয়ের প্রথম ম্যাচ। সামারবীর জোড়া গোলে সেইন্টসদের ৪-২ গোলে হারায় সিটি। পরের চার ম্যাচে নটিংহ্যাম ফরেস্ট, নিউক্যাসল,কোভেন্ট্রি সিটি এবং শেফিল্ড ইউনাইটেডকে হারায় সিটি। ফলে লীগ লিডার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ধরে ফেলে সিটি।

এরপর আবার টানা তিন ম্যাচ হারে সিটি। আর্সেনালের সাথে এওয়ে ম্যাচে হারে। পরের ম্যাচ ছিলো সিজনের প্রথম ম্যানচেস্টার ডার্বি। কলিন বেলের গোলে লিড নিলেও ববি চার্লটনের জোড়া গোলে পরাজিত হয় সিটিজেনরা। এরপর সান্ডারল্যান্ড এর সাথে পরাজয়।

এই পরাজয়ের পর সিটি কিনে ফ্রান্সিস লীকে। তৎকালীন ক্লাব রেকর্ড ফী ৬০ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে বোল্টন থেকে কিনে নেয় তাকে সিটি। ট্রান্সফারের সময় মার্সার লীকে বলেন: " we feel we've got the start of a good side. We are just one player short, and we think you are that player."

এরপর সিটি টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত থাকে।যার মধ্যে একটা ম্যাচ ছিলো লেস্টার সিটিকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া। এই সময় সিটি টটেনহামের বিপক্ষে খেলে অসাধারণ এক ম্যাচ। ম্যাচ অব দা ডের "ম্যাচ অব দা সিজন" ছিলো এই ম্যাচ। বরফ আচ্ছাদিত পিচে সিটি তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরমেন্স দেখায়। ম্যাচ শেষে এক স্পার্স প্লেয়ার বলেন: "It was extraordinary. City moved like Olympic speed skaters while we were falling around like clowns on a skid patch" বেল,সামারবী,কোলম্যান ও ইয়াংয়ের গোলে ৪-১ এ জিতে সিটি।

এই ১১ ম্যাচ আনবিটেন রান শেষ হয় ওয়েস্টব্রম ম্যাচে।৩-২ এ হারে সিটি। পরের ৮ ম্যাচ আবার আনবিটেন থাকে সিটি।এই রানের প্রথম ম্যাচ জিতে সিটি লীগ টেবিলের টপে উঠে যায়। ৮ ম্যাচ পর লীডসের সাথে হারে তারা।

পরের ম্যাচ ডার্বি।৩-১ গোলে হারায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে।এপ্রিলের শেষের দিকে সিটি ১-০ গোলে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে হারায় এবং টাইটেল রাউভাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ওয়েস্টব্রমের সাথে হারে।ফলে সিটি শেষ তিন ম্যাচ জিতলেই টাইটল নিশ্চিত। পরের দুই ম্যাচে এভারটন ও স্পার্সের বিপক্ষে জিতে সিটি।

ফাইনাল ডে ছিলো ২০১১-১২ এবং ২০১৩-১৪ সিজনের ককটেল। সিটি এবং ইউনাইটেডের পয়েন্ট সমান ছিলো। সিটির গোল এভারেজ বেশি ছিলো যা ছিলো পয়েন্ট সমান হলে টাইটেল জয়ের প্রথম শর্ত। লিভারপুল তিন পয়েন্ট পিছে ছিলো। কিন্তু তাদের হাতে দুই ম্যাচ (তখন ম্যাচ জিতলে ২ পয়েন্ট ছিলো)। অর্থাৎ কঠিন অবস্থা। যে কেউই জিততে পারে। লীগ টেবল ছিলো এরকম ৫৬,৫৬,৫৩। যথাক্রমে সিটি, ইউনাইটেড, লিভারপুল।

সিটির ম্যাচ ছিলো নিউক্যাসলের সাথে,সেইন্ট জেমস পার্কে। সামারবীর গোলে লিড নেয় সিটি কিন্তু নিউক্যাসল সমতা আনে দ্রুত। নীল ইয়াংয়ের গোলে আবার লিড নেয় সিটি। কিন্তু আবারো ধরে রাখতে ব্যর্থ। হাফটাইম শেষ হয় ২-২ গোলে।দ্বিতীয়ার্ধে ইয়াং আবার গোল করেন এবং ফ্রান্সিস লী চার নাম্বার গোলটা করেন। নিউক্যাসল শেষের দিকে গোল করে আবারো ভড়কে দিয়েছিলো সিটিজেনদের। কিন্তু এবার ধরে রাখে সিটি।

অপরদিকে সান্ডারল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হারে ইউনাইটেড এবং লিভারপুল অবশিষ্ট দুই ম্যাচের একটা জিতে আরেকটা ড্র করে। ফলাফল সিটি চ্যাম্পিয়ন। সিটির দ্বিতীয় লীগ শিরোপা এবং ১৯৫৬ এফএ কাপের পর প্রথম কোনো ট্রফি। মার্সার এলিসন জুটির প্রথম ট্রফি।এই জুটি সিটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় এনে দিয়েছিল।

Image result for man city league titles 1968





Similar Post You May Like

জনপ্রিয় খেলার সংবাদ

Find us on Facebook