সর্বকালের অন্যতম সেরা ত্রয়ীর এচিভমেন্ট & পরিসংখ্যান

সর্বকালের অন্যতম সেরা ত্রয়ীর এচিভমেন্ট & পরিসংখ্যান

"সর্বকালের সেরা ত্রয়ী" - এই টার্মটা উচ্চারণের সাথে সাথে ফুটবলের অন্তঃত ৩ টা ত্রয়ীর নাম ব্রেইনে চলে আসে অটোমেটিকেলি। 

১।"দ্যা ইউনাইটেড ট্রিনিটি" অব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। (স্যার ববি চার্লটন-ডেনিশ ল'-জর্জ বেস্ট) ৩ জনই ব্যালন ডি'ওর উইনার। অনেকের মতে সর্বকালের সেরা ট্রায়ো এটাই। ১৯৬৮ সালে প্রথম ইংলিশ ক্লাব হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (তৎকালীন ইউরোপীয়ান কাপ) জেতার মূল কারিগর ছিল এই ত্রয়ী। কম্বাইন্ডলি ১৬৩৩ ম্যাচে ৬৬৫ গোল করেছিল সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ত্রয়ী। 


২। দ্যা ব্রাজিলিয়ান ট্রায়ো অব রিভালদো-রোনালদো-রোনালদিনহো।২০০২ বিশ্বকাপ জয়ে ব্রাজিলের এই ত্রয়ীর অবদান অনস্বীকার্য। ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ত্রয়ীর ৩ জনই ব্যালন ডি'ওর উইনার। 


৩। দ্যা লিজেন্ডারি ট্রায়ো অব রিয়াল মাদ্রিদঃ "ডন আলফ্রেড ডি স্টেফানো-ফেরেঙ্ক পুসকাস-ফ্রান্সিস্কো গেন্তো।" ইউরোপে রিয়াল মাদ্রিদের আধিপত্য স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী এই ত্রয়ী সর্বকালের অন্যতম সেরা ত্রয়ী। অনেকের মতে এচিভমেন্টের দিক থেকে সর্বকালের সেরা এই ত্রয়ী। রিয়াল মাদ্রিদকে বিংশ শতাব্দীর সেরা ক্লাব বানানোর মূল কারিগর ছিল এই লিজেন্ডারি ত্রয়ী। 


রিয়াল মাদ্রিদ ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় কে? অভিয়াসলি উত্তরটা "ডন আলফ্রেড ডি স্টেফানো।" স্টেফানো টিমমেট হিসেবে রেমন্ড কোপা,সান্তামারিয়া, রিয়াল,মিগুয়েল মুনোজসহ অনেক লিজেন্ডারি রিয়াল মাদ্রিদ প্লেয়ারকে পেয়েছিল। বাট সবচেয়ে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিল স্টেফানো-পুসকাস-গেন্তো ট্রায়ো। গতি,স্কিল,ড্রিব্লিং&ফিনিশিং এর ভয়ঙ্কর মিশ্রণ ছিল এই ত্রয়ী। রিয়াল মাদ্রিদকে ইউরোপিয়ান পর্যায়ে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল স্টেফানোবাহিনী। 


রিয়াল মাদ্রিদের লিজেন্ডারি ত্রয়ী গঠনঃ 

অনেক জল্পনাকল্পনার পর ১৯৫৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিল মাদ্রিদের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা প্লেয়ার ডি স্টেফানো। রিয়াল মাদ্রিদের প্লেয়ার থাকাকালীন সময়ে ২ টি ব্যালন ডি'ওর জিতেছেন এই আর্জেন্টাইন লিজেন্ড। 

১৯৫২ সালে প্রোফেশনাল ক্যারিয়ার শুরু করা স্প্যানিশ লিজেন্ড ফ্রান্সিস্কো গেন্তো ১৯৫৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সর্বোচ্চ ১২ টি লিগ শিরোপা & সর্বোচ্চ ৬ টা ইউরোপীয়ান ট্রফি জিতেছেন এই লিজেন্ড। 

১৯৫৮ সালে গোলস্কোরিং ম্যাশিন সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হাঙ্গেরিয়ান ফেরেঙ্ক পুসকাস রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়ার পর এই ত্রয়ী পূর্নতা পায়। যাত্রা শুরু হয় এক নতুন  বিধ্বংসী ত্রয়ীর। "দ্যা লস গ্যালাক্টিকোস অব রিয়াল মাদ্রিদ" নামেই এই ত্রয়ী পরিচিতি পেয়েছিল। 


পুসকাস যোগ দেয়ার পূর্বেই কোপা-স্টেফানো-গেন্তোরা ৩ টা ইউরোপীয়ান কাপ জিতে নিয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদের ডমিনেশনের সময়কাল বৃদ্ধি করার জন্য ৩১ বছর বয়সী পুস্কাসকে কেনা যে কতটুকু যুক্তিসংগত ছিল সেই বিষয়টা এই ত্রয়ীর এচিভমেন্ট & পরিসংখ্যান দেখলেই বোধগম্য হবে। 


১৯৫৮ সালে স্টেফানো-পুস্কাস-গেন্তো ত্রয়ী গঠনের পর ১৯৫৯ & ১৯৬০ সালে টানা ২টি ইউরোপিয়ান কাপ জিতে নিয়েছে এই ত্রয়ী। প্রথম সিজনে (১৯৫৮-৫৯) রিয়াল মাদ্রিদ লা-লিগা তে রানার্স-আপ হইলেও এই ত্রয়ী স্বীয় মহিমায় উজ্জ্বল ছিল। ডি স্টেফানো ২৮ ম্যাচে ২৩ গোল করে লিগের টপস্কোরার হয়েছিল। সব কম্পিটিশন মিলিয়ে ৪৩ ম্যাচে ৩৪ গোল করেছিল ডন স্টেফানো। পুস্কাস লিগে ২৪ ম্যাচে ২১ গোল করেছিল। সব মিলিয়ে মাদ্রিদের হয়ে প্রথম সিজনে ৩৪ ম্যাচে ২৫ গোল করেছিল এই হাঙ্গেরিয়ান। লেফট উইং এ প্লেমেকিং রোলে খেলা পেইসি গতিদানব গেন্তো করেছিল ৩৪ ম্যাচে ১০ গোল। (মূলত স্কোরিং রোলে স্টেফানো-পুস্কাসই খেলতো) প্রথম সিজনে এই ত্রয়ী সব কম্পিটিশন মিলিয়ে ১১১ ম্যাচে ৬৯ গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪র্থ ইউরোপিয়ান কাপ জিতিয়েছিল। 


এই ত্রয়ীর সবচেয়ে সফল সিজন ছিল ১৯৫৯-৬০ সিজন। মাদ্রিদের হয়ে ২য় সিজনেই এই ত্রয়ী অনন্য এক রেকর্ড করেছিল। রিয়াল মাদ্রিদকে টানা ৫ম ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের আস্বাদন দিয়েছিল এই লিজেন্ডারি ত্রয়ী। ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে ৭-৩ গোলে জয়ের রেকর্ড এখনও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনাল। গোলম্যাশিন পুস্কাস করেছিল একাই ৪ গোল। স্টেফানো করেছিল ৩ গোল। এক ফাইনালে ২ জন প্লেয়ারের হ্যাট্রিকের রেকর্ড আজীবন মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব। 

ইউরোপিয়ান কাপ জিতলেও হেড টু হেড ব্যবধানের জন্য সমান ৪৬ পয়েন্ট নিয়েও লিগ জিততে ব্যার্থ হয়েছিল এই ত্রয়ী। লিগে ২৫ গোল করে টপস্কোরার হয়েছিল ফেরেঙ্ক পুস্কাস। এটলেটকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ফাইনালে ৩-১ গোলে হেরে যাওয়ায় কোপা দেল রে জেতাটাও হয়ে উঠে নি ১৯৫৯-৬০ সিজনে। বাট টানা ২ টা ইউরোপিয়ান কাপ জয়ী এই ত্রয়ীর গেন্তো করেছিল ওই সিজনে ৩৮ ম্যাচে ১৮ গোল। পুস্কাস করেছিল ৩৬ ম্যাচে ৪৭ গোলের অনন্য রেকর্ড। স্টেফানো করেছিল ৩৪ ম্যাচে ২৩ গোল। সব মিলিয়ে ১৯৫৯-৬০ সিজনে ১০৮ ম্যাচে ৮৮ গোল করেছিল এই ত্রয়ী। 


টানা ২ টা ইউরোপিয়ান কাপ জয়ী ত্রয়ীর অধরা লা-লিগা শিরোপা আসে ১৯৬০-৬১ সিজনে। লিগে ২৮ ম্যাচে ২৮ গোল করে টপস্কোরার হয়েছিল বুড়ো পুস্কাস। পিচিচি ট্রফি জয়ী পুস্কাস ওই সিজনে ৪১ ম্যাচে ৪৪ গোল করেছিল। স্টেফানো করেছিল টোটাল ৩৬ ম্যাচে ৩০ গোল। গেন্তো করেছিল ৩৮ ম্যাচে ১৩ গোল। সব কম্পিটিশন মিলিয়ে ৩য় সিজনে ১১৫ ম্যাচে ৮৭ গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে ৭ম লা লিগা জিতিয়েছিল এই ত্রয়ী। ৩-২ গোলে এটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ফাইনাল হারায় কোপা দেল রে বঞ্চিত হয় রিয়াল মাদ্রিদ। 


সেভিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে ১৯৬১-৬২ সিজনে কোপা দেল রে জয়ের স্বাদ পায় এই ত্রয়ী। কোপা ফাইনালে পুস্কাস একাই ২ গোল করেছিল। কোপা জয়ের মাধ্যমে ৩ টাইপের মেজর ট্রফি জয়ের গৌরব অর্জন করেছিল এই ত্রয়ী। ওই সিজনে ৮ম লা লিগা জয় করে রিয়াল মাদ্রিদ। পুস্কাস লিগে ২৩ ম্যাচে ২০ গোল করেছিল। & সব কম্পিটিশনে ৪০ ম্যাচে ৪০ গোল। স্টেফানো করেছিল ৪১ ম্যাচে ২২ গোল। গেন্তো করেছিল ৪৪ ম্যাচে ১২ গোল। 

সো,নিজেদের ৪র্থ সিজনে লা লিগা & কোপা দেল রে জয়ে এই ত্রয়ীর অবদান ছিল ১২৫ ম্যাচে ৭৪ গোল। বেনফিকার বিপক্ষে ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালে ৫-৩ গোলে হেরে যাওয়ায় মাদ্রিদের ট্রেবল মিস হয় ওই সিজনে। পুসকাস ফাইনালে হ্যাট্রিকসহ সর্বোচ্চ ৭ গোল করেছিল ১৯৬১-৬২ সিজনের ইউরোপিয়ান কাপে। স্টেফানোও ৭ গোল করেছিল। বাট ট্রেবল জেতা হয় নি মাদ্রিদের। 


১৯৬২-৬৩ সিজনে লিগে সর্বোচ্চ ২৬ গোল করে রিয়াল মাদ্রিদের টানা ৩ টা লা লিগা জয়ে অবদান রেখেছিল ফেরেঙ্ক পুস্কাস। সব মিলিয়ে ৩৯ ম্যাচে ৩১ গোল করেছিল পুস্কাস। স্টেফানো করেছিল ২৪ ম্যাচে ২২ গোল অল কম্পিটিশনে। গেন্তো করেছিল ৩১ ম্যাচে ৯ গোল। সব মিলিয়ে ৯৪ ম্যাচে ৬২ গোল করে মাদ্রিদকে ৯ম লা-লিগা জিতিয়েছিল এই ত্রয়ী। 


১৯৬৩-৬৪ সিজন ছিল এই ত্রয়ীর সর্বশেষ সিজন। সিজন শেষে ডন ডি স্টেফানো মাদ্রিদ ছাড়ায় এই ত্রয়ী ভেঙ্গে যায়। ৬ষ্ঠ সিজনে রিয়াল মাদ্রিদকে ১০ম লা লিগা শিরোপা এনে দিয়েছিল এই পুস্কাসবাহিনী। লিগে ২১ গোল করে পিচিচি জিতেছিল ফেরেঙ্ক পুস্কাস। সব কম্পিটিশন মিলিয়ে ৩৩ ম্যাচে ২৮ গোল করেছিলেন তিনি। মাদ্রিদের হয়ে শেষ সিজনে স্টেফানো করেছিল ৩৪ ম্যাচে ১৭ গোল! গেন্তো করেছিল ৩৫ ম্যাচে ১৫ গোল। 

সো, এই ত্রয়ী নিজেদের লাস্ট সিজনে ১০২ ম্যাচে ৬০ গোল করে লা লিগা জিতিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদকে। বাট ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় লিজেন্ডারি ত্রয়ীর শেষ সিজনে ইউরোপিয়ান কাপ জেতা পসিবল হয় নি। পুস্কাস বরাবরের মত ৭ গোল করে ইউরোপিয়ান কাপের টপ স্কোরার ছিল ওই সিজনেও।


এচিভমেন্টঃ 

৬ সিজনে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪ টি লা-লিগা, ২ টি ইউরোপিয়ান কাপ & ১ টি কোপা দেল রে জিতাতে সক্ষম হয়েছিল মাদ্রিদের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এই ত্রয়ী।

৬ সিজনে  ৬৫৫ ম্যাচে ৪৪০ গোল করেছিল এই লিজেন্ডারি ত্রয়ী। ৩ জন প্লেয়ার একসাথে খেলাকালীন সময়ে নিজেদের মধ্যে ৪৪০ গোল করার এই রেকর্ড হাজার হাজার বছর মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব। এই ত্রয়ীর এচিভমেন্টগুলো মনে করিয়ে দিবে প্রতিপক্ষের জন্য কতটুকু ভয়ানক ছিল "দ্যা লিজেন্ডারি এস-পি-জি ট্রায়ো অব রিয়াল মাদ্রিদ"!


প্লেয়িং স্টাইলঃ স্টেফানো ছিল টিমের কি প্লেয়ার। টিমের মূল অস্ত্র ছিল স্টেফানোর টেকনিক্যাল এবিলিটি,গড গিফটেড স্কিল,প্লেমেকিং & স্কোরিং এবিলিটি। রাইট উইং এ স্টেফানো,লেফটে গতিমানব গেন্তো & সেন্টারে গোলম্যাশিন পুস্কাস।-প্রতিপক্ষের মনে ত্রাস সৃষ্টি করার আর কি দরকার ছিল? স্টেফানোর টিম ওয়ার্ক ছিল প্রশংসনীয়। টিমের সেকেন্ড স্কোরার ছিল স্টেফানো। স্টেফানো & গেন্তো মিলে ২ উইং এ স্কিল & গতির ঝড় তুলতো। গেন্তোর অতিমানবীয় গতির জন্য লেফট উইং দিয়ে অনেক বেশী কাউন্টার অ্যাটাকে যেতে পারতো মাদ্রিদ। গেন্তোর আর স্টেফানোর সামনে ছিল গোলম্যাশিন পুস্কাস। সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার এর পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় তার গোলস্কোরিং এবিলিটি & ফিনিশিং কতটুকু ধারালো ছিল। এই ত্রয়ী ফর্মে থাকাকালীন যেকোন প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল নয় কি? স্টেফানোর ইউনিক প্লেয়িং স্টাইল এই ত্রয়ীর সাফল্যের অন্যতম মূল অস্ত্র ছিল। 


ইন্ডিভিজ্যুয়াল এচিভমেন্ট& ট্রফি ফর রিয়াল মাদ্রিদঃ 

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২ টা ব্যালন ডি'ওর জয়ী স্টেফানো ৩৯৬ ম্যাচে ৩০৮ গোল করেছিলেন। ১৯৫৭&১৯৫৯ সালে ইউরোপিয়ান কাপ উইনার হিসেবে ব্যালন ডি'ওর জিতেছিলেন ডি স্টেফানো। ১৯৮৯ সালে সুপার ব্যালন ডি'ওর জয়ী ডন স্টেফানো মাদ্রিদের হয়ে ৮ টি লিগ শিরোপা এবং ৫ টি ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছেন। ১১ বছরের মাদ্রিদ ক্যারিয়ারে ১৮ টি ট্রফি জিতেছেন তিনি। ১৯৫৬-৬০ সালে রিয়াল মাদ্রিদের টানা ৫ টা ইউরোপীয়ান কাপ জয়ের ৫ টি ফাইনাল ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব রয়েছে ডি স্টেফানোর। ১৯৬১-৬৪ সাল পর্যন্ত টানা ৪ টা লিগ জয় করেই মাদ্রিদ ক্যারিয়ারের ইতি টানেন মাদ্রিদ ইতিহাসের সেরা প্লেয়ার ডন আলফ্রেড ডি স্টেফানো। 


ফ্রান্সিস্কো গেন্তো রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১৭ সিজনে ১২ টি লা লিগা, ৬ টা ইউরোপিয়ান কাপ, ২ টা কোপা দেল রে সহ ২৩ টা ট্রফি জিতেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪২৮ ম্যাচে ১২৮ গোল লিজেন্ডারি অনারারি প্রেসিডেন্ট(কারেন্ট) ফ্রান্সিস্কো গেন্তোর। তিনি ১১ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়াতে পারতেন। নট ব্যাড! পেইসি উইঙ্গারদের জন্য আদর্শ বলা যায় ফ্রান্সিস্কো গেন্তোকে। ইউরোপিয়ান কাপে ৮৯ ম্যাচে ৩০ গোল এই লিজেন্ডের। 


ফেরেঙ্ক পুসকাস রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৩ টি ইউরোপিয়ান কাপ, ৫ টি লিগ ট্রফি, ৪ টা পিচিচি জিতেছিলেন। মূলত স্ট্রাইকার হলেও পুসকাস প্লেমেকিং এ ও অংশগ্রহণ করতো। লা লিগায় ১৮০ ম্যাচে ১৫৬ গোল& ইউরোপিয়ান কাপে ৩৯ ম্যাচে ৩৫ গোল করেছিলেন পুস্কাস। তিনি মাদ্রিদের হয়ে ২৬২ ম্যাচে ২৪২ গোল করতে সক্ষম হয়েছিলেন।বাঁ পায়ের অসাধারণ ফিনিশিং এর জন্য পুস্কাস বিখ্যাত। পুস্কাসের নামেই প্রতি বছর ফিফা বেস্ট গোলের জন্য "পুস্কাস এওয়ার্ড" দেয়। রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আগে সবচেয়ে ভাল গোল র‍্যাশিও ছিল ৩১ বছর বয়সে মাদ্রিদে এসে ৮ সিজন মাদ্রিদে খেলা ফেরেঙ্ক পুস্কাসের। 


পরিশেষে, এই লিজেন্ডারি ত্রয়ী নিয়ে একটাই এক্সপেকটেশন- "দ্যা ইউনাইটেড ট্রিনিটি" এর মত সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গেইটের সামনে "স্টেফানো-পুস্কাস-গেন্তো" ট্রায়ো এর প্রতিমূর্তি স্পাপন করা হোক। একচুয়েলি এই ট্রায়ো এইটুকু সম্মান ডিসার্ভ করে রিয়াল মাদ্রিদ অথোরিটি থেকে। আশা করি আমি যেদিন বার্নাব্যুতে যাবো, সেদিন এই ত্রয়ীর প্রতিমূর্তি দেখতে পাবো। মাদ্রিদ অথোরিটির এইরকম কোন প্ল্যান আছে কিনা জানিনা! বাট ইনিশিয়েশন নেয়া উচিত। রিয়াল মাদ্রিদের আধিপত্য স্থাপনে এই বিধ্বংসী ত্রয়ীকে মাদ্রিদিস্তারা আজীবন মনে রাখবে,মনে রাখতেই হবে।ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ত্রয়ীদের নাম উচ্চারণ এর সময় এই ত্রয়ীর ৩ জনের নামও সম্মানের সহিত উচ্চারিত হবে- "স্টেফানো-পুস্কাস-গেন্তো-ওয়ান অব দ্যা বেস্ট ট্রায়ো অব অল টাইম।"


ভুল-ত্রুটি মার্জনীয়।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন