বিশ্বকাপ স্কোয়াড এনালাইসিসঃ  ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপ স্কোয়াড এনালাইসিসঃ ইংল্যান্ড

বিগত কয়েক বিশ্বকাপের মতো অতি হাইপ নিয়ে আসা ইংল্যান্ড দল এবার হাইপ না টিম সিলেকশনেও টেকনিকালিটির পরিচয় দিয়েছে। গ্যারেথ সাউথগেট এবার তার চাহিদা অনুসারে প্লেয়ার টেনেছেন দলে, যার কারনে অনেক বড় বড় ভ্রু কুচকানি তাকে দেখতে হয়েছে।

গোল্কিকিপিংএ যারা এসেছে পারফর্ম করেই এসেছে । কিন্তু এতদিন ধরে ইংল্যান্ডের গোলবার সামলানো জো হার্ট নেই , ফর্ম নেই তার।

অনেকেই বলেছে পিকফোর্ড স্টার্ট করবে। কিন্তু বাটল্যান্ড পিছিয়ে নেই। সাউথগেটের সাথে ভালো সম্পর্ক আছে, ইংল্যান্ডের অনুর্ধ ২১ কে নেতৃত্ব দিয়েছে, লীগে সবচেয়ে বেশী সেভ তার। নাইনটি নাইন পারসেন্ট ভালো, খালি তার ক্লাব স্টোক সিটি রেলিগেট হয়ে গেছে এই আরকি।

সো পিকফোর্ড অর বাটলান্ড এর যেকেউ রেগুলার হবে, পোপের সম্ভাবনা নেই কারণ তার এখনো ডেব্যূ হয়নি, কিন্তু লীগে ১১ টা ক্লীনশীট রাখা পোপ সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য মুখিয়ে থাকবে।

ডিফেন্সের কথা । ডিফেন্সে কোন ম্যানেজার এত অপশন রেখেছে কিনা জানানেই। সাউথগেট ৩-৫-২ ফর্মেশনে খেলাতে পছন্দ করেন আর তার থ্রি-ম্যান ডিফেন্সে এমন কাউকে চান যারা তুমূল প্রেসারেও ইন্টারসেপ্ট করবে। স্টোন্স আর লেস্টারের ম্যাকগায়ার এই জায়গায় পার্ফেক্ট। তিন নাম্বার ম্যান কে হবে তা সাউথগেটের চয়েজের উপর নির্ভর করে, তবে অপশনের কোন কমতি নেই। নেদারল্যান্ডস এর সাথে ফ্রেন্ডলিতে তিন নম্বর ম্যান ছিলো সিটির ওয়াকার। এই জায়গায় ফিল জোন্স, গ্যারি ক্যাহিল কিংবা আরো অপশন চাইলে মিডফিল্ড থেকে ডায়ারকে আমদানি করা যাবে।

মিডফিল্ডের ৫ এর ২ ডিফেন্স থেকেই আসবে। এই ফর্মেশনের জন্যেই হয়তোবা ড্যানি রোজকে নেওয়া হয়েছে। সিজন শুরুতে ‘আমার দলে চান্স পেতে হলে দরকার ফর্ম আর ফিটনেস।‘ এই ঘোষণা দেওয়া সাউথগেট যখন রোজকে পিক করেন তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন রায়ান বার্ট্রান্ডকে কেন নেওয়া হলো না। রোজের এই সিজনের কাহিনী ইঞ্জুরী আর ফর্ম খোজার । অন্যদিকে বার্ট্রান্ড সোটনের হয়ে দারূন পার্ফর্ম করেছে আর সাউথগেটের লেফট উইংব্যাকেও সে পারফেক্ট। তারপরেও রোজকে যেহেতু নেওয়া হয়েছে খেলানো তাকে হবেই। এটা অন্য দলগুলোর জন্য একটা সুযোগ। কারণ রোজকে প্রেশারে রাখলে তার ডিবক্সে বল পাঠানোর একটা টেন্ডেন্সি থাকে, যাকে বলে নেগেটিভ প্লে।  আরেক উইঙ্গব্যাকে স্পার্স এর রেগুলার ফুলব্যাক ট্রিপিয়ারের থাকার কথা। রোজের ব্যাকআপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এশলি ইয়াং এবং ফ্যাবিয়ান ডেলফ কে, ডেলফ উইংব্যাকে আর মিডফিল্ডে দুইজায়গায়ি খেলতে পারেন বাট কতটা ভালোভাবে পারেন তা আসলেই সন্দেহজনক । কারণ সে নিজেও রোজের মত ঘন ঘন ইঞ্জুরি কাটিয়ে এসেছে।

এগেইন, এতো ফিটনেস রিস্ক ওয়ালা প্লেয়ার কেন নেওয়া হলো যেখানে বারট্রান্ডের মতো অপশন ছিলো?

রাইট উইংব্যাকে ট্রিপিয়ারের ব্যাকাপে থাকবে লিভারপুলের ট্রেন্ট- আলেক্সান্ডার আরনোল্ড, যিনি লিভারপুলে দারূন সিজন কাটইয়ে দলে সুযোগ পেয়েছে। তার দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে না। কিন্তু সমস্যা হলো তিনি ট্র্যাডিশনাল উইংব্যাক না, ফুলব্যাক ,তাকে ওই পজিশনে দিলেই সে ভালো করবে, যেহেতু ইয়াং প্লেয়ার। সুতরাং উইঙ্গে এক দুইটা ইঞ্জুরিতে সাউথগেটের এই উইংপ্লে যদি ব্যাকফায়ার করে তাহলে অবাক হবো না।

মিডফিল্ডে এমন কাউকে লাগবে যে খুব ভালো প্রেস করতে পারে। এক্ষেত্রে অপশন হলো হেন্ডারসন, ডায়ার, ডেলফ, লফটাস চিক আর লিঙ্গার্ড । প্রেসিংএর  জন্য আপনার লাগবে একটা ডিপ লাইং প্লেমেকার, বা বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার, আর দুইটা নাম্বার এইট ,যারা প্রেস করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রথমটার জন্য অপশন হলো ডায়ার আর হেন্ডারসন। দুইজনকে খুব সম্ভবত একসাথে স্টার্ট করানো হবে না, এবং ডায়ারের স্টার্ট করার চান্স আরো কম। ডায়ার একটা ডেস্ট্রয়ার, আর যখন আপনি ব্যাকে তিনজন ডেডিকেটেড ডিফেন্ডার মজুদ রেখেছেন আপনার ডেস্ট্রয়ার লাগবেই বা কেন। সুতরাং হেন্ডারসন স্টার্ট করতে পারেন। তার সমস্যা হলো সে অনেক স্কিল্ড, কিন্তু তাকে প্রেস করে ডীস্পজেস করা যায়। লীগে এই ব্যাপার কয়েকবার ঘটেছে কিন্তু ক্লপের কাউন্টার প্রেসিং এ প্রাণ বেঁচেছে। অপর দুইমিডফিল্ডের একটা পজিশনে থাকবেন লফটাস-চিক। দারুন পটেনশিয়াল সম্পন্ন একটা প্লেমেকার।কিন্তু এই ওয়ার্ল্ডকাপে তার সরু কাধে গুরুদায়িত্ব পড়তে যাচ্ছে কারণ দলে আর কোন নাম্বার এইট নেই যে তার ঘাড়ে চাপানো রিস্পন্সিবিলিটি শেয়ার করবে। রেগুলার প্লেয়ার অক্সলেড-চেম্বারলেইন ইঞ্জুরিতে। কেন লালানা কে দলে নেওয়া হয়নি তার জন্য অবশ্যই সাউথগেটকে কথা শুনতে হবে, কারণ সে ইঞ্জুরি থেকে ফিরলেও সাউথগেটের প্রেসিংএর গুরুত্বপূর্ন পার্ট। লালানাকে স্ট্যান্ডবাই লিস্টে রাখা হয়েছে।আর উইলশেয়ারকেও নেওয়া হয়নি।  আরো কথা হতে পারে কেন নিউক্যাসেলের জঞ্জো শেল্ভিকে নেওয়া হয়নি। এই সিচুয়েশনে সেও পার্ফেক্ট ।

লফটাস-চিকের থেকে বল পেয়ে লিঙ্গার্ডের দায়িত্ব হবে বল নিয়ে স্ট্রাইকে জয়েন করা। নেদারল্যান্ড আর ইটালির বিপক্ষে দুই ম্যাচেই চেম্বারলেনের পার্টনার ছিল সে, প্রথমটা ইংল্যান্ড জিতে ১-০ তে, পরেরটা ড্র করে ১-১ এ। এই পজিশনে দেলে অ্যালিকেও দেখা যেতে পারে।

স্ট্রাইকে ভুরি ভুরি অপশন সাউথগেটের হাতে। হ্যারি কেনের সাথে সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে অ্যালি,স্টার্লিং, র‍্যাশফোর্ড, ওয়েলবেক, লিঙ্গার্ড কেও দেখা যেতে পারে। অ্যাটাক দুর্দান্ত থাকবে।

সো লাইনাপ দাড়াচ্ছে ৩-৫-২ : পিকফোর্ড/বাটল্যান্ড-ওয়াকার-স্টোন্স-ম্যাকগায়ার-ট্রিপিয়ার-রোজ-হেন্ডারসন-লফটাস চিক-লিঙ্গার্ড – কেন – স্টার্লিং

আবার সাউথগেট চাইলে ৪-৩-৩ এও শিফট করতে পারেন। সেক্ষেত্রে অনেক প্লেয়ার তাদের প্রপার পজিশন পাবে।  ওয়াকার তার রাইটব্যাক আর ট্রেন্ট আরনল্ড তার লেফটব্যাক জায়গা পাবে। আর রাইট উইঙ্গে স্টারলিং, লেফট উইঙ্গে র‍্যাশফোর্ড আর স্ট্রাইকে কেন।দলের নেতৃত্বে থাকবেন হ্যারি কেন । 

সাউথগেট তার দলে অনেক ইয়াং প্লেয়ার নিয়েছেন , আর ইংল্যান্ড এমন একটা দেশ যেখানে সাপোর্টাসরা দল থেকে অনেক বেশী প্রত্যাশা করে। এর আগে রূনি, বেকহামকে এগুলো সামলাতে হতো এখন তাদের সামলাতে হবে।

লাইন আপ যাই হোক না কেন একটু দূর্বলতা অবশ্যই থাকবে সেটা হলো এক্সপেরিয়েন্স ঘাটতি।

 

 

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন