হারবার্ট চ্যাপম্যান - শুভ জন্মদিন

হারবার্ট চ্যাপম্যান - শুভ জন্মদিন

তর্কসাপেক্ষে ইংলিশ ফুটবলের সর্বশ্রেষ্ঠ ম্যানেজার বলা হয়, যার উদ্ভাবনী কৌশল আজও তাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। হারবার্ট চ্যাপম্যান – শেফিল্ডের খনি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারি। ফুটবলভক্ত পরিবারে জন্ম নিয়ে শেফিল্ড ইউনিভার্সিটিতে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করলেও, ঠিকই ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা কাজে লাগিয়েছিলেন ফুটবলের উন্নয়নে, উদ্ভাবনে, সৃষ্টিশীলতায়।

যাযাবরের ন্যায় খেলোয়াড় ক্যারিয়ারে ১৫ বছরে ১৩টি ক্লাব, বেশিরভাগ সময় অপেশাদার ও Non-League ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। Northampton Town (২২ ম্যাচে ১৪ গোল) ও Totthenham (৪২ ম্যাচে ১৬ গোল) ছাড়া বাকি ক্যারিয়ারটাকে খুবই সাধারণ বলা যায়। সর্বোচ্চ ৩০০ পাউন্ড এবং মাত্র ৭০ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিলেন। কিন্তু সাধারণ খেলোয়াড় ক্যারিয়ারকে হাজার গুণে ছাপিয়ে হয়ে ওঠেন ২০ শতকের অন্যতম সেরা ফুটবল ম্যানেজার, যার বিখ্যাত আবিষ্কার WM-formation.

১৫ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে ৪০-এর কম লিগ ম্যাচ খেলা, কোন শিরোপা না জেতা চ্যাপম্যান ভাবলেন he had “a good innings”, এখন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ফিরে যাওয়া যাক। কিন্তু বন্ধুর পরামর্শে Northampton Town-এর খেলোয়াড়-ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। নিজেও হয়তো ভাবেবনি আরাম আর নিশ্চয়তার ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা ছেড়ে অনিশ্চিত ফুটবল ম্যানেজার পেশায় তিনি হয়ে উঠবেন চিরস্মরণীয়। Northampton Town-কে এনে দেন Southern League Title. ২য় ক্লাব Leeds City-কে যখন আস্তে আস্তে গড়ে তুলছিলেন তখন ১ম বিশ্বযুদ্ধ বাধা দেয়। ৩য় ক্লাব Huddersfield Town-এর হয়ে জয় করেন এফএ কাপ ও ২টি লিগ শিরোপা।

১৯২৫ সালে যোগ দেন আর্সেনালে। ১৮৮৬ সালে জন্ম নেওয়া আর্সেনালকে এনে দেন ক্লাবের ১ম শিরোপা এফএ কাপ এবং ২টি লিগ শিরোপা। ভিত্তি গড়ে তোলেন ৩০’র দশকের Dominant Arsenal-এর। যে দলটি ৩০’র দশকে জিতে নেয় আরো ৩টি লিগ শিরোপা, কিন্তু ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমের মাঝপথে মৃত্যুবরণ করা চ্যাপম্যান দেখে যেতে পারেননি আর্সেনালের জয়জয়কার।

শুধু যে হার্ডাসফিল্ড টাউন আর আর্সেনালের ভাগ্য বদলে দিয়েছিলেন তাই নয় ফুটবলে আবিষ্কারক হিসেবে পরিচিত চ্যাপম্যান ইংলিশ ফুটবলে নতুন নতুন কৌশল, ট্রেনিং মেথডস নিয়ে এসেছিলেন; WM-Formation, ডিফেন্স-অ্যাটাকিং সমন্বয়; ফ্লাডলাইট-এর ব্যবহার, ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতা, নম্বরযুক্ত জার্সি-সহ আরো অনেক কিছুর উদ্যোক্তা ছিলেন।

১৯৩৪ সালের আজকের দিনে মৌসুমের মাঝপথে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন লিজেন্ডারি কোচ চ্যাপম্যান, ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে হ্যাট্রিক লিগ শিরোপা জয় করে আর্সেনাল জানিয়েছিল সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা। Southern League-এর শক্তিশালী দল Swindon Town-কে ৪-১ গোলে পরাজিত করলে প্রতিপক্ষ কোচের মন্তব্য ছিল (পুরো ক্যারিয়ারের জন্য প্রযোজ্য):

“You have something more than a team; you have a machine”.

Northampton Town কে এমনই মেশিনে পরিণত করেছিলেন Herbert Chapman। তখনকার ফুটবল স্টাইল অর্থাৎ অনেকটা জটপাকানো শুধুমাত্র আক্রমণাত্নক কৌশল থেকে বেরিয়ে ডিফেন্স, মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ডদের দায়িত্ব ভাগ করে দেন। প্রচলিত ২-৩-৫ ফরমেশন ভেঙে ৩-৪-৩ ফরমেশনে নিজস্ব ট্যাকটিস প্রয়োগ করতে থাকেন। সংগঠিত খেলার মাধ্যমে প্রচলিত ধারণার বাইরে চালু করেন কার্যকরী কাউন্টার এ্যাটাকিং ফুটবল। ডিফেন্স ও আক্রমণ সম্পর্কে চ্যাপম্যানের উক্তি:

“A team can attack for too long. The most opportune time for scoring is immediately after repelling an attack, because opponents are then strung out in the wrong half of the field.”

চ্যাপম্যানের Style ছিল – দুর্ভেদ্য ডিফেন্স, দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল সাথে দ্রুত শর্ট পাস ও উইঙ্গার দুর্দান্ত গতি। কিন্তু উইঙ্গারদের কাজ Cross দেওয়া না, বরং নিচুভাবে পাস দেওয়া। রিজার্ভ ও একাডেমী সবখানে একই স্টাইলে ফুটবল চালু করেন যেন খেলোয়াড়দের যে কোন সময় মূল টিমে খেলানো যায়। সাথে নিজের পছন্দের খেলোয়াড় খোঁজার জন্য দক্ষ স্কাউটিং।

এত কৌশলের ফলস্বরূপ Northampton Town চ্যাপম্যানের ৫ বছরে Southern League শিরোপা জয়সহ অন্যতম সেরা সময় পার করে। তখন Southern League-এর প্রমোশন-রেলিগেশন ছিল না। উচ্চাকাক্ষী চ্যাপম্যান বর্তমান League System-এর মত ৪-স্তরের System প্রস্তাব করেন, কিন্তু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়, অথচ ইংলিশ লিগ কমিটি ১০ বছর পর ১৯২১ সালে ঠিকই ৪-স্তর বিশিষ্ট লিগ চালু করে। কিন্তু ততদিনে চ্যাপম্যান Northampton ছেড়ে ১৯১২ সালে যোগ দেন Leeds City-তে।

২য় ডিভিশনে সবসময় রেলিগেশন খাঁড়ায় থাকা লিডস সিটিকে ৬নং-এ তুলে আনেন, আক্রমণাত্নক ফুটবলের প্রদর্শনী সাজিয়ে লিডস যখন ১ম ডিভিশনে প্রমোশনের স্বপ্ন দেখছিল তখন ১ম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে লিগ স্থগিতের কারণে যুদ্ধে দেশকে সাহায্য করার জন্য অস্ত্র কারখানার ম্যানেজার যোগ দেন চ্যাপম্যান। যুদ্ধ শেষে ১৯১৮ সালে লিডস সিটি থেকে কোন কারণ ছাড়াই পদত্যাগ করেন।

১৯২১ সালে দায়িত্ব নেন হার্ডাসফিল্ড টাউন-এর, সাইন করান George Brown-এর মত অচেনা ১৮-বছর বয়সীকে, যে ব্রাউন পরবর্তীতে ক্লাবের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ১ম বছরেই হার্ডাসফিল্ড নিজেদের ইতিহাসে এফএ কাপ (১৯২২) জয়ের মাধ্যমে ১ম মেজর শিরোপা লাভ করে।

এত উন্নত কৌশল আর ম্যানেজমেন্ট, ক্লাব তো নিশ্চিত উন্নতি করবেই। আগের মৌসুমে লিগে ১৪নং-এ থাকা হার্ডাসফিল্ড ১৯২৩ সালে ৩য়, ১৯২৪ সালে ক্লাবের ১ম লিগ শিরোপা, পরের বছর আবারো লিগ শিরোপা। ১৯২৬ সালে হ্যাট্রিক লিগ শিরোপা হতে পারতো কিন্তু মূল গোলকিপারের ইনজুরিতে ৯নং-এ নেমে যাওয়া হাডার্সফিল্ড মাত্র ২ পয়েন্ট ব্যবধানে রানার্স-আপ হয়। কিন্তু শক্ত ডিফেন্সের কারণে ইংল্যান্ডের ১ম ক্লাব হিসেবে হার্ডাসফিল্ড লিগের কোন ম্যাচে ২টির বেশি গোল না খাওয়ার রেকর্ড করে।

ডিফেন্সে গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করা চ্যাপম্যান চিরস্মরণীয় হওয়ার পথে পরবর্তী মৌসুমে যোগ দেন তখনকার সংগ্রামরত আর্সেনালে।

“Arsenal FC is open to receive applications for the position of TEAM MANAGER. ......on the payment of heavy and exorbitant transfer fees need not apply.” – Athletic News, 1925.

স্যার হেনরি নরিসের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি চ্যাপম্যানকে আকৃষ্ট করে ১৯২৫ সালে হ্যাট্রিক লিগ শিরোপার পথে থাকা হাডার্সফিল্ড ছেড়ে সর্বদা রেলিগেশনের শঙ্কায় থাকা, তখনও শিরোপা না জেতা আর্সেনালের ম্যানেজার পদ। ট্রান্সফার বাজেটের স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও লন্ডনের বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী ছিল চ্যাপম্যানের আগ্রহের মূল কারণ।

দায়িত্ব নিয়েই সাইন করালেন সান্ডারল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার ৩৪-বছর বয়সী বুড়ো চার্লি বুচানকে, দিলেন অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড। আর্সেনালের উন্মেষকালে বুড়ো বুচানের অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

১৯২৫ সালে নতুন অফসাইড আইন চালু হলে, চ্যাপম্যান তার স্মরণীয় ফুটবলীয় কৌশলটি আবিষ্কার করেন। চার্লি বুচানের আইডিয়া সাথে নিজের কৌশল খাটিয়ে আবিষ্কার করেন বিখ্যাত WM Formation অর্থাৎ ৩-২-২-৩ (পজিশন দেখতে ছিল ইংরেজি WM-এর মত)। ৩ জন Full-Back, ২ জন Half-Back, ২ জন Inside Forward, সাথে আক্রমণভাগে ২ জন উইঙ্গারসহ ১ জন CF. অফসাইড ফাঁদ এড়ানোর দায়িত্ব পড়ে শুধুমাত্র ১ জন CF-এর উপর, ফুটবলে উইঙ্গারের গুরুত্ব বেড়ে যায়, সৃষ্টি হয় আধুনিককালের CAM অর্থাৎ Inside Forward যারা ফরোয়ার্ড লাইনকে সাপোর্ট ও আক্রমণ দুটিই করবে, মিডফিল্ডের ২জন Half-Back সাপোর্ট এবং Full-Back তিনজন ডিফেন্স ও উইং সাপোর্টের জন্য থাকবে।

ইংল্যান্ডের আরো কয়েকটি ক্লাব WM Formation-এ খেললেও, আর্সেনাল-ই পেরেছিল সর্বোচ্চ সাফল্য কারণ ইঞ্জিনিয়ার চ্যাপম্যানের অসাধারণ ফুটবল মস্তিষ্ক দ্রুত ও প্রয়োজনের সময় কৌশলের পরিবর্তন, কাউন্টার অ্যাটাক, দ্রুতগতির উইঙ্গার এবং দুর্ভেদ্য ডিফেন্স। ফলাফল আর্সেনাল ১ম বারের মত ১৯২৬ সালে লিগে রানার্স-আপ।

পরবর্তী ৫ বছরে আর্সেনাল লিগে Mid-Table-এ থাকলেও চ্যাপম্যানের পরিকল্পনা ছিল সূদূরপ্রসারী। ধীরে ধীরে আর্সেনালকে গড়ে তোলেন। দলে নিয়ে আসেন হামে, ল্যাম্বার্ট, পার্কার, জেমস, বাস্টিন, রবার্টস, হ্যাপগুড, জ্যাকদের মত আর্সেনাল গ্রেটেস্ট খেলোয়াড়দের। সাথে ছিল বব জন, আলফ বেকার ও জিমি ব্রেইন। সবচেয়ে বিখ্যাত সাইনিং ছিল ডেভিড জ্যাক। ফুটবলের ১ম ১০,০০০+ পাউন্ডের খেলোয়াড় অথচ বয়স ছিল ২৯ বছর, কিন্তু পরবর্তীতে সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে জ্যাক হয়ে উঠেন চ্যাপম্যানের ক্যারিয়ারের কম দামের সেরা সাইনিং। জ্যাকের সাইনিং স্টোরি ছিল আরো অসাধারণ...

চ্যাপম্যানের ৫-বছরের পরিকল্পনা সাফল্যের মুখ দেখে ১৯৩০ সালে এফএ কাপ জয়ের মাধ্যমে। আর্সেনালের ১ম মেজর শিরোপা। পরাজিত করেছিলেন নিজেরই প্রাক্তন ক্লাব হার্ডাসফিল্ড টাউনকে। যাত্রা শুরু হয় ৩০র দশকের “Dominant Arsenal”-এর, পরবর্তী ৮ বছরে ১ম লিগ শিরোপাসহ ৫টি লিগ শিরোপা।

ফরোয়ার্ডে লাইনের সামনে স্ট্রাইকার ল্যাম্বার্ট, Deep-lying Inside Forwards হিসেবে জ্যাক এবং জেমস-এর অসাধারণ CAM জুটি, উইং-এ বাস্টিন ও হামের মত দ্রুতগতির উইঙ্গার, মিডফিল্ডে জন ও জোন্স-এর Pivoting Role, ডিফেন্সে রবার্টস-হ্যাপগুডদের দুর্ভেদ্য দেয়াল, দ্রুত পাসিং, উইং দিয়ে আক্রমণ, ফলে তিনজন Full Back ছাড়া বাকি ৭জন খেলোয়াড়কেই দেখা যেত প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে আক্রমণ শানাচ্ছে- সবমিলিয়ে ফলাফল “Dominant Arsenal”, প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস। এ ধরনের ফুটবলের জন্য দরকার প্রচুর স্ট্যামিনা ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী খেলোয়াড় যার জন্য ছিল চ্যাপম্যানের জহুরীর চোখ এবং দক্ষ স্কাউটিং নেটওয়ার্ক।

আর্সেনাল যে কতটা নির্দয় ছিল তা বোঝা যায় যখন ১৯৩০-৩১ মৌসুমে ১ম লিগ শিরোপা জয়ের পথে প্রতিপক্ষের জালে ঢুকিয়েছিল ৪২ ম্যাচে ১২৭টি গোল (১ মৌসুমে সর্বোচ্চ লিগ গোলের রেকর্ড), ম্যাচ প্রতি ৩.০২ গোল, গোল পার্থক্য +৬৮। পরবর্তী মৌসুমে লিগ ও এফএ কাপ রানার্স-আপ। ১৯৩৩ সালে ১১৮ গোল করে ২য় লিগ শিরোপা।

অ্যালেক্স জেমস, ডেভিড জ্যাকদের আর্সেনাল যখন ১৯৩৩-৩৪ সালে যখন আবারো শিরোপা জয়ের পথে, তখন ১৯৩৪ সালের ১লা জানুয়ারি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। দেখে যেতে পারেননি তার গড়ে তোলা আর্সেনাল ৩৩-৩৪ মৌসুমসহ ২ বছরে টানা শিরোপা জয়ের মাধ্যমে হ্যাট্রিক লিগ শিরোপা, যার সুযোগ তিনি নিজ হাতে ছেড়ে দিয়েছিলেন যখন হার্ডাসফিল্ড ছেড়ে আর্সেনালের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

২০০৩ সালে “English Football Hall of Fame”-এ জায়গা পাওয়া চ্যাপম্যান 2004 সালে “The Sunday Times”-এর ভোটে সর্বকালের সেরা ব্রিটিশ ম্যানেজার নির্বাচিত হন। আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়ামের সামনে শ্রদ্ধাস্বরূপ শোভা পাচ্ছে চ্যাপম্যানের মূর্তি। ইঞ্জিনিয়ার, অস্ত্র কারখানার ম্যানেজার, লেখক, খেলোয়াড়, ম্যানেজারসহ আবিষ্কারক চ্যাপম্যানের আজ ১৯ জানুয়ারী ১৩৭তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন “Legend of Legend”.


 অবদান ও উক্তিসমূহ:

  • Unofficial Feeder Clubs– ধারণাকে চ্যাপম্যান আরো বেশি ব্যবহার করা শুরু করেন, যার ফলে আর্সেনালের উদীয়মান খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতামূলক লিগে লোনে খেলতে পারে। Feeder Clubs আজকের ফুটবল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
  • প্রমোশন, প্রি-সিজনের জন্য ইউরোপ ভ্রমণ প্রথম চালু করেন হারবার্ট চ্যাপম্যান। ১৯৩০ সালের ১১ নভেম্বর আর্সেনাল ১ম Racing Club of Paris এর সাথে খেলতে ইংল্যান্ডের বাইরে যায়।
  • হারবার্ট চ্যাপম্যান ১৯১৩ সালে ১ম বর্তমান ৪-স্তরের ইংলিশ সিস্টেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু তখন তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। অথচ ঠিকই ৮ বছর পর ১৯২১ সাল থেকে কর্তৃপক্ষ ৪-লিগ স্তর বিশিষ্ট ইংলিশ লিগ সিস্টেম চালু করে। যা আজও বর্তমান।
  • পেনাল্টি এরিয়ার Semi-Circle, Goal judges and Two referees, নাম্বারযুক্ত জার্সি চালু করার ক্ষেত্রে চ্যাপম্যান যথেষ্ট অবদান রাখেন।
  • আর্সেনালের সাদা স্লিভযুক্ত লাল জার্সি প্রথম প্রর্বতন করেন চ্যাপম্যান।।
  • আর্সেনাল হাইবুরি স্টেডিয়ামের নিকটবর্তী আন্ডারগ্রাউন্ড রেলস্টেশনের নাম Gillespie Road Station পরিবর্তন করে Arsenal. লন্ডনে আর্সেনাল-ই একমাত্র ক্লাব যার নামে রেলস্টেশন আছে।
  • ম্যাচ শেষে হাইবুরি স্টেডিয়ামে চারিদিকে দর্শকদের অভিনন্দন জানানো প্রথা চালু।
  • তিনিই প্রথম ফুটবলে ফ্লাডলাইট ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ১৯৩২ সালে হাইবুরিতে ফ্লাডলাইটস স্থাপন করা হয় কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনুমতির কারণে ব্যবহার করা হয়নি। যেটা করা হয়েছিল ১৯৫১ সালে।
  • PA System-এর উন্নয়নের মাধ্যমে সমর্থকদেরকে টিম নিউজ জানানো এবং অক্ষর ও নম্বরযুক্ত স্কোরবোর্ড চালু করেন।
  • “The Arsenal” থেকে নাম পরিবর্তন করে শুধুমাত্র “Arsenal” নাম প্রবর্তন করেন, ফলে লিগের ক্লাব লিস্টের আর্সেনালের নাম থাকত প্রথমে এছাড়া ক্লাবের প্রমোশনের জন্য লেখালেখি, খেলোয়াড়দের সাথে সমর্থকদের ইন্টারএ্যাকশন চালু করেন।
  • আর্সেনালের হাইবুরির স্টেডিয়ামের বিখ্যাত “The Arsenal Clock” স্থাপন করেন, যেটা এখন “The Clock End” নামে পরিচিত।
  • আর্সেনাল খেলোয়াড়দেরকে অফ-সিজনে অন্যান্য খেলাধুলা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে করে সিজনের শুরুতে ফিট হিসেবে পাওয়া যায়। যেটি অন্যান্য ক্লাবও অনুসরণ করা শুরু করে, যার আগেকার দিনে একই পেশাদার ফুটবল ও ক্রিকেট খেলোয়াড় দেখা যেতো।
  • চ্যাপম্যান ছিলেন সেইসব ম্যানেজাদের একজন যারা কালো ও বিদেশী খেলোয়াড় প্রথম সাইন করিয়েছিলেন।
 "I would borrow one from a programme boy at Highbury, if it were a good one." – নতুন নতুন আইডিয়ার প্রতি চ্যাপম্যানের আগ্রহ কি রকম ছিল বোঝাতে।
 “Whoever heard of Gillespie Road? It Is Arsenal Around Here! – হাইবুরি স্টেডিয়ামের নিকটবর্তী রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তনের পর। কারণ পুরাতন Gillespie Station সমর্থকদের বিভ্রান্ত করে ফেলতো।

 “The Footballer is always Master of his own destiny. He has his contract and no club can force him to break it.” – ফুটবলারদের চুক্তি নিয়ে চালু বিরোধ সম্পর্কে চ্যাপম্যানের ৮০ বছর আগের মতামত।

“A team can attack for too long. The most opportune time for scoring is immediately after repelling an attack, because opponents are then strung out in the wrong half of the field.” – কাউন্টার অ্যাটাক সম্পর্কে চ্যাপম্যান।

“We owe it to the public that our games should be controlled with all the exactness that is possible.” – গোললাইন বিভ্রান্তি নিয়ে চ্যাপম্যানের উক্তি যে কিনা গত কয়েক বছর আগে উয়েফা-ফিফা বুঝতে পেরে Goal-line Technology ও ৫ রেফারি চালু করেছে।

 “I appeal to the authorities to release the brake which they seem to delight in jamming on new ideas, as if wisdom is only to be found in the council chamber. I am impatient and intolerant of much that seems to me to be merely negative, if not actually destructive, legislation.” – নাম্বারযুক্ত জার্সির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে চ্যাপম্যানের প্রতিক্রিয়া।

 “I am going to make this the greatest club in the world.”medicore Arsenal থেকে ৩০-র দশকের Dominant Arsenal সৃষ্টি করে নিজের কথা রেখেছিলেন।
“It is laid down by law that – The team who scores the most goals wins. To accomplish this you must make sure that the Defence is sound.” নিজের ট্যাকটিস সম্পর্কে চ্যাপম্যানের মতামত।

“Team picking is a complicated and scientific matter requiring expert knowledge.” ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির অধিকারী চ্যাপম্যান এ কাজ ভালোভাবেই করতেন।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন