বিশ্বকাপের পর এ এক অনন্য তামিম

বিশ্বকাপের পর এ এক অনন্য তামিম

অভিষেক ২০০৭ সালে, শুরুতে নিজেকে তেমন মেলে ধরতে পারেন নি বাংলাদেশের এই ওপেনার। তবে নিজেকে হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান হিসেবে খুব ভালোভাবেই পরিচয় দিয়েছেন। মাঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটিং না করতে পারায় নিজের ক্যারিয়ারে তেমন অর্জন ছিলোনা। ক্যারিয়ার শুরুর প্রথম বছরে ২১ ম্যাচে ৩ টি অর্ধশতক করার মাধ্যমে ৪৫৫ রান করেছিলেন। ২০০৮ সালের আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটি হাঁকান। একই রকম এভারেজে একে একে কিছু বছর পার করলেও ২০১১ সালের বিশ্বকাপের আগে বেশ সমালোচিত হন। ভালো পারফমেন্স না থাকায় বিশ্বকাপের পরে আরো তীব্র সমালোচনায় দল থেকে বাদ পড়ার আশংকায় পড়তে হয় ছিলো এই মারকুটে ব্যাটসম্যানকে। 


তবে নিজের শেষ সুযোগে অর্থ্যাৎ ২০১২ সালের এশিয়া কাপে পর পর ৪ টা অর্ধশতক করে সবাইকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন তিনি এখনও ফুরিয়ে যান নি। স্বাভাবিক পারফমেন্স দিয়ে ২০১২ এবং ২০১৩ সাল পার করলেও ২০১৪ সালে তামিম ইকবাল কোন একবছরে গড়ে সবচেয়ে কম রান করেন। ঐ বছরে তামিম ১০ ম্যাচে মোট ২৬৯ রান করেন। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপের পর তামিম নিজ দেশের মাটিতে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করে টুর্নামেন্ট সেরা হন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর আমরা এক অন্য তামিমকে দেখি, যেখানে তামিম একের পর এক অসাধারণ ক্লাসি ইনিংস দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেন। 


মজার ব্যাপার হলো, ২০১৫ সালের আগে তামিম নিজের ক্যারিয়ারে দেশের হয়ে ১৪০ ম্যাচে গড়ে ৩০ করে রান ছিলো যেখানে মাত্র ৪ টি শতক করেন। কিন্তু ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পরে তামিম ৩৯ ম্যাচে গড়ে ৫১ রান করেন ৫ টি শতক করার মাধ্যমে, সাথে রয়েছে ১১ টি অর্ধশতক। নিজেকে খুব ভালোভাবেই প্রমাণ করেন যে নিঃশন্দেহে তিনিই বাংলাদেশের সেরা ওপেনার এবং যাকে ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেটে একটা গোছানো দল সাজানোর কথা ভাবা যায়না। তামিম ইকবাল, যার কিনা বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের মাইলফলক রয়েছে। বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেট বিশ্বে কম রেকর্ড অর্জন করেন নি, আশা করছি বাংলাদেশের এই গর্বিত প্লেয়ার সামনের বাকি ক্যারিয়ারে আরো অনেক কিছুই অর্জন করবেন। 

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন