ভ্যান ডাইক টু লিভারপুলঃ ৭৫ মিলিয়ন মূল্যটা ন্যায্য নাকি তামাশা?

ভ্যান ডাইক টু লিভারপুলঃ ৭৫ মিলিয়ন মূল্যটা ন্যায্য নাকি তামাশা?

লিভারপুলের আক্রমণ ঠিক যতটা বিলাসবহুল ও চোখধাঁধানো রক্ষণ ঠিক ততটাই ভঙ্গুর। গোলের সংখ্যায় লিভারপুল শুধুমাত্র দোর্দণ্ড প্রতাপে চলা সিটিরই পিছনে কিন্তু গোল হজমের সংখ্যায় তাদের অবস্থান বার্নলিরও নীচে! এই আক্রমণ দিয়ে যেখানে সিটির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলার কথা সেখানে তারা ২০ পয়েন্ট পিছিয়ে!


ভ্যান ডাইকই যেসব কারণে লিভারপুলের জন্য আদর্শঃ


ক্লপের সিস্টেমের জন্য শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস


ক্লপের গেগেনপ্রেসিং সিস্টেমে প্রচণ্ড সক্ষম ও ফিট ডিফেন্ডার প্রয়োজন উদাহরণস্বরূপ ডর্টমুন্ডের হুমেলস ও সুবোটিচ। গেগেনপ্রেসিং এ যে পরিমাণ হাই প্রেস ও যে ধরনের ইস্পাতকঠিন মানসিকতা থাকা প্রয়োজন তার দুটোই ভ্যান ডাইকের মাঝে আছে। ক্লপের সিস্টেমের জন্য "আদর্শ ডিফেন্ডার" এর একটা সিল মেরে দেওয়াই যায় ভ্যান ডাইকের নামে। এছাড়া বাতাসেও তার অসম্ভব ভালো দখল।


পাসিং ক্ষমতা


গেগেনপ্রেসিং এ ডিফেন্ডারদেরও যথেষ্ট সাবলীল হতে হয় পাসিং এর ক্ষেত্রে। সঠিক মুহুর্তে বলে আলতো টোকা দিয়ে বাড়িয়ে দিলে দ্রুত কাউন্টার এট্যাকের সূচনা করতে পারবে টিমমেটরা। ভ্যান ডাইকের পাসিং একুরেন্সি ৮৭.১% একটা নিশ্চিত ইঙ্গিত দেয় যে পাসিং এ বড় সড় রকমের সাহায্যে পেতে চলেছে অল রেডসরা।


সঠিক পজিশন নেওয়ার ক্ষমতা


আরিগো সাচ্চির একটা বিখ্যাত ফর্মুলা ছিল তিন লাইনের দূরত্ব যেন সর্বোচ্চ ২৫ গজ মতো হয় তাহলেই সবচেয়ে ভারসাম্য রেখে আক্রমণে কিংবা রক্ষণে যাওয়া যাবে। 

ম্যাটিপ আর লভরেন সাধারণত অনেক নীচে অবস্থান করেন ফলে মিডলাইনের নীচে আর ডিফেন্সলাইনের মাঝের তৈরী শূণ্যস্থান সম্পূর্ণ ব্যবহার করেন বিপক্ষের স্ট্রাইকাররা। ভ্যান ডাইকের পজিশনিং সেন্স  ভালো হওয়ায় খানিকটা উপরে অবস্থান করবেন ম্যাটিপ বা লভরেনের থেকে ফলে ওই শুণ্যস্থান যেন তৈরী না হয়।




ভ্যান ডাইক থাকার সুবিধাঃ


ট্যাক্টিক্যাল ফ্লেক্সিবিলিটি


লিভারপুলের এই ডিফেন্সে অসহায়ত্বের কারণে ক্লপ তার প্রিয় ৪-২-৩-১ ভেঙ্গে ৪-১-৪-১ শিফট করেছেন অতিরিক্ত সেন্ট্রাল মিড দলে ঢুকিয়ে। যার ফলে চোখধাঁধানো মানে-ফিরমিনো-কৌতিনহো-সালাহ আক্রমণ চতুষ্টয় দেখার সম্ভাবনা বিরল।

 



কারণটা ওই ম্যাটিপ আর লভরেন অনেকটা নীচে নেমে খেলা, ফলে হেন্ডারসনকে ডিফেন্স আর ডাবল পিভোটের মাঝে ফালক্রাম হয়ে অবস্থান করতে হয়। কিন্তু ভ্যান ডাইক থাকার ফলে ক্লপ আবারও ৪-২-৩-১ এ ফিরতে পারবেন সাথে ৪-১-৪-১ ও ব্যবহার করতে পারবেন। 


তাই বলে ৭৫ মিলিয়ন ন্যায্য?


ইংলিশ মার্কেট এবং ইংল্যান্ডে রিলিজ ক্লজ না থাকার প্রভাবঃ


রিলিজ ক্লজ কী?

কোন ফুটবলার চুক্তিরত(কন্ট্রাক্ট থাকা) অবস্থায় যদি ক্লাব পরিবর্তন করতে চান তাহলে নতুন ক্লাব বর্তমান ক্লাবকে নির্দিষ্ট পরিমাণ এমাউন্ট প্রদান করে সাইন করেন।

কিন্তু বর্তমান ক্লাব যদি ফুটবলারকে যেতে না দেয় এবং জোর করে ধরে রাখে সেক্ষেত্রে নতুন ক্লাব রিলিজ ক্লজ সক্রিয় করে। রিলিজ ক্লজ প্লেয়ারের চুক্তিতে উল্লিখিত থাকা সেই পরিমাণ অর্থ যা বর্তমান ক্লাবকে দিলে ফুটবলারটি ফ্রি এজেন্টে পরিণত হবেন এবং নতুন ক্লাব তাকে সাইন করতে পারবে। 

ইংল্যান্ডে এই রিলিভ ক্লজ দেয় না ক্লাবগুলো যাতে প্লেয়ার সহজে হাত ফঁসকে না যায়। একটা আদর্শ উদাহরণ কৌতিনহো ট্রান্সফার সাগা। এখন সাউথ্যাম্পটন সহজে প্লেয়ার ছাড়তে চাচ্ছিল না সেক্ষেত্রে চড়া দামে ভ্যান ডাইককে কিনতে হলো লিভারপুলকে।

এক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় টিভি রাইটস থেকে প্রত্যেক ইংলিশ ক্লাব যে পরিমাণ অর্থ পায়। কাজেই, এখন চোখের সামনে ৩০ মিলিয়ন ধরলে লোলুপদৃষ্টিতে দেখবে না অন্য কোন ক্লাব, ফলে এই চড়া ৭৫ মিলিয়ন মূল্য চুকাতে হলো লিভাতপুলকে। তবে বিশ্বের সাপেক্ষে এই মূল্য নিতান্তই বেশি, কেননা একই মূল্য দিয়ে একদা কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানকে দলে ভিড়িয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ!


চড়া মূল্যর ডিফেন্ডার যেন আশীর্বাদ!


ফুটবলের শের শাহের আমল তখন ৯৮ এর দিক, ২২ মিলিয়নে তখন এলান শিয়ারারকে পাওয়া যায়! ইউনাইটেড এই সময়ে চড়া দামে স্ট্যামকে সাইন করায়। ফলাফলটা আসে একেবারে হাতেনাতে, ট্রেবল জেতে ইউনাইটেড সেই মৌসুমে!

এক বছর ইন্টার মিলানের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর আবারও পুরনো ক্লাব ইউভেতে ফিরলেন লিপ্পি। পুরনো শিষ্যরাও একটু পুরনো হয়ে গেছে, তাচ্চানাদ্রি, টরিসেলি, মন্তেরো, ডি লিভিওদের ঝেড়ে ফেলে থুরামকে সাইন করালেন লিপ্পি। পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, ফলাফল আসল সিজন ২ বাদে, লীগসহ চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে ইউভে।

ফার্দিনান্দ-ভিডিচ যুগল ইউনাইটেডের ইতিহাসের সেরা ডিফেন্ডিং জুটির একটা অন্যতম দাবিদার, ফার্দিনান্দ সেরা ডিফেন্ডার হওয়ার! চড়া দামে কিনলেও বহুত ফায়দা উঠেছিল ফার্গুসনের, জহুরীর চোখ বলে কথা।

সিলভা পিএসজির শুধু স্তম্ভ নন তার থেকেও বেশি কিছু বলা চলে, পিএসজিতে তার প্রভাব নিয়ে সন্দেহ করা হাস্যকর।


পেপ গার্দিওলার তার বিখ্যাত ফলস ফুলব্যাক ফর্মুলা মিলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, আনলেন ওয়াকারকে, প্রভাবটা রীতিমতো বিস্ময়রকর। সিটি এই মৌসুমে অজেয়।

তবে ইতিহাসে চড়া মূল্যে কিনে সবচেয়ে বড় সাফল্য একজন গোলকিপার বলা যায়, বুফনকে ইউভেন্টাস সেই যুগে ৫৩ মিলিয়নের বিনিময়ে সাইন করিয়েছিল!

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন