জোসেপ পেপ গার্দিওলাঃ বলবয় মাস্টার থেকে বিশ্বসেরার কাতারে

জোসেপ পেপ গার্দিওলাঃ বলবয় মাস্টার থেকে বিশ্বসেরার কাতারে

আচ্ছা, নিজেকে একবার ৩৭ বছর বয়সী হিসেবে কল্পনা করে দেখুন তো! ৩৭ বছর বয়সে আপনি সর্বোচ্চ কি করতে পারেন? হ্যাঁ, হয়ত করতে পারেন নামীদামী কোনো চাকরি,কিংবা হয়ে যেতে পারেন কোটিপতি, আচ্ছা ফুটবলের কথাতেই ফিরে আসি,ধরুন আপনাকে ৩৭ বছর বয়সে বড় কোনো ক্লাবে কোচিং করানোর দায়িত্ব দেওয়া হলো।কি করতে পারেন সর্বোচ্চ? হয়ত দলকে ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিয়ে পারেন, নিজের অভিজ্ঞতা অর্জন করার পাশাপাশি দলকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে শেষ পর্যন্ত হয়ত সফলতার শিখরে উঠতে পারেন, বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে তাও এমন করতে। হয়ত ততদিনে দলে নাও থাকতে পারেন। তবে কখনও কি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনটা বড় বড় শিরোপা তথা ট্রেবল জিতে নিবেন আপনি? এ তো একদম “এলাম, দেখলাম,জয় করলাম” এর মতো অবস্থা! তবে যতই অবাস্তব লাগেনা কেন ব্যাপারটা,চেষ্টা,পরিশ্রম আর সাধনা থাকলে মানুষ যে সব কিছুই করতে পারে, সেটাই প্রমাণ করেছেন একজন মানুষ,প্রথম মৌসুমেই ট্রেবল জিতিয়েই। ব্যক্তিটির নাম,পেপ গার্দিওলা,আজ ৪৬ বছরে এসে যিনি গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে চলেছেন সেরাদের কাতারের দিকে। তো, কিভাবে শুরু হলো তার এমন যাত্রা? এখনই বা কি অবস্থায় আছেন তিনি? চলুন একেবারে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

pep guardiola's childhood এর ছবি ফলাফল

শুরুটা সেই ১৮ই জানুয়ারি, ১৯৭১ এর এক সুন্দর সকালে। কাতালুনিয়ার অদূরে স্যানপেদর নামক ছোট্ট এক শহরের বসবাসকারী দম্পতি ডলোর সালা গার্দিওলা এবং জোসেপ ভ্যালেন্টি গার্দিওলার কোল আলো করে জন্ম নিলো এক ফুটফুটে শিশু। দুটো মেয়েসন্তান জন্মলাভের পর শিশুটি তাদের জন্মদেওয়া প্রথম ছেলে সন্তান; আদর করেই তারা তাদের নিজেদের নামের সাথে মিল রেখে নাম রাখলেন তার “জোসেপ গার্দিওলা সালা”। তবে আদর করে সবাই তাকে ডাকেন “পেপ” নামে। ছোট থেকেই চঞ্চল পেপ কে সামলাতে গার্দিওলা দম্পতির কম ধকল পোহাতে হয়নি। তবে ছোট থেকেই পেপ-এর কিছু চাঞ্চল্য, কিছু দর্শন তাকে আর চারটি সমবয়সী বাচ্চার থেকে আলাদা করে তুলেছিলো। সেটি হলো “ফুটবলের প্রতি তীব্র আকর্ষণ”। তাঁর এই আকর্ষণের পরিমাণটা কত তীব্র ছিলো তা তাঁর বাবা নিজেই জানিয়েছিলেন ব্যক্তিগত এক সাক্ষাতকারে,


“ছোট থেকেই তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী ছিলো একটি ফুটবল, আর তার খেলার সাথি ছিলো বাসার পাশের চারকোণা একটি মাঠ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একা একা সে খেলেই যেত।” “যদি কেউ তাকে কোনো বিশেষ দিনে তার সবচেয়ে পছন্দের জিনিষটি উপহার না দিত,তার মন কিছুতেই ভালো করানো যেত না। তাকে খুশি করার একমাত্র উপায় ছিলো ফুটবল উপহার দেওয়া; যেখানেই সে যেত,ফুটবল তার পায়ে থাকবেই!”

ছেলের ফুটবলের প্রতি আকর্ষনই বাবাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলো বড় হয়ে ছেলের ভাগ্য ঠিক কোথায় লেখা রয়েছে। কিন্তু তার স্বপ্ন বাস্তবতায় পরিনত করাটাও ঠিক সহজ ছিলোনা গার্দিওলা-দম্পতির জন্য। তবে রাজমিস্ত্রির কাজে নিয়োজিত ভ্যালেন্টি আর গৃহকর্ত্রীর কাজে নিয়োজিত ডলোর সবসময়ই ছেলের ইচ্ছাটাকে প্রাধান্য দিয়ে ছেলের অনুকূলেই থেকেছেন। ফুটবল থেকে শুরু করে বুট-জুতো, মোজা,জার্সি-সব খরচ একা হাতেই বহন করেছেন ছেলের ফুটবলপ্রতিভা আরও বিকশিত হওয়ার উদ্দেশ্যে। ১১ বছর বয়সে স্টেডিয়ামে বলবয় হিসেবে যোগদান করেন তরুন গার্দিওলা। দ্রুতই এই কাজে এতই দক্ষ হয়ে ওঠেন যে ন্যু ক্যাম্পে তিনি “বলবয় মাস্টার” হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। বলবয় থাকার সময়ে কাছ থেকে প্রিয় ক্লাব বার্সেলনার অনেক খেলা দেখেছেন। মাঠ থেকে দেখেছেন ১৯৮৬ এর সুপারকাপ বিজয়। এসব দেখেই মনে মনে ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছাটা আরও বাড়ল কিনা, বলবয়ের চাকরি ছেড়ে যোগ দিলেন বার্সেলনার যুব একাডেমী তে। তবে তার বয়সী বাচ্চারা যখন ফরওয়ার্ড হওয়ার জন্য বুঁদ হয়ে আছেন,তখন স্বেচ্ছায় তিনি বেছে নিলেন ডিফেন্ডার রোলটিকেই। হয়ত তখন তাঁর দর্শনই তাকে এমন পজিশন বাছাই করতে সাহায্য করলো। তবে যে কারনে খুব দ্রুতই তিনি বার্সার কোচদের নজরে পড়লেন, সেটা তার ফুটবলে অসাধারণ দর্শন এবং অসাধারণ পাসিং এবিলিটির জন্য। এ কারনে দ্রুতই ডিফেন্ডার থেকে তিনি হয়ে গেলেন মিডফিল্ডার, এবং রাতারাতিই আলোড়ন ছাড়াতে লাগলেন যুবদলে।


১৯৯০ সাল, দলের ম্যানেজার তখন ইয়োহান ক্রুইফ। মাঝমাঠের খেলা তখন তার ঠিক পছন্দ হচ্ছেনা দেখে যুবদল থেকে মনমত কোনো খেলোয়াড় পাওয়া যায় কিনা, সেটির খোঁজ লাগালেন। সেখান থেকেই ২০ বছর বয়সী গার্দিওলার সাথে তার প্রথম পরিচয়। ১৯৯০ এর জুনে ২০ বছর বয়সে ইয়োহান ক্রুইফের হাত ধরে সিনিয়র ফুটবলে অভিষেক ঘটল সদ্য তারুণ্য পেরুনো গার্দিওলার। পরের সফলতা গুলো অনেকেরই জানা। তার অসাধারণ ফুটবল দর্শন ও ক্রুইফের ট্যাকটিক্সে তার গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করার ব্যাপারটি তাকে বানিয়ে দিলো তার সময়ের সেরা মিডফিলল্ডারদের একজন। ক্রুইফের “ড্রিম টিম”-এর সফলতার অন্যতম কান্ডারি ছিলেন তিনি। ১৯৯২ এর অলিম্পিক গোল্ড মেডেলজয়ী স্পেন টিমে ছিলেন দলের অধিনায়ক। ২০০২ পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছরের বার্সা ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৪৮৯ টা ম্যাচ, অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৯৭ থেকে ২০০১ পর্যন্ত। ২০০২ তে ক্লাব ছাড়ার পূর্বে তার পরবর্তি গন্তব্য ঠিক কোথায় হবে,জানতে চাইলে তিনি জানান,

আমি এখনও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারিনি। তবে যদি একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত চাওয়া হয়, তবে আমি নিজে ইংল্যান্ডেই যেতে চাইব। তাদের ফুটবলীয় দর্শন সত্যিই সম্মানজনক এবং তারা আমার মতো খেলোয়াড়দের সম্মান দিতে জানেন।” তিনি আরও জানিয়েছিলেন, বার্সেলনার পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলার ধরন খুব উপভোগ করেন, “আমি নিজে সেখানে অনেকবার খেলতে গিয়েছি,সেখানকার মানুষ এবং পরিবেশের সাথে মেশার সৌভাগ্য হয়েছে আমার, এবং আমি বলতে পারি সব মিলিয়ে তাদের আচরণ ও সম্মান প্রদর্শন আমার বেশ ভালো লেগেছে।”

এমনকি এক সময় তার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যাওয়ার ব্যাপারটি একরকম পাকাপাকিই হয়ে যাচ্ছিলো, এমনও শোনা যায়, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন নিজেও তাকে চাচ্ছিলেন তার দলে, তবে শেষমেষ কিছু ঝামেলার কারনে চুড়ান্ত হয়নি তার ইউনাইটেডে আসাটা,চলে যান ইতালির ক্লাব ব্রেসিয়াতে। শোনা যায়, ব্যাপারটিতে তাঁর বাবার হস্তক্ষেপ ছিলো কারন তার বাবা সবসময়ই ইংলিশ ফুটবলকে “খালি লন্ডভন্ড লং পাস দেওয়া বোরিং ফুটবল এবং ছেলের ফুটবল দর্শনের সাথে মানানসই নয়” বলে অভিহিত করেছিলেন; মজার ব্যাপার হলো, তিনি এখনও সেটিই বিশ্বাস করেন।

যাহোক, পরবর্তিতে রোমা হয়ে কাতারের আল-আহালিতে ২০০৬ সালে ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে ইতি টানেন। তবে ২০০৭ এ মেক্সিকোর ডোরাডোস ডে সিনালোনাতে থাকাকালীন টুকটাক কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন ম্যানেজার খেলোয়াড় হিসেবে থাকার সুবাদে। শেষপর্যন্ত ২০০৭ সালে অফিশিয়ালি ৩৬ বছর বয়সে ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেন।

অবসর নিয়েই ২০০৭ এ ফিরলেন এক কালে যেখান থেকে উঠে এসেছিলেন, সেই যুবদলেরই দায়িত্ব নিতে। তার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই  যেন জাদুমন্ত্রবলে বদলে ফেললেন বার্সা বি টিমটাকে। সেই মৌসুমেই দলটিকে তেরসারা ডিভিশন থেকে প্রমোটেড করে উঠালেন সেকন্ডা-বি ডিভিশনে। ঠিক সেই মুহূর্তেই বার্সেলনার মূল একাদশের করুন দশা। ট্রফিখরা মৌসুমের প্রায়শ্চিত্ত দিতে ফ্র‍্যাঙ্ক রাইকার্ডকে বার্সার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হলো। সে সময় বার্সা পালহীন নৌকার মতোনই যেন দোদুল্যমান। ঠিক সেইসময় যখন হুয়ান লাপোর্তা হন্যে হয়ে ম্যানেজার খুঁজতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ক্রুইফের পরামর্শে একমত হয়ে তিনি দায়িত্ব দিলেন মাত্র ১ বছরের কোচিং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ৩৭ বছরের তরুন গার্দিওলাকে; নিঃসন্দেহে বার্সার মতো দলে এমন একটা নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে লাপোর্তার যেমন সাহসীকতার পরিচয় দিতে হয়েছে, একইভাবে অনেকেরই ভ্রুকুটি করতে বাধ্য করেছে, কোনোই সন্দেহ নেই; ৩৭ বছরের এই “পুঁচকে ছোড়া” কিনা বার্সাকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে? ভাবাটা শক্ত ছিলো। এ মধ্যে দায়িত্ব নিয়েই দলের অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় কে বাদ দিয়ে যুবদল থেকে তাদের রিপ্লেসমেন্টে আনলেন ১৭ থেকে ১৯ বছরের বুস্কেটস, পেদ্রোর মতো পুঁচকে ছোড়াদের। সমালোচনা তখন কম হয়নি এগুলো নিয়ে। চ্যালেঞ্জটা গার্দিওলা নিলেন, প্রথম মৌসুমেই জিতলেন ট্রেবল; সেই মৌসুমে ৩৮ বছর বয়সে ইউসিএল জেতার মাধ্যমে সবচেয়ে কম বয়সে ইউসিএল জেতার রেকর্ড গড়লেন। একটা ভাঙ্গাচোড়া দলকে নতুনভাবে সাজিয়ে তাকে টিকিটাকার নতুন মাত্রা যোগ করে পরবর্তি ৪ বছরে বার্সেলনাকে তিনি কোথায় নিয়ে গেলেন, তা সবারই জানা।

৪ বছরে ১৪ টি ট্রফি জেতার পরে শেষমেষ ৩০ জুন, ২০১২ তে বার্সেলনার দায়িত্ব ছেড়লেন। তবে দ্রুতই ফিরলেন বায়ার্নের কোচ হিসেবে। পরের বছরই ১৩ জানুয়ারিতে পরবর্তি মৌসুম থেকে বায়ার্ন মিউনিখের কোচিংয়ের দায়িত্ব পালনে রাজি হলেন। বায়ার্নে এসেও বেশ সাহসী কিছু পদক্ষেপ নিলেন, তবে বায়ার্নের ৩ বছরের সংক্ষিপ্ত সময়ে ইউসিএল ছাড়া জিতেছেন সম্ভাব্য প্রায় সব শিরোপাই। এছাড়াও লীগে এক মৌসুমে টানা ১৯ ম্যাচ জেতার রেকর্ডও করেন,বার্সেলনায় তারই করা ১৪ ম্যাচ টানা জেতার রেকর্ড ভেঙ্গেই। তবে সমালোচনা তার পিছু ছাড়েনি। সিংহভাগ লোকই তাকে এখন পর্যন্ত সফল মানলেও তার কোচিং দর্শন যে কিছু সমর্থকদের মন জয় করতে পারেনি, এটা এই ব্যাপারটা থেকেই পরিষ্কার।


২০১৬ এ বায়ার্নের দায়িত্ব ছেড়ে যোগ দিলেন ইংল্যান্ডের দল ম্যানচেস্টার সিটিতে, শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড় থাকাকালীন স্বপ্নটা তিনি পূরণ করলেন কোচ হিসেবে ,তবে সেটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেরই ডার্বি রাইভালের দায়িত্বে এসে। এবার নতুন বিতর্ক তার পিছু লাগলো। অনেকেই তার বাবার মতের সাথেই সুর মেলালেন; আসলেই তাইই মনে হচ্ছিলো আপাতপক্ষে। গার্দিওলার প্রকৃতপক্ষে এই পসেশন ফুটবল দর্শন, টিকিটাকা পাসিং প্লে এবং ডিফেন্সিভ হাই লাইন সম্পর্কিত ট্যাকটিক্স যে আসলেই প্রিমিয়ারলীগ উপযোগী নয়। তারপরও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত,নিজের দর্শনেই অটুট থাকলেন। শুরুটা ভালই হলেও, মৌসুমের মাঝামাঝি যেতেই খেই হারালো ম্যানসিটি। শেষ পর্যন্ত তিনি পেলেন ম্যানেজার হিসেবে প্রথম ট্রফিখরা মৌসুম কাটানোর স্বাদ। সমালোচনা বেগবান হলো। আবারও নতুন করে পুরনো সমালোচনাগুলো জেগে উঠলো। তিনি আসলে বার্সার “জাভি-ইনিয়েস্তা-মেসি” কিংবা বায়ার্নে “নয়্যার-লাম-লেভান্ডস্কি”দের জন্যই আজ এত সফল কিনা, পুনরায় সেসব কথা উঠে আসলো। তবে মানুষটা পেপ গার্দিওলা,চ্যালেঞ্জ নেওয়া তার রক্তে লেগে আছে, নতুন মৌসুমে তার চাহিদা অনুযায়ী দলটাকে নতুনভাবে সাজালেন। হ্যাঁ,এতে কাঁড়িকাঁড়ি টাকা খরচ হলেও, দলে বেশ কিছু পজিশনে টানলেন তার চাহিদা অনুযায়ী খেলোয়াড় দের। এর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের ফ্লপ দানিলো এবং টটেনহামে সম্প্রতি ব্রাত্য হয়ে পড়া কাইল ওয়াকারও পড়ল। নতুন ধাঁচে সিটিকে নিয়ে নেমে এখন পর্যন্ত সিটির পারফর্মেন্স নিশ্চই আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। সিটি এখন পর্যন্ত লীগে টানা ১৬ ম্যাচ অপরাজিত এবং এক বাক্যে বললে, প্রিমিয়ারলীগ শিরোপা এখনই পারলে তাদের দিয়ে দেওয়া যায়, ২য় অবস্থানে থাকার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাথে যে এখনই পয়েন্ট ব্যবধানটা ১১ তে চলে গিয়েছে!


পেপ শুধু ট্যাকটিকাল এবিলিটির জন্যই বিখ্যাত নন, বরং তিনি খেলোয়াড়দের মধ্যে থেকে সেরাটা বের করে আনার জন্যেও যথেষ্ট বিখ্যাত। বার্সেলনাতে থাকাকালীনই যেমন তরুন বুস্কেটস, পেদ্রোদের কে দিয়েছিলেন সেরার তাকমা, বিশ্বকে পরিচয় করিয়েছিলেন এরিক আবিদাল, সেইডু কেইটারর মতো কিছু খেলোয়াড়দের সাথে, বায়ার্নে থাকাকালীন যেমন বিশ্ব দেখেছিলো ডিফেন্সিভ মিডের ফিলিপ লাম কিংবা ফলস নাইন প্লেয়ার থমাস মূলারের সাথে,বিশ্ব দেখেছিল জসুয়া কিমিচের আগমণ, তেমনিভাবে ম্যানসিটিতে তিনি নতুনভাবে চিনিয়েছেন ডেভিড সিলভা, সার্জিও আগুয়েরো, রিয়াল ফ্লপ দানিলো, রাহিম স্টার্লিং, ফেবিয়ান ডেলফদেরকে,  কেভিন ডে ব্রুইনকে দিয়েছেন প্রিমিয়ারলীগে সেরা মিডফিল্ডারের তাকমা, এছাড়াও সুযোগ দিচ্ছেন এডারসন,গ্যাবরিয়েল জেসুস, লিরয় সানেদের মতো উঠতি তারকাদের সেরাটা ঢেলে দিতে। একজন ৪৬ বছরের তরুন কোচের জন্য এসকল বিষয় ম্যানেজমেন্ট এর দিক থেকে পজিটিভ ফিডব্যাকের দিকেই যায়। যাবেই না বা কেন, ১০ বছরের ক্যারিয়ারে ৭২.২ শতাংশ জয়ের হার নিয়ে ৫২৮ ম্যাচে ৩৮১ জয়,কম কিসের।

সম্পর্কিত ছবি

স্বাভাবিকভাবেই এই মৌসুম শেষ হবে, শুরু হবে নতুন মৌসুম, এভাবে চলতেই থাকবে। কোনো অঘটনের শিকার না হলে ম্যানচেস্টার সিটিই পেতে যাচ্ছে প্রিমিয়ারলীগ শিরোপা, কে জানে,হয়ত মৌসুম শেষে তা ট্রেবলেও রুপান্তরিত হতে পারে। এভাবেই  চলতে থাকুক পেপ-এর রুপকথা, ধীরে ধীরে আরও খুলে যাক সেরাদের সেরা-র কাতারে যাওয়ার দুয়ার,আরও আসতে থাকুক নিত্য-নতুন চ্যালেঞ্জ, হয়ত সেগুলোকে জয় করতে আবির্ভাব ঘটবে এক নতুন পেপ গার্দিওলার,যা ন্যূ-ক্যাম্পে বসে খেলা দেখা ১১ বছরের বলবয়-ও হয়ত  কখনো ভেবেই দেখেনি!

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন