বিশ্বকাপ স্কোয়াড এনালাইসিস: ব্রাজিল

বিশ্বকাপ স্কোয়াড এনালাইসিস: ব্রাজিল

তিতের আন্ডারে রীতিমতো ঘুরে দাঁড়ানো ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলবে এক চমক হিসেবে। ৭-১ আর এই ব্রাজিল দলে রয়েছে অনেক তফাৎ। আগাগোড়া গুছানো এই দল এখন চমৎকার ফুটবল খেলবে।

গোলকিপারের পজিশনে এবার আছে রোমার অ্যালিসন আর ম্যানসিটির এডারসন। পারফরম্যান্স এর বিচারে তিতে এলিসন কে প্রিফার করবেন। যদি অ্যানফিল্ডে লিভারপুল বনাম রোমার ম্যাচটি বাদ দিয়ে ধরি, এলিসন দারুণ ফর্মে আছেন।

সেন্টারব্যাক হিসেবে ইন্টারের মিরান্দা , পিএসজির মারকুইনহোস আর থিয়াগো সিলভার সলিড ডিফেন্স দেখা যাবে। যদিও ডেভিড লুইজ নাই, কিন্তু ব্যাকাপ দেওয়ার জন্য গেরোমেল থাকবেন। তবে এই পর্যন্ত আসতে হবে না। থিয়াগো সিলভা, মারকুইনহোস আর মিরান্দার মধ্যেই রোটেশন চলবে।

লেফটব্যাকে মারসেলো অটো চয়েস। তার ব্যাকাপ হিসাবে থাকবেন অ্যাটলেটিকোর ফিলিপে লুইস এবং বায়ার্নের রাফিনহা। ইন্জুরি থেকে ফিরে ফিলিপে লুইস দারুণ ফর্মে আছেন।

রাইটব্যাকে দানি আলভেজের ইন্জুরিতে চিন্তার ভাঁজ পড়বে তিতের কপালে। ম্যানসিটির ফর্মার মাদ্রিদিস্তা দানিলো যদিও অসাধারণ কিন্তু তার কিছু পজিশনিং সমস্যা আছে । তাকে প্রায়ই দেখা যায় সামনে। তার এই এডভেঞ্চার প্রীতির শাস্তি ড্রাক্সলার ভালোমতোই দিতে পারে।

আরেক রাইটব্যাক ফ্যাগনার কে তিতে অনেক খেলিয়েছেন। তাই দানিলো ফ্যাগনারের ভালোই রোটেশন চলবে।

মিডফিল্ডের তিন স্তম্ভ রিয়ালের ক্যাসেমিরো, সিটির ফার্নান্দিনহো আর বার্সার পলিনহো/কৌতিনহো। তিতের কাউন্টার প্রেসিং এর মূল অস্ত্র। জার্মানি বনাম ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচে এই ত্রয়ী মিডফিল্ড দখল করে জার্মান মিডফিল্ডার দের ওয়াইডে পুশ করে। বাকি কাজটা মার্সেলো আলভেজই করেছে । ফলাফল জার্মানদের ০-১ গোলে হার। আবারও যদি ব্রাজিলকে ফেস করতে হয়, এরা ক্রুজকে ট্রাপ করবে বলাই যায়। এই ত্রয়ীর মিডফিল্ড ডমিনেশন ভাঙতে হলে মুলার, ওজিল , ড্রাক্সলারকে ফল ব্যাক করে ক্রুজের কাছ থেকে বল নিয়ে ওকে ফ্রী করতে হবে।

লেফটউইংএ নেইমার এই দলের প্লেয়ার টু ওয়াচ। নেইমারকে সামাল দিতে হলে বোয়া হুমেলস কে একটিভ থাকতে হবে। আর টার স্টেগানকে ওর লংশটগুলো এন্টিসিপেট করতে হবে।

রাইটউইংএ চেলসির উইলিয়ান অটো চয়েস। কিন্তু স্ট্রাইকে থাকবেন লিভারপুলের ফারমিনো আর সিটির গ্যাব্রিয়েল হেসুস, যা তিতের দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। দুজনেই তাদের ক্লাবের হয়ে সফল কিন্তু কেউই টার্গেটম্যান না । এবারের উচলে লিভারপুল বনাম সিটির ম্যাচে লিভারপুলের লম্বা লম্বা ডিফেন্ডারদের সাথে হেসুসকে স্ট্রাগল করতে হয়েছে। আর ফারমিনো সেকেন্ড স্ট্রাইকার । সে নেইমার কিংবা উইলিয়ানের জন্য স্পেস ক্রিয়েট করতে পারে। এদের দুইজনের একজনকে ৪-৩-৩ এ লোন স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যাবে।

তবে ব্রাজিলের কাছে আরেকটি ট্রাম্প কার্ড আছে। সেটা তাদের ৪-১-৪-১ ফর্মেশন। নেইমারকে ফরোয়ার্ডে রেখে লেফ্ট উইংএ কৌতিনহো আর মিডে পলিনহোর পাশাপাশি আর্থারকে রাখলে দূর্দান্ত একটা এটাক হবে। মিডফিল্ড ব্যাটল জেতার জন্য কৌতি এবং উইলিয়ান আছেন পাশাপাশি বল উইন করে উইং থেকে কাটইন করে ডিবক্সে ঢুকার পারদর্শী তারা।

আর ক্রসিং নিয়েও চিন্তা নেই, নিচ থেকে উপরে উঠে আসবে মার্সেলো আর দানিলো। আর ফিনিশিং ড্রিবলিংয়ের জন্য নেইমার তো আছেনই।

এত সব কিছু সামলাতে ডিফেন্ডারদের হিমশিম খেতে হবে।

কোচ যেহেতু তিতে সেহেতু ব্রাজিল সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাবে আশা করাই যায়! ফাইনালিস্ট হলেও হতে পারে।

 

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন