বিশ্বকাপ স্কোয়াড অ‍্যানালাইসিসঃ ফ্রান্স

বিশ্বকাপ স্কোয়াড অ‍্যানালাইসিসঃ ফ্রান্স

লাকাজেট কই, মার্সিয়াল কই, র‍্যাবিও কই, লাপোর্তে কই, কুরজাওয়া কই।

এই বিশ্বকাপে সব পজিশনে ট‍্যালেন্ট আর পটেনশিয়াল দিয়ে ঠাসা এই একটা টিমই আছে। কিন্তু বড়লোক অর্ধেক খায় আর অর্ধেক ফালায়। ফ্রান্সের ৩য় টিম বিশ্বকাপের অনেক দেশের ১ম টিম হতে বেশি পটেনশিয়াল সম্পন্ন।

এত খাসা একটা টিমের একটাই সমস্যা। কোচ দেশম এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসেন। এই টিম কোয়ালিফাইংয়ে গ্রূপ চ‍্যাম্পিয়ন হয়েছে, বাট লুক্সেমবার্গ এর সাথে ঘরের মাঠে ড্র আর সুইডেন এর কাছে হার সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে।

গোলকিপারের পজিশনে নিশ্চিত টটেনহ্যাম এর লরিস আর সেকেন্ড কিপার প‍্যালেসের মান্দান্দা । আরিওলা চান্স পাবেনা খুব।

লেফটব‍্যাকে সিটির মেন্ডির সাথে অ্যাটলেটিকোতে নিজেকে প্রুভ করা লুকাস হারনান্দেজ সুযোগ পাবে। মার্চের থাই ইন্জুরির পর ডিগনের তেমন নজরকাড়া পারফরম্যান্স আমার চোখে পড়ে নি। আর কুরজাওয়া পিএসজিতে রোটেশনের স্বীকার

তবে রাইটব্যাক পাভার্টের ব‍্যাকাপ কেন রাখা হয়নি তা দেশম ভালো জানেন ‌। সেভিয়ার কর্চিয়াকে নেওয়া যেত।  সিদিবে রেগুলার মোনাকোতে রাইটব্যাকে  স্টার্ট করে। সিদিবে সেইফ অপশন।  পাভার্টের প্রিফার্ড পজিশন হচ্ছে সেন্টারব্যাক। তাই এখানে সিদিবে কে দেখার সম্ভাবনাই বেশি।  

সেন্টারব‍্যাকে বিশাল কম্পিটিশন। ভারানে আর উমতিতি স্টার্ট করবে আশা করা যায়। দুজনকেই কিছু মিস্টেক করতে দেখা যায়। আর সেটা হলে ভার্নার ড্রাক্সলারকে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তাদের ব‍্যাকাপ পাভার্ট, রামি এবং কিম্পেম্বে। এদের সাথে কম্পিটিশনে লাপোর্তে বাদ পড়ে গেছে। 

ডিবক্সে সুযোগসন্ধানী হতে হবে ‌ । পোচাররা ভালো এফেক্টিভ হবে।

মিডফিল্ডে একটা দূর্বলতা রয়েছে। দেশম এই পর্যন্ত দুটি ফর্মেশন কাজে লাগিয়েছে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ফ্রেন্ডলিতে ৪-২-২-২ ফর্মেশনে স্ট্রাইকে গ্রীজম‍্যান আর জিরূদের ফ্লুইডিটি ছিলো দেখার মতো‌ । উইংএ ছিলো এমবাপ্পে আর লেমার। কিন্তু লেমারকে বারবার নিচে নামতে হয় । ৪-২-২-২ ফর্মেশন ফুলব‍্যাকদের স্বাধীনতা দিলেও মিডফিল্ডারদের পজেশন ধরে রাখতে হয়, যা মাতুইদি আর কান্তে ঠিকমতো করতে পারেনি। কান্তের ভুলে দ্বিতীয় গোলটি হয়।

এর সলুশন হলো পগবার মতো ডিপ লাইং প্লেমেকার। কিন্তু তার ভালো খেলার জন‍্য থ্রি-ম‍্যান মিডফিল্ড লাগবে । মাদ্রিদে যেমন ক্রুস-মদ্রিচ একে অপরকে কমপ্লিমেন্ট করে। পগবার জন‍্য সাজানো ৪-৩-৩ ফরমেশনে রাশিয়ার বিপক্ষে ফ্রেন্ডলিতে সাফল্য আসে। পগবার সাথে থ্রি-ম্যান মিডফিল্ডে ছিলো কান্তে আর রাবিও । দুই উইঙ্গে ছিলো মারসিয়াল আর দেম্বেলে, স্ট্রাইকে ছিলো এম্বাপ্পে। ম্যাচ ফ্রান্স জিতে ৩-১ গোলে।
রাবিওকে কিংবা মুসা সিসোকোকে যদিও নেওয়া হয়নি কিন্তু এঞ্জজি বা টলিসোকে দিয়ে মিডফিল্ড কভার দেওয়া যাবে। টলিসোর থেকে আমি রাবিওকে বেশী প্রিফার করতাম।

এটাকের ব্যাপারে যখন দেশমকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে কেন মারসিয়াল, লাকাজেতকে নেওয়া হয়নি তিনি বলেন লাকা আর মারসিয়াল বাদ পরেছে কম্পিটিশনের কারনে। গ্রীজম্যান, এম্বাপ্পে, লেমার, ফেকির, তভিন এরা সবাই ক্লাব লেভেলে দারুন সিজন কাটীয়ে এসেছে। এখানে দেশমের কাছে অনেক অনেক অপশন আর কম্বিনেশন। এরা উইঙ্গে অনেক ভারসেটাইল। ক্লাব লেভেলে এম্বাপ্পে(১৩ গোল,৮ এসিস্ট), গ্রীজম্যান( ১৯ গোল ৮ এসিস্ট), থভিন(১৯ গোল ১০ এসিস্ট), ফেকির( ১৭ গোল ৬ এসিস্ট) এরাই লিড করবে বলা চলে। জিরুদকে যদিও রাখা হয়েছে জাতীয় দলের হয়ে তার ফর্ম বিবেচনা করে।  জিরুদ আর গ্রীজম্যান দুজনেই কোয়ালিফাইং এ ৪ গোল করেন । মারসিয়াল ইঞ্জুরি থেকে ফিরার পর মোরিনহোর একাদশে ঠিকমতো জায়গা হচ্ছে না। আর লাকার থেকে জিরূদের ফর্ম ভালো। ফ্রান্সের জন্য জিরুদ আরও সফল। 

তাহলে এম্বাপ্পে আর গ্রীজম্যানকে দুই উইঙ্গে রেখে জিরুদকে স্টার্ট করানো যায় স্ট্রাইকার হিসেবে। আবার এম্বাপ্পে, থভিনকে দুই উইঙ্গে রেখে গ্রীজম্যানকে স্ট্রার্ট করিয়ে একটা আগুন লাইনাপ দাঁড় করানো যায়। এই উইং পজিশনগুলো দেম্বেলে, ফেকির, লেমারো নিতে পারেন। অনেক অনেক অপশন, মোটামুটি সবাই ফর্মে আছেন। ফরোয়ার্ড লাইনাপ চয়েজ করতে মোটামুটি একটা মধুর সমস্যায় পড়তে হতে পারে দেশমকে।

তাহলে প্রজেক্টেড লাইনাপ ৪-৩-৩ঃ লরিস- সিদিবে-ভারানে-উমতিতি/রামি-মেন্ডি/হারনান্দেজ-কান্তে-পগবা-টলিসো-এম্বাপ্পে-গ্রীজম্যান-জিরুদ

আবার যদি দেশম গতিশীল কাউন্টার এটাকিং লাইনাপে যেতে চান তাহলেঃ লরিস-সিদিবে-ভারানে-উমতিতি/রামি-মেন্ডি/হারনান্দেজ-কান্তে-পগবা-মাতুইদি-দেম্বেলে-এম্বাপ্পে-গ্রীজম্যান । আর উইঙ্গে আগেই বলেছি থভিন, ফেকির যেকেউ স্টার্ট করতে পারে ফর্ম বিচারে। লেমার উইঙ্গে চান্স না পেলে মিডফিল্ডেও স্টার্ট করতে পারেন। 

ফ্রান্সের দূর্বলতা ওদের পুরো টিম এর ইন্ডিভিজুয়াল ব্রিলিয়ান্স থাকলেও একটা টিম হিসেবে কাজ করছে না । ওদের ডিফেন্স এখনো কিছুটা নড়বড়ে। এটাক যদিও আগুন। কিন্তু গ্রীজম্যান কে প্রিফার করে ফর্মেশন সাজালে পগবা এভারেজ হয়ে যাবে আর পগবাকে প্রিফার করলে গ্রীজম্যান ।

এখন দেখার বিষয় দেশম কি গ্রীজম্যান কে বেশী গুরুত্ব দিবে নাকি পগবাকে।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন