বিশ্বকাপ স্কোয়াড এনালাইসিসঃ পর্তুগাল

বিশ্বকাপ স্কোয়াড এনালাইসিসঃ পর্তুগাল

দলে একটা বিশ্বসেরা সেরা প্লেয়ার থাকলে তাকে ঘিরেই দল সাজাও।

দুই বছর আগে ইউরো জেতায় আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকবে। কিন্তু বিস্বকাপে এতোদিন পর একটা বিস্ট রোনালদো ছাড়াও একটা বিশেষ জিনিস পেয়েছে ফারনান্দো সান্তোস, স্টেবিলিটি।

এটলিস্ট পর্তুগালের স্কোয়াড দেখে বুঝা যায় সান্তোস কাকে কেন নিয়েছেন।

দলের মূল গোল্কিপার পেনাল্টি স্পেশালিস্ট রুই প্যাঁট্রিসিও, তার কোন সন্দেহ নেই।

ডিফেন্সে সেন্টারব্যাকে দাড়াবেন এককালের বিশ্বকাঁপানো কিছু 'বুড়ো' । পেপে (৩৫) , আর তার পাশে দাঁড়াবেন হয় ফন্তে(৩৪) ,নাহয় ব্রুনো আল্ভেস(৩৬)। যদিও এই বুড়োদের এক্সপেরিয়েন্স তাদের হয়ে কথা বলে,  এই ডিফেন্স দেখে প্রশ্ন হয়, সান্তোসের হাতে কি আর ডিফেন্ডার ছিলো না? ছিলো এবং আছে। বেনফিকার ২১ বছর বয়স্ক রুবেন দিয়াস, যার জাতীয় দলের হয়ে ডেব্যু হয়নি।

এইকারণ সান্তোস ডাইনামিক কোন ফুলব্যাক না খুঁজে দলে নিয়েছেন সেড্রিককে। সাউদাম্পটনের এই রাইটব্যাক ডিফেন্সিভ্লি স্ট্রং। কিন্তু একটু খাটো, এরিয়াল ডুয়েলের জন্য পার্ফেক্ট নন। সান্তোস তাকে মূলত নিয়েছেন ডিফেন্সের জন্যেই।

তার ব্যাকআপে থাকবেন রিকার্দো পেরেইরা, দুই ব্যাকেই খেলতে পারেন। সুযোগ পেলে কোচকে ইম্প্রেস করার টার্গেটেই নামবেন। 

লেফটব্যাকে থাকবেন ডর্ট্মুন্ডের গেরেরো। ইনি অনেক ভার্সেটাইল। লেফট উইং দিয়ে ক্রস বা কাটইন করা তার সিগ্নেচার মুভ। তবে এরিয়াল ডুয়েলে ইনিও দূর্বল।

মূলত এই দলের ডিফেন্স অতটা ভরসার না । এবং সান্তোস নিজেও তা জানেন। তাই আশা করা যায় একটা ডিফেন্সিভ ফর্মেশন দাড়া করাবে সে। দলে রোনালদোর মতো ফিনিশার থাকলে জেতার জন্য কিছু সুযোগই যথেষ্ট ।

হোল্ডিং মিডফিল্ডে থাকবেন কার্ভালহো। কিন্তু তার ব্যাকআপ কে? রুবেন নেভেসের দলে অন্তর্ভুক্তি এক প্রকার নিশ্চিত ছিলো কিন্তু তার দলে না থাকা সান্তোসের একটা চমক, এটা পজিটিভ্লি নাকি নেগেটিভ্লি এফেক্ট করবে তা সময়ই বলবে।

কিন্তু যেহেতু নেভেস নেই কার্ভালহোর ব্যাকআপে থাকবে গেরেরো। তাহলে লেফটব্যাকে তার জায়গা নিতে পারেন পেরেইরা কিংবা মারিও রুই।

৪-৪-২ তে অন্য দুই মিডফিল্ডার হতে পারেন হোয়াও মারিও এবং মৌতিনহো। মারিওকে খুব সম্ভবত ওয়াইড মিডফিল্ডে ডিপ্লয় করা হবে। সেক্ষেত্রে উইং থেকে কাউকে নেমে আসতে হবে। সান্তোস এবার দলে অনেক উইঙ্গার নিয়েছেন। তাই লেফট সাইডে সিটির বারনার্দো সিল্ভা কিংবা দুর্দান্ত পারফর্ম করা পিএসজির গন্সালো গুয়েদেস কে রাখা হবে। রন থাকবে মেইন স্ট্রাইকার রোলে আর সেকেন্ড স্ট্রাইকার রোলে থাকবে আন্দ্রে সিল্ভা। হোয়াও মারিও কিংবা ম্যানুয়েল ফারনান্দেস কে লেফটমিড হিসেবে ডিপ্লয় করার সুবিধা হচ্ছে তারা ড্রপব্যাক করে ফুলব্যাকদের থেকে বল রেস্কিউ করে সামনে নিয়ে যায়, কিছুটা রিয়ালের ভাস্কেজ এর মতো। এতে ফুলব্যাকরা ওভারল্যাপ করার সুযোগ পায়, এবং রাইট মিডে কারেসমা বা বারনার্দো সিল্ভা সামনে এটাকে কন্ট্রিবিউট করার সুযোগ পাবে। 

ইতিহাস বলে রোনালদোর সাথে একজন সেকেন্ড স্ট্রাইকার রাখতে হবে। যে কারনে রিয়ালে রোনালদোর পাশে বেঞ্জেমাকে স্টার্ট করানো হয়। আন্দ্রে সিল্ভা কিংবা আদ্রিয়ান সিল্ভা দুইজনের একজনকে সেকেন্ডারি স্ট্রাইকার রোলে দেখা যাবে। অথবা সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসএবে ব্রুনো ফারনান্দেস কেও দেখা যেতে পারে, বাট এই পজিশনে আন্দ্রে সিল্ভাকে কোচ প্রিফার করবে বেশি । এই ৪-৪-২ ফর্মেশনে ফ্রেন্ডলিতে পর্তুগাল ইজিপ্ট কে হারায়, যেখানে পরের ম্যাচেই ৪-৩-৩ ফর্মেশনে রোনালদোকে লোন স্ট্রাইকার রোলে রেখে পর্তুগালকে ৩-০ গোলে হারতে হয় নেদারল্যান্ডস এর কাছে । So the results speak...

তারপরেও আমার মনে হচ্ছে সান্তোস সেই ৪-৩-৩ আবার ট্রাই করতে পারেন, আন্দ্রে সিল্ভা কে ড্রপ করে গুয়েদেসকে লেফট উইং আর গেলসন কিংবা কারেসমাকে রাইট উইঙ্গে রেখে। নাহলে সান্তোস এতো এতো উইঙ্গার নিতেন না। রিয়ালেও এই ফর্মেশন ট্রাই করা হয়েছে, কিন্তু সেকেন্ড হাফে, কিংবা দল সেইফ পজিশনে থাকলে ।

অথবা ৪-৩-৩ তে রোনালদোকে লেফট উইঙ্গে রেখে আন্দ্রে সিল্ভা কে ফরোয়ার্ডে দেখা যেতে পারে। রিয়ালে এই ফর্মেশনই মাঠে নামলে ৪-৪-২ হয়ে যায়, যেখানে রোনালদো ঘুরেফিরে স্ট্রাইকেই যায় আর মার্সেলোকে লেফটউইং দিয়ে এটাক দিতে হয়, যেটা এক্ষেত্রে পর্তুগালে গেরেরোকে করতে হবে।

সো প্রজেক্টেড লাইনাপ ৪-৪-২ বা ৪-১-৩-২ ; রুই প্যাট্রিসিও- সেড্রিক-পেপে-ফন্তে-গেরেরো-কার্ভালহো-মৌতিনহো-মারিও-বারনার্দো/গুয়েদেস-রোনালদো-সিল্ভা

বটমলাইন ইজ ডিফেন্সে দূর্বলতা আছে ঠিক, কিন্তু সেইটা ঢাকার জন্য সান্তোস গোলে মনোযোগ দিবেন। আপনি রোনালদোর মতো এটাকিং থ্রেটকে যখন মার্কিং করে শান্তিতে চোখ বুজবেন তখন সিল্ভা, গুয়েদেস, বারনার্দো সর্বনাশ করে যাবে। তাই ডিফেন্সিভ্লি সবসময় কন্সেন্ট্রেশন রাখতে হবে, কিছুক্ষনের ছন্দপতন এই এটাক কাজে লাগাবে। কিন্তু দলটা তবুও রোনালদোর উপর নির্ভরশীল এবং রোনালদোর দুই তিনটা খারাপ ম্যাচ পর্তুগালকে বিপদে ফেলতে পারে।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন