রিয়াল মাদ্রিদঃ হাফ সিজন রিভিউ

রিয়াল মাদ্রিদঃ হাফ সিজন রিভিউ

২০১৭ সাল প্রায় শেষের দিকে। নতুন বছর তার আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। এর ভিতরেই ২০১৭-১৮ মৌসুমের খেলাও প্রায় অর্ধেক শেষ। লীগের ইদুর-বিড়াল দৌড়ে টিকে থাকতে প্রতিটি দল তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কেও একটু একটু করে শিরোপার দিকে এগুচ্ছে, কেও হয়ত শেষ চেষ্টা করছে লীগ বাচানোর।

রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব ২০১৭-১৮ মৌসুমে তাদের ১১৪ তম মৌসুম পার করছে এবং স্প্যানিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তর লা লিগায় তাদের একটানা ৮৭ তম মৌসুম পার করছে। চলুন দেখে আসি এ মৌসুমে রিয়ালের পারফরম্যান্স।

৮ আগস্ট, ২০১৭ তে রিয়াল মাদ্রিদ উয়েফা সুপার কাপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কে ২-১ গোলে হারিয়ে মৌসুম শুরু করে। কার্ভাহালের এসিস্টে ২৪ মিনিটে ক্যাসেমিরোর গোলে এবং বেলের এসিস্টে ৫২ মিনিটে ইস্কোর গোলে ২-০ তে এগিয়ে থাকলেও ৬২ মিনিটে লুকাকু ব্যবধান ২-১ এ কমিয়ে আনেন

পরের ম্যাচেই রিয়াল মাদ্রিদ মুখোমুখি হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার। স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম লেগে বার্সাকে ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে পরাজিত করে রিয়াল। মাদ্রিদের পক্ষে জেরার্ড পিকে ওউন গোল করে গোলের সূচনা করেন ৫০ মিনিটে। ৭৭ মিনিটে মেসির পেনাল্টিতে খেলায় ১-১ সমতা আসে। ৩ মিনিট পর রোনালদোর গোলে ব্যবধান ২-১ হয়। এর ঠিক ২ মিনিট পর রোনালদো লাল কার্ড দেখলে মাদ্রিদ ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ৯০ মিনিটে এসেন্সিওর গোলে ব্যবধান দাড়ায় ৩-১।

২য় লেগে নিজেদের ঘরের মাঠে অ্যাওয়ে ম্যাচে জয়ের সুবিধা নিয়ে মাঠে নামে মাদ্রিদ। মাদ্রিদের ৪-৩-৩ ফরমেশন এর পরিবর্তে বার্সা রণকৌশল সাজায় ৩-৫-২ ফরমেশনে। ৪ মিনিটেই এসেন্সিওর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় মাদ্রিদ। ৩৯ মিনিটে বেনজেমা গোল করে দল কে ২-০ গোলের জয় এনে দেন।

২০ আগস্ট, ২০১৭ তে রিয়াল মাদ্রিদ দেপোর্তিভ লা করুণার বিপক্ষে গ্যারেথ বেল, ক্যাসেমিরো, টনি ক্রুসের গোলে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে নিজেদের লা লিগা মিশন শুরু করে। কিন্তু ৯২ মিনিটে রামোস লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। রামোসের লাল কার্ড এবং এল ক্লাসিকোতে পাওয়া রোনালদোর ৫ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কপালে চিন্তার ভাজ ফেলে রিয়াল শিবিরে।

২৮ আগস্ট লা লিগার ম্যাচে মাদ্রিদ ঘরের মাঠে আতিথ্য দেয় ভ্যালেন্সিয়া কে। ১০ ও ৮৩ মিনিটে এসেন্সিওর দুই গোলও রিয়ালকে জয় এনে দিতে পারেনি। শিল্পীর নিপুণ হাতের তুলির আচড়ে গড়া ছবির মত বেনজেমার শৈল্পিক গোল মিসে ২-২ ড্র তে ম্যাচটি শেষ হয়।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ম্যাচে  লা লিগায় লেভান্তের সাথে লুকাস ভাসকুয়েজের সমতাসূচক গোলে ১-১ এ আবার ড্র করে মাদ্রিদ। ১৪ তারিখ রিয়াল ঘরের মাঠে অ্যাপয়েলের বিরুদ্ধে রোনালদোর ২ ও রামোসের ১ গোলে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে টানা ৩য় চ্যাম্পিয়ন্স  লীগ ধরে রাখার মিশন শুরু করে। ১৮ সেপ্টেম্বর লা লিগার অ্যাওয়ে ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় পায় রিয়াল। মায়োরালের ১৯ মিনিটের গোল দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের একটানা ৭৩ ম্যাচ গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করে। ঠিক পরের ম্যাচেই সানাব্রিয়ার ইনজুরি টাইমের দূর্দান্ত গোলে রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে ১-০ গোলে পরাজিত হয় রিয়াল। শেষ হয় তাদের দূর্দান্ত রেকর্ড।

দুই দিন পর, ২৩ সেপ্টেম্বর লা লিগার ম্যাচে দানি সেবায়োসের ২ গোলে আলাভেসের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পায় রিয়াল। ২৭ তারিখ চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ২য় ম্যাচে ডর্ট্মুন্ড কে ৩-১ গোলে পরাজিত করে মাদ্রিদ। 

অক্টোবর এর ২য় দিনে ইস্কোর ২ গোলে এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পায় মাদ্রিদ। ১৪ অক্টোবর বেঞ্জেমা এবং রোনালদোর গোলে গেটাফের ঘরের মাঠ থেকে ২-১ গোলের জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ফিরে মাদ্রিদ। এর ৪ দিন পর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে টটেনহামের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে মাদ্রিদ।

লা লিগায় এইবারের সাথে ৩-০ এবং কোপা ডেল রের প্রথম লেগে ২-০ গোলের জয় পেলেও নবাগত জিরোনার কাছে ২-১ গোলে হেরে পয়েন্ট খোয়াতে হয় মাদ্রিদ কে।

নভেম্বর এর প্রথম ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে টটেনহামের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে ডেলে আলীর ২ ও এরিকসনের ১ গোলে  ৩-১ গোলের হার নিয়ে বাড়ি ফিরে মাদ্রিদ। দলের একমা্ত্র গোলটি করেন রোনালদো।

লা লিগার পরের দুই ম্যাচে লাস পালমাসের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় এবং মাদ্রিদ ডার্বিতে এতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে গোলশুন্য ড্র করে মাদ্রিদ। এর ঠিক তিন দিন পর, ২২ নভেম্বর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে অ্যাপয়েলের বিপক্ষে ৬-০ গোলের বিশাল জয়ে মাদ্রিদ নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে। ২৫ নভেম্বর লা লিগার পরবর্তী ম্যাচে মালাগার বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় পায় মাদ্রিদ এবং কোপা দেল রে এর ২য় লেগে ২-২ গোলে ড্র করে। ৪-২ গোলের এগ্রিগেটে কোপা দেল রের পরের রাউন্ডে রাউন্ডে চলে যায় রিয়াল।

 ডিসেম্বর এ লা লিগার ম্যাচে এথলেটিক বিলবাওয়ের সাথে গোল শুন্য ড্র এবং সেভিয়াকে মাত্র ৫-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে জয় পায় মাদ্রিদ। এরমাঝেই ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ খেলতে আরব আমিরাত যায় মাদ্রিদ। সেখানে সেমিফাইনাল স্বাগতিক দল আল জাজিরার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পায় মাদ্রিদ। ফাইনালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিওর বিপক্ষে রোনালদোর একমাত্র গোলে ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ জিতে নেয় মাদ্রিদ। উইন্টার ব্রেকের আগে সর্বশেষ ম্যাচে লা লিগায় হোম ম্যাচে বার্সেলোনার মুখোমুখি হয় রিয়াল মাদ্রিদ। সেখানে ৩-০ গোলের পরাজয় দিয়েই বিরতিতে যায় মাদ্রিদ।

বর্তমানে লা লিগায় ১৬ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ৪র্থ অবস্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে নকআউট রাউন্ডে মুখোমুখি হবে পিএসজির।

এ সিজনে যতগুলো ম্যাচ খেলেছে মাদ্রিদ, বর্তমান ফর্মের জন্য মূলত এ সিজনে প্লেয়ারদের অত্যধিক ইনজুরি, দলের মেইন প্লেয়ারদের অফফর্ম, স্ট্রাইকারের ভয়াবহ অফফর্ম তথা গোলস্কোরিং প্রবলেম, গোলমুখে বলের যোগান কম আসা, প্লেয়ার রোটেশন পলিসি অন্যতম।

এখন পর্যন্ত এই সিজনে রিয়ালের মূল স্কোয়াডেরই নয়জনের মত প্লেয়ার মাঝারি থেকে বড় ধরনের ইনজুরি তে ছিলেন, তেমনি বেনজেমার অফফর্মও জিদানের কপালের চিন্তার ভাজ বাড়াতে যথেষ্ট। একজন মাদ্রিদ সমর্থক হিসেবে আশা থাকবে মাদ্রিদ ম্যানেজমেন্ট এবং জিদান এই উইন্টার ব্রেক এবং ট্রান্সফার উইন্ডোতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এর পরিপূর্ণ সমাধান করবেন। 

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন