অক্টানভ কার্সঃ আসলেই কোন শাপ নাকি দৈবক্রম

অক্টানভ কার্সঃ আসলেই কোন শাপ নাকি দৈবক্রম

এবার এর ইপিএল মৌসুম বলা যায় সিটি ফ্যানদের জন্য জমজমাট। মোটামুটি গার্দিওলার আন্ডারে লীগ তাদের হাতের মুঠোয়। বাকি দল গুলার জন্য ইপিএল হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ আর ইউরোপায় স্থান করে নেয়ার জন্য প্রতিযোগিতা।
তো এই ১৭-১৮ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৭ জন ম্যানেজার স্যাক হয়েছেন দলের আশানুরূপ পারফরমেন্স না থাকার কারণে। তারা হলেন ফ্র‍্যানক ডি বোর( ক্রিস্টাল প্যালেস), ক্রেইগ শেক্সপীয়ার (লেস্টারসিটি), রোনাল্ড কোম্যান (এভারটন), স্লেভান বিলিচ( ওয়েস্ট হাম), টনি পুলিস ( ওয়েস্ট ব্রুম), মার্ক হিউজ (স্টোক সিটি), পল ক্লেমেন্ট ( সোয়ানসি সিটি)।
এবং এদের মধ্যে একটি আশ্চর্য জনক মিল হচ্ছে ডি বোর, হিউজ,পল ছাড়া বাকি ৪ জনেরেই চাকরি অক্টোবর আর নভেম্বর এর মাঝামাঝি ইন্টারন্যাশনাল ব্রেক এর সময়ে গিয়েছে। যে সময় টা বিগত কয়েক দশক থেকেই ইপিএল ম্যানেজারদের ভয়ের কারন হয়ে আছে।
এখন কথাটা হল, কেন এই সময়ে ম্যানেজার ছাটাই করা হয়, আর এই সময়ে ম্যানেজার স্যাক করার উপকারীতাই বা কি?
আশ্চর্যজনক ভাবে লক্ষ্য করা গেছে এই সময়টায় স্যাক করা ম্যানেজার দের চেয়ে তাদের পরবর্তী ম্যানেজাররা প্রতি ম্যাচে গড়ে বেশি পয়েন্ট এনে দিচ্ছেন। নিচে তুলে ধরছি।

১. জুয়ান্দে রামোস (৮-৯) হ্যারি রেডন্যাপের কাছে স্যাক হন। রামোসের অধীনে টটেনহাম এর গড় ম্যাচ পয়েন্ট ছিল ০.৫৬, যা পরে দাঁড়ায় ১.৫৯ এ। আর টটেনহাম ২০ থেকে লীগ শেষে ৮ম পজিশনে দাঁড়ায়।

২. পল হার্ট এর অধীনে (৯-১০) সিজনে পোর্টস্মাউথ এর গড় ম্যাচ পয়েন্ট ছিল ০.৬৪, পরবর্তীতে আভরাম গ্রান্ট এর অধীনে তা হয় ০.৪৪। আর ফলশ্রুতিতে লীগ শেষ করে রেলিগেটেড হয়ে।

৩. স্টিভ ব্রুস (১১-১২) মার্টিন ও নীলের কাছে স্যাক হন।স্যাক হওয়ার আগে ও পরে সান্দারল্যান্ড এর গড় ম্যাচ পয়েন্ট ০.৮৫ ও ১.৩৬। আর লীগ শেষ করে ১৬ থেকে ১৩ তে এসে।

৪. ডি মাত্তেও রাফা বেনিতেজ এর কাছে চেলসির দায়িত্ব হারান (১২-১৩)তে। তাদের দুই জনের সময়ে ম্যাচ প্রতি পয়েন্ট পার্থক্য ২ এবং ২.১। তবে লীগ পজিশনে চেলসি ৩ এই অবস্থান করে ।


৫. ফিলিপ হিউজ হ্যারি রেডন্যাপ এর কাছে স্যাক হন কিউপিয়ার এর দায়িত্ব থেকে (১২-১৩)। ম্যাচ প্রতি আগে ও পরে পয়েন্ট পার্থক্য ০.৩৩ থেকে ০.৮১। যদিও লীগ পজিশনে নড়চড় হয় নি। ২০ তম হয়েই তারা রেলিগেটেড হয়।

৬. আন হলোয়ে (১৩-১৪) সিজনে টনি পুলিস এর কাছে ক্রিস্টাল প্যালেস এর দায়িত্ব হারান।তাদের দুইজনের সময় কার ম্যাচ প্রতি গড় পয়েন্ট ০.৩৮ এবং ১.৪।আর ক্রিস্টাল রেলিগেশন জোন থেকে বের হয়ে ১১ তম হয়ে লীগ শেষ করে।

৭. ব্রেন্ডন রজার্স (১৫-১৬) সিজনে ইয়ুর্গেন ক্লপ এর কাছে স্যাক হন। সে সিজনে লিভারপুলের দুই কোচের আন্ডারে পয়েন্টের ব্যবধান ১.৫ থেকে ১.৬।। আর লীগ পজিশনে ১০ থেকে ৮ এ আসে লিভারপুল।

৭. সান্দারল্যান্ড এর ডিক এডভোকেট বিগ স্যাম এর কাছে দায়িত্ব দিয়ে ইস্তাফা দেন। তাদের ম্যাচ প্রতি পয়েন্ট পার্থক্য ০.৩৮ থেকে ১.২। আর সান্দারল্যান্ড লীগ শেষ করে ১৯ থেকে ১৭ হয়ে (১৫-১৬)।

৯. টিম শেরউড (১৫-১৬) সিজনে রামি হারডের কাছে এস্টন ভিলার দায়িত্ব হারান।চেইঞ্জের আগে ও পরে ম্যাচ প্রতি গড় পয়েন্ট ০.৪ থেকে  ০.৪৬ তবে ভিলাকে রেলিগেটেড হতে হয়।

১০. ফ্রান্সিসকো গুইডলিন (১৬-১৭) সিজনে পল ক্লেমন্ট এর কাছে সোয়ানসির দায়িত্ব হারান।ম্যাচ প্রতি তাদের গড় পয়েন্টের পার্থক্য ০.২৯ থেকে  ০.৭১। আর লিগ শেষ করে ১৭ থেকে ১৫ এসে।

তো এই হল সংক্ষেপে এই সিজন বাদে বিগত ১০ বছরে অক্টোবর নভেম্বর এ স্যাক হওয়া ম্যানেজার আর তাদের পরবর্তী ম্যানেজারদের এক নজর পারফরমেন্স ওভারভিউ। যেখানে আমরা দেখতে পাই একমাত্র আভ্রাম গ্রান্ট বাদে বাকি সব ম্যানেজার যারা নভেম্বর এ নতুন দলের দায়িত্ব নিয়েছেন তারা তুলনামূলক ভাবে আগের ম্যানেজার থেকে ভাল পারফরমেন্স দেখিয়েছেন, ম্যাচ বাই ম্যাচ।

শুধু তাই নয় বিগত ৩ দশক ধরেই এই সময়ে চেঞ্জ হওয়া ম্যানেজার রা দলে আগের চেয়ে বেশি ইম্প্যাক্ট রেখেছেন। আর এই সময়ে দল গুলোর ম্যানেজার চেঞ্জ করার প্রবনতা বেশি। এর মধ্যে ১৯৯৪-৯৫ সিজনে ৬ জন, ২০০৪-০৫ সিজনে ৬ জন, ২০০৭-০৮ সিজনে ৬ জন, ১৭-১৮ সিজনে ৫ জন আর ৮-৯ সিজনে ৪ জন ম্যানেজার চেঞ্জ হয়েছেন নভেম্বরে ব্রেক শেষ হবার আগে।যা বিগত ৩ দশক এর মধ্যে সর্বোচ্চ গুলোর মধ্যে পড়ে।

এখন প্রশ্ন আসেই যে এই সময়েই কেন স্যাক করা হয়। উত্তর পরিসংখ্যান থেকে এটা আসবে যে হয়ত নতুন ম্যানেজার এসে ভাল রেজাল্ট এনে দিবে আগেরজনের চেয়ে।কিন্ত ফুটবলীয় চিন্তার একটা উদ্রেক ঘটায়,তা হল সে সময় একজন ম্যানেজার মাত্রই লীগের ৩ভাগের ১ ভাগ শেষ করেন, যে সময় কোন ট্রান্সফার উইন্ড খোলা থাকে না, সে সময় কোন ম্যানেজার দলে হঠাৎ করে এসে কিরূপ পরিবর্তন আনতে পারেন?
১. হয়ত বিগত সামারে কিনে আনা প্লেয়ারদের নিয়ে নতুন ম্যানেজার নতুন কোন ভেলকি দেখাতে পারেন।
২.যদি ম্যানেজার কয়েক বছর থেকে আছেন, এমন হন। তাহলে তাকে পালটিয়ে আরো ভাল পারফরমেন্স আশা করা
৩. নতুন ম্যানেজার মানেই প্লেয়ারদের মাঝে একপ্রকার নতুন উন্মাদনা সৃস্টি,যা হয়ত আগের ম্যানেজার দের কাছে কম ছিল।

উত্তর সবই হতে পারে, বা ভিন্ন কিছুই হতে পারে।কিন্ত তারপরো দুই ট্রান্সফার উইন্ডোতে কোচ পাল্টানোর ব্যাপক সুযোগ থাকা সত্বেও লীগের এক তৃতীয়াংশ শেষ করার পরই কেন অধিকাংশ ইপিএল ম্যানেজমেন্ট এর ম্যানেজার চেঞ্জ করার ভূত চাপে তাকে বাড়তি কিছু সুযোগ না দিয়ে তা আসলেই কিছুটা ভাবনার বিষয়।

সে যাই হোক, আপাতত অক্টোনভ কার্স ইপিএল ম্যানেজারদের কাছে কিছুটা ভীতিকর হুমকি হিসাবেই না হয় রইল!!

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন