অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল : ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল : ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ভুটানকে হারিয়ে নিজেদের কাজটা সেরে রেখেছিল বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালকে উড়িয়ে দিয়ে বাকি কাজটা করে দিল ভারত। বাংলাদেশের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ভুটান, ভারতের কাছে ১০-০ গোলে হেরে নেপাল। চার দলের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ এখন কেবলই বাংলাদেশ আর ভারতের। এক ম্যাচ হাতে রেখে দুই দলই ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে ফেলেছে।

প্রচণ্ড- শীত উপেক্ষা করে এদিন কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্ত্মফা কামাল স্টেডিয়ামে মেয়েদের খেলা উপভোগ করতে হাজির হয়েছিলেন বেশকিছু দর্শক। তাদের হতাশ করেনি গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। বাংলাদেশের মেয়েরা তুলে নিয়েছে দারুণ এক জয়। যদিও ভুটান খুব সহজ প্রতিপক্ষ ছিল না। এরপরও শুরু থেকেই বাংলাদেশ খেলেছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। তবে ভুটানের শক্ত রক্ষণ গলিয়ে গোল তিনটি আদায় করতে যথেষ্টই বেগ পেতে হয়েছে স্বাগতিকদের। 

ম্যাচের ১১ মিনিটে সব থেকে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ভুটানের গোলরক্ষক কর্মা যুদেনের হাত থেকে ফসকে যায় বল। কাছেই ছিলেন স্বাগতিক ফরোয়ার্ড মনিকা। কিন্তু বল পেয়েও শট নিয়ে জালে জড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তবে আক্ষেপটা ঘুচেছে পরের মিনিটেই। বা প্রান্ত্ম থেকে মার্জিয়ার মাপা কর্নারে উড়ন্ত্ম বলে মাথা ছুঁইয়ে ভুটানের জাল কাঁপান ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন (১-০)। ম্যাচে লিড নেয়ার পর আক্রমণের ধারাটা আরও বাড়ায় গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। কিন্তু বাংলাদেশের আগের ম্যাচের ফল দেখে বেশ সতর্ক ছিল ভুটানের মেয়েরা। রক্ষণ জমাট রেখে খেলতে থাকে তারা। ফলে আক্রমণের ঝড় তুলেও গোল আদায় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের জন্য। স্বাগতিকদের আক্রমণের ধার এতটাই তীব্র ছিল, প্রথমার্ধেই তারা ১১টি কর্নার আদায় করে নেয়।

২৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মনিকা চাকমার জোরালো শট অল্পের জন্য চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। ৩৭ মিনিটে ছোট বক্সের ভেতর থেকে আনুচিং মগিনির শট সাইড পোস্টে লেগে ফেরত আসলে ফিরতি শট নেন মার্জিয়া। তবে ভুটানের গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় এবারো গোল আদায়ে ব্যর্থ বাংলাদেশ। এর কিছুক্ষণ পর আবারো চেষ্টা করেছিলেন মার্জিয়া। তবে এবারো স্কোরে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ভুটানের রক্ষণে চির ধরাতে উঠে পড়ে লাগে যায় বাংলাদেশ। ৫৫ মিনিটে বা প্রান্ত্ম থেকে মার্জিয়ার কর্নার বক্সে পেয়ে বা পায়ের সাইড ভলিতে যুদেনকে পরাস্ত্ম করে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলটি এনে দেন আঁখি (২-০)। এটি এই ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল। ব্যবধানটা আরও বাড়তে পারত ৬১ মিনিটে, যদি না ভুটানের গোল পোস্টটা বাধা হয়ে না দাঁড়াত। বক্সের বাইরে থেকে মারিয়া মান্ডার বা পায়ের শট ছিল নিশ্চিত গোল। গোলরক্ষক চেষ্টা করেও বলের নাগাল পাননি। কিন্তু বল পোস্টে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে ৭৯ মিনিটে ঠিকই নিজেদের তৃতীয় গোলটা আদায় করে নেয় স্বাগতিকরা। বা প্রান্ত্ম দিয়ে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে শটে ভুটান গোলরক্ষককে পরাস্ত্ম করেন বদলি খেলোয়াড় সাজেদা খাতুন (৩-০)। ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে যায় ওখানেই।

বাংলাদেশের আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যস্ত থাকা ভুটান শিবির পুরো ম্যাচে সেই অর্থে কোনো আক্রমণই সানাতে পারেনি। গোলের দেখা পাওয়া তো অনেক দূরের কথা। তাই আরেকটি পরাজয়ই আসর থেকে বিদায়ে সঙ্গী তাদের। আগের ম্যাচে ভারতের কাছেও ৩-০ গোলে হেরেছিল তারা। এই ভারতের বিপক্ষেই আগামীকাল লিগপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলবে বাংলাদেশ। দুই দলই ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে। ওই ম্যাচটি রূপ নিচ্ছে ফাইনালের মহড়ায়।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন