বিশ্বকাপ স্কোয়াড প্রিভিউঃ আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ স্কোয়াড প্রিভিউঃ আর্জেন্টিনা

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্যানবেস আর্জেন্টিনার। অথচ তাদেরই কোয়ালিফাই করতে বেগ পেতে হয়েছে। ৪ টা হার আর ৭ টা ড্র তো এর মাধ্যমে উরুগুয়ে এর পেছনে ৩য় অবস্থানে থেকে কোয়ালিফাই করেছে। ঘরের মাঠে ইকুয়েডোর প্যারাগুয়ে এর কাছে হার, ভেনিজুয়েলা এর সাথে ড্র আর ব্রাজিলের কাছে হার, আর দুই দুই বার করে কোচ বদলঃ টাটা- বাউজা- সাম্পাওলি। 
সাম্পাওলি খুব গতিশীল ফুটবল খেলান, চিলির খেলার মধ্যে এই বিষয়টা দেখা গিয়েছিলো। তার সিস্টেমের প্লেয়ার ছিলো সাঞ্চেজ, অ্যারাঙ্গুইস আর ভিদাল। এরকমই ফুটবল তার কাছ থেকে এক্সপেক্ট করা যায়। 
সাম্পাওলি এক সাক্ষাতকারে বলেন প্রতিটা পজিশনে আমি অনেক রিসার্চ করে প্লেয়ার নিয়েছি। তাহলে কাদের নিয়েছেন?

গোল্কিপিং এ রোমেরোর ইনজুরির পরে খুব সম্ভবত গ্লাভস হাতে নেবেন ফ্রাঙ্কো আরমানি, কারণ তিনি রিভারপ্লেটের হয়ে ২০ ম্যাচে ১২ ক্লিনশীট রেখেছেন, এবং উইলি কাবালেরো চেলসির হয়ে মাত্র ৩ ম্যাচ খেলেছেন ইপিএলে। রোমেরোর বদলে নাহুয়েল গুজম্যান ডাক পেতে পারেন। আশা ভরসা আরমানির হাতেই থাকবে । গোল্কিপিং ডিপার্টমেন্ট খুব সুবিধার নয়। 
ডিফেন্সেও কাজ বাকি আছে। ওতামেন্দি ম্যানসিটির ডিফেন্সে এক নির্ভরতার প্রতীক। তার পাশে কে দাঁড়াবেন? ওয়েল ফেদেরিকো ফাজিও স্টার্ট করেছিলো ইতালীর বিপক্ষে ফ্রেন্ডলিতে, যেটা আর্জেন্টিনা জিতে ২-০ গোলে। আর ওতামেন্দির পাশে রোহোকে স্টার্ট করানোর ফসল ৬-১ এ হার, স্পেনের কাছে। তাই ফাজিও স্টার্ট করবে বলা যায়। এখানে রোহোর পাশাপাশি মাশ্চেরানো আছে। ইনফ্যাক্ট , সাম্পাওলি যদি ৪-২-৩-১ ফরমেশনে না গিয়ে ডিফেন্সের দুরবস্থার কথা ভেবে ৩-৪-২-১ ফর্মেশনে যান , থ্রি-ম্যান মিডফিল্ডে ওতা, ফাজিওর পাশাপাশি মাশ্চেরানোই হবে স্মার্ট চয়েজ।
যদি তার প্রিয় ৪-২-৩-১ এই খেলান তাহলে ফুলব্যাক হিসেবে দেখতে পারেন আয়াক্সের টগ্লিয়াফিকো আর সেভিয়ার মারকাদোকে।


মারকাদো আর সালভিও সেন্টারব্যাকেও সাম্পাওলির জন্য একটা ভারসেটাইল অপশন। মারকোস আকুনিয়া কিছুটা আটাকিং অপশন, উইংব্যাক হিসেবে কয়েকটা ম্যাচ স্টার্ট করতে পারে, যদি সাম্পাওলি সেই ফরমেশনে যায়।
এবার আসি মিডফিল্ডের কথায়। ৪-২-৩-১ এ লুকাস বিগ্লিয়া হতে পারেন পারফেক্ট ফিট। তিনি একজন ডিপ লায়িং প্লেমেকার, বল ডিস্ট্রইবিউশনে অসাধারণ। তার কিছু ডিস্ট্র্য়ার কোয়ালিটিও আছে যার দ্বারা ডিফেন্সে কিছু হেল্প হতে পারে। কিন্তু আসল ডিস্ট্রয়ার রোল টা মাশ্চেরানোকেই নিতে হবে। সামনে মেসির মতো প্লেয়ার থাকলে আপনাকে প্লেমেকিং , ফিনিশিং নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। মেসির মতো টেকনিকালি গিফটেড , প্রেস রেসিসটেন্ট প্লেয়ার থাকলে তাকে ঘিরেই ফর্মেশন সাজানো উচিত, যেটা বার্সায় করা হয় কিন্তু সাম্পাওলি এখনো করতে পারেনি। কোয়ালিফাইংএ ধুকতে থাকা মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা শেষ ম্যাচে মেসির হ্যাট্ট্রিকে ইকুয়েডরকে হারিয়ে কোয়ালিফাই করে, এটাই মেসিবিহীন আর মেসিসহ আরজেন্টিনার পার্থক্য তুলে ধরে। তাছাড়া ফ্রেন্ডলি ম্যাচগুলোও মেসিকে ছাড়াই খেলে আর্জেন্টিনা। ফলাফল তো আপনারা জানেন।
৪-২-৩-১ এর এক উইঙ্গে থাকবেন ডি মারিয়া, কোন সন্দেহ নেই । রাইট উইঙ্গে মেসি থাকবেন। আর সেন্টারে লানজিনি। আবার মেসিকে সেন্টার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে রেখে রাইটে ক্রিস্টিয়ান পাভোন কেও দেখা যেতে পারে। বোকা জুনিয়রস এর হয়ে এই সিজনে ৭ গোল আর ১১ এসিস্ট করেছেন ৩২ ম্যাচে।

কিন্তু ৩-৪-২-১ ফর্মেশনে মিডফিল্ডে বিগ্লিয়ার পাশাপাশি সার্বিকভাবে দারুন অপশন হয়ে দাড়াবেন এভার বানেগা। দুই উইঙ্গে দাঁড়াবেন সালভিও আর ডিমারিয়া, ডিমারিয়ার জায়গায় আকুনিয়াকেও দেখা যেতে পারে, আগে বলেছি আকুনিয়া উইংব্যাকে স্টার্ট করতে পারে। দুই ফরোয়ার্ডের রোলে থাকবেন মেসি আর দিবালা। 
মিডফিল্ডে বানেগার সাথে লাঞ্জিনির রোটেশন হবে, কারণ বানেগা কিছুটা অ্যাংকর রোলে থাকেন, মিডে থেকে প্লে কন্ট্রোল করেন , আর লাঞ্জিনি এ সিজনে ওয়েস্ট হ্যামের হয়ে ৫ গোল ৬ এসিস্টের মালিক। দারূন প্লেমেকারো বটে। তাছাড়া পিএসজির লো চেলসোকেও সুযোগ দেওয়া হতে পারে , পিএসজির হয়ে ৪ গোল ৩ এসিস্ট তার আছে, আবার ইয়াংস্টার মেজাও এই জায়গার জন্য লড়াই করবে। যে কেউ স্টার্ট করতে পারে। তবে আমার মনে হয় বানেগার দিকেই বেশি ঝুকবে সাম্পাওলি। 
এবার স্ট্রাইকার...[ এখানে এসে লেখক স্ট্রাইকার এর লিস্ট দেখে ২ মিনিট মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিলেন... অতঃপর লেখা শুরু করলেন], সিরিয়ার জয়েন্ট টপ স্কোরার, এই সিজনে সিরিআ তে ৩০ ম্যাচে ২৯ গোল করা ইকার্দি কে নেওয়া হয়নি। নিঃসন্দেহে দিবালা আর আগুয়েরোর থেকে রেকর্ড তার ভালো এই সিজনে। 
যাই হোক , ইকার্দি না থাকায় স্ট্রাইকে থাকবেন আগুয়েরো অথবা হিগুয়েন। এই ফরমেশন ফরোয়ার্ড এবং স্ট্রাইকার দুই জায়গায় মেসি ছাড়া বাকি সবার রোটেশন হবে আশা করা যায়। 
তাহলে ফর্মেশন দাড়াচ্ছে ৪-২-৩-১; আরমানি- মারকাদো-ওতামেন্দি- ফাজিও –টাগ্লিয়াফিকো-বিগ্লিয়া- বানেগা/মাশ্চেরানো-ডিমারিয়া-মেসি-লানজিনি-আগুয়েরো/দিবালা/হিগুয়েন অথবা আরমানি- মারকাদো- ওতামেন্দি- ফাজিও –টাগ্লিয়াফিকো-বিগ্লিয়া- বানেগা-ডিমারিয়া-মেসি- পাভোন- আগুয়েরো/দিবালা/হিগুয়েন
আবার ৩-৪-২-১ ফর্মেশনে লাইনাপ হতে পারে ; আরমানি- মাশ্চেরানো-ওতামেন্দি- ফাজিও –-সাল্ভিও- বিগ্লিয়া-বানেগা/লানজিনি-ডিমারিয়া-মেসি-দিবালা-আগুয়েরো/হিগুয়েন। 


এত এত ফর্মেশন, এত এত অপশন, তবুও কেন সাকসেস চোখে পড়ছে না? তার কারণ কি সাম্পাওলি নিজেই এখনো বুঝে উঠতে পারেননি কোন ফর্মেশনে খেলাবেন? শোনা যায় সাম্পাওলি ২-৩-৩-২ ফর্মেশনেও নাকি খেলাবেন । এই ফরমেশনে দাড়াতে পারেন আরমানি -ওতামেন্দি- ফাজিও- সাল্ভিও-বিগ্লিয়া- টাগ্লিয়াফিকো-পাভোন-লোচেলসো-ডিমারিয়া-মেসি-দিবালা। সেভিয়াতে কিছুটা এমনভাবে খেলাতেন সাম্পা ।

বাস্তবে দূর্বলতা অনেক। গোলকিপিং আর ডিফেন্স রিলাইয়েবল না। মিডে কিছুটা স্বস্তি আছে কিন্তু বানেগা কিংবা লাঞ্জিনি বাদ দিলেই ডিফেন্সের মতো হয়ে যাবে। আর এটাকে হিগুয়েনের ইম্পরটেন্ট ম্যাচে মিস আর আগুয়েরোর দেশের হয়ে মোটামুটি রেকর্ড সমর্থকদের দুশ্চিন্তায় ভোগাবে। কিন্তু তাদের মেসি আছে যে দুই দলের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে দিতে পারেন।

ম্যারাডোনার একটা উক্তি দিয়ে শেষ করি। সাম্পাওলি ২-৩-৩-২ ফর্মেশনে খেলাবে শুনে ম্যারাডনার প্রতিক্রিয়া ছিলো এরকমঃ “ কি? সে এখন ২-৩-৩-২ ফর্মেশনে খেলাবে? কি হাস্যকর! এভাবে তো ১৯৩০ সালে খেলা হতো!”

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন