সাদাকালো যুগের ফুটবল ০৩ --- ' হিংসায় যাকে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে তাড়ানো হয়েছিল '

সাদাকালো যুগের ফুটবল ০৩ --- ' হিংসায় যাকে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে তাড়ানো হয়েছিল '

আজকের গল্পটা এমন একজনকে নিয়ে যাকে নিয়ে স্বয়ং পেলে বলেছিলেন - " আমি কখনই তার সমতুল্য এত ভাল হতে পারব না । সে আমার আইডল। আমার কেনা প্রথম প্রথম ছবির কার্ড গুলো তারই ছিল " ( ১৯৫৮ বিশ্ব কাপের সময়ে ইন্টারভিউতে পেলে )

Image may contain: 3 people, people standing and shoes

আজকের গল্পটা ১৯৫৮ সালের ওয়ার্ল্ড কাপ গোল্ডের বল প্রাপ্ত দিদি কে নিয়ে ( ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের সেরা প্লেয়ার) ।
পুরো নাম ওয়ালদির পেরেইরা ( Waldyr Pereira )। তার জন্ম ৮ই অক্টোবর ,১৯২৮ সালে রিও দি জেনেইরো থেকে ১৫০ মাইল দূরে ক্যাম্পস (Campos) নগরীতে। ব্রাজিলের হয়ে তিনি ৩ টি বিশ্বকাপ খেলেন ১৯৫৪,১৯৫৮ এবং ১৯৬২ যার মধ্যে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ তে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন ।
১৯৪৬ সালে আমেরিকানো ক্যাম্পস এ তার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি Fluminense , Botafogo , Real Madrid , São Paulo আরও অনেক ক্লাবের হয়ে খেলেন ।
গুগল বা ইন্টারনেটে এগুলা খুজলেই পেয়ে যাবেন ।
আমি আজকে তার অন্যরকম গল্প বলব। তার অর্জন নিয়ে না বলে আমি আজকে বলব কেন সে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মিডফিল্ডারদের একজন ।

Image may contain: 1 person, standing and outdoor


দিদিকে যা সবার থেকে আলাদা করেছিল তা হল তার গেম রিডিং। সে ব্রাজিলের মিডফিল্ডের কাণ্ডারি ছিল । প্রতিপক্ষকে ভেদ করে খেলা বানানোই ছিল তার কাজ। তার উপর ভর করেই ব্রাজিল ৪-২-৪ ফর্মেশনে খেলেছিল। মায়েস্ত্র ওয়ার্ড তার যথার্থ উদাহরণ এই দিদি । এই ওয়ার্ডটার মানেই এনে দিয়েছিল দিদি । কাউন্টার অ্যাটাক গুলা শুরু এই হত এই দিদি কে দিয়ে ।
১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে যখন ব্রাজিল ১-০ তে পিছিয়ে পরে তখন এই দিদিই তার টিমমেটদের শান্ত থাকতে বলে ।
মাঠে কখন কোথায় কিভাবে খেলতে হবে তা এই দিদিই ঠিক করে দিত।
ব্রাজিলের পুরো মাঝমাঠ এই দিদিই নিয়ন্ত্রণ করত । তার অসাধারণ খেলার জন্যই ১৯৫৮ সালের গোল্ডের বল সে পায় ।

১৯৫৯ সালে দিদি রিয়াল মাদ্রিদে ট্রান্সফার হয়ে আসে। ইউরোপিয়ান গণমাধ্যম তার ডাক নাম দেয় - " মিস্টার ফুটবল "
দি স্টেফানো দিদিকে প্রেস কনফারেন্সের পর বলেছিল -" তারা বলেছে তুমি আমার জায়গা পূরণের জন্য এখানে এসেছ , কিন্তু তুমি এতটাও ভালো না , এবং তুমি বুড়ো " ।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এক খেলার পর বার্সেলোনা ভিক্তিক সংবাদমাধ্যম মুণ্ড দেপোর্তিভো (Mundo Deportivo ) তাকে নিয়ে লিখেছিল - "তার পাস গুলো ওইভাবে দর্শক উদযাপন করেছে যেমনটা কেনারিও এর গোল করেছে।" - November 23, 1959
জি এরকমতাই কাণ্ডারি ছিল দিদি ।
স্টেফানোর দিদিকে ঘিরে গণমাধ্যম ও দর্শকের এত মাতামাতি পছন্দ হচ্ছিল না । সেই হিংসার জেদ ধরেই দিদিকে মাদ্রিদ ছাড়তে হয়েছিল ১৯৬০ সালেই।মাদ্রিদের হয়ে ১৯ ম্যাচে ৬ গোল করেন তিনি ।

মাদ্রিদ ছাড়ার পর ১৯৬২ তেই ব্রাজিলের হয়ে দিদি ২য় বিশ্বকাপ জিতে । তখন দিদি একবার বলেছিল - "যদি গ্রুপ পর্বের স্পেইনের সাথে ম্যাচে ইঞ্জুরড না থাকতাম আমি তাকে দেখাতাম আমি কি রকমের প্লেয়ার । "

Image result for didi brazil


দিদি একটা বিখ্যাত উক্তি আছে । উক্তি বললে ভুল হবে আসলে । একটা ফিলোসফি আছে। যা আধুনিক ফুটবলের চাবিকাঠি।
সে বলেছিল - " সে কিরকম আর ফুটবল প্লেয়ার যার শারীরিক ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়"
তার আরেকটি বিখ্যাত উক্তি হছে -" ওটা বল যেটাকে চলমান রাখতে হবে , প্লেয়ার না।"
ফুটবল ইন্তিলিজেন্স এর সংজ্ঞা এই দিদি ।

“He was too smart at times. He would pretend that he was going to cross the ball to one side of the pitch, and then cross it to the other. It sometimes confused us instead. He would shout, ‘No, you idiots, I’m trying to confuse the other team!” – Pele on Didi । বুঝতেই পারছেন ফুটবলে মায়েস্ত্র ওয়ার্ড এর স্রস্টা তিনি।

Image result for didi brazil

ফোলহা সেকা ( Folha Seca ) বা নাকবল (knuckleball) ফ্রীকিক এর উদ্ভাবক এই দিদি যা পরে জিকো, জুনিনহো ও এখন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকে নিতে দেখা যায়।
২০০১ সালের ১২ মে ইন্তেকাল করেন মায়েস্ত্র দিদি । সর্বকালের সেরাদের একজন ।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন