কেমন চলছে মিলানের দল গোছানোর পর্ব?

কেমন চলছে মিলানের দল গোছানোর পর্ব?

২০১৭ সালে ইতালীর সাবেক প্রেসিডেন্ট সিলভিও বের্লুসকোনির কাছ থেকে চাইনিজ উদ্যোক্তা ইয়ংহাং লি প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে মিলান কিনে নেওয়ার সময় সেই পুরানো প্রশ্নটা থেকেই গিয়েছিল, "চাইনিজরা কি পারবে মিলানের সুদিন ফিরিয়ে আনতে?" এখনো নতুন সিজন শুরু হয়নি বিধায় উত্তরটা সময়ের হাতেই তোলা রইল। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট স্কোয়াড গঠনের দিক দিয়ে কোন কমতি রাখছে না। ট্রান্সফার মার্কেট শুরু হতে না হতেই ৫টা সাইনিং আর দুইজন প্লেয়ারের কনফার্মেশন- ২০১১ এর পর লোনে আর ফ্রি পাওয়া প্লেয়ারে চলা মিলানের জন্য এ ছিলো এক অদ্ভুত দৃশ্য। 

 

সবার প্রথমেই সাইন করানো হয়েছিলো ভিলারিয়ালের আর্জেন্টাইন সেন্টারব্যাক মাত্তেও মুসাক্কিওকে, ১৫ মিলিয়ন ইউরো আর অ্যাড-অনস এর মাধ্যমে। মুসাক্কিও প্রায় এক সিজন আগে থেকেই মিলানের সাথে ভালোভাবে লিঙ্কড ছিলো, কিন্তু মিলানের আর্থিক দৈন্যদশা আর অন্যান্য টেকনিকাল কারনে মুসাক্কিওর আর মিলানে আসা হয়নি। ডীফেন্সিভলি বেশ ভালো এই খেলোয়াড়ের মূল সমস্যা তার ইঞ্জুরিপ্রবণতা।

 Mateo Musacchio

এরপরের সাইনিং এক সপ্তাহ পর হয়েছিলো, রীতিমত ভোজবাজির মত ফ্রাঙ্ক কেসিকে মিলান নিজের দলে ভিড়ায়। আতালান্তার চাহিদা ২৮ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে এক সুনিপূণ কৌশলে। মাত্র ৪ মিলিয়ন ইউরোতে লোনে এনে বাকি পেমেন্টের মেথড ঠিক করা হয় তিন কিস্তিতে বাকি ২৪ মিলিয়ন ইউরো দেওয়ার। বুঝাই যাচ্ছিলো চাইনিজ মালিকদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই উইন্ডোতেই সর্বোচ্চ খেলোয়াড় আনার সুযোগ তৈরী করা। ফ্রাঙ্ক কেসি মাত্র ২০ বছর বয়সী আতালান্তার ডিএম, আতালান্তার এই সিজনের "ওয়ান্ডার-গেমপ্লে" এর পিছনে ফ্রাঙ্ক কেসির অনবদ্য খেলার ভূমিকাই বেশি। আইভরী কোস্টের এই প্রতিভাবান মিডের পিছনে চেলসিসহ প্রিমিয়ার লীগের বেশ কিছু ক্লাবের আগ্রহ ছিল, কিন্তু শেষ হাসিটা মিলানই হাসে। 

Franck Kessié

মিলানের নতুন স্পোর্টিং ডিরেক্টর ফাসোনে এবং সিইও মিরাবেল্লি, যাদের একসাথে ফাসোবেল্লি বলা হয়; তাঁদের চমক দেখানো শুরু করলেন। রিকার্দো রদ্রিগুয়েজ এর মত খেলোয়াড়কে নেগোসিয়েশনের দুই সপ্তাহের মধ্যে মিলানের হয়ে সাইন করিয়ে নিলেন। মাত্র ১৭ মিলিয়ন ইউরোতে এইরকম একজন অ্যাটাকিং এবং অ্যাডভান্সিং লেফটব্যাক সাইন করে নেওয়ার জন্যে ফাসোবেল্লি কৃতিত্বের দাবী করতেই পারেন। ২৪ বছর বয়সী এই সুইস ফুলব্যাক গত তিন বছর ধরে জার্মান ক্লাব ভলবসবুর্গে খেলেছিল। তার ক্রসিং, ব্লকিং, গোলস্কোরিং অ্যাবিলিটি, লীপিং আপ, ভালো মানের ফ্রি কিক আর পেনাল্টি শ্যুট তাকে অন্য ফুলব্যাকদের তুলনায় অনেক অ্যাডভান্টেজ দিয়েছে। 

ricardo rodriguez

বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার, প্রস্তুতি ম্যাচগুলো এবং হালের কনফেডারেশন কাপে পর্তুগালের হয়ে গোলবন্যায় ভাসানো আন্দ্রে সিলভা সবারই নজর কেড়েছিল। এইখানে ফাসোবেল্লির আরেক যাদু দেখলো মানুষজন। মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এজেন্ট হোর্হে মেন্দেসের সাথে মিটিং এবং পোর্তোর ঠিক করে দেওয়া বাই আউট ক্লজ ৬০ মিলিয়ন ইউরো থেকে অবিশ্বাস্য ৩৮ মিলিয়ন ইউরোতে নেগোসিয়েট করে সিলভাকে সাইন করিয়ে নেয় মিলান। মাত্র ২১ বছর বয়সী পর্তুগিজ সেনানীর লীগের গোলসংখ্যা আহামরি কিছু না হলেও পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে তার ১৩ ম্যাচে ৮ গোল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথাই বলে। 

andre silva

এরপর দুই সপ্তাহ পুরো নিস্প্রভ গেলো ফাসোবেল্লি সাহেবদের, গন্ডায় গন্ডায় খেলোয়াড়দের সাথে লিঙ্কড হওয়া, দোনারুমার রিনিউয়াল নাটক, কনফেডারেশন কাপ এবং অনূর্ধ্ব-২১ ইউরোরে কারণে কোন সাইনিং হয়ে উঠছিলো না। স্ট্রাইকার কেনার জন্যে হন্যে হয়ে থাকা ফাসোবেল্লি তখন ফিওরেন্তিনার কাছে কালিনিচের ট্রান্সফারের জন্য ইঁদুর বিড়াল খেলছেন। ফিওরেন্তিনার ৩০ মিলিয়নের পরিবর্তে মিলানের ২২ মিলিয়ন+খেলোয়াড় অফারটি ফিওরেন্তিনা প্রেসিডেন্ট লোতিতো ফিরিয়ে দিলে মিলানের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। অপরদিকে লাযিওর সাথে বিলিয়া ডিল পতনের পথে। এমন সময় ইবিজায় অবস্থানরত ফাবিও বোরিনির এজেন্টের সাথে আচমকা মিটিঙে ফাবিও বোরিনিকে সাইন করিয়ে ফেলে মিলান, ১ মিলিয়ন ইউরো দিতে লোন ডিলে , পরবর্তিতে আরো ৫ মিলিয়নের অবলিগেশন টু বাই ডিলে। এই ডিলে লাযিও হতভম্ব হয়ে যায়, কারণ ইবিজায় বোরিনির এজেন্টের জন্য অপেক্ষা করছিলেন লাযিওর কোচ সিমোনে ইঞ্জাঘি। ফর্মহীন, দূর্ভাগা ফাবিও বোরিনিকে মিলান মূলত সাইন করায় একজন স্কোয়াড প্লেয়ার হিসেবে। সাবেই অধিকাংশ সময় খেলা লাগবে তার, তবে মাত্র ১ মিলিয়নে উচ্চ ওয়ার্করেটে বেঞ্চে একজন উইঙ্গার কাম স্ট্রাইকার পাওয়া বেশ ভালো চাল, বলতেই হবে। 

Borini

ট্রান্সফার উইন্ডো খোলার সাথে সাথে দুইটা বিশাল খবর, যাকে বলে ডাবল ডিল। তুরস্কের সেটপিস কিং হাকান চালহানৌলু এবং আতালান্তার অতন্ত প্রতিভাবান রাইটব্যাক আন্দ্রেয়া কন্তি- এই দুইজনকেই মিলানের পরবর্তী সাইনিং ঘোষণা দেওয়া হয়ে গেছে। এই সপ্তাহেই এই দুইজন মিলানেল্লোতে মেডিকেল টেস্টে অবর্তীর্ণ হবে। 

 

এই সিজনের মিলান স্কোয়াড কেমন হবে? এর উত্তর ট্রান্সফার উইন্ডো শেষেই পাওয়া যাবে। তবে ফাসোবেল্লির এবং চাইনিজ মালিকদের লক্ষ্য পরিষ্কার- মিলানকে তার আগের স্থানের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া; সেই মিলান আবার তৈরী করা, যা দেখে সকল ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষ সমীহ করে চলে। সেটা কি পারবেন তাঁরা? সময়ের হাতেই উত্তরটা তোলা রইল। 

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন