সাদাকালো যুগের ফুটবল ০8 - ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ রাইট ব্যাক - দ্যা ওয়াল

সাদাকালো যুগের ফুটবল ০8 - ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ রাইট ব্যাক - দ্যা ওয়াল

মাত্র তিনজন ফুটবলার বিশ্বকাপের অল স্টার টিমে ( FIFA World Cup All Star team) তিন বার (সর্বচ্চ বার) করে জায়গা করে নিয়েছে। Franz Beckenbauer (ফ্রাঙ্ক বেকেনবাওয়ার ) , Philipp Lahm (ফিলিপ লাম) এই দলের সদস্য ।কিন্তু তাদের মধ্যে সবার আগে যে এই কাজটা করেছে তিনি হচ্ছেন দ্যা ওয়াল খ্যাত জালমা সান্তস (Djalma Santos)।
উরুগুয়েইয়ান লেখক Eduardo Galeano ( এদুয়ারদো গালিয়ানো) তাঁকে মুরালদা (Muralha) নামে আখ্যায়িত করেছিল , যার অর্থ দ্যা ওয়াল বা বাংলায় দেয়াল বলা যায়।



১৯২৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী, সাও পাউলো এর এক গরীব ঘরে তার জন্ম। ১৯৪৮ সালে ১৯ বছর বয়সে সে Portuguesa (পর্তুগুয়েসা) ক্লাবে যোগ দেয়। তার আগেও সে অন্যান্য জুনিয়র টিম গুলোতে খেলেছে সেন্টার ডিফেন্ডার হিসাবে। পর্তুগুয়েসা তেও প্রথমে এই রোলেই খেলত কিন্তু তার খেলার মাঝে সামনে আগিয়ে গিয়ে এটাক করার প্রবণতার জন্য তাঁকে পরে রাইট ব্যাক হিসাবে খেলানো শুরু করা হয়।

১৯৫২ সালে রিও- সাও পাওলো টুর্নামেন্টে এই পজিশনে সে ডমিন্যান্ট করে ও তার ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয় । এই একই বছরেই ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে তার অভিষেক হয়। সেখানে সে নিলটন সান্তসের সাথে ফুলব্যাক জুটি করে যা এক যুগ ইন্টারন্যাশনাল ফুটবলে রাজত্ব করেছে।

প্যান-আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে পেরু এর সাথে ম্যাচ দিয়ে তার হলুদ জার্সিতে অভিষেক হয় । সেই টুর্নামেন্ট ব্রাজিল জিতে এবং পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তার অসাধারণ খেলার জন্য সে ঐ টুর্নামেন্টের ' প্লেয়ার অব দ্যা টুর্নামেন্ট ' নির্বাচিত হয়।

১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে সে ব্রাজিলের হয়ে অসাধারণ খেললেও ব্রাজিল কোয়ার্টার-ফাইনালে হেরে যাওয়ায় সেইবার বিশ্বকাপ জেতা হয়নি । কিন্তু সে তার অসাধারণ খেলা প্রদর্শনের জন্য বিশ্বকাপের অল স্টার টিমে ( FIFA World Cup All Star team) প্রথম বারের মত জায়গা করে নেয়।

১৯৫৮ বিশ্বকাপে পরে তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়। এই বিশ্বকাপেও বিশ্বকাপের অল স্টার টিমে ( FIFA World Cup All Star team) এ দ্বিতীয়বারের মত সে জায়গা করে নেয়। ফাইনালে লেনার্ট কে মার্কে রাখা তারই কাজ ছিল।

১৯৫৯ সালে পর্তুগুয়েসা এর হয়ে ৪০০ এরও অধিক ম্যাচ খেলার পর পালমেইরাস ( Palmeiras)- এ যোগ দেয় যেখানে সে তাদের হয়ে সাও পাওলো স্টেট লিগ টাইটেল জিতে যা তাদের বিগত ১০ বছরে প্রথমটি ছিল। পালমেইরাস ( Palmeiras) -এর হয়ে সে.৯ বছরে ৫০০ এরও অধিক ম্যাচ খেলেছে ।

১৯৫৯ সালে সে Atlético Paranaense এক সিজন খেলে ফুটবল থেকে রিটায়ার নেয়।

আবারো ফিরে যাওয়া যাক হলুদ জার্সি এর গল্পে।

Image result for djalma santos

১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে সে গারিঞ্ছা এর সাথে রাইট ফ্লেঙ্কে অসাধারণ জুটি গোড়ে তুলে । ব্রাজিলের হয়ে এইবার তার দ্বিতীয় ও শেষ বিশ্বকাপ জিতে । এবং তৃতীয় বারের মত বিশ্বকাপের অল স্টার টিমে ( FIFA World Cup All Star team) জায়গা করে নেন। যেটা সে সময়ে একমাত্র তিনিই করে দেখিয়েছেন।

১৯৬৬ সালে তিনি তার শেষ বিশ্বকাপ খেলেন ৩৭ বছর বয়সে হলুদ জার্সিতে। যেখানে কার্লোস আলবার্তোকে খেলানোর কথা থাকলেও প্রথম দুই ম্যাচ তাঁকে দিয়েই শুরু করানো হয়।

তিনি তার খেলার ধরণের জন্য বিখ্যাত ছিলেন এবং ফ্যানদের কাছে প্রিয় ছিলেন। তার সময়ে ডিফেন্ডারদের উপরে উঠে খেলাটা প্রচলিত ছিল না । তিনি আর নিলটন সান্তসই ফুল ব্যাক এর স্রস্থা।

তিনি অসাধারণ ক্রসার ছিলেন। ওভারল্যাপ করে অ্যাটাকে অনেক সহয়তা করতেন দলকে। তার গতি ও ট্যাকেল ছিল দেখার মত। অ্যাটাক ও ডিফেন্ডিং দু;টতেই ছিলেন সমান পারদর্শী। টেকনিকাল খেলায় তার কোন জুটি ছিল না । আর ডিফেন্ডাররা যে টেকনিক্যালি খেলায় সহয়তা করতে পারে টা তিনি দেখিয়ে গিয়েছেন ।

২০০৪ সালে ১২৫ জীবিত শ্রেষ্ঠ ফুটবলার এর লিস্টে তিনি ছিলেন ।
২৩ জুলাই ,২০১৩ তে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Image result for djalma santos

বিশ্বকাপের অল স্টার টিমে ( FIFA World Cup All Star team) তিন বার জায়গা পাওয়া একমাত্র ব্রাজিলিয়ান তিনি এবং এমন তিনজনের মধ্যে প্রথমজন।রাইট ব্যাকদের পথ প্রদর্শক তিনি ।
ডিফেনন্ড করা ছাড়াও যে খেলায় ডিফেন্ডারদের আর অনেক ভুমিকা থাকতে পারে তা তিনি দেখিয়ে গিয়েছেন।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন