বিশ্বকাপ স্কোয়াড এনালাইসসিসঃ বেলজিয়াম

বিশ্বকাপ স্কোয়াড এনালাইসসিসঃ বেলজিয়াম

বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স, বর্তমান ফিফা র‍্যাংকিং এ ৩য় অবস্থানে আছে। বিশ্বকাপের অন্যতম পটেনশিয়ালসম্পন্ন দল আছে তাদের।

পটেনশিয়াল সম্পন্ন দল তারা আগেও নিয়ে এসেছিলো। ১২ বছরের অপেক্ষা কাটিয়ে ২০১৪ ওয়ার্ল্ড কাপ খেলে কোয়ার্টারে আরজেন্টিনার কাছে হারে। ২০১৬ তেও একই ব্যাপার, এবার গ্যারেথ বেলের ওয়েলস এর কাছে হার, স্যাক হলেন মার্ক উইলমটস। এপয়েন্ট হলেন স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মারতিনেজ। মারতিনেজ ক্লাব লেভেলে নিজেকে প্রমাণ করা কোচ। উইগানকে নিয়ে জিতেছেন এফএ কাপের ট্রফি,সোয়ানসি সিটি আর এভারটনের হয়েও সাক্সেস আছে। এভারটনকে নিয়ে গেছেন লীগের পঞ্চম পজিশনে।

মারটিনেজ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচ স্পেনের কাছে হারে। এরপর মারতিনেজের বেলজিয়ামকে কে কেউ হারাতে পারেনি। টানা ১৬ ম্যাচ আনবিটেন, গ্রুপ পর্বে ৯ জয় আর ১ ড্র,৪৩ গোলের বিপক্ষে গোল খেয়েছে ৬ টা। প্রত্যেক পজিশনে তাদের প্লেস নেওয়ার মতো পটেনশিয়াল রিপ্লেসমেন্ট রয়েছে।

গোল্কিপারঃ থিবো কর্তোয়া( চেলসি), সিমোন মিগনোলেট( লিভারপুল), কোয়েন ক্যাস্তিল(উলফসবার্গ)

ডিফেন্ডারঃ ভিন্সেন্ট কোম্পানি(ম্যানসিটি), লিয়ান্ডার ডেন্ডোঙ্কার(অ্যান্ডারলেখট), ডেড্রিক বোয়াটা( সেল্টিক), টোবি অল্ডারউইরাল্ড, ইয়ান ভার্তোংগেন(টটেনহাম),টমাস মউনিয়ের(পিএসজি), টমার ভারমালেন(বারসেলোনা)

মিডফিল্ডঃ কেভিন ডি ব্রুইনা(ম্যানসিটি), মুসা দেম্বেলে(টটেনহাম), ইয়ানিক কারাস্কো( দালিয়ান ইফাং, চায়না), নেসের শাদলি(ওয়েস্ট ব্রম), মারুয়ান ফেলাইনি( ম্যানইউ), আদনান ইয়ানুজাই( সোসিয়েদাদ), থরগান হ্যাজার্ড(মুনশেনগ্লাডবাখ), ইউরি তিলেমেন্স(মোনাকো), অ্যাক্সেল উইটসেল(তিয়াঞ্জিন কোয়াঞ্জিন,চায়না)

ফরোয়ার্ডঃ ড্রিস মের্টেন্স(নাপোলি), রোমেলু লুকাকু(ম্যানইউ), মিচি ব্যাটশুয়াই(চেলসি),এডেন হ্যাজার্ড(চেলসি)

গোল্কিপিং পজিশনে কর্তোয়া স্টার্ট করবে বলাই চলে। কিন্তু সে কিছুটা ইঞ্জুরিপ্রোন আর প্রেশার সিচুয়েশনে কিছুটা উইক। সেক্ষেত্রে মিগ্নোলেট এর আগে ক্যাস্তিল চান্স পাবে। এসিজনে ইঞ্জুরি সমস্যা তারও ছিলো, কিন্তু ইঞ্জুরি প্রবলেম হ্যান্ডেল করার জন্য তার ভাই আছেন যিনি নিজেই একজন ফিটনেস ইন্সট্রাক্টর। ক্যাস্তিল তার পুরো সিজনে উলফসবার্গকে নিয়ে রেলেগেশন ফাইট করেছে, কিন্তু তার সেভ কর্তোয়ার প্রায় সমান। অন্যদিকে মিগ্নোলেট এই সিজনে লিভারপুলে পুরোপুরি লরিস কারিয়াসের কাছে জায়গা হারিয়েছেন। তাই গোল্কিপিংএ কিছুটা দুশ্চিন্তা থেকেই যায়।

মার্তিনেজ একজন ডিফেন্সিভ কোচ। দলের দায়িত্ব নেওয়ার পরে তার থ্রি ম্যান ডিফেন্স খেলার সিদ্ধান্ত ছিলো একটা মাস্টারস্ট্রোক। ডিফেন্সে নরমালি থাকেন কোম্পানি, ভারতোংগেন আর অল্ডারউইরাল্ড। কোম্পানি দলের ক্যাপ্টেন এবং একজন সলিড ডিফেন্ডার। ভারতোংগেন আর অল্ডারউইরাল্ড তো টটেনহাম ডিফেন্স থেকেই জুটি বেধে আসা। ভারতোংগেন ইপিএলের টিম অব দ্যা সিজনে আছেন। কিন্তু অল্ডারউইরাল্ড সেখানে এ সিজনে ইনজুরির সাথে লড়াই করেছেন। এ তিনজনের উপরেই মারতিনেজ ভরসা করবেন , কারণ কোয়ালিফাইং এ এরা খুব স্ট্রং ডিফেন্স তৈরী করেছে।

কিন্তু পর্তুগালের বিপক্ষে ফ্রেন্ডলিতে কোম্পানির ইনজুরির কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়া সমর্থকদের চিন্তায় ফেলবে। সেই দুশ্চিন্তাগুলোকে নিশ্চিত করেছেন মারতিনেজ,কোম্পানির গ্রইন ইঞ্জুরি । ‘প্রথম ম্যাচের ২৪ ঘন্টা আগে ফাইনাল স্কোয়াড ঘোষণা করা যায়’ এই লুপহোল কাজে লাগিয়ে কোচ এখনো ২৪ জন থেকে ২৩ জনের ফাইনাল স্কোয়াড ঘোষণা করেননি । লস এনজেলেস এফসি এর লরান্ট সিমানকে এখনো স্ট্যান্ডবাই তে রাখা হয়েছে, কোম্পানির ইঞ্জুরিতে সে ডাক পাবেন। কোম্পানির ইঞ্জুরিতে দলের হাল ধরতে পারবেন ভারমালেন। কিছুটা ইঞ্জুরিপ্রোন, গত সিজনের মার্চেই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পরে আবার সময়মতো ফিরে এসে দলে ডাক পেয়েছেন। তার এক্সপেরিয়েন্স্‌ কোয়ালিটি আর বুদ্ধিমত্তা দলকে সাহায্য করবে। আরেক অপশন হলো ডেড্রিক বোয়াটা, যিনি বেন্ডন রজার্সের অধীনে সেল্টীকের ট্রেবল উইনিং দলের একটা অংশ। কিন্তু ক্রিটিকাল মোমেন্টে তার ডিফেন্সিভ এররগুলো দলকে ভোগাতে পারে। কোম্পানির ইঞ্জুরি বেলজিয়াম ডিফেন্সের শক্তিকে কমিয়ে দিবে , এবং এটা ডিফেন্স ত্রিমূর্তীর বাকি দুইজনের ক্ষেত্রেও বলা চলে। কিন্তু মারতিনেজ আশাবাদী কোম্পানির ফেরার ব্যাপারে।

আগে বলেছি তাদের প্রত্যেক পজিশনে ব্যাকাপ রয়েছে। এটা যেকোনো কোচকে কনফিডেন্স দিবে কিছু দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। যেমন রাদজা নাইঙ্গোলান কে বাদ দেওয়া। এবার রোমার হয়ে চাম্পিয়ন্স লীগ সেমি খেলা নাইংগোলান দারূন পার্ফরমেন্স করেছেন। নাইঙ্গোলানকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে মারতিনেজ বলেছেন সে তার ট্যাক্টিকাল অ্যাপ্রোচে যায় না এবং বেঞ্চ এ বসানোর জন্য তাকে দলে ডাকার কোন যুক্তি নেই। এই সিজনে নাইঙ্গোলান রোমার হয়ে ছয় পজিশনে খেলেছেন যার মধ্যে উইংব্যাক ও উইং ও ছিলো। নাইঙ্গোলানের এটাকিং ইন্সটিংক্ট কে মারতিনেজ দেখছেন স্ট্রাইকারের জন্য একটা নাম্বার টেন সাপোর্ট হিসেবে, যার জন্য ইতোমধ্যেই দুই হ্যাজার্ড ভাই, মেরটেন্স, তিলেমেন্স, ডি ব্রুইনা আরো অনেকেই আছেন।

নাইঙ্গোলানের জায়গা নেওয়ার মতো অনেকেই আছেন। ডি ব্রুইনার এ সিজনে সিটির মিডফিল্ডে খেলানো একটা আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, কারণ তাকে মিডে আর এডেন হ্যাজার্ডকে উইঙ্গে দিলে একই সাথে প্রিমিয়ার লীগে বর্তমানের দুই সেরাকে খেলাতে পারছেন, তাদের কম্বিনেশনটাও দারুন। এ সিজনে প্রিমিয়ার লীগে ১৬ এসিস্ট করে ডি ব্রুইনা টপে আছেন, সাথে আছে ৮ গোল। এ সিজনে প্লেয়ার অফ দ্যা সিজন টাইটেল টা লিভারপুলের সালাহ এর কাছে হারিয়েছেন। সে বেলজিয়ামের মিডফিল্ডের প্রাণ, সে যখন সামনে প্লেমেকিং করতে যাবেন, মারতিনেজ চাচ্ছেন এমন একজন মিডফিল্ডার যে ডিফেন্সটা ধরে রাখতে পারবেন।

উইটসেল, ফেলাইনি , ডেন্ডঙ্কার এই রোলে পারফেক্ট। একেকজন একেক স্পেশালিটি নিয়ে আসবেন। উইটসেল ইন্টেলিজেন্ট পাসার, অসাধারণ ডিফেন্সিভ এবিলিটি আছে তার এবং ডিফেন্স রক্ষার জন্য ডার্টি ওয়ার্কগুলো করে থাকেন। কিন্তু তার প্রতিপক্ষের প্লেয়ারদের সাথে মারামারি করে সাস্পেন্ডেড হওয়াটা নতুন নয়। তাছাড়া ফেলাইনিও আছেন, যার টেকনিকাল বা ড্রিবলিং এবিলিটি যদিও নেই অতটা, কিন্তু হেডিং অসাধারণ আর মাঝেমধ্যেই Dummy Run দিয়ে ডিফেন্স ওপেন আপ করতে পারেন, পাসিং করে ওয়ান অন ওয়ানে পজেশন ধরে রাখতে ওস্তাদ, কিন্তু তার রাফ চ্যালেঞ্জ করে সাস্পেন্ডেড হয়ে যাওয়াও একটা চিন্তার কারণ। ডেন্ডোঙ্কার কিছুটা ইয়াং এবং ডিফেন্ডার হিসেবে রাখলেও তার মেইন পজিশন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড। শর্ট বা লং পাস করে মুহুর্তেই এটাক শুরু করতে পারেন, সেট পিস আর এরিয়াল এবিলিটিও ভালো। কিছুটা মাসচেরানোর মত, তাদের পজিশনো এক, কোচ চাইলে ডিফেন্সেও খেলতে পারবেন। উইটসেলই স্টার্ট করবেন কিন্তু বাকি ব্যাকাপ গুলোও স্টার্টিং লাইনাপে সুযোগ পাওয়ার মতো। কিন্তু নাইঙ্গোলান একটা ভারসেটাইল প্লেয়ার, আর বিশ্বকাপের মতো স্টেজে ভারসেটিলিটি অনেক হেল্প করবে, তাই নাইঙ্গোলানকে নেওয়াই যেতো।

ডি ব্রুইনা দলের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু তার ব্যাকআপও আছে। দেম্বেলে একজন কুইক, ক্রিয়েটিভ, মিডফিল্ডার এবং স্কোরার যে সহজেই স্পেস খুঁজে নিতে পারেন, তার পজেশন আর পাসিং এবিলিটি কম এবং বিগ ম্যাচে শাইন করার এবিলিটিও কম।। তিলেমেন্স ল্যাম্পার্ডের মতো একজন প্লেমেকার,ডিস্টেন্স শুটিং আর পাসিং এবিলিটিও ভালো।

৩-৪-৩ এর অন্য দুই উইংমিড পজিশনে থাকবেন মুনিয়ের আর কারাস্কো । মুনিয়ের ক্যারিয়ার শুরু করেছেন উইঙ্গার হিসেবে, তাই মারতিনেজ এর সিস্টেমে সে একটা এটাকিং অপশন । আর কারাস্কো উইং এটাকের আরেকটা অস্ত্র। এতলেটিকোতে উইং এই খেলেন।

মিডফিল্ডের ডেপথ দেখে ভড়কে গেলেন? এটাকের কথাতো এখনই শুরুই করলাম না। মারতিনেজের চার অস্ত্রের তিনজন এটাকেই খেলেন । হ্যাজার্ড , মেরটেন্স আর লুকাকু। হ্যাজার্ড এ সিজনে চেলসিতে ১৭ গোল আর ১৩ এসিস্ট করেছেন। গত সিজনে চেলসির বেস্ট প্লেয়ার, বর্তমান যুগের ওয়ান অব দ্যা বেস্টও বলা যআবে। । রাইট ফ্ল্যাংক থেকে এটাক শুরু করবেন। আর মেরটেন্স একটা ফ্লুইড উইঙ্গার আর এবারের নাপোলির এটাক ত্রয়ী( ইন্সিনিয়ে , কায়েহন , মারটেন্স) এর অন্যতম কান্ডারী। বেসিকালি এটাকের একটা ফলস নাইন হিসেবে কাটইন আর লিঙ্কাপ করবেন। সবশেষে, মেরটেন্স আর হ্যাজার্ড লুকাকুর হাতে পেরেক তুলে দিবেন, লুকাকু সেটা ঠুকে দিবেন।কোয়ালিফাইং এ বেলজিয়ামের ৪৩ গোলের ১১ টা তিনিই স্কোর করেছেন। প্রিমিয়ার লীগেও ১৬ গোল আর ৭ এসিস্ট আছে। একটা বিশাল এটাকিং থ্রেট সে একাই।

তাদের ব্যাকাপ? এডেন হ্যাজার্ডের পজিশনেই খেলেন তার ছোট ভাই থরগান হ্যাজার্ড। হ্যাজার্ড বলতে এডেন কে সবাই চিনলেও বেশ কয়েক সিজন ধরেই মুনশেনগ্লাডবাখের স্টার্টিং লাইনাপের অংশ হয়ে নিজেকে চেনাচ্ছেন থরগান । এসিজনে তার ১১ গোল ৯ এসিস্ট আছে। এছাড়াও নেসার শাদলি দারুন গতিসম্পন্ন ক্রিয়েটর। ‘ গতিসম্পন্ন ক্রিয়েটর ‘ বললেই এটাকার হিসেবে তার এবিলিটি বলা হয়ে যায়। যদিও ওয়েস্ট ব্রমের হয়ে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাননি ইনজুরির জন্য। তাই তার দলে ডাক পাওয়াটা একটা সারপ্রাইজ, তবুও শাদলি ফর্মে থাকলে একটা এটাকিং থ্রেট। ইয়ানুজাইএর সোসিয়েদাদ এর ৩ গোল আর ৫ এসিস্টএর পর তার অন্তর্ভুক্তি উইঙ্গে আরও একটা এটাকিং অপশন যোগ করবে।ইয়ানুজাই লেফটমিডে কারাস্কোকেও রিপ্লেস করতে পারে। উইঙ্গাররা লেফট রাইট দুই উইঙ্গেই খেলতে পারেন।

চেলসির থেকে লোনে এসে ডর্টমুন্ডে জ্বলে ওঠা তারকা ‘ব্যাটসম্যান’ মিচি ব্যাটশুয়াই বুন্দেস্লীগায় এ সিজনে ৭গোল ১ এসিস্ট করেছেন মাত্র ১০ ম্যাচে। লুকাকুর ব্যাকআপে সুযোগ পেলে তিনি আবারো জ্বলে উঠবেন ।

প্রজেক্টেড লাইনাপ দাঁড়াচ্ছে ৩-৪-৩; কর্তোয়া- অল্ডারউইরাল্ড-ভারতোংগেন-কোম্পানি-মুনিয়ের-উইটসেল-ডি ব্রুইনা- কারাস্কো- এডেন হ্যাজার্ড

এই লাইনাপ যেকোনো ম্যানেজার এর দুশ্চিন্তার কারণ হবে । এই দলটাকে বেলজিয়ামের গোল্ডেন জেনারেশন বলা হচ্ছে। হ্যাজার্ড , ডি ব্রুইনা, কর্তোয়া এরা পরের ওয়ার্ল্ডকাপে ৩০ এ পা দিবেন। কোম্পানি, ভারতো, অল্ডারউইরাল্ড আর মেরটেন্স ইতোমধ্যেই ৩০ অতিক্রম করেছেন। তাই বিশ্বকাপ জেতার এটাই শেষ সুযোগ বলা যায়। তাদের মেইন শক্তি এটাক, বিশেষ করে মেরটেন্স, ডি ব্রুইনা, লুকাকু আর এডেন হ্যাজার্ড । বাকিরাও যেকোনো সময় জ্বলে উঠতে পারে, যেমন নিজের দিনে মুসা দেম্বেলে আন্সটপেবল হয়ে উঠতে পারেন।

এত কোয়ালিটি মেইন্টেইন করা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ তাই মারতিনেজ এর উপর প্রেশার অনেক। মারতিনেজ ওয়ার্ল্ড কাপে একদমই আনাড়ি, এর আগে ওয়ার্ল্ড কাপে কোন দলকে ম্যানেজ করেননি। এটা একটা দুর্বলতা হতে পারে। তাছাড়া মারতিনেজ ডিফেন্সিভ কোচ , বেলজিয়ামকে পজেশন বেজড ফুটবল খেলাচ্ছেন। কিন্তু তার যেই ব্যাপারটা বেঠিক লাগছে, তিনি বেলজিয়ামের বেস্ট ১১ টা প্লেয়ার দলে রেখে তাদের উপর একটা ট্যাক্টিক্সে চাপিয়ে দেন যেটা সবসময় মঙ্গলজনক হয়ে ওঠে না। যেমন তার ৩-৪-৩ ফর্মেশনের জন্য মুনিয়ের পার্ফেক্ট হলেও আরেক উইংমিড কারাস্কো ডিফেন্সিভলি স্ট্রং নন, তিনি বরং একজন উইঙ্গার । থ্রি ম্যান ডিফেন্সের জন্য হয়তো তার ল্যাকিংস এতটা বুঝা যায় না, কিন্তু লেফট সাইড বেলজিয়ামের একটা উইকনেস যেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে প্রতিপক্ষ। মেক্সিকোর সাথে ফ্রেন্ডলিতে ৩-৩ গোলের ড্র এর পরে ডি ব্রুইনার বক্তব্যঃ “আমাদের ট্যালেন্টেড ফুটবলার আছে কিন্তু কোন ট্যাক্টিকাল সিস্টেম নেই তাই বড় দলের বিপক্ষে সমস্যা হবে” । দলের ১১ টা বিগ প্লেয়ারকে একসাথে খেলানোটাও কঠিন, স্পেশালি যখন দলের বড় একটা খেলোয়ার আপনাকে ক্রিটিসাইজ করে।

কিন্তু মারতিনেজের এসিস্টেন্ট হিসেবে আছেন থিয়েরে অরি, সুতরাং এক্সপেরিয়েন্সের ঘাটতিটা মারতিনেজ কাটইয়ে উঠতে পারবেন আশা করা যায়।

গ্রুপ পার হতে খুব একটা সমস্যা হবে না। কিন্তু কোয়ার্টার, সেমিতে রেড ডেভিলরা চাপ সামাল দিতে পারবে নাকি আবারো মূষরে পড়বে, সময়কেই উত্তরটা দিতে দিন।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন