বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসঃ (পর্ব-৮) দেশ ভাগের পূর্বে ঢাকার ফুটবল এবং ডিএসএ গঠন

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসঃ (পর্ব-৮) দেশ ভাগের পূর্বে ঢাকার ফুটবল এবং ডিএসএ গঠন

এ দেশের ফুটবলের সমষ্টিগত উন্নতি ও ফুটবলের উন্নয়নের একটি রূপরেখা দেয়ার জন্য ১৯৩৩ সালে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ঢাকায় এক সভায় মিলিত হোন। সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা যায় খাজা মোহাম্মদ আদেল, এনপি গুপ্ত, খাজা মোহাম্মদ আজমল, এপি গুপ্ত, জমিদার রায় বাহাদুর, পি গুপ্ত, কেশব চন্দ্র ব্যানার্জি, জমিদার সুরেশ চন্দ্র ধাম, জমিদার নৃপেন্দ্র রায় চৌধুরী, খান বাহাদুর খাজা মোহাম্মদ ইসমাইল সাহেবের নাম। উপস্থিত সকল ব্যক্তিবর্গের সম্মতিক্রমে গঠিত হয় “ঢাকা স্পোর্টিং এসোসিয়েশন” সংক্ষেপে ডিএসএ। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি এবং পি গুপ্ত কে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় ডিএসএর প্রথম কমিটি।

১৯৩০ সালের দিকে বর্তমান পল্টন ময়দান ছিল ঢাকায় খেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গাবর্তমান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের উত্তর গেটের স্থানে ছিল চানমায়ী পাহাড় এবং পাহাড়ের সাথে দক্ষিণ দিকে ছিল জঙ্গল। বর্তমান বঙ্গভবন তখন ছিল সুদৃশ্য এক বাগানবাড়ি। তখন এর নাম ছিল ভাইসরয় হাউস অফ ইন্ডিয়া বোঝাই যাচ্ছে বর্তমান বঙ্গভবনের নান্দনিক রূপ একদিনে আসেনি। এক পল্টন ময়দানেই ছিল ওয়ারী, ভিক্টোরিয়া ও লক্ষীবাজার ক্লাব এবং তাদের খেলার মাঠ। প্রতিটি ক্লাব এর নিজ নিজ মাঠ টিন দিয়ে ঘেরা ছিল। বর্তমান ভলিবল মাঠ তখন মুসলিম হাই স্কুল এর ছাত্রদের খেলার মাঠ এবং ঈদগাহ ময়দান হিসেবে ব্যবহৃত হত। বর্তমান গুলিস্তান জিপিও পোস্ট অফিস ছিল জগন্নাথ কলেজের খেলার মাঠ। এ মাঠ গুলোতে নিয়মিত আন্তঃস্কুল ও আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতা হত।

এসোসিয়েশন গঠন এর পর প্রথম দিকে তাদের নিজস্ব কোন মাঠ বা অফিস কিছুই ছিল না। ওয়ারী ক্লাব এর একটি কক্ষ তারা অফিস হিসেবে ব্যবহার করত। ফুটবল লিগ এবং টুর্না্মেন্টগুলো অনুষ্ঠিত হত লক্ষীবাজার, ভিক্টোরিয়া, ওয়ারী ও জগন্নাথ কলেজ মাঠে১৯৩৬ সালে টিনের চাল, বেড়া, কাঠের ফ্লোরের ডিএসএ গ্যালারি তৈরি করা হয়।

১৯৩৬ সালেই ইংল্যান্ডের ২য় বিভাগের দল আইলিংটন কোরিন্থিয়ান্স এফসি ঢাকা সফরে এসে এ নতুন মাঠেই ঢাকা একাদশের বিপক্ষে খেলে। প্রথম খেলায় আইলিংটন কোরিন্থিয়ান্স এফসি দলের বিরুদ্ধে ঢাকা একাদশ ১-০ গোলেজয়লাভ করে। পরের ম্যাচে অবশ্য ঢাকা একাদশ পরাজিত হয়। এ ম্যাচগুলোতে প্রায় দশ হাজা্র লোকের সমাগম হয়। এ থেকেই বোঝা যায়, ঢাকাবাসীদের হৃদয়ে, রক্তে রক্তে ছিল ফুটবল। তখন ঢাকার জনসংখ্যা এবং বসতি দুটিই কম ছিল। অথচ বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, এখন ত্রিশ টাকার টিকেট বিক্রির ঘোঘনা দিয়েও এক হাজার দর্শক পাওয়া যায় না। ঐতিহ্য, দর্শক আগ্রহ, ফুটবলারদের মান সবই আজ পড়তির দিকে।


ডিএসএর আয়োজনে সে সময় ঢাকায় কলকাতার ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মুসলিম একাদশ, মোহামেডানের মতো বিখ্যাত ক্লাবগুলো ছাড়াও ইংল্যান্ড এর অনেক দল খেলতে আসতোঢাকার দলগুলো এত শক্তিশালী ছিল যে দেশি এবং বিদেশী যে কোন দলের মধ্যে একমা্ত্র কলকাতা মোহামেডানই নিয়মিত জয় নিয়ে ফিরতে পারত।


১৯৩৩ থেকে দেশ বিভাগের আগ পর্যন্ত ঢাকার ফুটবল লীগে যেসব ক্লাব অংশগ্রহণ করে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ওয়ারী ক্লাব, ভিক্টোরিয়া এসসি, লক্ষিবাজার ক্লাব, ইস্ট এন্ড ক্লাব, সেন্ট্রাল জেল একাদশ, আরমানী টোলা ক্লাব, রমনা এসি, ঢাকা মুসলিম ওয়ান্ডারার্স (ঢাকা ওয়ান্ডারার্স), মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, তেজগাঁও ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন, ঢাকেশ্বরী কটন মিলস, মনিপুর ফার্ম, বিজিএইচ। এছাড়া জগন্নাথ কলেজ, ঢাকা কলেজ, সলিমুল্লাহ কলেজ, ইসলামিক ইন্টারমেডিয়েট কলেজ, ঢাকা হল, জগন্নাথ হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, এআরপি ও ইষ্টার্ণ ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস (গুর্খা রেজিমেন্ট) দলগুলো রোনাল্ড শিল্ডসহ বিভিন্ন নকআউট ফুটবলে অংশগ্রহণ করতো। এ সময় প্রতি বছর লীগের পাশাপাশি রোনাল্ড শিল্ড নকআউট ফুটবল অনুষ্ঠিত হতো।


আগের পর্বের লিংক

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন